হৃদস্পন্দন

  • Home


  • Download

  • Social

  • Feature




           ক্ষেত্রনাথ দে🔸পূর্ব বর্ধমান🔸


             
        হজমোলা
         


(১)

নয়কো মোটেই গল্প
রন্ধন একটা শিল্প ।
জানা থাকলে
                তাকবাক
এক্কেবারে চিচিং
                ‌ ফাঁক!
           
(২)

বাড়লে বেশি লোভ
সইতেও হবে ক্ষোভ
না তুললে দাবি
হারিয়ে যাবে চাবি
খেতে হবে খাবি
যুক্তিও চাই জোরালো
না হলেই ঘোরালো!
         
 (৩)
সকলের চাই অর্থ
অভাবে জীবন
                অনর্থ
যোগাতে হবে কাজ
হাত করবেই রাজ।



          ছন্দহীনতাই ছন্দ 



(১)

দেশ আছে কী ছন্দে?
আছে কী সমাজ ছন্দে?
আছি কী আমরা ছন্দে?
বেশ আছি বদ্-গন্ধে!
         
(২)

ছন্দরসিক ছন্দ খোঁজে
আর খোঁজে পান্থ
বাকিরা খুঁজতে গেলেই
লেগে যাবে ধন্ধ।
       
 (৩)

দেখেও না দেখা
আজব এক ছন্দ
শুনেও না শোনা
নয় মোটেই মন্দ
ছন্দহীনতাই যেন ছন্দ!
         
(৪)

গাইতে লাগলেও স্বাদ ভূষি ভূষি
বন্দনা-গান গাইলে পরে
বন্দিত হবেই হবে খুশি
যদি খোঁজো ছন্দ
বেড়েই যাবে দ্বন্দ্ব!
         
(৫)

ছন্দ যদি হ'ত অনড়
সময় কী দিত কামড়?
মজুত হ'ত কী টনটন বোমা?
খুঁজতে গেলে ছন্দ
ধরবে এসে কোমা।
       
(৬)

আসলে যেদিন নিষিদ্ধ ফল
চেখেছিল আদম আর ঈভ
সর্বশক্তিমান সেদিন
ছেড়েছেন হাল
করেন নি ফরগিভ
করেন নি ফরগিভ।










      বিশ্বজিৎ দাস🔹উত্তর ২৪ পরগনা🔹




       
       ১. লাইভ শো



আজকাল লাইভ শোতে
কমেডিয়ানরা দারুণ এক একটা
                      পারফরমেন্স দেয়

কুকুর বিড়াল আরও কিছু বহিরাগত
জন্তুর ডাক নকল ক'রে
তুমুল হাসির আয়োজন হয়!

আমরা এনজয় করি
গায়ে গা ঠেকিয়ে খাই কোকাকোলা

রাত গভীর হলে, ফেরার পথে
রাস্তায় কুকুর দেখলে ইট ছুঁড়ি
নিজের ভিতরের ঘেউঘেউ শুনি বলে!


      

       ২. খোঁড়া ঈশ্বর


বীজধান ক্রমশ এগিয়ে যায়
একটি সুনির্দিষ্ট সোসাইটির দিকে

প্রয়াত জ্যোৎস্নায় একটু ট্যারাব্যাঁকা হলেও
ভোরের সেই শিউলি কুড়িয়ে নেয়
গুরুপাকের আদরবেষ্টিত দম্পতি!

এই আনন্দধামে কত কি যে হয়
এখানেও ছাপার ভুল ধরে নিয়ে

ঈশ্বর নামিয়ে দেয় এক অদ্ভুত জীব...
আমরা মহাপাপ বলে পুজোআচ্চা করি!
     


         জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়🔹 বাঁকুড়া🔹



শব্দবন্ধটির উৎপত্তির সাল-তারিখ জানা নেই
জন্ম থেকে শুনে আসছি আমরা মধ্য মানে
না উপরের না নীচের মাঝামাঝি কিছু যাদের
বিত্ত পদ্মপাতায় জল মাত্র।

কী সে জিনিস বুঝি না ভালো বা মন্দ তাও না

আমাদের ঙ শেণির কার্ড খাওয়া দেদার হৈহৈ
জমিও বেশ তবে তাতে খুব ফসল ফলে না
ভালো ঘর বলতে কিছু নেই ওই থাকা চলে মাত্র।

নিন্মশ্রেণি যাকে সমীহ করে ভালোও বাসে
ক্ষেতে মজুরি করে ধার চায় ভাত চায় আর
উচ্চশ্রেণির অবজ্ঞাবক্র হাসি যার নিশ্চিত প্রাপ্য
অদ্ভুত সেই জাত মধ্যবিত্ত।

আমরা নামতে থাকি নামা ছাড়া গন্তব্য নেই
নামতে নামতে দেখি আমরা একটা লেজের মালিক

নিম্ন তার নাম সেখানেই বাঁধা আমাদের ঠিকানা।


             অন্তরা দাঁ🔸পূর্ব বর্ধমান🔸



মাঝরাতে আজকাল বিড়াল-পায়ে ঘরে আসে মা, বুঝতে পারে বুবান। এটাওটা দ্যাখে, এ.সি.'র টেম্পারেচার'টা বাড়িয়ে দেয়, মাথা'র কাছ থেকে সরিয়ে রাখে মোবাইল ফোন, ট্যাব, বইপত্র। টেবল গুছোয়, গায়ে'র চাদর'টা বুক অবধি টেনে দিয়ে নিঃশব্দে চ'লে যায়। মা কি আমায় কোনোদিনও বড়ো হ'তে দেবে না? এরকম ওভার-পজিসিভনেস চললে তো মুশকিল, রাকা আবার যা সেন্টিমেণ্টাল! 

আজকাল বুবানে'র শার্টে ডিও'র গন্ধ ছাপিয়ে আরও তীব্র কিছুর গন্ধ ঝাপটা দেয় নাকে। সারাদিন কোথায় যায়, কী করে?! শরীরে'ই বড়ো হয়েছে শুধু, এখনও বালিশে লালা'র দাগ লেগে থাকে স্পষ্ট দেখেছি। সারদিন উপোস ক'রে বিপদতারিনী মা'র তাগা বাঁধতে গেলাম, কিছুতেই পরলো না, কপালে ঠেকিয়ে ঠাকুরের ঘটে'র পাশে রাখা ছাড়া উপায় কী ! 

বুবান আর মা কেউই জানেনা এ সংসারে হাজার হাজার বুবান স্রেফ চোখ বন্ধ ক'রে জেগে থাকে একটু নিজস্ব জায়গার জন্য, লক্ষ লক্ষ মা'ও বিপদতারিনী'র ডোর বাঁধতে চায় একই কারণে।




           ঝুটন দত্ত🔸ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ🔸



আমাদের বাড়ি কাছে যে নদী-
ছেলেবেলা থেকে জানি তার নাম ধলাই,
নদী দেখতে আসলে যেমন হয়,আমাদের ধলাই তেমন নয়;
লোকেরা এটাকে খাল বলবে আমরা নদী বলে ডাকি।

এই  ধলাই তীরে আমাদের
পূর্বপুরুষের শ্মশান ঘাট,
মাঝে মাঝে আমি নদী আর শশ্মানের পাশে বসি
পৃথিবীর সবচেয়ে সুশীতল বাতাস তখন আমার শরীরে বয়।

বরষার মৌসুমে একদিন আমি কাঁদতে গিয়ে দেখি- আমাদের ধলাই এ জল নেই!     
অথচ,মা বলছে প্রচণ্ড বৃষ্টির দিন
শ্রাবণের মাসে আমার জন্ম !
তখন ধলাইয়ের জল আমাদের বাড়ির উঠোন দূরত্বে



           সুজিত রেজ🔸চুঁচুড়া ,হুগলি🔸




       ১. হৃদস্পন্দন



অনেক কথা হল আঙুলে আঙুলে ,
নির্বাধ সাঁতার স্নায়ু ভাঙা জলে ,
অনির্বাণ ব্যথা দুই বাহুমূলে।

এবার বিরত হই স্থল খুঁজি চলো ,
পিছনে ঘোলাস্রোত যত এলোমেলো ,
পদ পদান্তর অহেতুক ভেল।

সামগীতি সন্ধ্যা শ্রুতি পরশয়ে ,
নিবিড় বেদনার নির্বেদ দহে ,
সিঞ্চিত শেঁওলি ভূমাতে বিলয়ে।

অক্ষর যাপণ শ্রেয় আশ্রয় ,
সমাহিত চিত্তে জাগে প্রত্যয় ,
সংশয় স্খলিত বিশ্ববিজয়।


        
       ২. শিউলিফুল  


আমার বাবা কারখানা থেকে বাড়ি ফিরে, জিভ বের করে পাঁচ-সাতটা দীর্ঘশ্বাস ফেলতেন।। মা ন্যাতানো শাড়ির আঁচলে মুখের ক্লান্তি নিংড়ে নিয়ে বলতেন :খাবে চলো। 
বাবা তেল চিটচিটে থলে থেকে লবণাক্ত রুমালটা বের করে ,এক চিলতে বিশ্বাস মাখানো দু'চার টাকা মায়ের হাতে তুলে দিয়ে বলতেন : আমি বিশাখ দত্ত হলেও মুদ্রারাক্ষস নই।


