সুদেষ্ণা দত্ত'র কবিতা বাসাংসি জীর্ণানিদীর্ঘ ক্ষরতপ্ত দুপুর পায়ে হেঁটে পার করেতোমার শরীরে এখন আসন্ন আঁধারের নৈঃশব্দস্নেহময় ঘাম আর সংসারী তেল হলুদের বদলেতোমার আঁচলে লেগে আছেসন্ন্যাসী ওষুধের গন্ধ,তোমার বুকের চক্রব্যুহে দাঁড়িয়ে আমি বাঁচার লড়াই শিখেছি..এখন হেরে বা জিতে যেভাবেই হোকযেকোন চক্রব্যুহ ভেদ করতে পারি অনায়াসে,আজকাল ব্যুহের...
গুরুদাস দাসের কবিতাতুমি চলে যাওয়ার পরেতুমি চলে যাওয়ার পরে, বুঝে যাই এ সময় কতটা আলোকবর্তিকাহীন।যতদিন তুমি ছিলে একবারও মনে হয়নি, তুমি চলে যেতে পারো, কখনোই ভাবিনি শূন্য উঠোনে নাচবে ক্লান্ত হাওয়ার খেয়া, নোঙরহীন সময় চোখ রাঙাবে,বিপন্ন গোধূলি বলবে "এরপর তো শুধুই অন্ধকার"। অথচ যেভাবে আকাশ...
মলয় দাস (পরিযায়ী) এর কবিতা অর্থ অনর্থমুখ ও মুখোশ যদি আলাদা অক্ষর হয় তবে তার অর্থ ভিন্নার্থ। যদি ধরো মুখের উপর মুখোশ বসে যুক্তবর্ণ হয় তবে সহজপাঠে মুখ ও মুখোশের শব্দার্থে মাকড়সা জাল বোনে।আবার মুখ মানে মুখোশ, মুখোশের সমার্থক মুখই হয় তবে ব‍্যঞ্জন বর্ণের...
বিদ্যুৎ মিশ্র'র কবিতাব্রাত্যবন্ধ দরজার ওপাশে ঘুপচি ঘরের একটাআলাদা গন্ধ থাকে;কতো মন খারাপের সাক্ষী দিতে দিতেবিবর্ণ ওই পাঁচিলের পাশেমাকড়সার জাল জেনে গেছেমানুষের মন বড়ো বেহায়া।যেমন বিকেলের রশ্মিচ্ছটায়আঁধার নেমে আসে ধুলো মাখাবারান্দার কোণে,সারাদিনের ক্লান্তি বয়ে তপ্ত মেঝেএকটু একটু করে ঝুঁকে পড়েবাগানের শিমুল গাছটার পাশে।রাতের প্রহর...
গোবিন্দ মোদকের কবিতাশেষ শোকসংগীতমোহময় এক অন্ধকার ভেলভেটমসৃণ প্রতিটি খাঁজে লুকিয়ে রাখে বিশ্রম্ভালাপ, অগুন্তি নক্ষত্রপতনের শব্দ শুনতে শুনতে ক্লান্তি জাগে ভাবনায়, তবুও এই ভালো –আলোর বিপ্রতীপে থেকে আজানুলম্বিত অভ্যাসের প্রতিপালন অথবা দু’চোখে ঠুলি না বেঁধেও নিশ্চিত অন্ধকারযাপন। কিন্তু এটাই শেষ কথা নয় একদিন আলোর প্রহর নিশ্চিত ছিন্ন করবে অন্ধকারের পর্দা আর যাপিত জীবনের প্রতিটি কন্দরেবেজে উঠবে...
গৌতম কুমার গুপ্ত'র দুটি কবিতাজরা আরো এক জরা মেঘ পেরিয়ে গেল মাথার ওপরেঠিক নিদ্রাহীন রাত্রি বারোটায়।চে্য়ে চেয়ে দেখে মাখ্খন ভুরুর ঝাউপাতাহ্দকমলে পদ্মনাভি হাত।ড্রেসিং টেবিলে অসমাপ্ত কাঁটার উলক্ষীর একদম মধ্যবয়সী বাদামী ঠোঁটতিরতির কম্পনে অসবর্ণ লিপস্টিক।কম্পাস কাঁটায় মেপে নিচ্ছে নিঁখুত জ্যামিতিকৌণিক ঊরু কিংবা ভূগোলের ছেদবিন্দুযৌবনে জঙ্ঘার ঘেরাটোপে...
