হৃদস্পন্দন

  • Home


  • Download

  • Social

  • Feature


লোথাল ভ্রমণ কাহিনি 

আমেদাবাদ আসার আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল লোথাল দেখার।আমরা প্রাচীন যুগের আবিষ্কৃত বসতি হরপ্পা,মহেঞ্জোদারোর নাম শুনেছি।এখন কার ইতিহাসের বইতে পড়ানো হয়।আজ হতে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে বন্যা কিংবা বহিঃ শত্রুর আক্রমণে সভ্যতা দুটি ধ্বংস হয়। প্রায় একশ বছর আগে মাটি খুঁড়ে আবিষ্কৃত হয়। ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ায় হরপ্পা মহেঞ্জোদারো পাকিস্থানের অংশে পড়েছে।দেখার ইচ্ছে হলেও সম্ভব নয়।পাকিস্থানে প্রায়ই এখানে সেখানে উগ্রপন্থী হামলা ঘটে।হরপ্পা মহেঞ্জোদারো দেখতে গিয়ে পৈতৃক প্রাণটি বিসর্জন দিতে মোটেই রাজি নই।

প্রাচীন সভ্যতা বা পুরাতত্ত্ব দেখতে আমার খুব ইচ্ছে হয়।মিশর,ব্যাবিলন বা গ্রীক ইত্যাদি প্রাচীন সভ্যতা বা  প্রতিবেশি দেশ পাকিস্থানের মহেঞ্জোদারোর সভ্যতার কথা বইয়ে পড়েছি।অথচ আমরা অনেকেই জানি না,হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোর সময়কার অনেক প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে ভারতর বিভিন্ন জায়গায়।এর  মধ্যে একটি হল গুজরাটের লোথাল।এটি ঐ সময়কার বন্দর নগরী।আমেদাবাদ থেকে লোথালের দূরত্ব প্রায় প্রায় আশি কিলোমিটার।

আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল,যে কোন প্রাচীন সভ্যতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সে সময়কার মানুষের সৃষ্টিকে ছুঁয়ে দেখার।চোখের মাধ্যমে সেই সময়কে অনুভব করার।ইতিহাস নাকি কথা বলে।ভাবলাম দেখিই না গিয়ে,ইতিহাস আমাকে কোন কথা বলে কিনা।

লোথালের সঙ্গে দেখার ইচ্ছে,মহাত্মা গাধীর সবরমতী আশ্রম,সিড়ি কুঁয়ো,শকিং টাউয়ার,আরও যা যা আছে।হোটেলের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বললাম।ওরা এই প্রথম শুনল লোথালের নাম।কি দেখার আছে জানতে চাইল।সব শুনে বলল, আপনি শিক্ষক বলেই লোথাল সর্ম্পকে জানেন,যেতে চাইছেন।আর তো কেউ আমাদের লোথালে যাবার কথা বলেনি।শুভ গুগল ম্যাপে লোথালের অবস্থান এবং দূরত্ব  দেখিয়ে দিল তাদের।আগে এবং পরে এই প্রযুক্তি আমাদের কোন জায়গারঅবস্থান খুঁজতে সাহায্য করেছে।যাইহোক ফোনাফোনি করে একটি ইন্ডিকা গাড়ি ঠিক করে দিল।ভাড়া প্রতি কিমি নয় টাকা হিসাবে। শেষে ঠিক হল আড়াইশো কিমি আমরা ঘুরব।তার মধ্যে লোথাল সহ যা যা দেখার দেখে নেব।গাড়ি আসবে সকাল আটটায়।

রাতে বের হলাম বাঙ্গালী খাবার খুঁজতে।ভাতের সঙ্গে যদি সবজি অথবা আমিষ খাবার পাওয়া যায়।চাইনিজ খাবার,বিরিয়ানী মাংস এন্তার পাওয়া যায়।কতটুকু পর পর ফাস্ট ফুডের দোকান কিংবা রেস্টুরেন্ট আছে।খূঁজতে খুঁজতে বেশ খানিকটা হাঁটার পর রাস্তার ধারে খোলা এক ফাস্ট ফুডের দোকান রাজি হল ডিম ভাজি আর ভাত দিতে।ঠাণ্ডা ভাত।ডিমের অমলেট।তাই আমায়ের  কাছে অমৃত বলে মনে হচ্ছিল।পরিবেশনকারী একটি ছেলে আমাদের কথা শুনে এগিয়ে এসে বলল,আমিও বাঙ্গালি।ওর কথায় হিন্দি টান স্পষ্ট।জিজ্ঞেস করলাম,বাড়ি কোথায় রে? –আজ্ঞে,ঝাড়খন্ডে। বেশ ভাল লাগল দূরদেশে এক বাঙ্গালিকে দেখতে পেয়ে।হোক না বাংলা ভাষায় হিন্দি টান।খাওয়া শেষের পথে ।এমন সময় দোকানদার ফোনে কাকে যেন বলল, ওয়ালিকুলাম সেলাম।মুখে গ্রাস নিতে গিয়ে একটু থেমে গেলাম।চিরাচরিত হিন্দু সংস্কারে কোথাও যেন একটু টাল খেল।

সকাল আটটায় গাড়ি এসে হাজির। ড্রাইভার অল্প বয়সের ছেলে।নাম তোশিব।নিজের ঢাক পেঠাতে সব সময় ব্যস্ত।গাড়ি চালাতে চালাতে বলে দিল,ওকে সবাই পছন্দ করে।প্রায় সময়ই ট্রিপ থাকে।অনেক সময় পুরানো পার্টি দূরের ট্রিপে ওর সঙ্গে ওর স্ত্রীকে নিয়ে যেতে বলে।লাল দরওয়াজার সামনে ওর চৌদ্দ কামরার বাড়ি আছে।ভাড়াটে বসায় নি,পছন্দ করেনা।বুঝি,ওজন বাড়ানোর জন্য এ সব কথা।যদিও যাওয়ার সময় চেয়ে বকশিশ নিল।