মা লঙ্কা পুড়িয়ে, সিদ্ধ আলু মেখে , এক থালা পান্তা বেড়ে দিতেন আর বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে পরখ করতেন তৃপ্তির আলো। সানকি থালার কিনারে হাত ঘষতেই ঝরে পড়ত সম্পর্কের শুভ্র শিউলিফুল । 


         ৩. নিষেধাদি 



প্রতি সন্ধ্যায় সমুদ্র ঋতুমতী হয় 
তখন তার জল ছুঁতে নেই। 

প্রতি সন্ধ্যায় গাছ ডালপাতা খুলে রেখে উলঙ্গ হয়  
তখন আলো জ্বালাতে নেই। 

প্রতি সন্ধ্যায় নদীর ছলাৎ জল চুমু খায় নৌকার গলুইয়ে  
তখন নিঃস্ব নোঙরের ঈর্ষা মাপতে নেই। 

প্রতি সন্ধ্যায় জোনাকি অন্ধকারের সঙ্গে লুকোচুরি খেলে 
তখন বাঁশি বাজাতে নেই।

প্রতি সন্ধ্যায় কবি আগুনলিপি লেখে নিশুতি নিয়তির কলমে 
তখন রাহু কেতুর ঘুম ভাঙাতে নেই।

                   



      লক্ষ্মণ দাস ঠাকুরা🔸পূর্ব বর্ধমান🔸



এখন আমারা কেউ আড়মোড়া দিয়ে স্বপ্ন দেখিনা রাতে।
চোখের ভুলেও ফাগুন মাসে দেখিনা পলাশ ফুল।
মরা নদীতে ডুবিয়ে পা ঢেউ গোনার অলস বিলাস
দেখায় না সাগরের নীল চোখে জলের ছলাৎ ছল।
রাত জাগা চোখ দেখে ও দিকে ভাঙা গ্রাম
এ দিকে খিল আঁটা ছটফটে শহর নির্বিকার।
আঁকশি দিয়ে টানাটানি করে বেওয়ারিশ  লাশ
ডোমের লাঠি খুঁচিয়ে তোলে চিতার আগুন গনগনে।
নগর কোটাল শিঙা বাজিয়ে বলে চলেছেন-
হিসাব করো না অত-এটা অঙ্কের অন্তর্জাল।
ডাইনে বাঁয়ে যে দিকেই তাকাও সামনে শ্যাওড়া গাছ।
ওখানে কারা থাকে আপনি জানেন নিশ্চয়।
যদি রাত্রি শেষে বৃষ্টি নামে মরা নদীর পাড়ে
কদম ফুল ফুটতে পারে -সে কথা ভাবতে পারি নাকো?
গোটা দেশটাই মুখোশ পরা-হুকুম করুন জাহাপনা
সব কথাই মানতে পারি তবে বিয়ের চিঠিতে হলুদ ছোঁয়াব না।
         



  
  সত্যজিৎ রজক🔸কলকাতা🔸


         
   ১. হারিয়ে যাওয়ার মতো করে
                   
         


হারিয়ে যেতে পারি কোনো এক নাম না জানা দ্বীপের
প্রজাদের অস্তিত্বের মতো করে। 
কোনো এক রাক্ষুসী বেলায় সমস্ত সংসার গ্রাস করছে
বা জোয়ার ভাটার গর্জনে সমস্ত পেন্ডুলাম ঘড়ির কাঁটায় সময় থমকে যাচ্ছে !
এমন সময় আমি বিলম্বের মতো হারিয়ে যেতে পারি।

নির্বোধের মতো যুযুধান ক্ষেত্র থেকে ফিরে আসার অহংকার,
বিনীত তোমার ভবিষৎ বেদনায় অন্তিম অস্তিত্বকে    শেষ  করতে থাকবে,
আর নির্ণয় করতে থাকবে আর একটা সৃষ্টির সুখ,  কেমন করে আর একটা সৃষ্টির সুখ



                                                                                   
       
২. অবশেষে অন্য এক যুগ
               



একশো সমুদ্রের ওপারে তোমাকে ফুঁ  দিয়ে নিভিয়েছি।
একলভ্য ধ্যানে মগ্ন করে রাখার মতো একেবারে শেষ দেখেই ছাড়ি।
এই আর কি
এখন উঠোনে নিয়মিত রোদ আসে বৃষ্টি আসে।
মাঝখানে আর কোনো সীমারেখা নেই। কাদা ছিঁটোতে পারি এদিক সেদিক...
বেলাশেষে পাতা ঝরে গেলে সমস্ত রাত উলঙ্গ গাছ মিলনের স্বপ্ন দেখতে দেখতে
নিজের রং হারিয়ে ফেলে ভাষা হারিয়ে ফেলে।  অতঃপর বিবর্ণ আক্ষেপের বেদনায় অবিরত বীজ বুনতে থাকে,
আবার একটা জীবন আবার একটা যুগ...



                                                                     
           ৩. মৃত্যুর অনুভূতি
             
   

দপ্ দপ্ করে জ্বলতে থাকা প্রদীপের আলোর বদলে তা নিভিয়ে রাখা ভালো ,বিপর্যয়ের আশঙ্কা অনেক কম তাতে !
কিছুটা নিবেদন করে বলছি, এই আর কি। কিছু দিনরাতের স্বপ্ন অপরাধ করেছে বলে বলছি না।
দ্বিতীয় উপাখ্যান পড়ে ফেলতে ফেলতে কখন দেখবে পথের বাঁক ধরেছে !

নির্জন রাতের গায়ে যে ঠান্ডা হওয়া বয়ে যায় তাতে আরাম নেই , তাতে এক মৃত্যুর অনুভূতি আছে !
আমি কিন্তু সেই মৃত্যুকে ক্ষমা করে দিয়েছি। কি আর বলি বলো দেখি ! ক্ষমা করে দিয়েছি অপার স্নেহে ভালোবেসে।



      হামিদুল ইসলাম🔸দক্ষিণ দিনাজপুর🔸



এক একটি সম্ভাবনা 
আমাকে ঘিরে জড়িয়ে থাকে রাতদিন 
বন্ধ বাগান বাড়ি 
তালা দিই চিলেকোঠার ঘরে 
তালা ভাঙে
বিভৎস দানব মাথার উপর রাখি ছাদের কার্ণিশ ।।

রোদে রোদে মৃত্তিকা সব
শুকিয়ে কাঠ 
মৃত‍্যুঞ্জয়ী আশাগুলো আকাশ পাড়ি দেয় 
অমল রাত 
বাতাসে ভাসে তার গন্ধ 
রাতের রজনীগন্ধা ধর্ষিতা প্রতিদিন 
ভ্রূণগুলো নিঃসাড় নৈঃশব্দের গর্ভকোষ ।।

আলোয় আলোকিত বৈশাখী সকাল 
কৃষ্ণচূড়া ভাঙে আলস‍্যের ডালপালা 
শিশুরা দাঁড়িয়ে থাকে ঝুল বারান্দায় 
গরম ভাতের গন্ধ ভাসে বুকের ভেতর 
হারানো জমিনে বুকে রাখি মমতা এক আকাশ ।।