সৌম্য ঘোষের দুটি কবিতাবেদনার গাননদীস্রোতে লেখা থাকে প্রাচীনবটবৃক্ষের গল্পসাঁকো-পথ দিয়ে হেঁটে যায়সবুজ সকাল,বাতাসে শব্দেরা জলকেলি করে-লিখে রাখেমায়া ও ভ্রমরের পদাবলী,তবুও কিছু বিবর্ণ দ্রোহছেঁড়াপাতায় ইতঃস্তত#দূরে কে যেন হেঁটে যায় বাউল পায়েবাতাসে ভাসে বেদনার গান।।ডাকভুল আর শূন্যের মাঝে আটকে আছেঅবিমিশ্রকারি হৃদয়, নিরবধিমানুষের কিছু ভুল থাকে,...
পীযূষ কান্তি সরকারের অণুগল্পরঙ-মিস্ত্রিনির্মীয়মান ফ্ল্যাটবাড়ির তিনতলায় চলছে সুন্দর করে রঙ-মেলানোর কাজ। নিপুণহাতে কাজ চলছে ঘরে ঘরে। এই তিনতলা থেকেই পাশের মাল্টি-স্টোরিড বিল্ডিং-এর অফিসঘরের কাজকর্ম খুব সহজেই দেখা যায়। একটি ঘরে চলছে তথ্য-প্রযুক্তির কাজ। দু'জনের একজন টিফিন সারতে নিচে চলে গেল। দ্বিতীয়জনও দরজাটা টেনে...
তীর্থঙ্কর সুমিতের কবিতাসকাল হাসেকথার পাহাড় জমতে জমতেসৃষ্টি হয়  হারানোর রসদভালোবাসার সমীকরণেহারিয়ে যায় দৃষ্টির সাবেকিয়ানানদী পথে লিখে রাখাবেদনা বাহার আজপথ ছেড়ে রাজপথে ---একা একা নদী কাঁদেছায়াবৃত্তের অন্তরালেতবুও সকাল হাসেপ্রতি ঘরের অন্ধকারে অন্ধকারে।কবি তীর্থঙ্কর সুমিতমানকুন্ডু, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ ...
মৃণালেন্দু দাশের তিনটি কবিতা দোলনতোমাকে ছুঁয়েছে ফড়িং আলগোছে, তারপাখনা দুলছে হাওয়ায়তুমিও দুলছদুজনের সে দোলন যেন সময়ের পেন্ডুলামকলঘরে জলের উল্লাস ফেণায় ভাসে জীবনস্পর্শের অতীতছুঁয়েছি শরীর মাত্র, তোমাকে না। তুমি,তার থেকে দূরে অনেক গভীরে স্পর্শের অতীতআমার কারবার হাড়গোড় রক্তমাংস মাসমজ্জা অবধিতারপরেও রয়েছে যে তার নাগাল তো...
অমিত চক্রবর্তী'র কবিতাসীমিত গুণপণা বা কল্পনাআমি সেলফিতে মগ্ন আর ডেকে বসা হরিয়ালছটফটে তার বিদ্রূপের হাসি নিয়ে,এইভাবে যে সকালটা শুরু হয় আমি তার আসন্ন প্রেমিক।প্রতিদিনটাই ধারকরা এখন, হিসেবের খাতা বুজিয়েদোকানি গেলেন প্রস্থানের পথে, আমি গ্রাম্য ভিখারি,আজীবন মাথা নীচু, আপাতত ছাঁদা বেঁধে,আষ্টেপৃষ্ঠে সিধে গুণে, লোভেলোভে...
সত্যজিৎ সেনের কবিতাঝরাপাতাঝরাপাতা,উড়ে এলে সবুজ শার্টের পকেটে।আমার আম্রপালি নারী,বুকে এক কান্নার নির্ঝর।তোমার অশ্রু আমি মুছে দিতে পারিআমার জামার আস্তিনে। তোমার নিঃশ্বাসে আজও মৃগনাভি গন্ধ,চোখের পাতায় আজও ফুলের শুদ্ধতা।গ্যালাক্সি ফুঁড়ে দিয়ে বিগত জন্মের সব ট্রেন ছুটে গেছে অজানা ব্ল্যাকহোলে। ফেলে আসা পূর্বজন্ম অভিমানে অহল্যা পাথর।সেই সব...
হামিদুল ইসলামের কবিতাজীবনের বারবেলায় জীবনের মাধুর্য ফিরে আসে না আর হারিয়ে যায় উড়ান ব্রীজউড়াল শহর তোমার ঠোঁটের ছোঁয়ায় তখনো আমার অজানা শিহরণ ।।ইচ্ছেগুলো সাজাই সেজে ওঠে রাত কুহকিনী মায়া । কুহকিনী উপনদী ভেসে চলে দিনরাত ।।জানি না কোথায় বিছিয়ে রেখেছিলাম আমার শৈশবএক একদিন গুচ্ছ ফুলে স্বপ্ন দেখি শুয়ে আছে...