গাড়ি শহর ছেড়ে গ্রামের পথ ধরল।দিগন্ত বিস্ত্রৃত সমতল জমি।লোকালয়ে কোথাও জলসেচের সুযোগ থাকায় চাষ হচ্ছে।পেঁয়াজ,গম,ভুট্টা,আখ ইত্যাদি।দু’লেনের রাস্তার ধারে অনেক জায়গা নিয়ে গাড়ি, বস্ত্র,কেমিক্যাল ইত্যাদি শিল্প গড়ে উঠেছে।প্রায় দুঘণ্টা পর তে রাস্তার মোড়ে লোথাল যাবার পথ নির্দেশ মিলল।লোথাল শুনশান জায়গায়।তাই এখান থেকে ফল,আঁখের রস দ্বারা উদর ভর্তি করে নিলাম।আবার গাড়ি চলল।এক সময় দেখা মিলল, লোথালের।যে ছবি আমরা ইন্টারনেট বা অন্য কোথাও দেখেছি।

মাথার উপরে গনগনে রোদ।বাতাসে যেন আগুনের হলকা।বড় কোন গাছ এদিকে চোখে পড়ল না।তাড়াতাড়ি সামনের অফিস ঘরে ছুটে যাই।এটি একটি মিউজিয়াম।এখানে মাটি খুঁড়ে যে সব জিনিস পত্র পাওয়া গিয়েছিল,তাই রাখা আছে।অবশ্য গুরুত্ব পূর্ণ দামী জিনিস এখানে রাখা হয় নি।দিল্লীতে নিয়ে গেছে।ঐসব জিনিসের ছবি কিংবা রেপ্লিকা রাখা আছে।

জন প্রতি ত্রিশ টাকা করে এন্ট্রি ফি।বন্ধ থাকে শুক্রবার। মিউজিয়ামে ঢুকে লোথাল সর্ম্পকে একটি লিফলেট চেয়ে নিলাম।পড়ে যা জানলাম,- লোথাল শব্দের অর্থ,মৃতের শহর।এটি হরপ্পার সময়কার সভ্যতা।যার সময়কাল,২৫০০-১৯০০খ্রীষ্টপূর্ব।১৯৫৫-৬২ খ্রীষ্টাব্দে ডক্টর এস,আর,রাও এর নেতৃত্বে জায়গাটির খনন করা হয়।এই জায়গাটি গুরুত্ব পূর্ণ এই জন্য যে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন বন্দর।

মিউজিয়ামে তিনটি গ্যালারি আছে।প্রথমে লোথাল নগরীর একটি সম্ভাব্য ম্যাপ দেওয়া আছে।বাদিকের গ্যালারি গুলিতে পুঁতির মালা,টেরাকোটার গয়না,বিভিন্ন প্রকার সিল মোহরের রেপ্লিকা, শামুক,ঝিনুক,হাতির দাতের,তামা এবং ব্রোঞ্জের ব্যবহৃত জিনিসপত্র।ডান দিকের গ্যালারিতে খেলার সামগ্রী,পশু পাখি এবং মানুষের প্রতিকৃতি (পুতুল)।বিভিন্ন মাপের বাটখারা,চিত্রিত মাটির পাত্র,বিভিন্ন আকারের ইট,লোথালে পাওয়া দুটি মৃতদেহের রেপ্লিকা।লোথালে হরপ্পা, মহেঞ্জোদারোর পর তৃতীয় বৃহৎ্‌ সিল মোহরের (পাঞ্জা) সংগ্রহ পাওয়া গেছে।লোথালে ছক্কার মত গুটি দেখেছি,যে গুলিতে গর্ত করে ফুটকি দিয়ে এক, দুই বোঝানো হয়েছে।দাবা খেলার মতো কিছু গুটি দেখেছি।খেলনা গরুর গাড়ি,গণ্ডার,গরিলার প্রতিকৃতি দেখেছি।তামার মাছ ধরার বড়শি,সূঁচ,সছিদ্র কলস ইত্যাদি।আরও খুঁটিয়ে দেখার ইচ্ছে ছিল,সময়ের তাড়ায় বের হয়ে এলাম।

দু,শো টাকা দিয়ে গাইড ঠিক করে আবিষ্কৃত নগরীতে চলে এলাম,যা মিউজিয়ামের পার্শ্ববর্তী।কাঁটা তার দিয়ে ঘেরা।ঢুকতেই চোখে পড়ে ডক্‌ ইয়ার্ড।যা দৈর্ঘে প্রস্থে হল ২১৪মিx৩৬মি।এই ডক্‌ ইয়ার্ডটি পোড়া ইট দিয়ে বাঁধানো,এটি একদিক দিয়ে আরব সাগর এবং অন্য দিক দিয়ে সবরমতী নদী ও সিন্ধুর একটি নদীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। বন্দরে মাল পত্র রাখার  জন্য গুদাম ঘর ছিল,যার মাপ ৪৯x৪০বঃ মিঃ।শহরটির উচু জায়গায় নগর প্রধানেরর ঘর।এখানে বাঁধানো কুঁয়ো,বাঁধানো জল রাখার পাত্র,স্নানাগার,পায়খানা ঘর,সবই উঁচু জায়গায় এবং বাঁধানো।বর্জ্য পদার্থ বের হবার পাকা নর্দমা ছিল।কুয়োর গোলাকার গাঁথনি দেবার জন্য ইটের প্রস্থে দু রকম মাপ ছিল।এক মাথায় ৬ইঞ্চি,অন্য মাথায় ৪ইঞ্চি।নগরের নীচের দিকে ছিল পুঁতি তৈরির কারখানা,অন্য মালামাল তৈরির কারখানা এবং বাজার।এক পাশে শ্রমজীবি মানুষের বাসস্থান।কবর স্থান পাওয়া গিয়েছে,এখনও খনন আরম্ভ হয়নি।ঐ স্থান গুলিতে হাঁটতে গিয়ে মানস চোখে কর্মব্যস্থ বন্দর এবং বাজারের ছবি ফুটে উঠল।কিন্তু সবই অস্পষ্ট।তারা কি ভাষায় কথা বলত,কেমন কাপড় পরত,মালিক শ্রমিকের সর্ম্পক কেমন ছিল সেই প্রশ্ন গুলি আমায় মনে হল আরও ভাল করে খুঁটিয়ে দেখা দরকার ছিল।আবার সুযোগ হলে যাব একবার।উতক্ত করে তুলেছিল।স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে একটা কলস কিংবা পেতলের ভাঙ্গা টুকরো কুড়িয়ে নিলাম।  