                           কবি হামিদুল ইসলাম
                   



               ঋভু চট্টোপাধ্যায়🔸দুর্গাপুর🔸



-লোকজন খুব বেশি গুজবে কান দেয়।একটা কিছু পেলেই অমনি তাকে তাল বানাতে আরম্ভ করে।পরখ করে কিছু দেখবারও প্রয়োজন মনে করে না।তুমি কি বল?
-আমি আর কি বলব।প্রথম থেকেই বলে আসছি,ওসব বাজে কথা।বাড়িটাতে থাকি, ভালো লাগা বা না লাগারও একটা ব্যাপার আছে।
-না গো প্রথমে যে’রকমভাবে সবাই এটা ওটা বলে ঘাবড়ে দিয়েছিল না, মন কূ’গেয়ে উঠেছিল।না হলে তো আমি এই সব কিছুই মানিনা।পরমার শেষের কথাটার উত্তরে সুব্রত ঘাড় নেড়ে সম্মতি না জানিয়ে পারল না।টিপিক্যাল হিন্দু ঘরের মেয়েদের মত কোন দিনই মাথায় কাপড় দিয়ে শিবরাত্রি, মঙ্গলচণ্ডী বা অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি কোনটাই পরমা করে না।বিয়ের আগে মা বলে বলে হাল ছেড়ে দিয়েছিল।কথায় কথায় বলত,‘দাঁড়া বিয়ের পর শাশুড়ির কথা শুনে তবে তোর ঠাকুর ভক্তি হবে।’কিন্তু সুব্রতকে বিয়ের পর হল তার ঠিক উল্টোটা।বাবার বাড়িতে যদিও বা মা খিঁচ খিঁচ করত, এখানে তো এক্কেবারে কেউ নেই।তাছাড়া পূজো করলেই বা কখন করবে।সকাল ন’টার সময় দুজন মিলে চাকরিতে বেরিয়ে যায়, ফিরতে সেই রাতে।তারপর কোন রকমে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করেই ঘুম।রুটিনের বাইরে আনন্দ বলতে শনি রবিবার বাইরে ছোট খাটো ঘুরতে যাওয়া, না হয় পড়ে পড়ে ঘুমানো।একে তো ভাড়া বাড়ি, তার উপর পাড়ার কারোর সাথে সেরকম সখ্যতা ছিলও না।সামনা সামনি দেখা হলে ঐ একটু হাসি।তাও বিয়ের কয়েকমাস পরেই পরমা বলতে আরম্ভ করে তুমি একটু জোর দিয়ে চেষ্টা কর অন্য জায়গায় ভাড়া নেব।তবে কথাগুলো পরমা যতটা সহজে বলে সুব্রত ঠিক ততটাই নিরাশ করে।‘এই শহরে ভাড়া পাওয়া কি এত সোজা?তাছাড়া আমরা থাকি কতক্ষণ।শনি রবি বারটাও তো কোথাও না কোথাও বেরিয়ে যাচ্ছি।’পরমা এরপর আর কোন কথা বলে নি।বেশ ভালো ভাবেই সব কিছু চলছিল।একটা অদ্ভুত ঘটনা সব কিছু অনেকখানি এলোমেলো করে দিল।পরমার তিনমাসের মাথায় মিস-ক্যারেজ হল।কয়েকটা দিন যমে মানুষে টানাটানিও চলল।সে যাত্রায় প্রাণ বাঁচলেও ডাক্তারের পরামর্শে কাজ ছাড়তে হল।দু’পক্ষের কারোরই মা বেঁচে নেই।দাদা বৌদি কত আর করবে?সুব্রত অফিস বেরিয়ে গেলেই সারাটা দিন এক্কেবারে একা থাকতে থাকতে পরমার দম বন্ধ হয়ে আসত।সুব্রত অনেক গুলো ছুটি নিয়েছিল।কিন্তু প্রাইভেট কম্পানি আর কত ছুটি দেবে?যদিও সুব্রত অফিস থেকে ফিরলেই পরমা প্রায় প্রতিদিন বলে,‘তুমি তাড়াতাড়ি এই ঘরটা চেঞ্জ কর।আমি হাঁপিয়ে উঠছি।এখানে কথা বলবার মত কেউ নেই।’এবার সুব্রত সিরিয়াসলি ভাড়া ঘর খুঁজতে আরম্ভ করে।আশেপাশের অনেককে বলে, দালালও ধরে।কিন্তু পছন্দের ঘর আর পাওয়া যায় না।ঘর ভালো তো ভাড়া বেশি, না হলে পজিসন এক্কেবার খুব খারাপ।প্রতিদিন মুখ শুকনো করে পরমার মুখের সামনে দাঁড়াতেও খারাপ লাগে।মাস দেড় পরে সুব্রতর অফিসের সেনদা বলে,‘সুব্রত ভাই তুমি নাকি বাড়ি ভাড়া খুঁজছ?একটা রেডিমেড বাড়ি আছে, কিনবে?খুব কমে পাবে।’
সুব্রত প্রথমে নিমরাজি ছিল।পরমার শরীরের পিছনে অনেকগুলো টাকা খরচ হল।
-আরে ভাই, এই সুযোগ আর পাবে না।রেডিমেড বাড়ি, বাগান, শান্ত পরিবেশ, মাত্র পাঁচ লাখে পেয়ে যাবে।
-পাঁচ লাখে!সুব্রত ভ্রু কুঁচকায়।মগের মুলুক নাকি?কোন ডিসপুট কেশ?দলিল হবে না তো?
-সব পাবে।
-তবে ?
সেনদা একটু আমতা আমতা করে বলে,‘এমনি কিছু নয়,তবে সবাই বলে কেউ নাকি থাকতে পারেনা।আমি কিন্তু তোমাকে আগে থেকে সব জানিয়েই দিচ্ছি।পরে আমায় কিছু বোলো না।’
সুব্রত কিছু সময় চুপ থেকে উত্তর দেয়,‘সে না হয় বুঝলাম, কিন্তু প্রশ্ন হল টাকা কোথায় পাবো?পাঁচ লাখ টাও তো কম নয়।’
বাড়ি ফিরে পরমাকে কথাগুলো বলতেই পরমা ভুতের ব্যাপারটা এক্কেবারে উড়িয়ে দিল।কিন্তু টাকার কথাতে একটু চিন্তা হল।কিছু গয়না বন্ধক রেখে আর অফিস থেকে কিছু টাকা লোন করে বাড়িটা কিনে নিল।কেনার সময় আরো পঞ্চাশ হাজার কমও দিল।কেনার আগে অবশ্য দুজন বেশ কয়েকবার এসে বাড়িটা দেখে গেছে।আশেপাশের সবার সাথে কথাও বলেছে।শহরের কাছে হলেও ঠিকানাটা কিন্তু পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে।আশেপাশের সবাই চাকুরিজীবি।জমির দামের ছ্যাঁকার ভয়ে দিব্যি জায়গা কিনে বাড়ি বানিয়ে থাকছে।একটা সমস্যার কথা অনেকেই বললেন,‘বৃষ্টি হলে নাকি জল জমে যায়।’সে তো শহরের অনেক জায়গাতেই জমে।বাড়ি দেখতে এসে পাড়াটা পরমারও খুব ভালো লাগে, তবে বাড়িটার কথা শুনে অনেকেই বলে উঠলেন,‘বাব্বা ওই বাড়িটা!ওটাতো সেই বোসদা করেছিল।ওরাও ছেড়ে চলে গেল।তারপর ওখানে তো কেউ থাকতে পারেনা।কয়েকঘর ভাড়াটে এসেছিলেন কিন্তু সবারই এক অবস্থা।একটু পূজো করে ঢুকবেন তাহলে আর কিছু হবে না।’
পরমা পূজোর কথা শুনে সেখানে কিছু না বললেও বাড়ি এসে বলে,‘একটা ব্যাপার ভালো হবে আমি সারাদিন একা থাকব ভুতের সাথে গল্প হবে, আর ভুতের বাড়ি বলে সেরকম কেউ হুট হাট করে চলে আসবে না।’
কিছু ফর্মালিটি শেষ করে বাড়িটা কেনা হল।আশে পাশের লোকজনদের গৃহপ্রবেশের দিনে প্রসাদ ও দেওয়া হল।পরমার বৌদি কয়েকটা দিন থাকলেন।তবে পরের দিন থেকেই পাড়ার দোকানে কোন জিনিস কিনতে গেলে দোকানদার থেকে প্রতিবেশী সবাই একটাই প্রশ্ন করে,‘দাদা, কোন কিছু হয় নি তো?’
-কি হবে?দিব্যি তো আছি।দুজনেই অফিস বেরিয়ে যায়, ফিরতে ফিরতে রাতও হয়।কিছু সমস্যাতো ফেশ করিনি।বাড়ি ফিরে রাতেও না।
সুব্রত প্রায় পরমার সাথে আলোচনা করে।এই রকম একটা বাড়ি এত কম দামে পেয়ে যাওয়ার জন্য ভাগ্যের সাথে অফিসের সেনদাকেও ধন্যবাদ জানায়।সেনদাকে একদিন নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানোর কথাও বলে।
নতুন বাড়ির আনন্দে পরমা আবার কনসিভ করে।দুজনেই আনন্দিত হবার পাশে নতুন বাড়িটাকে পয়মন্ত ভাবে।ডাক্তারকে দেখানোর পর উনি প্রিভিয়াস হিস্ট্রির কথা ভেবে বেড রেস্ট প্রেসস্ক্রাইব করেন।পরমা অফিস ছাড়লেও একটা ব্যাপারে বেশ চিন্তিত হয়ে ওঠে, বাড়িটাতে একা থাকবে কি ভাবে।
কয়েকটা দিন সুব্রত ছুটি নেয়।কিন্তু প্রাইভেট কম্পানি তো আর বারো মাস ছুটি দেবে না।পরমা তার বৌদিকে আবার আসতে বলে।কিন্তু বৌদি জানিয়ে দেয় কষ্ট হলেও এই মুহূর্তে সংসার ফেলে আসা সম্ভব নয়।মাথার উপর আকাশটা কেমন যেন ঝনঝন করে ওঠে।এই প্রথম পরমা সুব্রত দুজনেই এক অজানা আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে।পরমা তো একদিন সুব্রতর হাত ধরে প্রায় কেঁদেই ফেলে,‘হ্যাঁ’গো আবার ওরকম হয়ে যাবে না তো?’
 সুব্রত আশ্বাস দেয়, “না’গো ও’রকম হবে কেন তুমি চিন্তা কোরো না।একটা সব সময়ের জন্য কাজের মেয়েকে পাওয়া যায় কিনা দেখছি।”
