
না আঁচড়, হ্যাঁ আঁচড়
ঠাকুর বলতো এসেছিস যখন একটা আঁচড় কেটে যা! প্রিয় শিক্ষকও তাই বলতো। কিন্তু আঁচড় কাটতে গেলে কে যেন পালটা আঁচড়ে দিতো। এই আঁচড়া-আঁচড়ির মধ্যে পড়ে মানুষ হওয়া হলো না। কী হতে চাস? একে-একে হাত উঠলে শোনা যায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট ইত্যাদি। প্রিয় শিক্ষকের মুখে তখন হতাশার ছাপ। যেন মিঠাইওয়ালার উজ্জ্বল রঙিন গোলাপি হাওয়াই মিঠে মুহূর্তে হাওয়ার ক্রোধে মিইয়ে ফ্যাকাশে হয়ে গেল। চোখ ছলছল। চোখের কোণে চিকমিক করা জল। কই, কেউ তো প্রকৃত মানুষ হওয়ার কথা বললো না। কী কারণ? মানুষ হওয়া বুঝি অন্য প্রফেশনের থেকে শক্ত! প্রিয় শিক্ষক উদাস ভাবে ব্ল্যাকবোর্ডের দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন এমন ভাবে যেন বলতে চাইতেন ডোন্ট রিকোয়েস্ট মি ফর অ্যান ইউটার্ন। চলার পথ বেঁকে যাবে। রাজপথ ছেড়ে যে যার মতো কানা অলিগলি ধরে খুঁজবে প্রত্যাশার টুকরোটাকরা যার মূল্য অমূল্য হতে পারলো না, শুধু ঘুনসির কানাকড়ির কাছে আজীবন নতজানু হয়ে থাকলো। রাজপথ মানে সহজ সরল মানুষ! তাই তো চেয়েছিলেন তিনি। এখনও অমৃতলোকে বসে অনেকের মধ্যে সেটাই দেখতে চান। হোয়ার দেয়ার ইজ অ্য উইল, দেয়ার ইজ অ্য হোপ অর ওয়ে। এই প্রবাদের গলিত তরল সিসার মতো মনের যত ফাঁকফোকরে ঢেলে দিয়েছিলেন। ওরে পারবি, ওরে হবে, ওরে হয়! চটের আসন ছেড়ে হাইবেঞ্চ, দস্তার বাক্স ছেড়ে পুমার লোগো লাগানো ব্যাগ পিঠে, হাফ প্যান্ট ছেড়ে ফুল প্যান্ট, মাকুন্দ থেকে গোঁফের ব্যক্তিত্ব, সব হলো প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়ে। জীবনটাকে ছড়ার মতো সহজ করতে চেয়েছিলেন। আন্তরিক ছন্দ থাকবে পরতে-পরতে। মাথা দোলাতে-দোলাতে সবাই পড়ে নিতে পারবে। তিনি খুশি হবেন। যেভাবে হাতির মাথা সম্মতিসূচক ভাবনায় দুললে মাহুত খুশি হয়।
তিনি পরিচালক। এই ছোট্ট জীবন টেলিফিল্ম। দেখার জন্য হয়ত অনেকে ইন্টারেস্ট পাবে না। প্রচার হবে না কিন্তু প্রসার থাকবে। যেমন জলের নিচে তিরতির করে যে শীতল কিংবা উষ্ণ প্রস্রবণ বয়ে যায়, যার খবর সমুদ্রের উপর প্রবল ঢেউ রাখে না, রাখতে চায়ও না। ভীষণ সুনামি হয়ে জনপদে আছড়ে পড়ে সব কিছু ভাসিয়ে প্রমাণ করতে চায় আমিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু কতক্ষণ? একটা সময় সব শান্ত। তিনি প্রচার বিমুখ হতে বলতেন। বলতেন সংযম রাখতে। মনের পরিধির ভিতর তৈরি করতে বলতেন পিন ড্রপ সাইলেন্স জোন যার উদ্দেশ্য ক্লিননিনেস ইজ নেক্সট টু গডলিনেস। পথের উপর জোর দিতে বলতেন। গন্তব্য আপন গতিতে এগিয়ে আসবে। মাইলস্টোন দেখতে বারণ করতেন। কিন্তু কী ভাবে বলি, সেই কানাভাঙা মাইলস্টোন হয়ে আজ দাঁড়িয়ে আছি। রাস্তা হতে পারিনি। দেখি লোকের ধেয়ে যাওয়া, ধুলোর ওড়াউড়ি, শুনি মিছিলের স্লোগান, ভুল ব্যাকরণের কথাবার্তা, মানুষের দৈন্যতা, ঠকানোর প্রবণতা ইত্যাদি। স্ট্যাচু অব লিবার্টি হতে পারিনি। বদলে স্ট্যাচু অব এনভি হয়ে আছি। পরিস্থিতি চারিপাশে চাপ দেয়। বেলুন হয়ে গেছি। এদিকে চাপ দিলে ওদিকে বাড়ি অ্যান্ড ভাইস ভার্সা।
প্রণাম নিতে চাইতেন না কিন্তু প্রণামের ব্যাখ্যা করতেন। পাছে মাথা নিচু হয়। শিরদাঁড়া সোজা রাখতে বলতেন। কী বলি হে প্রিয় শিক্ষক! মুণ্ডু থাকবে কোথায়? শিরদাঁড়াই তো আর নেই! অমেরুদণ্ডী প্রাণী হয়ে গেছি। সেই হিসাবে কেঁচোর দাম অনেক বেশি। সে জমিতে মাটি উগলে কৃষকে সাহায্য করে। আর সেই কৃষক সভ্যতার কাছে ঠকে যায়। এখন নিজের অজান্তে তাদের প্রতিনিধি হয়ে গেছি যাদের কাছে "আমার প্রিয় শিক্ষক" কুড়ি নম্বরের রচনা মাত্র। নম্বর পাওয়ার জন্য ঢালাও প্রশংসাসূচক বাক্যের ছড়াছড়ি। ডায়েরিয়া হলেও লোকে এত ছড়ায় না! তারপর আপনি মৃদু হেসে কানমলা দেবেন। বলবেন এঁচড়ে-পাকা হয়েছিস। কী করবো বলুন, পাকা কাঁঠাল হয়ে গন্ধ ছড়াতে পারলাম না। গানে নামমাত্র পিরিতির কাঁঠালের আঠা হয়ে থাকলাম। তাও সরষের তেল দিয়ে ঘষলে উঠে যাবে। ক্ষমা করবেন স্যার, নিয়তি সিলি পয়েন্টে দাঁড় করিয়েছে আর আপনাকে বানিয়েছে আম্পায়ার, কোন দিকে যাবো, যাবেন...