লেখক চন্দন আচার্য 
























তীব্র আলোর দেশে

অনেক দিন মন খুলে হাসিনি
হঠাৎ গ্যাস জ্বালালে যেমন দপ্ করে জ্বলে ওঠে 
তেমনি করে কথা জ্বলছে অন্ধকারে।  
আজকাল মানুষের সাথে কথা বললে,হড়বড় করে সে আগুন কথা বলবার যন্ত্র দিয়ে ঠিকরে পড়ে।
তাতে তারাও পোড়ে- পুড়ি নিজেও,
তখন রক্তচাপ ভয়ানক বেশি হয়ে পড়ে,হাত পায়ের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকেনা।
কতকাল একা বসে গাছ দেখিনি
দেখিনি পাখির পালকে সন্ধ্যার রং
ঠান্ডা জলের পদ্মফোটা পুকুর।
শিমুলতলায় বহু আগে দেখা বিশাল অশ্বত্থ গাছের 
টিয়াদের ঝাঁক 
আজকাল স্বপ্নে ঠা-ঠা করে হাসে।
মধুপুরে জলঢোঁড়া অবিরত কবরখানার পুকুরে  মাছ ধরে যায়। 
কতকাল হয়ে গেল লুইপার সাথে বসে খাইনি,খন্ড খন্ড পোড়া মাছ--
নিজে অন্ত্রগুলো খেয়ে,আমার জন্য রাখতেন গোটা মাছটাই।
আজ বারো বছর হল বাবা আমাকে এই তীব্র আলোর দেশে ফেলে রেখে
নিজে ছায়ার দেশে চলে গ্যাছে। 

কবি অনিন্দ্য দত্ত
আন্ধেরী পূর্ব, মুম্বাই, ভারত
















 


কানামাছি খেলা

এতো শুধু কানামাছি খেলা নয়। 
আমার চোখ দুটো তুলে দিলাম তোর হাতে। 
দেখি !এবার ধরতে পারিস কিনা !
সময় দশ আঙুলের ফাঁকে গলে যাচ্ছে প্রতিদিন। 
আমি যখন উত্তরে তুই তখন দক্ষিণে।
পূবে এলেই শরীরের গন্ধ পাই
সরে যাই লাজুক প্রেমিকার মতো।
আমাকে যেন ডুবিয়ে দিচ্ছে ঘন অন্ধকার। 
মাঠের ধারে দরজাআঁটা বাড়িগুলো-
হাঁ করে তাকায় আমার দিকে। 
তুই তখন আরও মরিয়া 
টলটলে সংসার গর্ভাশয়ে জন্ম দিস
অন্য এক চতুর 'বিনোদ' খেলা। 
ঠিক তখনই জানিয়ে দেয় সময়ের ঘড়ি
জীবনের অন্য এক মানে-
'না ছুঁয়ে পানি সিনান করো হে।'
মূর্খের কোলাহলে পেয়ে যাবি ঠিক একদিন। 
আলেয়ার পিছনে ঘোরার অর্থ-
পৃথিবী ক্রমশঃ নিঝুম। 

 কবি লক্ষ্মণ দাস ঠাকুরা
সুকান্তপল্লী, কালনাগেট, পূর্ব বর্ধমান



















একটু উষ্ণতার জন্য

"এই করেছ ভালো নিঠুর হে,এই করেছ ভালো
এমনি করে হৃদয়ে মোর তীব্র দহন জ্বালো…’’   

দক্ষিণমুখ খোলা একফালি বারান্দায় দাঁড়িয়ে বিভোর হয়ে আপন-মনে গেয়ে চলেচন্দা,চন্দা রায়বর্মন।বরাবরই তার গানের গলাটা নাকি ভালো একথা সে অনেকবার শুনেছে পীযূষের মুখে। সেই পীযূষ এক সময় যার উষ্ণতায় তার দিন গুলো রঙিন হয়ে উঠত।সেই পীযূষ,যার জন্য সে রাতের পর রাত স্বপ্ন দেখেছে।

সেবারের ঘটনাটা সে কোনদিন ভুলবে না।কেমন করে ভুলবে!একটা ঢেউ তার সবকিছু কেড়ে নিয়ে চলে গেল। তারপর নদী থেকে অনেক জল বয়ে গেল।সে যখন পাল ছেঁড়া নাবিকের মতো এদিক-ওদিক ঠক্কর খেতে খেতে ঢেউ এর পর ঢেউয়ে ভেসে ভেসে চলেছে,ঠিক তখনই দেবদূতের মত হাজির হয়েছিল তমাল,তমাল রায়বর্মন- দক্ষিণ কলকাতার বনেদি পরিবারের শুভ্রাংশু শেখর রায় বর্মনের একমাত্র ছেলে। 

