
ছয় নম্বর ছড়ি
তখন গৌরব সবেমাত্র নাইন থেকে টেনের ক্লাসেরোলকলের খাতায় নাম লিখিয়েছে।ভূবনপাড়া বয়েজ হাইস্কুল।নাইনটেনের অঙ্ক ক্লাস নেওয়া অম্লান বাবুর নামে ছাত্রমহল থরহরিকম্প। তাঁর বিখ্যাত সরু লিকলিকে ৬ নম্বর লেখা ছড়ির চপেটাঘাতের অলংকরণের কুখ্যাতিতে সকলে সজাগ। অন্য কোন ক্লাসের পড়ায় আগ্রহের গতিতে কিছুটা রাশ টানলেও অম্লান বাবুর ক্লাসে তার নিজের স্বরধ্বনি ছাড়া অন্য কারোর ব্যঞ্জনধ্বনি তো দূরের কথা স্বরধ্বনির আলপিন ও খুঁজে পাওয়া যেত না। শুধু মাঝে মাঝে সপাট সপাট শব্দ, অম্লান বাবুর বজ্রনিনাদ কণ্ঠস্বর ,আর আনুনাসিক ধ্বনির মৃদু আওয়াজ এর সমস্বর। বলার অপেক্ষা রাখে না এগুলোর সব কৃতিত্ব সেই বিখ্যাত ছয় নম্বরের ছড়ির।
বেলা বারোটা দশ ক্লাস শুরু হতে আরো পাঁচ মিনিট। পেটের ভেতর গুড়গুড় ঢাক বাজছে সঙ্গে ভয়ের চোরাস্রোত। সকাল থেকে পেটে জল মুড়ি ছাড়া আর কিছু পড়েনি। পেটের ভিতর খিদের মাঠে ভয়ের ঝড় আরো তালগোল পাকিয়ে দিচ্ছিল গৌরবকে। অংকের বই টার দিকে তাকিয়ে দুবার ঢোঁক গিলল গৌরব। সামনে বিকাশবাবু পলাশীর যুদ্ধ পড়াচ্ছেন। নিজেকে সিরাজদৌলা ভাববার চেষ্টা করলো একবার। মনে সাহস নিয়ে ভাবল অংকর পাতাগুলো ইংরেজ। যুদ্ধে প্রাঙ্গণে জিততে তাকে হবেই। ঢং ঢং করে ঘন্টা পড়ল তিনবার। গৌরব জিভটা টেনে ঢোঁক গিলল আরো একবার। এই নিয়ে দশবার ঢোঁক গেলার পরেই মনে হল জিভটা ক্রমশ শুকিয়ে আসছে আর চেষ্টা করলেও কিছু ই গলাধঃকরণ করতে পারবে না। আজ ছ নম্বর ছড়ির আঁকিবুকি তার পিঠেই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে। দোষটাতো তার নয়। বাবার হার্টের অসুখ ধরা পড়ার জন্য মাসে মাসে কর্পোরেশনের জল খরচের মত টাকা-পয়সা বেরিয়ে যাচ্ছে। গতকাল একশো টাকা নিয়ে বাজারে গেল। বাবার ওষুধেই বেরিয়ে গেল ষাট টাকা ।বাকি চল্লিশ টাকা ডিম আলু নিয়ে হাতে পড়ে থাকল সাত টাকা। সাত টাকায় তো খাতা কেনা যায় না ।তাই অম্লান স্যারের দেওয়া হোম ওয়ার্ক এর অংক গুলো বইয়ের শেষের পাতাতেই করে ফেলেছে। পল্টু দার দোকানে তখন অনেক ভিড় সবার সামনে ধারে জিনিস নিয়ে আসতে ভয় লাগে ,লজ্জা লাগে। আজ সম্ভব হলে দুপুরের দিকে দোকান ফাঁকা থাকলে দুটো খাতা নিয়ে আসবে দোকান থেকে ধারে ।মাস শেষ হতে আর দুদিন। নতুন মাস পড়লেই মায়ের কাছে হাত পাততে কিছুটা হলেও অস্বস্তি কম হবে ।দারিদ্রতা এমন জিনিস গৌরব টের পেয়েছে অংকের হিসাব শেখায় সবার আগে ।অভাব শেখায় মাসের প্রত্যেকদিন কিভাবে চলতে হয় দশমিক বসিয়ে আর কিভাবে বিয়োগ করে অংক সমাধান করতে হয়।
