দীপক বেরার কবিতা


বিবর্তন

বসন্তের অববাহিকায় উচাটন বাতাস
প্রচ্ছদের আড়ালে কোকিলের কুহু ডাক
লালচে সকাল রোদে ফুটেছে লাল পলাশ 
নেশাবন্ধনী পেরিয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে প্রেমের আগুন 
এমনই চিরহরিৎ প্রেমের আঁচল বিছিয়ে রেখে
পেরিয়ে এসেছি কত বসন্তের রঙিন মেয়েবেলা
ধারালো শব্দে আগুন লিখেছে ষোড়শী বাতাস
আদিরসে সেদিনও ফুটেছিল কোমল গান্ধার
পাগল প্রেমিক আকন্ঠ শুষে নিয়েছিল লীনতাপ।
 
শ্রীরাধারা জানে, 
ঋতু ছোঁয়ালে বেজে ওঠে মোহনবাঁশি.. 
অ্যানড্রয়েড পৃথিবীতেও সেই আপেল টা 
খুঁজে বেড়ায় হানিমুন ট্রিপে আদম ও ইভ
কবিতা থেকে হারিয়ে যাওয়া গাংচিল 
বিকেলের পড়ন্ত রোদ ছুঁয়ে 
ক্লান্ত ডানায় মাখে রোদ্দুর
নদীর বুকে সুর তোলে রূপালি জলনূপুর! 

ঘুমন্ত সভ্যতায় ফেলে আসা 
এমনই খন্ড খন্ড ভগ্নাংশগুলি
জোড়া দিতে দিতে, কখন যেন 
মুছে যাওয়া কবিতারা হেঁটে আসে 
বিস্মৃত সময়ের বিরল গন্ধ উঠে আসে
ছায়া-আবছায়ারা সরে সরে যায় 
ফেলে আসা বৈভবের জীবাশ্ম ঘেঁটে 
উঠে আসে ভূগর্ভস্থ এক স্ফুরণ 
মুঠো মুঠো ইতিহাস, চিরায়ত সংকেত 
খেলনাবাটি সময়, কাদামাটি ভালোবাসা
অনাদরে সময়ের ভাঁজে লেপটে থাকা
বিবর্ণ পত্রলেখা প্রেমের ফসিল অস্তিত্ব! 

একটা সার্থক ফুলের বাগান চাই 
ফুটুক অগণিত ফুল,..সত্যিকারের ফুল
প্রেমের অপূর্ণতা সরিয়ে পূর্ণতা পেতে
যুগে যুগে আবারও জন্ম নেয় প্রেম 
বিবর্তনের অপেক্ষায় থাকা রক্তপলাশটি
প্রতিটি বসন্তের ঋতুরাগে--
আরও বেশি লাল,..রক্তিম হয়ে ফোটে! 

  কবি দীপক বেরা
   হরিদেবপুর, টালিগঞ্জ, কলকাতা















0 Comments