সেদিনই বাজারে এসে প্রায় জনে জনে সবাইকে সব সময় থাকবার জন্যে একটা কাজের লোক দেখে দিতে বলে।কিন্তু এই পাড়ার এই এক সমস্যা কাজের লোক পাওয়া যায় না।সুব্রত তাও চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখে  না।দু’এক জন যাও বা পাওয়া যায় তারা আবার বাড়িটার কথা শুনেই পিছিয়ে যায়।‘বাব্বা!ঐ বাড়িতে কেউ যায় নাকি,ভুত আছে তো।’
বাধ্য হয়ে সুব্রতকে কাজের লোকের আশা ছেড়ে নিজের কাজ নিজে নিজেই করবার কথা ভাবতে হয়।বেচারাকে ভোরে উঠে রান্না করে অফিস বের হতে হয়।পরমার খাবার সব ঢাকা দিয়ে রেখে যায়।পরমা শুধু উঠে স্নান করে ঢাকা সরিয়ে খাবার খায়।গরমও করে না।বাকি সময় বই পড়ে, গান শোনে, আর এক্কেবারে হাল্কা কিছু কাজ করে সময় কাটায়।এমনকি সুব্রত অফিস বের হওয়ার সময় বাইরে থেকে চাবিও দিয়ে যায়।একটা চাবি পরমার কাছেও থাকলেও বেরোনোর সময় বলে যায়,‘দরজা খুলবে না,কেউ আসলে বলবে পরে আসতে।’
এমনি ভাবে কয়েকটা দিন কাটানোর পর একদিন দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পরে পরমার সবে চোখটা লেগেছে এমন সময় কলিং বেলটা বেজে ওঠে।আস্তে আস্তে বিছানা থেকে নেমে দরজার কাছে দাঁড়াতেই দেখে একটা ষোল সতেরো বছরের মেয়ে দরজার ওদিকে দাঁড়িয়ে আছে।পরমাকে দেখতে পেয়েই মিষ্টি হেসে বলে,‘বৌদি তোমরা এই পাড়াতে নতুন এসেছ?আমি টুম্পা, এই কয়েকটা বাড়ি পরে থাকি।আগে তোমাকে দেখেছি।কয়েকদিন না দেখতে পেয়ে সোজা বাড়ি চলে এলাম।আলাপও করা যাবে, কথা বলা যাবে।বিরক্ত করলাম না তো?’
পরমা প্রথমে একটু অবাকই হয়ে যায়।এখানে আসার পর থেকে দু’এক জন এক আধ দিন যাও বা এসেছিল পরমা বা সুব্রতর সাথে দু’একদিন কথা বার্তা বলেই চলে যায়।তারপর থেকে আসা যাওয়াও কমে যায়।সবারই সময় সমস্যা।এখন পরমার শরীর ভালো নয় বলে এমনি ভাবে অফিস ছুটি নিয়ে আছে।অনেক দিন ধরেই ছুটি নিয়েছে, কিন্তু কেউ তো মাঝে কোন দিন আসেনি।তাই প্রথম দিনেই মেয়েটিকে দেখে একটু অবাকই হয়।জিজ্ঞেস করে,‘তোমাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না।’
-চিনতে পারবে কি করে আমি তো তোমার কাছে কোন দিন আসিনি।আজই প্রথম ঘুরতে ঘুরতে চলে এলাম।পরমা ভিতর থেকে অনেক কথা বলবার পরেই দরজা খোলে।মেয়েটি সোজা ঘরের ভিতর এসে পরমার সাথে গল্প করতে আরম্ভ করে।ঠিক বিকালের আগে চলে যায়।
সুব্রতকে ফোনে খবরটা দিতে ও প্রথমে একটু চিন্তাই পড়ে যায়, তারপরে অবশ্য বলে ওঠে,‘যাক ভালোই হয়েছে।তুমি দুপুর বেলাটাতে একজনের সাথে গল্প করতে পারলে।প্রতিদিন এলে আমারও চিন্তা কিছুটা কমবে।তবে খুব সাবধানে।’পরের দিন ঠিক দুপুর বেলা আবার ঐ মেয়েটি আসে।পরমা কিছুটা হলেও স্বস্তি পায় । না হলে বাথরুমে গেলেও ফোন হাতে করেই যেতে হয়।
দেখতে দেখতে মেয়েটি প্রায় একমাস ধরে প্রতিদিনই এসেছে।অদ্ভুত ব্যাপার হল শনি রবিবার বা অন্য ছুটির দিনে মেয়েটি আসে না।অন্যদিন সুব্রত ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই জিজ্ঞেস করে,‘কি গো আজ তোমার বোন এসেছিল?’পরমা হ্যাঁ বললেই সুব্রতর কথার মধ্যে একটা স্বস্তির ছাপ ফেলে।তবে ছুটির দিন না আসাতে পরমাকে জিজ্ঞেস করে,‘তোমার বোনের সাথে দেখা হলে একটু আমার সাথে আলাপ করতে বলবে তো।একটা বড় থ্যাঙ্ক ইউ দেব,শুধুমাত্র তোমাকে সময় দেওয়ার জন্য।’পরমা মেয়েটিকে বলেও,‘তোর দাদা তোর সাথে দেখা করতে চেয়েছে সময় করে একদিন আসিস তো।’ উত্তরে মেয়েটি শুধু হাসে, বলে,‘আসব আসব, আসলে শনি রবিবার দাদা থাকে তো তাই গরজ হয় না।’
পরমা তারপরেই সব ভুলে যায়।এর মাঝে অবশ্য সুব্রত বাজারে বেশ কয়েকবার পরমার মুখ থেকে শোনা মেয়েটির বর্ণণা শুনে মেয়েটির পরিচয়ের খোঁজ করেছে।সেরকম কেউ বলতে পারেনি, কেউ বলেছে,‘ও, কালো মতন?মনে হচ্ছে মণ্ডলদার মেয়ে।’তার মধ্যে একজন আবার একটু সাবধানে থাকতে বলে একটা গল্পো শোনায়।
কয়েকদিন পরে একরাতে শুয়ে শুয়ে সুব্রতর সাথে কথার প্রসঙ্গে পরমা বলে ওঠে,‘জানো টুম্পা বলছিল এই বাড়িটার পিছন দিকে নাকি গুপ্তধন পোঁতা আছে।সেই জন্যে সবাই ভুত ভুত বলে।’
সুব্রত প্রথমদিকে কথাগুলো উড়িয়ে দিয়ে বলে, ‘ও সব বাজে কথা।’
-আরে তুমি বিশ্বাস কর,ও বলছিল, আমি কিছু জিজ্ঞেস করিনি।
আমি কোথায় বাড়িটা সম্পর্কে কত সব কথা শুনেছি তার আর হিসাব নেই।যাক তবু তুমি গুপ্তধনের কথাটাও শুনলে।’
-তুমি কি শুনলে শুনি।
-বাদ দাও।একা থাক ভয় পাবে।
-হ্যাঁ ভয় পাবে!ভয় পেয়ে আমি উল্টে যাচ্ছি কিনা।তুমি আবার নতুন কিছু শুনলে?
-নতুন না পুরাতন জানিনা।তবে সেই প্রথম দিন থেকেই শুনে আসছি।শুনলাম কয়েকবছর আগে এই বাড়ি থেকে একটা মেয়ে নাকি আচমকা নিখোঁজ হয়ে যায়, তখন এই বোস না কারা যেন থাকত সম্ভবত বাড়ির কাজের লোক ছিল।কেউ বলে এবাড়ির ভুতটা নাকি মেরে দেয়,তবে সত্যি মিথ্যা জানিনা।এর পর থেকে ঐ বোসবাবুদের ফ্যামিলিও মিসিং হয়ে যায়।
পরমা বিরক্তি প্রকাশ করে বলে,‘দুর!যতসব বাজে গাঁজাখুরি,গাল গপ্পো।বাড়িটাতে কিছু থাকলে তো আমরা তো একটুও টের পেতাম।আমি তো সারাদিন একাই থাকি।’
কিছু সময় পরমা বলে ওঠে,‘শোন না সামনের রবিবার একবার দেখবে, সত্যি কিছু গুপ্তধন পাওয়া যায় কিনা?এমনিতে পিছনের দিকের বাগানে কিছু খোঁড়া খুঁড়ি করলে আশেপাশের কেউ দেখতে পাবে না।কিছু পেলে লোনটা শোধ তো করা যাবে।’কয়েকদিন পর থেকে আবার টুম্পা আসা বন্ধ করে দেয়।সুব্রত পরমাকে জিজ্ঞেস করে, বাজারে খোঁজ নেয়, কিন্তু কোন খবর পায় না।
 আরো কয়েকটা দিন কাটে।সুব্রতর আনিচ্ছা সত্ত্বেও এক রবিবারের দুপুরে খাওয়ার পর, সুব্রত খুঁড়তে আরম্ভ করে।পরমা প্রথমে হাল্কা হাত লাগালেও পরে চেয়ারে বসে যায়।কিছুটা খোঁড়ার পর একটা ধাতব কিছুর ওপর ঘাতের আওয়াজে পরমার সাথে সাথে সুব্রতরও খুব আনন্দ লাগে।চমকে ওঠে।পরমার দিকে তাকিয়ে বলে,‘সেকি গো সত্যি গুপ্ত ধন নাকি?’একটা আশার আলো দেখা যায়।পরমারও চোখ-মুখ চক চক করে।চিৎকার করে ওঠে,‘আর একটু খোঁড়ো।’
আস্তে আস্তে আরো কিছুটা খুঁড়লে একটা কালো বাক্স দেখতে পায়।উত্তেজনায় চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে যায়।  বলে ওঠে,‘দেখলে তো আমার কথা বিশ্বাস করছিলে না।’
সুব্রত আরো তাড়াতাড়ি বাক্সের গায়ে লেগে থাকা ধুলো বালি ঝেড়ে বাক্সর দরজাটা একটু জোর দিয়ে খুলতেই চমকে ওঠে।কোথায় সোনাদানা গুপ্তধন!বাক্সের ভিতর কয়েকবছর আগেকার একটা লাশ।পরণে সালোয়ার, তখনও পুরোটা কঙ্কাল হয় নি।তবে মুণ্ডুটা খুব ভয়ঙ্কর দেখতে লাগছে।সুব্রত কোন রকমে আবার বাক্সটা বন্ধ করে দিয়েই পরমার দিকে তাকায়।পরমা তখন দু’চোখে অন্ধকার দেখছে।চোখ দুটোও নিজের থেকে বন্ধ হয়ে আসে।পা দুটো কাঁপতে থাকে দাঁড়াতে পারে না।মাটিতেই বসে যায়।এমন সময় কানের কাছে একটা মেয়ের গলার আওয়াজ পায়,‘বৌদি আরেকটু খোঁড়ো, আরেকটা বাক্স পাবে।’