বাঁ দিকে সরু শাখানদী যাবার মত সোজা শিঁথি কাটা পরিপাটি করে বিছানো চুল। ছোট কপাল অসম্ভব পাওয়ারের চশমা বয়স পঁয়ত্রিশ ছুঁইছুঁই। চোখ দুটো অসম্ভব বুদ্ধিদীপ্ত এবং দৃঢ়,— কঠোর বললেও কম বলা হয়। ক্লাসে ঢুকেই অম্লান বাবু হাঁক ছাড়লেন," পিন ড্রপ সাইলেন্ট একটা আওয়াজ পেলেই গোটা ক্লাস কে নিল ডাউন দেবো!"
গৌরব মাথা নিচু করে ভাবল স্যারের কি জন্মানোর সময় ডাবর মধু আবিষ্কার হয়নি নাকি নিম ডাল মুখে গুঁজে দিয়েছিল কেউ ভুল করে। বয়সটা কম হলেও স্যার যেন নিজেই আর্য ভট্টর নব সংস্করণ।রোলকল শেষ হতেই অম্লান স্যার বললেন," ক্লাসের হোম ওয়ার্ক বের করে জমা দে সবাই ।প্রথম বেঞ্চের ডান দিক থেকে শুরু কর।
গৌরব দেখল ভগবান তার প্রতি আজ সত্যিই বিরূপ।আর্যভট্ট এর ছ নম্বর ছড়ি কপালে নাচছে। কারণ প্রথম বেঞ্চের ডান দিক থেকে তিন নম্বরে ও বসে আছে। আচ্ছা ছয় নম্বর কে তিন নম্বর দিয়ে ভাগ করলে থাকে দুই, যোগ করলে নয়, বিয়োগ করলে তিন আর গুন করলে আঠেরো ।ওরে বাবা কোনটা বেছে নেবে কে জানে! রাজীব ঋষিকেশ এর পর এলো গৌরবের পালা। অংক বইটা নিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলো সে।
অম্লান বাবু হুংকার দিলেন," কিরে অমন ভেজা বিড়ালের মত দাঁড়িয়ে আছিস যে বড়! বাংলা ভাষা ভুলে গেছিস নাকি ?খাতা টা বের কর!"
" নেই স্যার' গোটা ক্লাসে যেন ভূমিকম্প হল
" নেই মানে ?ইয়ার্কি নাকি !বাতাসে করে ছিলিস হোম ওয়ার্ক?"
" মানে স্যার বইয়ের শেষের পাতায় করেছি খাতায় পাতা ছিলনা।"
তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন অম্লান বাবু," নিজেকে আর্য ভট্ট ভাবছিস না পিথাগরাস! বইয়ে লিখে সূত্র আবিষ্কার করতে চাইছিস নাকি! হতচ্ছাড়া! নিয়ে আয় বলছি! বইয়ে লিখেছে গুণধর!"
গৌরব মনে মনে ভাবল একবার বলে ফেলে,'স্যার আপনাকেই তো আর্যভট্ট এর মত মনে হয়!" কিন্তু জ্বল জ্বল করা ছড়ি দেখে সেই দুঃসাহস আপাতত সংবরণ করে সামনে এগিয়ে এলো। অম্লান বাবু বইয়ের পাতা খুলে অগ্নি শর্মা হয়ে ছয় নম্বর ছড়ির সদ্ব্যবহার করতে শুরু করলেন। গৌরব অধোবদনে মুখ লাল করে হজম করা ছাড়া অন্য কোন উপায় সামনে দেখলোনা। তিনবার মারার পর বললেন,' বল কেন বই নষ্ট করছিস !উত্তর দিবি চুপ করে থাকবি না!"