বাজার থেকে ফিরে,এই সকালবেলা চন্দাকে একা একা এভাবে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বিরক্ত তমাল বলে ওঠে,পাগল হলে নাকি তুমি! আবার, আবার ওইভাবে চেয়ে আছে! কি? কি দেখছো?চোখের পাতা ফেলো।  

চন্দা ফ্যাল ফ্যাল করে তার মুখের দিকে চেয়ে থাকে-এক দৃষ্টিতে।

তমাল সজোরে তার কাঁধ ধরে ঝাঁকিয়ে দিয়ে এবার বলে,কতবার তোমাকে না বলেছি,এভাবে বারান্দায় এসে তুমি বসবে না। তারপর গলা ছেড়ে সে ডাক দেয়-বিন্দি---ই,এই বিন্দি--ই---

সম্বিত ফিরে পায় চন্দা।ধীর-স্থির ভাবে মৃদু গলায় সে বলে,ওকে একটু বাজারে পাঠিয়েছি।তুমি যাও টেবিলের ওপর তোমার ব্রেকফাস্ট চাপা দিয়ে রেখে এসেছি।খেয়ে নাও।ঠান্ডা হয়ে গেলে আর ভালো লাগবে না।

-তুমি খাবে না?

-না।

-কেন?

-চুপ করে থাকে চন্দা।তারপর তাদের তিনতলা ঘরের পিছনের বাগানের দিকে হাত বাড়িয়ে ধীরে ধীরে গলা তুলে বলে,দেখো দেখো,ওই আমগাছটায় কি একটা পাখি একটানা ডেকে চলেছে।ওটা কী পাখি গো?

তমাল পায়ে পায়ে চন্দার পিছনে এসে দাঁড়ায়।পাতার ফাঁকে পাখিটাকে খোঁজার চেষ্টা করে সে।না কোথাও তাকে দেখা যাচ্ছে না।তবে বড় কর্কশ একটা ডাক একটানা তার কানে আসছে।কান খাড়া করে, তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে সে বলে,কাক-টাগ হবে বোধহয়।তুমি চলো,একসঙ্গে ব্রেকফাস্ট করে নেব।আমার খিদে পেয়েছে।  

পাখিটার আওয়াজ টার দিকে কান পেতে চেয়ে থেকে চন্দা।তারপর বলে,তুমি যাও আমি আসছি।তুমিতো জানো এত সকালে খাবার অভ্যাস আমার নেই।আমি আর একটু বসি, সকালটা বড় ভালো লাগছে আজ।

তমাল আর দাঁড়ায় না।এরপর তাকে স্নান করে, নিজেকেই সবকিছু গোছগাছ করে নিয়ে অফিস যেতে হবে।যাওয়ার পথে একবার মিস্টার মুখার্জির চেম্বার ঘুরে যাবে সে।ডাক্তারবাবু তো বলেছেন,এখনো সব আশা শেষ হয়ে যায়নি,এ সময় সারাক্ষণ ওকে চোখে চোখে রাখবেন।হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা---,বিন্দি টা যে কি করে,বিরক্তিতে তার মুখ কুঁচকে ওঠে।

ডাইনিং টেবিলের ওপর টিফিনের ঢাকনা খুলে দেখে নুডুলসের বুক থেকে তখনো ধোঁয়া উঠছে।নুডুলস খেতে সে বরাবর ভালোবাসে।একথা তাহলে এখনো চন্দা ভোলেনি।আজ কি তাকে আগের থেকে অনেক বেটার লাগছে!হবে বোধ হয়।ডক্টর মুখার্জির প্রেসক্রিপশন টা তাহলে কাজে দিচ্ছে!

সে চেয়ার টেনে বসতে গিয়ে আবারও উঠে দাঁড়ায়।চন্দাকে একবার হাঁক দেয়,এ্যাই,
শুনছো?এদিকে একবার এসো না।

তার মনে পড়ে,ডাক্তারবাবু তাকে বারবার করে বলে দিয়েছেন,মিস্টার বর্মন স্ত্রীকে যতবেশি সম্ভব সংসারে কাজে কর্মে ব্যস্ত রাখবেন।দেখবেন যেন একা একা না থাকে বেশি সময়।সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখবেন।যেন পড়ে না যায়।এ সময় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে ওকে আর ফেরানো যাবে না।তাই সাত তাড়াতাড়ি সে বিন্দিকে তার দেশের বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছে।বড় ভালো মেয়ে।তাদের দেশের বাড়ির কমলা মাসির মেয়ে।বড় চটপটে।কিন্তু এ সময় যে সে কোথায় গেল!  

-এই শুনছো? আবার ডাক দেয় সে।চন্দা,আমি কিছু খুঁজে পাচ্ছি না।ইচ্ছা করে প্লেটটা রান্না করে লুকিয়ে রেখে সে বলে,প্লেট কোথায়?খাব কিসে?

-বাবা! কিছু যদি তুমি খুঁজে পাও!একটা কাজ যদি নিজে করতে পারো! 
বিন্দি--ই, বিন্দি--ইইই---ই,এই বিন্দি--ই,দেখ তো তোর দাদা বা…,হঠাৎ চুপ করে সে ভাবতে থাকে।

ডাইনিং থেকে তমাল বলে,ওকে আবার ডাকছো কেন?

বিন্দি কোথায়? সাড়া দিচ্ছে না কেন?ও কি এখনো ওঠেনি? বারান্দা থেকে ঘরে এসে হতচকিত হয়ে চন্দা বলে,হ্যাঁগো,বিন্দি টা কোথায় গেলো?ওকে দেখছি না কেন?