                      গল্পকার ঋভু চট্টোপাধ্যায়






       ⍚ দিশারী মুখোপাধ্যায়🔹দক্ষিণ দিনাজপুর🔹



আমার বাড়ি থেকে তোমার বাড়ি পর্যন্ত 
এক মিটার দূরে দূরে 
কয়েক ট্রিলিয়ন কবিতা দাঁড়িয়ে আছে
আসবে বলে 

তাদের প্রত্যেকের মুখে মাস্ক
হাতে গ্লাভস 
আমি স্যানিটাইজার প্রস্তুত রেখেছি
ঢোকার দরজায়

আমার তোমার বাড়ির মাঝপথে
একটা কদম ফুলের গাছ আছে ,তার কথা
আমাদের পিতামহের আত্মজীবনীতেও উল্লেখ আছে

এবছরও ,দেরি না করেই ,জুনের এগারো তারিখেই
বর্ষা আসবে বলে খবর রয়েছে । কিন্তু
আগের মত ততটা কাছে আর আসবে কি

এরপরও অনেকের চিন্তাতেই রয়ে যাবে
তাহলে কবিতাগুলোর কী হবে




            ⍚ অমর্ত্য দত্ত🔸বউবাজার, কলকাতা 🔸




(১)


উলঙ্গ রাস্তা ধ‌রে হেঁ‌টে যা‌চ্ছে  নেশায় ডুবে থাকা রাত ।
শু‌রিখানার আবর্জনার স্তুপ থে‌কে চি‌কে‌নের আধ খাওয়া ব্রেষ্টটা‌কে 
মা কুকুরটা মু‌খে ক‌রে নি‌য়ে যা‌চ্ছে বাচ্ছাগু‌লোর জ‌ন্যে । 
রি‌রংসার চুমু‌কে চুমু‌কে ভ‌রে উঠ‌ছে মাতা‌ল‌দের ডাস্ট‌বিন।
‌ডেক‌রেশন লাই‌টের আলোয় আধ খাওয়া স্তন ও যো‌নিগু‌লো 
আবর্জনার স্তু‌পের নি‌চে চাপা প‌ড়ে থা‌কে সভ্য সকাল অব‌ধি । 


(২)


বাগা‌নে লাল গোলাপ গাছটার পা‌শে 
যে স্বপ্নের বীজটা পুঁ‌তে ছিলাম, সেটা এখন কাঁটাগাছ । 


(৩)


চার ঘন্টা দু'টাকার চা‌লের লাই‌নে দাঁ‌ড়ি‌য়ে 
মানুষটা আজও চাল পে‌লো না ।
মাস খা‌নেক আগে যে‌দিন বড় মে‌য়েটা‌ ঝাঁপ দি‌য়ে‌ছি‌লো 
আপ আজাদ হিন্দ এক্স‌প্রেসের নি‌চে,
সে দিন রেশ‌নের লাইনটা আরো দীর্ঘ ছি‌লো ।
প্র‌তি‌বে‌শি এসে ব‌লে‌ছি‌লো; 
মা‌সি তোমার বড় মে‌য়ে সু‌খি ট্রে‌নে কাটা প‌ড়ে‌ছে । 
তাড়াতা‌ড়ি এসো ।


(৪)


একটা ধর্ষ‌ণের কা‌হিনী লিখ‌তে ব‌সে আশিরনখ কেঁ‌পে ও‌ঠে গ্রন্থকার ।
কল‌ম থে‌কে ফিন‌কি দি‌য়ে রক্ত উঠে ছ‌ড়ি‌য়ে যায় খাতার সাদা পাতায় ।
পাতাগু‌লো কাঁ‌দে হাউ হাউ ক‌রে । 


(৫)


প্রজ্জ্ব‌লিত চু‌ল্লি‌র ভিতর থে‌কে মৃত‌দেহটা চিৎকার ক‌রে বলে ওঠে ; 
বাই‌রের আগুনটা অনেক বে‌শি লে‌লিহান ও ক্ষুধার্ত ।


(৬) 


একটা মৃত সামু‌দ্রিক মা‌ছের চো‌খে আমি যে জাহা‌জের ছ‌বি দে‌খে‌ছিলাম । 
সেটা আমার স্ব‌প্নে দেখা জাহাজটার থে‌কে অনেক বড় । 
হয়‌তো তার স্বপ্নটা আমার স্ব‌প্নের চেয়ে বড় ছি‌লো ।একটা চার‌দেওয়া‌লের বা‌ক্সের ভিতর আরো ক‌য়েকটা স্বপ্ন লু‌কি‌য়ে রাখা আছে । 
স্ব‌প্নের ভিতর আমি । আমার ভিতর সমুদ্র । সমু‌দ্রের ভিতর মা‌ছের চোখ । 
মা‌ছের চো‌খের ভিতর ঢেউ, সূ‌র্যোদয়, ঝাউবন, একটা স্পর্শাতীত দ্বীপ...
জানলাগু‌লো বন্ধ । টানটান পর্দা । কেউ কি দেখ‌তে পাচ্ছো বাই‌রে থে‌কে ? 
কোথায় কি রাখা আছে ? 


(৭)


ধরে নাও, আমার আয়ুরেখার ওপর তু‌মি শু‌য়ে আছো বিবস্ত্র শরী‌রে ।
ধ‌রে নাও, তোমার ওপর আমার রক্তাক্ত বিক্ষত লাশ ।
ধ‌রে নাও, আমার নিষ্পলক চো‌খে এখ‌নো জ্বলজ্বল কর‌ছে তোমার ‌থেঁতলা‌নো যো‌নি ।
ধ‌রে নাও, হায়নার বাচ্ছাগু‌লো নি‌জে‌দের ম‌ধ্যে বলাব‌লি করছে । 
"মার কুত্তারবাচ্ছা দু‌'টো‌কে"।
ধ‌রে নাও, ময়নাতদ‌ন্ত ক‌রে নেক‌ড়েগু‌লো রি‌পোর্ট‌ দি‌লো। 
রোড অ্যা‌ক্সি‌ডেন্ট্ ।
ধ‌রে নাও, একদল হায়না অ্যা‌সে‌ম‌ব্লি্ শে‌ষে ক‌রে হাস‌তে হাস‌তে বা‌ড়ি ফির‌ছে দুপুর বেলা ।
ধ‌রে নাও, এজলাসে্র মা‌টি‌তে ফে‌লে একটা চোখ বাঁধা পুতু‌লের সা‌থে গ্রুপ ‌সেক্স্ করছে শেয়া‌লের দল ।
ধ‌রে নাও, এক দল কুকুর ও তা‌দের বাচ্ছাগু‌লো আবার ল্যাজ নে‌ড়ে নে‌ড়ে ঘেউ ঘেউ কর‌ছে আগের ম‌তো ।

‌তখন দেখ‌বে, শুধু তু‌মি আর আমি মানুষ হ‌য়ে গে‌ছি




         𒄶 রাজীব পাল🔹দুবরাজপুর, বীরভূম🔹



শুনছো কি আর ও বেলা বোস
তুমিও তো এখন বুড়ি
কাঁপা হাতে নাতির আমি
ছেঁড়া ঘুড়ি আঠায় জুড়ি

চাকরিটা নেই অনেক দিনই
সকাল বিকাল ঘুরে বেড়াই
শেষ মাটিও ধুয়ে গেছে
নড়ে চড়ে কাঠামোটাই

পুরোনো সে নম্বরে আর
তুমি নেই,সে কথাই শুনে
মোবাইলে ধরলাম তোমায়
দশটা নাম্বার গুনে গুনে

ভালো থেকো ও বেলা বোস
একশো বছর আরও দুটো
গিটার-বুকে জমছে ধুলো
যাচ্ছে খুলে শক্ত মুঠো...