গৌরব তখন নিশ্চুপ হয়ে ভাবছিল স্যার তাহলে বিয়োগ টাই করলেন। কোন উত্তর না পেয়ে উত্তেজনা আর রাগের পারদ চলতে থাকে অম্লান বাবুর। অবশেষে অম্লান বাবু সরু লিকলিকে কঞ্চির যথোপযুক্ত সদ্ব্যবহার করে ক্লাস থেকে গৌরবকে বের করে দিলেন। গৌরব তখন আবিষ্কার করল যোগ বিয়োগ ভাগ নয় অন্তত গুণের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন স্যার।
(২)
ঘটনার পর দু দিন কেটে গেলেও গৌরবকে দেখতে পেলেন না অম্লান বাবু। সেদিন ছেলেটাকে একটু বেশি শাস্তি দেওয়া হয়ে গেছে ভেবে ক্লাস নেওয়ার পর রাজীবকে ধরলেন অম্লান বাবু," ওইযে ফর্সা মতো রোগা করে ছেলেটি ক্লাসে আসছে না কেন রে!"
রাজিব উত্তরে গলায় জোর এনে বলল,"গৌরব স্যার?ওর বাবা মারা গেছে তো গত পরশু!"
অম্লান বাবু হজম করতে একটু সময় লাগালেন," মানে! কি হয়েছিল?"
" স্যার ওর বাবা অনেকদিন ধরে হার্টের অসুখে ভুগছিল। খুব গরীব তো হসপিটালে দিতে পারেনি বলে পরশু রাতে মারা গেছে!"
অম্লান বাবুর বুকের ভেতরের শক্ত পাহাড়টায় যেন কেউ সজোরে আঘাত করলো। অজস্র অশ্রুবিন্দু ঝর্নার রূপ ধরে বেরিয়ে তিরস্কার করতে চাইল যেন। অম্লান বাবু ক্লাসে পড়িয়ে গেলেন যন্ত্রের মতো। আজ আর কিচ্ছু ভালো লাগছিল না। টেবিলের উপর রাখা ছয় নম্বর ছড়ির উপর পড়ন্ত রোদে আলোকপাত যেন পরিহাস করছে প্রতিমুহূর্তে।
ক্লাস শেষ করেই শরীর খারাপের অজুহাত দিয়ে গৌরবের ঠিকানা খুঁজে চলে এলেন টিনের চালা দেওয়া ছিটে বেড়ার ঘরে। গৌরব তখন মায়ের কাছে বসে ক্লান্ত চোখে উঠানের একপাশে রাখা বাবার ফেলে যাওয়া নারকেল দড়ি দিয়ে বাঁধানো বহু জর্জরিত খাটিয়ার দিকে তাকিয়ে ছিল শূন্য দৃষ্টিতে।
'গৌরব!'
রাশভারী গলা ভাবনায় ছন্দপতন ঘটালো। গৌরব চোখ তুলে তাকালো ।সামনে আর্য ভট্ট! মুখ তুলে বললো," স্যার আপনি?'
অম্লান বাবুকে দেখে গৌরবের মা কিছুটা হতভম্ব। একটা মোড়া এগিয়ে দিলেন। অম্লান বাবু কিন্তু বসলেন না ।গৌরব মাথা নিচু করে মাটির দিকে তাকিয়ে থাকলো ।অম্লান বাবু এগিয়ে এসে আস্তে আস্তে বললেন ,"শ্রাদ্ধশান্তি মিটলে আমার কাছে একবার দেখা করো গৌরব!"
