অঞ্জনা গোড়িয়ার গল্প


জানি আর দেখা হবে না

সেদিন যখন রূপনারায়নের তীরে  দেখা হলো। কত  স্বপ্ন কত ভালোবাসা ওর চোখের তারায় ফুটে উঠেছিল । নদীর জলে পা ডুবিয়ে বসে ছিলাম। ছলাৎ ছলাৎ ঢেউয়ের পরশ নিতে নিতে হাত নাড়িয়ে খেলা  করছিলাম জলে। 
এক নিমেষে কেমন অস্থির  হয়ে উঠলো স্পন্দন।  
"বৃষ্টি আর আমার নেই। "তবে কি কিছু  ঘটতে চলেছে? তুমি কি হারিয়ে যাবে আমার জীবন থেকে? প্রশ্ন টা মনের মধ্যে আসতেই চেপে ধরল হাত টা।  আপন মনে বলে ফেলল, "বৃষ্টি  তুমি আমার ই থাকবে তো? যদি কোনো দিন ঝড় আসে। তুমি কি  ছেড়ে  চলে যাবে?, বলো যদি কোনো  দিন  সুনামি আসে। তুমি কি হারিয়ে  যাবে? যদি কোনো দিন বৃষ্টি নামে অঝোর ধারায়। তুমি কি অন্য পথে চলে  যাবে? অন্যের হয়ে যাবে?
ফিরে আসবে না স্পন্দনের কাছে। 
প্রাণচঞ্চল হাসিতে ফেটে পড়লাম। ধুর বোকা। আর কোথায় যাবো? আমি যে তোমারই। 
আকাশ বাতাস সাক্ষী রইল সেই দিনটা।
হাতটা  চেপে ধরলাম। এই তো তোমার পাশেই আছি। তুমি ভুলে যাবে না তো?
আঁচল পেতে দিলাম নদীর  পাড়ে। মাথা রাখলাম স্পন্দনের বুকে।আঁচলটা উড়ে এলো স্পন্দনের মুখে।মিষ্টি বুনো ফুলের গন্ধে আকাশ বাতাস মুখরিত।
দুটি শরীর দুটো মন মিলেমিশে একাকার। 
মিষ্টি হেসে বললাম, কি গো। এখনো  ভয়? আমাকে হারানোর?এই রূপনারায়ন সাক্ষী রইল তোমার আমার প্রেমকাহিনীর। 
ফাগুন হাওয়া ঠিক মনে করিয়ে  দেবে। আমাদের।  আবার দেখা হবে এখানেই।আবার আসব ফিরে। 
দু বছর  হয়ে গেল। আর আসে না স্পন্দন। ব্লক লিস্টের বন্ধু এখন।
ফোনের সুইচ অফ। ঠিকানা গিয়েছে হারিয়ে।    
তবে কি ভোরের স্বপ্নটায় সত্যি হলো। সেদিনের ভাবনাটায় ঠিক ছিল।
স্পন্দন এখন অন্যের? স্ত্রী পুত্র নিয়ে সংসারে মেতে আছে?
আর পড়ে না  মনে বৃষ্টির  ভালোবাসা। 
এ হতে পারে না।      
ওকে ফিরতেই  হবে আবার। এই রূপনারায়ন তীরে।  আবার দেখা হবে। কথা হবে। 
বৃষ্টি যে শুধুই তোমার। 

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি---স্পন্দন সত্যিই এখনো আসে রূপ নারায়ন নদীর পাড়ে। তবে একা। চোখে  হাই পাওয়ারের চশমা। গন্ধ শুঁকে অনুভব করে বৃষ্টির উপস্থিতি।স্পন্দনের দুচোখে ঘন আঁধার।দূর থেকে  অনুভব করে বৃষ্টিকে। 
স্পন্দন শুধুই  বৃষ্টির। আর কারোর নয়। হাতের লাঠিটা শক্ত করে ধরে ছুঁয়ে যায় রূপনারায়ণের ঢেউ।

গল্পকার অঞ্জনা গোড়িয়া
ভগবানপুর, ফলতা, পশ্চিমবঙ্গ 






























     

0 Comments