-ওকে তো তুমি কোথায় পাঠিয়েছে যেন--

-আমি পাঠিয়েছি!

হ্যাঁ তুমি--

চন্দা ভাবতে থাকে। আমি! ও,হবে হয়তো।আচ্ছা তুমি কি খুঁজছিলে যেন!

-আমায় খেতে দেবে না? বেলা হয়ে যাচ্ছে যে।

-হ্যাঁ। বসো।সে তাড়াতাড়ি রান্না ঘরে গিয়ে ভাতের 
হাঁড়ির ঢাকনা খুলে দেখে চিৎকার করে বলে ওঠে- হ্যাঁগো,একটু ভাত নেই তো।কি খেতে দি তোমায়? মনে হয় বিন্দিটা সব ভাত খেয়ে ফেলেছে।

তমাল চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে বলে,এখন কি আমি ভাত খাই,যে ভাত থাকবে!তুমি ব্যস্ত হয়ো না,এসো।

রান্নাঘর থেকে তাকে ধরে নিয়ে এসে ডাইনিং টেবিলে প্রান্তে দাঁড় করায়।তারপর ধীরে ধীরে তার হাত ধরে ডাইনিং টেবিলের উপর ঢাকা দেওয়া নুডুলস এর ঢাকনা খুলে বলে-দেখো,এখনো কেমন ধোঁয়া উঠছে! সে শ্বাস ভরে নুডুলস এর গন্ধ শুকতে থাকে। 

তখনো পাতার ফাঁক থেকে পাখিটা একটানা ডেকে যেতে থাকে।চন্দা তার কোলের মধ্যে দাঁড়িয়ে,ধোঁয়া ওঠা নুডুলসের দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকে।ধোঁয়ার সর্পিল গতিতে তার দুচোখ জলে ভরে আসে।

একটু আগে সকালে গাওয়া গানটির আবেশে তার দু'চোখ বুজে আসে,আর বন্ধ চোখের আগল ঠেলে বিন্দু বিন্দু জলের ফোঁটা গড়িয়ে পড়তে থাকে।

লেখক বিশ্বনাথ প্রামাণিক 
বিদ্যাসাগরপল্লী, সোনারপুর, কলকাতা























 


What they didn’t tell you

Amidst scrabble of understanding and chaos
I met the setting sun that glowed of ease.
Under the stairs’ stored darkness of nightmare
I stumbled over moments that were keen 
on fixing the knots of significance.
I could see words flying along with lies.
I could smell the breath of light 
wanting me to stay away from the path of the wise.
The nonchalant winter nights desperate
to get rid  of their sorrow,
the honest endeavours 
sneaking some burdens to borrow…
have seen them all,
felt them even more 
intimately than my own heartbeat.
Sometimes I strolled along with these:
the fences and fixities
but still whenever I looked beyond it
or would do that in future in life’s narrow street,
I could surely pair
up my chance with time’s spin.

Poet Pratik Mitra
Konnagar, West Bengal, India























হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন
শীত সংখ্যা ॥ ১৪২৭
প্রথম বর্ষ ~ দশম সংখ্যা

কবিতা:

উত্থানপদ বিজলী ॥ অসিকার রহমান ॥  জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ॥ নিমাই জানা ॥ কল্যাণ গঙ্গোপাধ্যায় ॥ অনুশ্রী যশ ॥ বর্ণজিৎ বর্মন ॥ নিশিকান্ত রায় ॥ দীপক বেরা ॥ সোমা ঘোষ ॥ সাব্বির হোসেন ॥ দীপঙ্কর সরকার ॥ প্রসাদ সিং ॥ সুজিত কুমার মালিক ॥ সৌমিত্র চ্যাটার্জী ॥ মীরা মুখোপাধ্যায় ॥ বিষ্ণু চক্রবর্তী ॥ অনুপ কুমার সরকার ॥ স্বপন নাগ ॥ শান্তনু গুড়িয়া ॥ রাজু মন্ডল ॥ পার্থ সারথি চক্রবর্তী ॥ চন্দন বিশ্বাস ॥ সুমন দিন্ডা ॥ তন্ময় ঘোষ ॥ কৌশিক ঘোষ ॥ পলাশ পোড়েল ॥ দেবব্রত রায় ॥ বিশ্বদীপ ঘোষ ॥ সুদেষ্ণা দত্ত ॥ অনুপ মণ্ডল ॥ মনোজ সাহা ॥ অনির্বাণ রায় ॥ অমিত চক্রবর্তী ॥ চিত্তরঞ্জন গিরি ॥ হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় ॥ কৃষ্ণ রায় ॥ অসীম বিশ্বাস ॥ শুভজিৎ দাস ॥ সূর্য দত্ত ॥

গল্প:

সুপ্তা আঢ্য ॥ সৌমী আচার্য্য ॥ শৈবাল মুখোপাধ্যায় ॥ সমাজ বসু ॥ লোপামুদ্রা সিংহ দেব ॥ বিকাশ বর ॥ শুভ্রশোভন রায় অর্ক ॥ সুষ্মিতা রায়চৌধুরী ॥ বিকাশরঞ্জন হালদার ॥ স্বাতী রায় ॥ দেবদাস কুণ্ডু ॥

মুক্তগদ্য:

সুকুমার হালদার ॥ অন্তরা দাঁ ॥ সৌমী গুপ্ত॥

একাঙ্ক নাটক: সুদীপ পাঠক

রম্যরচনা: ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় ॥  অমিতাভ সরকার ॥

