ভিক্ষা ~ সনৎ ঘোষের অণুগল্প


সনৎ ঘোষের অণুগল্প 
ভিক্ষা 

দুটো পয়সা দেবে গো,
সত্তোরোর্ধ মোহর এভাবেই অপেক্ষারত প্ল্যাটফর্মের যাত্রীদের সামনে হাত পেতে দাঁড়ায়। কেউ দেয় দু এক টাকা,কেউ ইচ্ছে করেই আনমনা হয়ে যায়। অনেকেই মোবাইলে ব্যাস্ত,ট্রেন ধরার ব্যাস্ততা, পাতা হাতটা সরিয়ে নেয় তখন।গত পাঁচ বছর ধরে সে এই ভিক্ষাবৃত্তিকেই বেছে নিয়েছে, স্বামীর পোড়া ভিটেয় ফিরে যায় না।আর ভিটে বলতে তো এক চিলতে নদী বাঁধের পাশে ভাঙা মাটির দেওয়ালের ওপর কালো
পলিথিন চাপানো এক কামরার ঘর। তার চেয়ে এই স্টেশনই ভালো, কত মানুষের আনাগোনা দিব্যি কেটে যায় মাস বছর।তবু কিসের যেন টানে মোহর ফিরে আসে সেই পোড়া ভিটেয়। তিন কুলে কেউ নেই , অথচ রয়ে গেছে এই আস্থানা।কেন যে নদী গর্ভে বিলীন হলো না! মাঝে মাঝে এসে অতীত ভাবনায় ডুবে যায়, অতীত সাধনাতেই বোধহয় ফিরে আসে সে। ক্লান্ত শরীরটা টেনে বেড়াতে আজকাল বড় কষ্ট হয় তার। দিনান্তের খাবারের জন্য বেরোতেই হয়।

না না ভিক্ষার জন্য। অভ্যস্ত জীবনেও ক্লান্তি ভিড় করে, তখন মনে হয় চেনা এই জীবনে আর না ফিরলে কেমন হয়! ইদানিং মোহর শুনেছিল তার জন্য ও নাকি কি সব সরকারি সাহায্য আছে ।তদ্বিরের অভাবে তা হয় নি ।এখন কেউ যেন করছে দয়াবসত হয়ে।করুক। মাটির সেই স্যাঁতসেঁতে ঘরে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছে মোহর হঠাৎ ই খুশির খবরটা এলো তার পোড়া ভিটেয়। তার আস্থানায় শুভাকাঙ্ক্ষীর ভিড় মোহর এতোদিনে সরকারি সুবিধা পেলো।তার আস্তানায় ভ্যাপসা গন্ধের সাথে একটা রাজনীতির গন্ধ ও ওঠে।কার যেন গলা পাওয়া যায়।আস্তাকুড়ে উড়ে আসে খবর ।
মোহর আছিস নাকি!মোহর,তোর বিধবা ভাতা চালু করে দিয়েছি, এবারের ভোটটা কিন্তু, মোহর এই মোহর শুনতে পাচ্ছিস না।
না মোহর এখন কিছুই শোনে না।।মোহর হাঁটতে হাঁটতে কখন যেন সীমানা পেরিয়ে গেছে। ফিরতে পারবে না।সে এখন ভেংচি কেটে বলে,কি হবে এই ভিক্ষা!এখন আর আমার কোন খিদেই নেই।
কে কার ভিক্ষা নেয় রে। এই মুহূর্তে কারা যেন তার শেষকৃত্যের শ্মশান যাত্রার আয়োজন করেছে।

লেখক সনৎ ঘোষ 
বাগনান, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ



















0 Comments