'আচ্ছা স্যার'
অম্লান বাবু পকেট থেকে পাঁচশ টাকার একটা নোট বের করে গৌরবের হাতে ধরালেন। গৌরব কিছু বুঝতে না পেরে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল।
" এটা রাখো আর কিছু দরকার হলে অবশ্যই জানাবে আজ আসি।'
গৌরব নিচু হয়ে অম্লান বাবুর পায়ের ধুলো নিল। অম্লান বাবু অনুভব করলেন বুকের ভেতরের যন্ত্রণাটা গলার কাছে ধাক্কা মারছে।
" স্যার একটা কথা!"
অম্লান বাবু ভুরু কুঁচকে তাকালেন,' বলো!'
" স্যার সেদিন আমার খাতা কেনার জন্য টাকা ছিল না বলে বইয়ের শেষে অঙ্ক করে ফেলেছি আর কখনো এমন হবে না স্যার!"
অম্লান বাবু গৌরবকে অবাক করে জড়িয়ে ধরলেন বুকে। "দেখা করিস সব মিটে গেলে, সেই ছয় নম্বর ছড়িটা আজই ভেঙে ফেলব দেখিস। শ্রাদ্ধের পরের দিন থেকে সকালে আমার কাছে গিয়ে অংক করবি। তারপর ওখান থেকে দু'জন দুমুঠো খেয়ে স্কুলে যাব,শুধু বইটা নিয়ে যাস বুঝলি?"
"কিন্তু স্যার আমি তো..."
মাইনে দিতে না পারার অক্ষমতার কথাটা বলতে গিয়েও বলতে পারলোনা গৌরব।
" আবার আমার মুখে মুখে কথা! ছয় নম্বর ছড়িটা রেখে দিতে হবে মনে হচ্ছে ।তোর পিঠেই ভাঙবো" অম্লান বাবু বেশ কঠিন স্বরে বলে একবারও আর না পিছন ফিরে তাকিয়ে প্রস্থান করলেন।
(৩)
বাইরে প্রচন্ড গরম হলেও হসপিটালের ভিতরে মৃদুঠাণ্ডা। নির্মাল্য বসে আছে কলকাতার বিখ্যাত কার্ডিয়োলজিস্ট বিভাগের হসপিটালের রিসেপশনে। পাশে তার বৃদ্ধ জেঠু ।হার্টের অসুখ বাইপাস সার্জারি করতে হবে। অনেক কষ্ট করে এই ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট পাওয়া গেছে। একপ্রকার জোর করেই জেঠুকে নিয়ে এসেছে সে। আগে থেকে কিছু জানায়নি ।জানালে জেঠু কখনো আসতো না এত বড় হসপিটালে। গতবছর জেঠিমা মারণব্যাধি ক্যান্সারে বহুদিন ভুগে, যুদ্ধ করে গত হয়েছেন। জেঠুর নির্মাল্য ছাড়া আর কেউ নেই। নিঃসন্তান জেঠু নির্মাল্যকে সন্তানের মতোই ভরসা করে। তাই নির্মাল্য নিজের কাছেই নিয়ে এসে রেখেছে জেঠুকে যাদবপুরের ফ্ল্যাটে।
' জেঠু মনি জল খাবে?'
বৃদ্ধ তাকিয়ে বললেন ,'খাব? দে একটু ।'তারপর থেমে বললেন' হ্যাঁরে বাইপাস সার্জারি করতে অনেক খরচ? এখানে ফিজ ও তো অনেক বেশি বলছিলি '
" আগে ডাক্তার তো দেখায় কি বলে দেখো!"
" কি যেন নাম বললি ডাক্তারের!"
ঠিক সেই সময়ে রিসেপশনে বসা মেয়েটি বলে,' আট নম্বর পেশেন্ট কে আছেন চলে আসুন!"