চলচ্চিত্র সমালোচনা: অভিষেক ঘোষ

নিবন্ধ: শিবপ্রসাদ পুরকায়স্থ


সম্পাদক কথা: 

সম্পাদক কথা যখন লেখা চলছে তখন আমরা সবাই একটু একটু করে শীতের মায়াবী চাদরে মুড়ে ফেলেছি নিজেদের কে। বড়দিন কে সাক্ষী রেখে নতুন করে বেঁচে ওঠার স্বপ্ন দেখছি। 

সব ডিসেম্বরের শহরেই শীত নামে।নিয়ন আলোর নিচে নতুন নতুন স্বপ্নের রূপকথারা লেখা হয়। কিছু হারিয়ে যায় আর কিছু পড়ন্ত বিকেলে স্মৃতির জীবাশ্ম হয়ে ফিরে ফিরে আসে।তবু শত বিচ্ছেদ,কষ্ট,দুঃখ কোনোকিছুই স্বপ্ন দেখা থেকে আমাদের বিরত রাখতে পারেনা।আমাদের প্রতিটি শীতঘুমেই লুকিয়ে থাকে কোনো না কোনো স্বপ্নের অনুষঙ্গ।হয়তো এরকমই কোনো স্বপ্নের অনুষঙ্গের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল  হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিনের জন্ম রহস্য। শীতজন্মের নাভিকুন্ড ছুঁয়ে এভাবেই আমাদের এগিয়ে চলা।একটু একটু করে বেড়ে ওঠা। 

আমরা আরো অনেক পথ এভাবেই আপনাদের পাশে নিয়ে হাঁটতে চাই।
পাশে থাকুন। ভরসা দিন। 
সকল লেখক ও পাঠকবৃন্দ কে জানাই বড়দিন ও নতুন বছরের আগাম শুভেচ্ছা। 
শুভ হোক সব সাহিত্য যাপন। 

























সে এক একা নির্জনতা

সে এক একা নির্জনতা!নিঃসীম দ্বীপের মতো।যেন মাঝ সমুদ্রের জল শান্ত অঞ্চল!একা এবং একার মতো।চেয়েছিলাম বিরহী অভিমানের মতো নির্জনতা!ভোরের রোদ্দুরের মতো নির্জনতা পেলাম কই!শহরের প্রকষ্টে প্রকষ্টে ঘুণ পোকা।কুরে কুরে খেয়েছে সমস্ত নির্জনতা।সমস্ত সম্বন্ধ,সম্পর্ক,সাহচার্যগুলো গনগনে চিৎকার ঝগড়াতে বারুদ ঠাসার মতো,কেবল একটু আগুন তাহলেই দাবানল।বনে জঙ্গলেও নেই আমার ব্যাভিচারের মতো নির্জনতা।সেখানে গাছচোর, মধুচোর আর শিয়ালের হুক্কা-হুয়া।শিকারীর ফাঁদ পেতে বসে থাকার মতো বা সঙ্গমে লিপ্ত হওয়ার আগের মুহূর্তের স্তব্ধতার মতো নির্জনতা চেয়েছিলাম।কিন্তু!ভয়ঙ্কর কিচির মিচির পৃথিবীতে আমরা!
কাল রাতে সমস্ত হৈচৈ এর কবিতাগুলোকে জলের বালতির মধ্যে ডুবিয়ে দিয়েছি।সারারাত ওদের মাথা ঠাণ্ডা হোক।সকালে উঠে যখন দেখব-অক্ষরবৃত্ত দলবৃত্ত নিটোল বরফের মতো নির্জন!কাব্যধ্যান ছেড়ে আশ্রম থেকে বেরিয়ে এসে কৃত্তিবাস আমার মাথায় হাত রাখবে।জীবনানন্দ একবার বাঁকা চোখে তাকাবে ঠিক বসন্তের রোদ ঈষৎ বেঁকে যেভাবে পড়ে কিশোরীর গালে।আমি তখন নিরব নির্জনে সঙ্গমে যাবো।সঙ্গমের শেষ শীৎকারে যে নিরবতা নিয়ে অবনত হয় দুটি মানুষ একে অপরের প্রতি,ঠিক সেই নিরব নির্জনতা নিয়ে আবার ভোরের রোদে শিউলির মালা গাঁথবে আমার অক্ষরবৃত্ত দলবৃত্তরা।

এক কাপ গরম কফির ধোঁয়ার নির্জনতা নিয়ে আমি হোসে সারামাগোর “ব্লাইন্ডনেস”বা মার্কেসের “লাভ ইন দি টাইম অফ কলেরা” মহামারীর চূড়ান্ত উপন্যাস পড়ব আমার ইজিচেয়ারে নির্জনতার গায়ে হেলান দিয়ে।অবশ্য মাঝে মাঝে আমার টোলের পন্ডিত ঠাকুরদার হুঁকোটা যেটা  বাবা যত্ন করে স্মৃতির মাদুলি করে রেখেছে,সেটাতে সুড় সুড় টান দেব আর ভাবব-“কবিতা কখন কবিতা হয়ে ওঠে- এই মেঘাচ্ছন্ন প্রশ্নটা কবিতা পাঠকদের কাছে প্রতারণা ছাড়া আর কি,এই প্রশ্নটাই মাঝে মাঝে ধূসরতার দিকে ঠেলে দ্যায় কবিতা পাঠকদের।আর “মাল্টিডাইমেনশনাল ভাবুক” এটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে আধো ঘুমে দেখব জীবনানন্দ জেব্রাক্রসিং পেরোচ্ছে।আর জেব্রাক্রসিংটা নির্জনতা বাড়াচ্ছে নিরবতা বাড়াচ্ছে, নৈঃশব্দ্য নিয়ে ট্রামটা এগিয়ে আসছে,এগিয়ে আসছে ধান খেতের ইঁদুরের কুঁইকুঁই,প্যাঁচার নির্জন চিৎকার ট্রাম লাইনে আছড়ে পড়ল।ট্রাম লাইন জুড়ে লাশকাটা ঘরের রক্ত চুঁইয়ে চুঁইয়ে – হঠাৎ তন্দ্রা ভেঙে দেখি সিলভিয়ার বিষণ্ণ অবসাদ আমার ইজিচেয়ার ঘিরে আমার সর্বাঙ্গ ঘিরে!আসলে আমি তখন বরফ শীতল মৃত্যুর নির্জনতার অন্তরঙ্গ সঙ্গমে! 