        অশোক অধিকারী🔸হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ🔸



১

তোমাকে আড়চোখে দেখে বিশল্যকরনী
উপুড় হয়ে কন্যা তোমার মেঘজননী
শীতল পুরুষ নাইতে এলে ডাগর নদী
ডুবন জলে ভিক্ষা দিয়ে ফেরাই যদি

২

অরণ্যের কাছে পিপাসার ঠিকানা আছে
বাউণ্ডুলে ডাকঘরে রাতের ডাকপিয়ন
পোস্টকার্ডে বিবস্ত্র লাইন লিখে রাখে
জানালায় মুখ রেখে ভোর জেগে থাকে




             🔰 চয়ন কুমার রায়🔸পূর্ব বর্ধমান🔸



সব বালকের অন্তরেই
একটা করে অপু বাস করে।
আগের মতো যাত্রাপালা দেখে
বাঁশের কঞ্চি নিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ
খেলার দিনগুলি অবসৃত।
তবু যুদ্ধের প্রবণতার শিকড়
মনের গভীরে দৃঢ়তর প্রোথিত।

ওরা এখন মুভি দেখে।
পর্দার নায়কের লড়াইয়ের
নানা কৌশল, রক্তক্ষরণ নির্মম হত্যা,
শরীরে কাঁটাদেওয়া অস্ত্রের প্রয়োগ দেখে
কোমলমতি শিশু-হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত।
অজান্তেই অবচেতনে রোপিত হয় ,
নিষ্ঠুরতার বিষবৃক্ষের বীজ।
অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে
শাখা-প্রশাখায় পল্লবিত‌ও হয়।


ঘৃণার কুরুক্ষেত্র প্রায়শঃই প্রশস্ত ।
তরুণ হৃদয়ের উষ্ণ- শোণিতে ওঠে
যুদ্ধের তুফান ,ওঠে প্রতিঘাতের শপথ।
প্রতিধ্বনিত হতে থাকে যুদ্ধের দামামা।
ধীরে ধীরে স্তিমিত হয় ভৈরবী হুঙ্কার।
শেষ হয় যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা।
তারপর যথারীতি শুরু হয়
হতোদ্যম যুবকের জীবন সংগ্রাম।
  



           ⍚ দেবব্রত রায়🔸হাজরাপাড়া , বাঁকুড়া🔸



বাঘের উঠোনে 
খরগোশ-খরগোশ খেলা
ভরপেট বাঘ  তুরগ-নাচের
দিকে ফিরেও তাকায় না

ক্ষুধার্ত একটি সার্চলাইট
পাউরুটির স্লাইজের মতো-ই  
ভীতু বাতাসকেও নিখুঁত- 
থাবায় টেনে নিয়ে যায়
সুদূর মঙ্গলের অভিকর্ষ থেকে

ইমিউনিটি শব্দটির
ভালভ-টিউব খুলে
কখন যে সব ফুস হয়ে যাবে
তোমার 9.807 m/s-স্কয়ার-এর পক্ষে
সেসব প্রি-অ্যাজামসন করা দুরূহ





               𒄶 তন্দ্রা মন্ডল🔸পূর্ব বর্ধমান🔸



গড়িয়ে চলে সময়ের চাকা
দিশাহীন দিবারাত
বদলে গেছে যাপন বেলার
জীবন-ধারাপাত।
বারে বারে রুষ্ট প্রকৃতির
নির্মম আস্ফালন
নিশ্চিহ্ন ক'রে দিতে চায়
অস্তিত্বের আয়োজন।
আজ-কাল-পরশুর গল্প
যেন প্রশ্নচিহ্নের মুখে
মৃত্যু মিছিলে সভ‍্যতা কাঁদে
পৃথিবীর অসুখে।।




           ⍚ তীর্থঙ্কর সুমিত🔸মানকুন্ডু , হুগলি 🔸



সন্ধ্যের জলস্রোতে
অলস সূর্য্য যখন ডুব দেয়
তখন মনে হয়
কেউ কেউ কথা রেখেছে
তাইতো এখনও নিজের ছায়া কে দেখি
আর ভাবি...
আরো দূরে আমার রূপকথার গল্পরা
এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে

আর আমি অচল পয়সায় ব্যাগ ভর্তি করে
নিজেই নিজের পিঠ চাবড়াচ্ছি ।



 ⍜ নজরুল ইসলাম পারভেজ🔸চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ🔸




গোপনে সকালগুলো হারিয়ে যায়
স্মৃতিতে অস্তমান বিকালগুলো হাসে
রঙ্গিন সুখ দুঃখের কথাগুলো শুনি-
                                   রাতের স্বপ্নে
গোপন অন্ধকারে আমি রঙ হারাই।

                 



         𒄶 গোবিন্দ মোদক🔸রাধা নগর, নদিয়া🔸



ঘুম      ভেঙে       রোজ      রাতে 
নুটু       লেখে       ছড়া        খুব,
ছড়া      শুনে        জেগে     গেলে 
নুটু        বলে         চুপ !        চুপ !!
এই        সব          ছড়া        আমি 
খুব        খুব         ভালো      বাসি,
ছড়া       লিখে      রাণা        ঘাটে 
কেজি     দরে       বেচে      আসি !
ছড়া       মোটে      সোজা      নয় 
বেশ       আছে      দাম         তার,
টাকা      বেশ         পাই         বলে 
ছড়া       লিখি       বার         বার !

এই       কথা        শুনে        কাকা
খুব       বেশি        খুশি        হয়ে, 
ছড়া      লেখা       সোজা     বলে 
বসে      গেল        খাতা       নিয়ে !
তার       পর        সারা        দিন 
কাকা     করে        প্রাণ        পাত,
ছড়া        তবু        হয়        নাকো
ব্যথা       শুধু        হলো        হাত !
তিন       মাস        শেষে      কাকা
মেনে      নিয়ে        পরা        জয়,
কান       মুলে        কেঁদে        বলে 
ছড়া      লেখা      সোজা        নয় !!


                ⍚ বিদুর উপাধ্যায়🔸দুর্গাপুর🔸


সেদিনও একরকমের লক ডাউন ছিল।শহরের কোন মানুষ বাইরে না বেরোনোর পাশে কেউ দরজা এমন কি কোন জানলাও খোলে নি। না কেউ কোন আদেশ দেয় নি, তবে অনুরোধ করেছিল। শোনা যায় শুধু মাত্র সম্মান জানাতেই শহরের মানুষ এই রকম একটা সিদ্ধান্ত নেয়।কারণ সেই দিন লর্ড কভেন্ট্রি লিওফ্রিকের সাথে একরকম চ্যালেঞ্জ নিয়ে লেড়ি গোদিভা ঘোড়ার পিঠে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে পুরো শহর ঘুরে বেড়াবেন।শুধু মাত্র নিজের মাথার চুল দিয়ে শরীরের কিছু অংশ ঢেকে রাখবে, বেরিয়ে থাকবে নগ্ন পা, উরু এবং বাকি শরীর।ব্যাপারটা একটু খুলে বলা যাক।
সময়টা এগারো শতাব্দী,লেডি গোদিভার বিয়ে হয়
লর্ড লিওফ্রিকের সাথে। লিউফ্রিক এমনিতে ভালো মানুষ হলেও কোন কারণে প্রজাদের উপর একটা বিরাট অঙ্কের কর চাপিয়ে দেন।লেডি গোদিভা বিভিন্ন ভাবে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেও কিছু লাভ হয় না। লেডি খুবই প্রজা বৎসল ছিলেন বলে জানা যায়।লর্ডকে বারবার বুঝিয়ে কোন ফল না হলেও লর্ড লেডিকে একটা অদ্ভুত শর্ত চাপিয়ে দেন।তিনি বলেন, লেডি যদি নগ্ন হয়ে শহরের রাস্তায় ঘুরতে পারে তবে লর্ড প্রজাদের উপর থেকে এই করের বোঝাটা কমিয়ে দেবেন। লেডি এই শর্ত স্বীকার করে শহরের রাস্তায় ঘোড়ার পিঠে নগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা বলেন।শহরের মানুষ একথা জানতে পারেন, এবং তাঁরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নেন যে এই দিন শহরের কেউ বাইরে বেরোবেন না।শহরের দরজা জানলা খুলবে না। লেডি ঘোড়ার পিঠে চেপে শহর ঘুরে লর্ডের কাছে ফিরে আসেন।লর্ড তাঁর শর্তে হেরে গিয়ে শুধুমাত্র ঘোড়া ছাড়া বাকি সবের উপর থেকে বাড়তি করের বোঝা কমিয়ে দেন।এ পর্যন্ত কাহিনীটা ঠিক আছে। কিন্তু এখানেই টম নামের একটি চরিত্রের সাথে আমাদের পরিচয় হয়। লেডি যে সময় শহরে ঘুরছিলেন তখন এই টম যিনি একটি টেলারিং দোকানের ভিতরে ছিল। তিনি দরজার ফাঁক দিয়ে লেডিকে দেখতে থাকেন এবং ধরা পড়ে যান।শাস্তি স্বরূপ তাকে অন্ধ করে দেওয়া হয়।অথবা হতে পারে শহরের মানুষ লেডিকে ভালোবেসে শ্রদ্ধা করে টমকে মেরে দেয় অথবা অন্ধ করে দেয়। এই লেডি গোদিভার ঘটনাটি সম্পর্কে বিতর্ক থাকলেও তাঁর উপর অনেক কবিতা লেখা হয়, গান লেখা হয়। এমনকি কবি টেনিসন ও ১৮৪০ সালে ‘গোদিভা’ নামে একটি বিখ্যাত কবিতা লেখেন। পরবর্তী কালে তাঁর উপর অনেক নাটক লেখা হয়, সিনেমাও তৈরী হয়।বেলজিয়ামের একটি বিখ্যাত চকলেট কম্পানি লেডির সেই কুখ্যাত ঘোড়ায় চেপে থাকা অবস্থায় ছবিটি তাদের কম্পানির ট্রেডমার্ক হিসাবে ব্যবহার করে।এই লেডি গোদিভার সাথে যে নামটি জড়িয়ে যায় তা হল পিপিং টম।১৭৭৩ সালে এই শব্দগুচ্ছটি কভেন্ট্রি শহরে প্রথম সবার নজরে আসে।শহরের বেশ কিছু লোক ওকগাছের একটি পুতুল বানিয়ে তার মাথায় পরচুলা পরিয়ে পোড়ানোর উৎসব করতে থাকেন।সেখান থেকেই পরবর্তী কালে এই উৎসবটি জনপ্রিয়তা পায়।যদিও বর্তমানে এই পিপিং টম অর্থে, যে সকল মানুষ লুকিয়ে যৌনদৃ্শ্য দেখে আনন্দ উপভোগ করেন তাদের বোঝায়, এমনকি যে সব মানুষ রাতে জানলায় অন্যের বাড়িতে উঁকি দেয় তাদের বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। ‘১৭৯৬ সালে ক্লাসিকাল ডিকসিনারি ফর দ্য ভালগার টাঙ্গ’ প্রথম এই ফ্রেজটি যে সকল মানুষ অন্যের ব্যাক্তিগত জীবনে বেশি উৎসাহী তাদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।বর্তমান ঐতিহাসিকরা লেডি গোদিভার এই ঘটনাটি বিশ্বাস করেন না।তার তৎকালীন আরো ঐতিহাসিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে দেখান লর্ড ও লেডি দুজনাই ধর্মীয় স্থানে সাহায্য করবার পাশে বেশ কিছু জনহিতকর কাজ করেছেন। লেডির নিজেই সেই সময়েই বেশ কিছু জমির মালিক ছিলেন।স্বভাবতই এই রকম ভাবে ঘোড়ার পিঠে চেপে ঘুরে বেড়ানোর ঘটনা গল্প ছাড়া আর কিছু নয় বলে অনেকে দাবি করেন। যাই হোক লেডি গোদিভার ঘটনা গল্প হোক বা সত্য ঘটনা তাঁর নাম কিন্তু এখনো সাধারণ মানুষের মধ্যে বেঁচে আছেন, এবং তার সাথেই বেঁচে আছে টম, হয়ত পিপিং টম হয়ে, অন্য নামে অন্য অর্থে।




