
ফিরে এলাম পাড়ায়।এক সঙ্গে এক পাল্লা (অর্থাৎ ৫ কে জি,বর্তমান প্রজন্মের সুবিধার্থে) নিলে দামে কিছু সুবিধা হয়। আজ ও তাই হলো তবে ঘুরিয়ে নাক দেখানোর মতন করে।পরিচিতি আলু বিক্রেতা ছেলেটি প্রথমে গাইগুই করছিল। তার নাকি লাভ থাকছে না।আমি বললাম আমারই বা কি লাভ ? বাড়ীর নিচেই দোকান আছে।একটু যদি সুবিধা না পাই তবে এতো দূর থেকে বয়ে মরি কেনো ? ওষুধে ফল ফললো।বাকী কাজটা বিনা বাক্যব্যায়ে মিটে গেলো।
সব শেষে মুদির দোকান।অপেক্ষাকৃত ছোট একটি দোকান থেকে খুচরো বস্তু গুলি সংগ্রহ করে থাকি।কারণ বড় দোকানে লম্বা লাইন।এখানেও দু'জন ক্রেতা রয়েছে । একজন অতি শীর্ণকায়া বৃদ্ধা যিনি সঙ্গে খাতা এনেছেন।নিত্যদিন যে সওদা হয় তার নগদানগদি লেনদেন হয় না।খাতায় লেখা থাকে,পরে পশ্চাতে থাবগো হিসেব মেটানো হয়।এই ব্যবস্থা এখানে বিশেষ জনপ্রিয়।ঐ বৃদ্ধা সেই দল ভুক্ত।আমি তার মুখ দর্শন করতে পারছি না কারণ শাড়ীর আঁচল দিয়ে শুধু ঘোমটা দেওয়া তাই নয় দক্ষিণ গোলার্ধও ঢাকা দেওয়া।উত্তর গোলার্ধে এক চিলতে উন্মুক্ত : চক্ষুদ্বয়।তাছাড়া দাঁড়িয়ে আছেন পাশ ফিরে সুতরাং তিনি যেনো অধরা মাধুরী। কিন্তু তাঁকে দেখার আমার এতো কৌতূহল কেনো সেটা এবার বলি। উনোকোটি চৌষট্টি অনেক জিনিস নিলেন। ফর্দ যেনো আর শেষ হতে চায় না।সব শেষ হলে ঝোলা থেকে বের করলেন একটি ঘিয়ের শিশি। প্রকৃত প্রস্তাবে প্লাস্টিকের ছোট্ট বোতল। তাঁর অভিযোগ আগের দিন তিনি যে পোস্ত নিয়ে গেছেন সেটি রান্নার পর বাড়ীর সবাই বলেছে কেমন যেন ল্যাদল্যাদে,মোটে ভালো না।সকলের অপছন্দ। বিক্রেতা গম্ভীর মুখে বলল
মাসিমা নাছোড়বান্দা।আগের পোস্ত ফিরিয়ে নিয়ে দাম এ্যাডজাষ্ট করতেই হবে।অসহায় দোকানদার বোতল চাপালো ইলেকট্রনিক ওজন মেশিনে।লাল সংখ্যা ফুটে উঠলো ২.৫৭ গ্রাম।এবার তার পালা!গর্জে উঠে সে বলল
মাসিমা টু শব্দটি উচ্চারণ না করে পত্রপাঠ বিদেয় হলেন। দ্বিতীয় যে ক্রেতা উপস্থিত ছিল এবার তার কথা বলি।অল্প বয়েসি ছেলেটি এতক্ষন উবু হয়ে বসে মন দিয়ে পচা পেঁয়াজের বস্তার মধ্যে থেকে খাবার উপযুক্ত যে গুলি তা বাছছিল।বটফলের থেকে সামান্য কিছুটা বড় আকৃতির এক কেজি পেঁয়াজ বেছে নেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়।সে এবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল
-এই কারণেই হরিদা (বিক্রেতা) এখনো বিয়ে করেনি।এই সব পিকিউলিয়ার পাবলিক নিয়ে চলতে গেলে ব্যাচেলর না হয়ে উপায় নেই।
বলা বাহুল্য আমার দ্বারাও হবে না।হলে করে নিতাম। আমাকে অধবদনে থাকতে দেখে মা পুনরায় যোগ করলো
ভাবতে লাগলাম আজ আলুপোস্ত ফস্কে গেলেও জলদি হবে বৈকি।পোস্ত এখন মহার্ঘ বস্তু!কিন্তু আমাদের ছেলেবেলায় এমনটা ছিলো না।
যাই হোক আশার কথা এই যে রাজ্য সরকার পোস্ত প্রেমী বাঙালির কথা চিন্তা করে কেন্দ্র সরকারের কাছে পোস্ত (বাস্তবে গাঁজা) চাষের অনুমতি চেয়েছে।তবে ভাবনার বিষয় হল এই যে:সে সব অনেক দিন আগের কথা করোনাক্রান্তি ও আমফানের দাপট এতো দিনে সে সব আবেদন ও প্রতিশ্রুতি ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয়নি তো ?