গদ্যকার সুকুমার হালদার
৪/১ যাদবগড়, হালটু, কলকাতা


















আবাদ

ভিতর ভিতর স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়াটা ঘিরে ধরে। উদ্বাস্তু লাঙলের কর্ষণ রাজপথের বুক চিরে নাভি বেয়ে নেমে আসে।মধ্যবিত্ত পৃথিবী জুড়ে যোনি আঁকা হলে থেমে যায় ফলা। 

শুধুমাত্র নিষিদ্ধ বিপ্লবের বীজ পুঁতবে বলে.. 
উবু হয়ে শুয়ে, মগ্ন শিশুর মতো গর্ত খুঁড়ে চলেছ বহুকাল। অথচ তুমি মানুষের শিকড় পেলে না চাষি! 

কবি অনুশ্রী যশ 
সুহারি, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ







 



জীবনরেখা

১


থেমে গেছে পানসের স্রোত
নিলামে উঠেছে শুঁড়িখানা
চাবুকের মত ফোটে সেঁকোবিষ
দাম পায়নি চাঁদ-বণিকের সোনা
 
২

উৎস মুখে চোরাবালির টান
শুকিয়ে গেছে নদীর জলস্তর
উপরদিকে তাকিয়ে থাকা দায়
মাটি খোঁজে নিজের জীবন রেখা
 
৩

তোমাকে কখনও খুঁজিনি সমর্পিতা
নিস্তরঙ্গ বিজ্ঞাপনের পাতায়
ভালোবাসার অক্ষর ছুঁয়ে আছে
তোমার গোপন কাজলরেখায়
 
৪

বদলে গেছে অমর উপত্যকা
ছাড়তে হবে মোহ
আকাশ আছে অন্য ঠিকানায়
ছাড়তে হবে গ্রহ
 
৫

ঘরের মধ্যে ঘর,হিমশীতল অঙ্গ কাটাছেঁড়া
সঙ্গ পেতে চায় দূরের খঞ্জ হাড়মাস
অন্ধকারের সাগরে ডুবুরিকে খোঁজে
সারি সারি ঠান্ডা বেওয়ারিশ লাশ…

কবি সৌমিত্র চ্যাটার্জী
শংকরপুর, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ 




















 



গত ঋতু ও শরৎ 

সদ্য বিদায়ী এ শরতের নীল নভস্তলে সময়েই হিমের পরশ নেমেছে।
তবুও মহামারীর যাঁতাকলে পরে শিউলির গন্ধ পৌঁছেছে দ্বারে দ্বারে।
এ শরতের কাশবনে বৃষ্টির অবসর না মেলায়,
নেতিয়ে; কোনোটা আবার ছিঁড়ে ছিঁড়ে গেছে খানিকটা।
কোথাওবা মুথা ঘাসের কুশি গজানোর সুরাহা মেলেনি।
এ শরতে মজেছিল পচে যাওয়া নাড়ার খাদোলে বৃষ্টির জল।
সিঁধলি পড়া মাটির রাস্তায়,
বিকেলের আড্ডায় চুড়ুইয়ের গায়ে গতরে ধূলোমাখা অধরা।
এ শরতের যৌবনা নদীর উপরে পড়া জল
পথ ঘাটের ইলেকট্রিক খুঁটির গোড়া গেছে ছুঁয়ে চলে। 

হৃদ্য অবভাস

ফিল্টার করা কথাগুলো সাজানো আছে,
কন্ঠদেশের হিমঘরে লকআপ করা।
রোজ রোজ প্রজনন না হলেও,
আরো গভীরে থিতিয়ে;ওজন বারছে।
লাঞ্ছনা-বঞ্চনা আর অপরদিকে অভিমান ও জেদ
পাল্লাপাল্লিতে কে প্রথম বা দ্বিতীয়।
হৃদি অনুভূতির গাঢ় প্রগাঢ় নিঃশ্বাস,
পিচ ঢালাইয়ের গরম পাথর বালির সাথে।
তোমার অহংকার স্তূপ পর্বতসম দাঁড়িয়ে বজ্রকঠিন।
দাগকাটা ক্ষত ডান বাম পাশে এখনও নিভৃতে জেগে।
স্ব-অক্ষমতার অপরাধ ঢাকতে ঢাকতে আধিক্লিস্ট।
অন্তর্বাস্পের স্যাঁতসেঁতে মনে ভিজে থাকবে অনন্তকাল।
গরম নিঃশ্বাসের ছোঁয়া এখনও বুঁদ হয়ে আছে গারদে।


কবি অনুপ কুমার সরকার
দক্ষিণ চরলক্ষীপুর, আইহো, মালদা











































নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ হোম

ব্লগ সংরক্ষাণাগার

  • আগস্ট (3)
  • জুলাই (22)
  • জুন (8)
  • নভেম্বর (15)
  • অক্টোবর (5)
  • সেপ্টেম্বর (81)
  • আগস্ট (66)
  • জুলাই (55)
  • জুন (56)
  • মে (57)
  • এপ্রিল (46)
  • মার্চ (15)
  • জানুয়ারি (14)
  • ডিসেম্বর (73)
  • নভেম্বর (103)
  • অক্টোবর (97)
  • সেপ্টেম্বর (101)
  • আগস্ট (120)
  • জুলাই (88)
  • জুন (76)
  • মে (63)
  • এপ্রিল (11)

