চারটি কবিতায় ~ দালান জাহান


দালান জাহানের চারটি কবিতা 

মানুষ মারা ঠোঁট 

ফুলের অতীত থাকে না বিলিয়ে দিতে ফোটে এবং আনন্দ হয়ে ঢলে যায় আনন্দে 
জল আর নদী ছাড়া বৃষ্টির বিশেষ অস্ত্র নেই 
তবুও নামে মানুষ পোড়া যুবতী বৃষ্টি 
ঠোঁটেও থাকে না চুমুর অমরত্ব 
তবুও মানুষ দেখলেই ফুলে ওঠে 
কারও কারও মানুষ মারা ঠোঁট। 

পৃথিবীর পুরাকীর্তি 

দৃশ্যত একটি সাপ 
সুগন্ধি রুমালে বসে অঙ্কন করে কার্যলিপি
ওঠে নামে খেলা করে জলে
তার ফোঁস ফোঁস নিঃশ্বাসে মৃত
রজনীগন্ধা খোলে রাত্রির যৌবন
পালকে-পালকে সৃষ্টির হাওয়া 
আবরণ সরিয়ে দেখায় পৃথিবীর পুরাকীর্তি 
দুয়ার খোলে জোয়ার তোলে মুখ 
তবুও কী বিষন্নতায় আকাশ কাঁদে 
রঙ মুছে চিৎকার করে ফোঁটা ফোঁটা বয়সী রক্ত। 

বিশ্বাস /অবিশ্বাস

জন্মের পর কখনও ঈশ্বরে
অবিশ্বাস করিনি।

এই যে মহাকাশ সূর্য চন্দ্র তারা
দিন এবং রাতের ফারাকে
একটা অদ্ভুত আঙুল
চোখের দিকে তাক হয়ে বলে
"ফাবি আলাইয়ি রাব্বিকুমা তুকাযজিবান।"

কিন্তু এখন মায়ের সামনে দাঁড়ালে
ঈশ্বরে বড্ড অবিশ্বাস হয়
বাবার সামনে দাঁড়ালে মনে হয়
ঈশ্বর বলতে কিছু নেই।

আমার শৈশব 

আমার শৈশব একটা বোতামহীন শার্ট 
একটা ভাঙা পেন্সিলে মৃত নদীর ঘ্রাণ নিয়ে 
বয়ে চলা সাদা কাশবন 
আমার শৈশব একটা আন্তঃনগর ট্রেন 
বুক কাঁপানো হুইসেল 
একঝাঁক গুয়োশালিকের পাখিকে বাসা।

আমার শৈশব একটা দুর্ভিক্ষের শিবির 
ক্ষুধার নানারকম চিত্রশালা 
বেঁচে থাকার বাতাস নিয়ে 
এক জননীর অন্তহীন ছোঁটা। 

আমার শৈশব এখনও আমার মতো
কান্নার মাংসে ডোবে যাওয়া জ্বলন্ত নদীতে 
দু'হাত তোলে একজন ঈশ্বর খোঁজা। 

কবি দালান জাহান
বোয়ার সেন্ট্রাল আফ্রিকা


















0 Comments