           𒄶 মিঠুন রায়🔸বিশালগড়, ত্রিপুরা 🔸


পাহাড়ি লতানো বীথির সাথে লুকোচুরি খেলছে অজগর
বিশাল দেহ গুটিয়ে  নিজেকে আড়াল করতে চাইছে সে।
পরকীয়ার দোহাই দিয়ে অন্যপুরুষের হাত ধরেছে অলকানন্দাও,
সে জানে না,পাহাড়ের গায়েও বিষাক্ত কাটা থাকে।
পরপুরুষের বিষ দাঁত চিবিয়ে খাবে তার যৌবন,
সোহাগী স্বামীর আড়ালে খেমটা নৃত্য একদিন প্রকাশ হবেই।
সেদিন লাস্যময়ীর বদনে থাকবে না প্রাণের ছোঁয়া
শুধু নববধূর লাল উড়না শোভা পাবে গলার ফাঁস হয়ে।
পাহাড়ের ক্ষণস্হায়ী মায়াবী যৌবন তাকে বিমোহিত করেছে,
ভালোবাসার নিখাদ বিশ্বাসে অজান্তেই আলিঙ্গন করেছে মৃত্যুরূপী কালসর্পকে।
                


           


                 ⍚ Prabir De🔹Birati, kolkata🔹


When a stone is thrown into still water

many circles are made.....

each  distinct  but all interacting....

Society  has to throw  'the stone of help' to the poor...

But most  of us feel nothing, do nothing ... 

neglecting  bondage... reluctant  to use innate  power...

Only  render uninvited  judgment as  a critic!

And  when  I have  been assigned to  perform....

I  seize, instead  of serving.....!

Oh!My dear Almighty...

 Please give me a  mirror...I can see myself !





          𒄶 কিশলয় গুপ্ত🔸পূর্ব বর্ধমান 🔸



ভাবছো বুঝি যখন তখন গ্রহণ লাগে
সহন কালে তারার সাথে রাত্রি জাগে

বালিশ জাগে,মশারীও,চাদর সহ
সময় তখন প্রেমিক মনে আজ্ঞাবহ

ঝিঁঝিঁর ডাকে ফিরে আসে বৃষ্টি হাজার
বাজার জুড়ে সব্জি হরেক ভীষন তাজা

বৃষ্টি আদর,আদর হাওয়া অন্ধকারে
মন্দ কেন? আলোর কাছে অন্ধ হারে?

স্বপ্ন হারে? ইচ্ছা হারে? হারে বুঝি?
চলবে সাথে অনন্ত কাল খোঁজাখুঁজি

প্রেমিক বসে, ইচ্ছা কাঁদে, প্রেমিক দাঁড়ায়
বিন্দু ঘুরে দুই পা রাখে অন্য পাড়ায়

কোথায় আছো কুশলী হাত কর্মে রাখো
ধর্মে রাখো মর্মে কথা এমনি ঢাকো

কুঁচকে চাদর পাশ ফিরে শোয় কেমন রাগে
ভাবছো বুঝি যখন তখন গ্রহণ লাগে?



          ⍚ সোমনাথ বেনিয়া🔹উত্তর ২৪ পরগনা🔹



মসৃণ হারাচ্ছে উদাস ফ্রেমের পাওয়ার গেলাসে
ঝাপসা চোখের ক্ষেত্রফল, কৌণিক পিঁচুটি
চোখের তলার কালো দাগ, কার অধিকার?
রিম‍্যুভারে পিছলে যাচ্ছে নরম দৃষ্টি ...
রাস্তা পেরোতে গিয়ে ঠিকানা আন্তরিক
বাঁ-হাতের কপিরাইট, ডান হাতের অজানা
উলটো সমীকরণে দেহতত্ত্বের বিধান ঘুনসি
হারাতে চাইছো, মোচার খোল, স্লিভলেস পানসি




               𒄶 সব্যসাচী বাগ🔸পূর্ব বর্ধমান🔸



বাধা দিও না কেউ 
একাকী পুড়তে দাও আমায়

বহুদিন বহু মাস বহুবছর
হৃদয় কন্দরে সঞ্চিত করেছি দাহ্য
সুখ ভেবে দিয়েছি অজস্র প্রশ্রয়
আজ তাতে দিয়েছি আগুনের পরশ

কেউ বাধা দিও না 
একাকী পুড়ে যেতে দাও আমায়



              ⍚ রিঙ্কি বোস সেন🔸পূর্ব বর্ধমান🔸



উর্ধশ্বাসে করিডোর দিয়ে ছুটে এসে একদম আচমকাই  পিছন থেকে আঁখিকে জড়িয়ে ধরলো তিতলি।
__'কী রে! উফ! আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম! কী হয়েছে তোর? এইভাবে ছুটে এলি....?' 
__'বলছি বাবা বলছি, দাঁড়া একটু, দেখছিস না কীরকম হাঁফাচ্ছি,শ্বাস নিতে দে।'
আঁখি তিতলির কথায় কোন পাত্তাই দিল না, সটান পিছন ঘুরে এগিয়ে যেতে যেতে,
__'এ্যাই শোন আমি লাইব্রেরী যাচ্ছি।তুই যত ইচ্ছে শ্বাস নে, নেওয়া হয়ে গেলে লাইব্রেরী চলে আসিস'।
তিতলি নিমেষে আরও কয়েক'পা ছুটে এসে আঁখির কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ'টায় হ্যাঁচকা টান মারলো,
__'ওই দাঁড়া, যাচ্ছিস কোথায়? শুনে যা।লাইব্রেরীতে ওইসব হবে না।'
আঁখি উপায় না দেখে তিতলির বাঁ'কানটা কপট রাগে মুলে দিয়ে, 
__'বড্ড গোঁয়ার তুই, নে বলে ফ্যাল তাড়াতাড়ি'।
তিতলির চোখদুটো এবার জ্বলজ্বল করে উঠলো, একটা যুদ্ধ জয়ের হাসি নিয়ে আঁখির কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল__
__' সৌজন্য হ্যাঁ বলে দিয়েছে'।

 বুকের ভিতরটা আঁখির ছ্যাঁত করে উঠলো।
__' কোন ব্যাপারে?'
 তিতলির গলায় বিরক্তি,
__'ধুর ন্যাকা! যেন কিছুই বুঝিস না, আরে আমাকে হ্যাঁ করে দিয়েছে, আমি ডাইরেক্ট প্রপোজ করে দিয়েছি।ও ব্যাটা কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল 'ওকে'....উফ! আমার এখনও বিশ্বাসই হচ্ছে না রে আঁখি।যদিও আমি জানতাম  উই বোথ হ্যাভ সেইম ওয়েভ লেন্থস।আঁখি তুই ঠিকই বলেছিলিস, হি ইজ রিয়েলি এ্যা ভেরি ডিসেন্ট এ্যাণ্ড নাইস পারসন'।

তিতলির কাছ থেকে নিজেকে পুরো ছাড়িয়ে নিয়ে, 
__' বাহ, ভালো খবর।যাক্ তোর মন এবার শান্ত হবে।সৌজন্যও হয়তো এটাই চেয়েছিল, এনিওয়ে গুড লাক,এবার আমি চলি।পরে কথা হবে, কেমন!
ব্যাগ'টা কাঁধে ভালোভাবে চেপে ধরে আঁখি করিডোর বরাবর দ্রুত পা বাড়ালো।তিতলি আঁখির যাওয়াটার দিকে তাকিয়ে রইল।

(২)

 কলেজ শেষে করিডোর'টা ফাঁকাই ছিল।সুযোগ পেতেই পিছন থেকে আঁখির ডানহাত'টা চেপে ধরল সৌজন্য__
__'এখনো চুপ থাকবি আঁখি? কিচ্ছু বলবি না? তুই কী ভাবছিস আমি কিছু বুঝি না? প্লিজ কিছু বল'__
সৌজন্যর দাবা গলায় বলা কথাগুলো গোটা করিডোর ধরে গমগম করতে লাগলো।আঁখি ঠোঁটের দুকোনে হাল্কা হাসি নিয়ে,
__' কাল তো তিতলি বলেছে তোকে, তুই যা শুনতে চেয়েছিলিস, ভালো খবর, কনগ্র‍্যাটস! উইশ ইউ বোথ এ্যা ভেরি হ্যাপি রিলেশনশিপ!'
সৌজন্য এবার আঁখির হাতের কব্জিটায় মোচড় দিল।তারপর দাঁতে দাঁত চিপে,
__'মস্করা করছিস? তিতলির কথা বলে আমায় পরখ করছিস? আমি তোর কাছ থেকে শুনতে চেয়েছিলাম আঁখি, অপেক্ষা করেছিলাম!'