🔴বিজ্ঞপ্তি:

পাঁচ মাসের বিরতি কাটিয়ে আবার ও ফিরছি আমরা। খুব শীগ্রই আসছে আমাদের প্রত্যাবর্তন সংখ্যা।

অনুসরণ করুণ

এক মাসের সর্বাধিক পঠিত পোস্টগুলি:

  • শান্তনু গুড়িয়ার কবিতা
  • ꩟অমর্ত্য দত্ত'র গুচ্ছ কবিতা꩟
  • প্রচ্ছদ, সূচিপত্র ও সম্পাদকীয়
  • অনুসারী ~ হেমন্ত সরখেলের কবিতা
  • থেকে যাস এমনি ~ বিষ্ণু চক্রবর্তী'র কবিতা
  • 🍃 শেষ কথা কে কবে 🍃
  • ๑ সিঁড়ি আর সূর্যের গল্প ๑
  • প্রেমাংশু শ্রাবণের কবিতা
  • শৌভিক চ্যাটার্জী'র কবিতা
  • অনুপম দাশশর্মার কবিতা

বিষয়সমূহ

  • Poetry speaks 2
  • অণু কথারা 21
  • আবার গল্পের দেশে 8
  • উৎসব সংখ্যা ১৪২৭ 90
  • একুশে কবিতা প্রতিযোগিতা ২০২১ 22
  • এবং নিবন্ধ 3
  • কবিতা যাপন 170
  • কবিতার দখিনা দুয়ার 35
  • কিশলয় সংখ্যা ১৪২৭ 67
  • খোলা চিঠিদের ডাকবাক্স 1
  • গল্পের দেশে 17
  • ছড়ার ভুবন 7
  • জমকালো রবিবার ২ 29
  • জমকালো রবিবার সংখ্যা ১ 21
  • জমকালো রবিবার ৩ 49
  • জমকালো রবিবার ৪ 56
  • জমকালো রবিবার ৫ 28
  • জমকালো রবিবার ৬ 38
  • দৈনিক কবিতা যাপন 19
  • দৈনিক গল্পের দেশে 2
  • দৈনিক প্রবন্ধমালা 1
  • ধারাবাহিক উপন্যাস 3
  • ধারাবাহিক স্মৃতি আলেখ্য 2
  • পোয়েট্রি স্পিকস 5
  • প্রতিদিনের সংখ্যা 218
  • প্রত্যাবর্তন সংখ্যা 33
  • প্রবন্ধমালা 8
  • বিশেষ ভ্রমণ সংখ্যা 10
  • বিশেষ সংখ্যা: আমার প্রিয় শিক্ষক 33
  • বিশেষ সংখ্যা: স্বাধীনতা ও যুবসমাজ 10
  • ভ্রমণ ডায়েরি 1
  • মুক্তগদ্যের কথামালা 5
  • রম্যরচনা 2
  • শীত সংখ্যা ~ ১৪২৭ 60

Advertisement

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

মোট পাঠক সংখ্যা

লেখা পাঠাবার নিয়মাবলী:

১. শুধুমাত্র কবিতা, মুক্তগদ্য অথবা অণুগল্প পাঠাবেন। ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং অন্যান্য বিষয়ক লেখা সম্পূর্ণ আমন্ত্রিত। ২. লাইনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। ৩. লেখা মেইল বডিতে টাইপ করে পাঠাবেন। ৪. লেখা মৌলিক ও অপ্রকাশিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। অন্য কোনো ব্লগ, ওয়েবজিন অথবা প্রিন্টিং মিডিয়ায় প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ৫. মেইলে আপনার লেখাটি সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত, কথাটি উল্লেখ করবেন। ৬. লেখার সাথে আবশ্যিক ভাবে এক কপি ছবি ও সংক্ষিপ্ত ঠিকানা পাঠাবেন।  ৭. লেখা নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হবে। এক মাসের মধ্যে কোনো উত্তর না এলে লেখাটি অমনোনীত ধরে নিতে হবে। ৮. আপনার লেখাটি প্রকাশ পেলে তার লিঙ্ক শেয়ার করাটা আপনার আবশ্যিক কর্তব্য। আশাকরি কথাটি আপনারা মেনে চলবেন। আমাদের মেইল- hridspondonmag@gmail.com
blogger-disqus-facebook

শান্তনু শ্রেষ্ঠা, সম্পাদক

আমার ফটো
পূর্ব বর্ধমান, India
আমার সম্পূর্ণ প্রোফাইল দেখুন

সাম্প্রতিক প্রশংসিত লেখা:

প্রেমাংশু শ্রাবণের কবিতা

প্রেমাংশু শ্রাবণের কবিতা

শান্তনু গুড়িয়ার কবিতা

শান্তনু গুড়িয়ার কবিতা

๑ সিঁড়ি আর সূর্যের গল্প ๑

๑ সিঁড়ি আর সূর্যের গল্প ๑

প্রচ্ছদ, সূচিপত্র ও সম্পাদকীয়

প্রচ্ছদ, সূচিপত্র ও সম্পাদকীয়

অভিনন্দন মাইতির কবিতা

অভিনন্দন মাইতির কবিতা

হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন

© হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন। শান্তনু শ্রেষ্ঠা কর্তৃৃক পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত থেকে প্রকাশিত।

Designed by OddThemes | Distributed by Gooyaabi Templates