নির্মাল্য জেঠুকে ধরে নিয়ে আসে চেম্বারের ভেতর। তারপর ডাক্তারের উল্টো দিকে বসে জেঠুকে নিয়ে। বিখ্যাত কার্ডিয়লজিস্ট তখন প্রেসক্রিপশনের কাগজে মুখ নামিয়ে বললেন,' কি নাম পেশেন্ট এর"
" অম্লান মুখার্জি স্যার।"
উল্টো দিকে বসে থাকা ডাক্তারটি মুখ খুললেন এতক্ষণে। বহুক্ষণ তাকিয়ে দেখলেন চেনা মানুষটি কে। ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন তারপর এবং অম্লান মুখার্জির পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন," স্যার আপনি আমাকে চিনতে পারছেন না?"
নির্মাল্য এতক্ষণ প্রত্যেকটা ঘটনার চমকে বিস্মিত হয়ে যাচ্ছিল। তারপর ধীরে ধীরে বলল ,"জেঠুর ডিমনেশিয়া আছে ,আপনি চেনেন জেঠুকে ?হয়তো জেঠুর মনে নেই!"
" স্যারের ডিমনেশিয়া' হয়েছে? স্যার আমি গৌরব! চিনতে পেরেছেন? গৌরব রায়?" ঝুঁকে বসলেন কার্ডিয়লজিস্ট
আবার বলতে শুরু করলেন ডাক্তার ,"সেই যে আপনি আমায় অংক শিখিয়েছিলেন, আপনার বাড়ি যেতাম একসাথে খেয়ে স্কুলে যেতাম? ভূবনপাড়া বয়েজ স্কুল! মাধ্যমিকের পর যখন মামার বাড়ি চলে গেলাম বাড়িটা বিক্রি করে আপনি বলেছিলেন জীবনের অংকে যেন কখনো হেরে না যাই। স্যার আমি গৌরব রায়! আপনার তৈরি করা ছাত্র! স্যার কখনো হারিনি আমি !চিনতে পেরেছেন এবার? গতবছর বিলেতফেরত নামকরা ডাক্তার আমি!"
হাতদুটো ধরলেন অম্লান বাবুর গৌরব।
চোখ দুটো কি একটু চক চক করলো অম্লান বাবুর? বাইরে গোধূলি সন্ধ্যার আকাশে তারাদের স্টেশনে চেনা নক্ষত্রের কাছে চলন্ত ট্রেন কি খুঁজে পেল গন্তব্যস্থল?
মাথাটা মৃদু নাড়ালেন অম্লান বাবু। তারপর বললেন," বাইপাস সার্জারি তে কী অনেক খরচ? সেরে যাবে তো? রাতে ঘুমোতে যে বড় কষ্ট!"
গৌরব স্যারের মাথাটা নিজের বুকের কাছে জড়িয়ে ধরে বলল," না সারলে আপনার ছয় নম্বর ছড়িটা এখনো আমার কাছে যত্নে রাখা আছে, মনে নেই স্যার? আমি ভাঙতে দিইনি আপনাকে ।ওটা না হয় আমার পিঠে তখন দু'টুকরো করবেন!"
তারপর নির্মাল্য বাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন," ফিজটা আপনার কাছে রাখুন !কাল অপারেশনের জন্য এডমিট করিয়ে দিন, রিসেপশনে বলবেন আমার সাথে কথা বলে নিতে! আমি আজ যাওয়ার সময় কথা বলে নেব। "
অম্লান বাবু তখন বাইরে আঁধারী আকাশে তারাদের পাশে চলা এরোপ্লেনের দিকে ঘোলা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। আর গৌরব ভাবছে এতদিনে ছয় নম্বর ছড়ির উদ্দেশ্য সাফল্যমন্ডিত করার সময় এসেছে। এক বাবাকে হারিয়ে আরেক পিতৃতুল্য মাস্টার মশাই কে ফিরিয়ে আনার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার সময় আগত। এই কঠিন পরীক্ষায় যেন সফল হয় সে!।।



0 Comments