আঁখি নিজের হাত'টা ছাড়িয়ে দু-চোখে একরাশ অভিমান নিয়ে,
___"অনেকবার বলেছি রে! অনেকবার....তুই যা শুনতে চেয়েছিস,কিন্তু কই? তুই আসলে তোর মন'কে নয়, কান'কে খুব ভরসা করিস সৌজন্য...."।
এরপর কয়েক মুহুর্ত সৌজন্যের দিকে অপলক তাকিয়ে থেকে 'চলি' বলে আঁখি এগিয়ে গেল। সৌজন্যর কানে আঁখির কথাগুলো গেল কী না কে জানে তবে ফাঁকা করিডোর ধরে হেঁটে যাওয়া আঁখির পা'য়ের শব্দ সৌজন্যের মনে স্পষ্ট অনুরণন তুললো।

 


        𒄶 রায়হান কিবরিয়া রাজু🔸বাংলাদেশ🔸



চারদিকে মৃত্যুর প্রতিধ্বনি শোনা যায়
আজ শিমুল মরে,বকুল মরে
কাল রজনীগন্ধার শরীর চিঁড়ে আসবে
মৃত্যুর গন্ধে এমনটাই হয়ে গেছে বিশ্ব !

ঘাসের ডগায় অথবা ধুলোর বুকে মৃত্যুর আস্তরণ
পৃথিবীটা বড়ই দিশেহারা এ সময়
চাঁদ ভালো নেই,আকাশ ভালো নেই
ভালো নেই এসময়ের দুরন্ত পথ,ব্যস্ত শহর ।
ভালো নেই প্রাক্তনের অকথ্য গালি
প্রেমিকার অশান্ত বুক
প্রিয়জনের সুস্থ -সুন্দর ভালবাসা

সবাই মৃত্যুতে ভর করে ছোটে জীবনের পথে
রোদের সাথে গল্প করে ভাল না থাকার
ভোরের আলোয় রাতের অন্ধকারের মতো মিলিয়ে নেয়
অসুন্দর -বিশ্রী অতীত,বর্তমান ।

প্রতিক্ষায় সুস্থতার--
আকাশ,পথ, ব্যস্ত শহর সবার সুস্থতার !
সবার চোখে অমোঘ বাসনা,স্বপ্ন দেখে--
পৃথিবী আবার কোলাহলে ভরবে
প্রাক্তন আবার গালি দিবে অকথ্য ভাষায়
প্রেমিকার বুকে নগ্ন উষ্ণতা খুঁজে নিবে ক্ষুদাতুর প্রেমিক
স্ত্রীর গালে-নাভিতে আবারো ঝলমল করবে সুখ

এই প্রকৃতি আবারও নোংরা হবে একদিন । 
                   


     
নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ হোম

ব্লগ সংরক্ষাণাগার

  • আগস্ট (3)
  • জুলাই (22)
  • জুন (8)
  • নভেম্বর (15)
  • অক্টোবর (5)
  • সেপ্টেম্বর (81)
  • আগস্ট (66)
  • জুলাই (55)
  • জুন (56)
  • মে (57)
  • এপ্রিল (46)
  • মার্চ (15)
  • জানুয়ারি (14)
  • ডিসেম্বর (73)
  • নভেম্বর (103)
  • অক্টোবর (97)
  • সেপ্টেম্বর (101)
  • আগস্ট (120)
  • জুলাই (88)
  • জুন (76)
  • মে (63)
  • এপ্রিল (11)

🔴বিজ্ঞপ্তি:

পাঁচ মাসের বিরতি কাটিয়ে আবার ও ফিরছি আমরা। খুব শীগ্রই আসছে আমাদের প্রত্যাবর্তন সংখ্যা।

অনুসরণ করুণ

এক মাসের সর্বাধিক পঠিত পোস্টগুলি:

  • শান্তনু গুড়িয়ার কবিতা
  • তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা
  • প্রেমাংশু শ্রাবণের কবিতা
  • ফিরে ফিরে আসা ~ অন্তরা দাঁ এর মুক্তগদ্য
  • ভুবনস্যার ~ পাভেল ঘোষের ছোটগল্প
  • থেকে যাস এমনি ~ বিষ্ণু চক্রবর্তী'র কবিতা
  • সৌগত রাণা কবিয়ালের কবিতা
  • উষ্ণতা ~ পিঙ্কি ঘোষের কবিতা
  • সম্পর্ক ~ দীপক বেরার কবিতা
  • হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিনটি কবিতা

বিষয়সমূহ

  • Poetry speaks 2
  • অণু কথারা 21
  • আবার গল্পের দেশে 8
  • উৎসব সংখ্যা ১৪২৭ 90
  • একুশে কবিতা প্রতিযোগিতা ২০২১ 22
  • এবং নিবন্ধ 3
  • কবিতা যাপন 170
  • কবিতার দখিনা দুয়ার 35
  • কিশলয় সংখ্যা ১৪২৭ 67
  • খোলা চিঠিদের ডাকবাক্স 1
  • গল্পের দেশে 17
  • ছড়ার ভুবন 7
  • জমকালো রবিবার ২ 29
  • জমকালো রবিবার সংখ্যা ১ 21
  • জমকালো রবিবার ৩ 49
  • জমকালো রবিবার ৪ 56
  • জমকালো রবিবার ৫ 28
  • জমকালো রবিবার ৬ 38
  • দৈনিক কবিতা যাপন 19
  • দৈনিক গল্পের দেশে 2
  • দৈনিক প্রবন্ধমালা 1
  • ধারাবাহিক উপন্যাস 3
  • ধারাবাহিক স্মৃতি আলেখ্য 2
  • পোয়েট্রি স্পিকস 5
  • প্রতিদিনের সংখ্যা 218
  • প্রত্যাবর্তন সংখ্যা 33
  • প্রবন্ধমালা 8
  • বিশেষ ভ্রমণ সংখ্যা 10
  • বিশেষ সংখ্যা: আমার প্রিয় শিক্ষক 33
  • বিশেষ সংখ্যা: স্বাধীনতা ও যুবসমাজ 10
  • ভ্রমণ ডায়েরি 1
  • মুক্তগদ্যের কথামালা 5
  • রম্যরচনা 2
  • শীত সংখ্যা ~ ১৪২৭ 60

Advertisement

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

মোট পাঠক সংখ্যা

লেখা পাঠাবার নিয়মাবলী:

১. শুধুমাত্র কবিতা, মুক্তগদ্য অথবা অণুগল্প পাঠাবেন। ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং অন্যান্য বিষয়ক লেখা সম্পূর্ণ আমন্ত্রিত। ২. লাইনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। ৩. লেখা মেইল বডিতে টাইপ করে পাঠাবেন। ৪. লেখা মৌলিক ও অপ্রকাশিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। অন্য কোনো ব্লগ, ওয়েবজিন অথবা প্রিন্টিং মিডিয়ায় প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ৫. মেইলে আপনার লেখাটি সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত, কথাটি উল্লেখ করবেন। ৬. লেখার সাথে আবশ্যিক ভাবে এক কপি ছবি ও সংক্ষিপ্ত ঠিকানা পাঠাবেন।  ৭. লেখা নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হবে। এক মাসের মধ্যে কোনো উত্তর না এলে লেখাটি অমনোনীত ধরে নিতে হবে। ৮. আপনার লেখাটি প্রকাশ পেলে তার লিঙ্ক শেয়ার করাটা আপনার আবশ্যিক কর্তব্য। আশাকরি কথাটি আপনারা মেনে চলবেন। আমাদের মেইল- hridspondonmag@gmail.com
blogger-disqus-facebook

শান্তনু শ্রেষ্ঠা, সম্পাদক

আমার ফটো
পূর্ব বর্ধমান, India
আমার সম্পূর্ণ প্রোফাইল দেখুন

সাম্প্রতিক প্রশংসিত লেখা:

শান্তনু গুড়িয়ার কবিতা

শান্তনু গুড়িয়ার কবিতা

থেকে যাস এমনি ~ বিষ্ণু চক্রবর্তী'র কবিতা

থেকে যাস এমনি ~ বিষ্ণু চক্রবর্তী'র কবিতা

তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা

তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা

প্রেমাংশু শ্রাবণের কবিতা

প্রেমাংশু শ্রাবণের কবিতা

ফিরে ফিরে আসা ~ অন্তরা দাঁ এর মুক্তগদ্য

ফিরে ফিরে আসা ~ অন্তরা দাঁ এর মুক্তগদ্য

হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন

© হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন। শান্তনু শ্রেষ্ঠা কর্তৃৃক পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত থেকে প্রকাশিত।

Designed by OddThemes | Distributed by Gooyaabi Templates