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা সিঁড়ির অন্ধকার জলঘরে কয়েকটি পা ১০গাছপালার ভেতর দিয়ে তুমি হেঁটে আসছো। এক একটা গাছের পাশে তোমার দীর্ঘ দেহ জলভরা মেঘের মতো। ঝরে পড়লে আরও সবুজ হয়ে যাবে ছাদ। ছবিঘরের বারান্দায় আমি অস্থির হয়ে উঠি।১১অনেকগুলো বছর ধরে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি। যে মুখগুলোকে দেখার...
রূপক চট্টোপাধ্যায়ের তিনটি কবিতা ওই দিন সব বলাকা বলেছিবেশ কিছুদিন আগে অভিমান ফিরে গেছে ঘরে, জল বিলাসী কলস তারজল ছলনায় ওই, ভেসে ভেসে দূরত্বে প্রহর তুলে সিন্ধু ভ্রমে হারায়। কেউ কোনো দিন এসে হাত ধরে ডাকেন বলে অভিমান ফেলে গেছো নোলোকতার চন্দ্রমাসের আলোক ইস্পাতে! দুই জোড় হাত বন্ধ করে একাইশরীর মেনে...
মীনাক্ষী ঘোষের কবিতাবিশ্বাসদুঃখ আমারকোনো বালুচরী শাড়ি নয় যে অবরে সবরেতাকে বিলাসিতায় অঙ্গে জড়িয়ে রাখবো।দুঃখ আমারজসীমউদ্দিনের কোনও নকসী কাঁথাও নয়, যেমনখারাপী গল্পগুলোর নকশা এঁকেমনকেমনের শীতের রাতেওম খুঁজবো চোখের জলে ভিজেবরংদুঃখ আমারএকটুকরো আটপৌরে শাড়িযাকে আমি নিত্যদিনের ব্যবহারেজীর্ণ করতে পারি।জনারণ্যের ভীড়েনিজের সাথে একলা হয়েহলুদ স্মৃতির ছোপগুলোকেঅনায়াসে...
দীপক বেরার কবিতাসম্পর্কসম্পর্কগুলো ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে..বেড়ে যাচ্ছে অপূর্ণতা, শূন্যতা বাড়ছে হৃদয়-সম্পর্কের ফোকাস দূরত্বফোকাসের অভাবে চোখের সামনে ঝাপসা প্রান্তর আকাশে প্রণয়ের চাঁদ যেন ঘোলাটে ক্ষতচিহ্নহৃদয়ের চোরাগোপ্তা পথে উঁকি মারছেহেমন্তের নানান চড়াই-উৎরাইবদলে যাচ্ছে দ্রুত, সম্পর্কের সমস্ত ব্যাকরণ!দু-নৌকোয় পা দিয়ে নদী পেরোনো?সে তো, —অতি সহজ অঙ্ক নয়!খানিকটা...
লক্ষ্মণ দাস ঠাকুরার কবিতারহস্যবাতাসের সঙ্গে সন্ধি ক'রে সাগরে ওঠে ঢেউবালুকাময় বেলাভূমে কাঁকড়ার আলপনা শুক শারি ডাকে-'রাই জাগো, শ্যাম জাগো'আঁধার রাতে বন্দি তুমি অনেকের সাথে একা। কি নাই এখানে, আছে তো দেশের স্বাধীনতাতিমির বিনাশী হও,জাগাও আত্মবিশ্বাস পাশাপাশি দারিদ্র্য- বৈভব দুর্ভিক্ষ -খাদ্যোৎসবতোমার পানে চেয়ে চেয়ে খোঁজে একমুঠো গ্রাস। বাইরে...
সোমনাথ বেনিয়ার মুক্তগদ্যএক্সট্রা ক্লাসএকটি অপেক্ষা ফুলুরির মতো হাবুডুবু খায়। এই বিপন্নতা দেখে সূর্য চিৎকার করতে করতে ডুবে যায়। হঠাৎ করে পড়ে যায় সাইকেলের চেন। পড়ি-মরি করে তুলতে গিয়ে হাতে কালি লাগলে মনে পড়ে দীঘল চোখের কাজলসমগ্র। প্লুতস্বরে কেঁপে ওঠে ঠোঁট। দৌড়াতে চায় বলগাহীন...
রবীন বসুর দুটি কবিতা আমি ও সেতাকে আমি দিয়েছি তাড়িয়ে, নাকি সে তাড়ালো এই ধন্দ মনে বাজে রোজ। নাবাল জমির ওপর শুয়ে থাকি এবড়ো খেবড়ো খড় বালিশে সটানআমাকে দেখতে থাকে প্রায়, হয়তো বা আমিও এই যে দূরত্ব জল মাপে, সাঁতার তাহাকে শেখায়গভীরতা কতটাই গ্রাহ্য হতে পারে হিসাবসনিকাশসবকিছু...