প্রচ্ছদ, সূচিপত্র ও সম্পাদকীয়


জমকালো রবিবার ২ এর লেখকসূচি:

কবিতা: অশোক অধিকারী,সুজিত রেজ, শ্রাবণী গুপ্ত,  দেবার্ঘ সেন, সাত্যকি, সুজিত কুমার মালিক, ধৃতিমান তলাপাত্র, শুভ্রাশ্রী মাইতি, স্বপন জায়দার, শুভজিৎ দে, শংকর নাইয়া এবং পাপিয়া সাধুখাঁ । 

ছোটগল্প: শৈবাল মুখোপাধ্যায়,ঋভু চট্টোপাধ্যায়, সমাজ বসু, চয়ন কুমার রায়, শুক্লা মুখার্জি। 

প্রবন্ধ: মোনালিসা নায়েক 

মুক্তগদ্য: তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্তরা দাঁ, দীপক বেরা,কথিকা বসু, লক্ষ্মণ দাস ঠাকুরা, চিরঞ্জিত বৈরাগী  এবং মানসী গাঙ্গুলী  

খোলাচিঠি: রিঙ্কি বোস সেন, শৌভিক চ্যাটার্জী এবং মীরা নন্দী 


সম্পাদকীয় : 

"ডাকবাক্স ও চিঠিদের কথা"                                                             
ব্রিটিশ শাসন নিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একবার আক্ষেপ করে লিখেছিলেন - " হায় লাঠি, তোমার দিন গিয়াছে !" আর আজ ই- মেইল, এস. এম. এস, হোয়াটসঅ্যাপের দৌলতে বাঙালী বলতেই পারে - হায় চিঠি, তোমারও দিন গিয়েছে। " এই চিঠি, ডাকবাক্স সত্যিই এখন প্রায় অতীত।                                      

বাংলা ' ডাক ' শব্দের অর্থ আহ্বান করা বা মনোযোগ আকর্ষণ করা। এই ডাক ব্যাবস্থার ইতিহাস অনেকদিনের। আপনজনের কাছে বার্তা পাঠাতে মৌসুমী মেঘকে দূত হিসাবে ব্যবহার করার কল্পচিত্র এঁকেছিলেন কালিদাস তার ' মেঘদূত ' গ্রন্থে। বিভিন্ন লোকগাঁথা, ছড়া  ও কবিতায় দেখা যায় আদিকালে একস্থান থেকে অন্যস্থানে আপনজনের কাছে খবর পাঠানোর জন্য দূত ও কবুতর ব্যবহার করা হতো তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিবর্তন হল। দিল্লির সুলতানি আমলে চালু ছিল দুধরণের ডাক ব্যবস্থা - ঘোর সওয়ার ডাক বাহক ও পায়ে হাঁটা ডাক বাহক। তারপর ১৮৫৬-৫৭ সালে প্রথম চিঠি ফেলার বাক্স বা ডাক বাক্স চালু হয়।আর ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে এই ডাক বাক্সের সংখ্যা।                                 
কয়েকদশক আগেও বিজয়ার  শুভেচ্ছা জানাতে ঘরে ঘরে কেনা হতো গোছা গোছা ইনল্যান্ড লেটার বা পোস্টকার্ড।বাংলা সাহিত্যের দিকপালরা চিঠি লেখাকে নিয়ে গেছেন সাহিত্যের পর্যায়ে।চিঠির মাধ্যমে গজিয়ে উঠতো কতো বন্ধুত্ব।মাসের পর মাস শুধু লেখার অক্ষরেই বাঁচতো কতো সম্পর্ক।প্রযুক্তির হাত ধরে এখন বদলে গেছে সেই রেওয়াজ।এখন চটজলদি ফোনে বা হোয়াটসাপেই শুভেচ্ছা সেরে ফেলে সবাই। ভিডিও চাটে আড্ডা জমে যায় মুখোমুখি।ব্যস্ত যুগের প্রয়োজনে হয়তো স্বাভাবিক আর অনিবার্য এই পরিবর্তন।কিন্তু চিঠির আকর্ষণ ছিল আলাদা।প্রিয়জনের কাছ থেকে নিজের নামে আসা চিঠির মুখবন্ধ খাম খোলার মধ্যে যে শিহরণ, কিংবা চিঠির প্রতি ছত্রে ফুটে উঠতো প্রিয়জনের যে ভালোবাসা - তা ভোলার নয়।                              

এবারের জমকালো রবিবারের বিষয় এই চিঠি আর তার বাক্স ( ডাকবাক্স ) নিয়েই।পড়ুন আর পড়ান। হৃদস্পন্দন এর পাশে থেকে একেবারে জমিয়ে দিন জমকালো রবিবারকে।সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

0 Comments