তিনি পরিচালক। এই ছোট্ট জীবন টেলিফিল্ম। দেখার জন্য হয়ত অনেকে ইন্টারেস্ট পাবে না। প্রচার হবে না কিন্তু প্রসার থাকবে। যেমন জলের নিচে তিরতির করে যে শীতল কিংবা উষ্ণ প্রস্রবণ বয়ে যায়, যার খবর সমুদ্রের উপর প্রবল ঢেউ রাখে না, রাখতে চায়ও না। ভীষণ সুনামি হয়ে জনপদে আছড়ে পড়ে সব কিছু ভাসিয়ে প্রমাণ করতে চায় আমিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু কতক্ষণ? একটা সময় সব শান্ত। তিনি প্রচার বিমুখ হতে বলতেন। বলতেন সংযম রাখতে। মনের পরিধির ভিতর তৈরি করতে বলতেন পিন ড্রপ সাইলেন্স জোন যার উদ্দেশ্য ক্লিননিনেস ইজ নেক্সট টু গডলিনেস। পথের উপর জোর দিতে বলতেন। গন্তব্য আপন গতিতে এগিয়ে আসবে। মাইলস্টোন দেখতে বারণ করতেন। কিন্তু কী ভাবে বলি, সেই কানাভাঙা মাইলস্টোন হয়ে আজ দাঁড়িয়ে আছি। রাস্তা হতে পারিনি। দেখি লোকের ধেয়ে যাওয়া, ধুলোর ওড়াউড়ি, শুনি মিছিলের স্লোগান, ভুল ব্যাকরণের কথাবার্তা, মানুষের দৈন্যতা, ঠকানোর প্রবণতা ইত্যাদি। স্ট্যাচু অব লিবার্টি হতে পারিনি। বদলে স্ট্যাচু অব এনভি হয়ে আছি। পরিস্থিতি চারিপাশে চাপ দেয়। বেলুন হয়ে গেছি। এদিকে চাপ দিলে ওদিকে বাড়ি অ্যান্ড ভাইস ভার্সা।
প্রণাম নিতে চাইতেন না কিন্তু প্রণামের ব্যাখ্যা করতেন। পাছে মাথা নিচু হয়। শিরদাঁড়া সোজা রাখতে বলতেন। কী বলি হে প্রিয় শিক্ষক! মুণ্ডু থাকবে কোথায়? শিরদাঁড়াই তো আর নেই! অমেরুদণ্ডী প্রাণী হয়ে গেছি। সেই হিসাবে কেঁচোর দাম অনেক বেশি। সে জমিতে মাটি উগলে কৃষকে সাহায্য করে। আর সেই কৃষক সভ্যতার কাছে ঠকে যায়। এখন নিজের অজান্তে তাদের প্রতিনিধি হয়ে গেছি যাদের কাছে "আমার প্রিয় শিক্ষক" কুড়ি নম্বরের রচনা মাত্র। নম্বর পাওয়ার জন্য ঢালাও প্রশংসাসূচক বাক্যের ছড়াছড়ি। ডায়েরিয়া হলেও লোকে এত ছড়ায় না! তারপর আপনি মৃদু হেসে কানমলা দেবেন। বলবেন এঁচড়ে-পাকা হয়েছিস। কী করবো বলুন, পাকা কাঁঠাল হয়ে গন্ধ ছড়াতে পারলাম না। গানে নামমাত্র পিরিতির কাঁঠালের আঠা হয়ে থাকলাম। তাও সরষের তেল দিয়ে ঘষলে উঠে যাবে। ক্ষমা করবেন স্যার, নিয়তি সিলি পয়েন্টে দাঁড় করিয়েছে আর আপনাকে বানিয়েছে আম্পায়ার, কোন দিকে যাবো, যাবেন...



0 Comments