দেবদাস কুণ্ডু'র মুক্তগদ্য


অন্তরে প্রিয় রবীন্দ্রনাথ 

সত্যি কি কোন শিক্ষক প্রিয় হয়ে ওঠে কোন ছাত্রের  কাছে? আমি একথা বললাম এই জন্য যে ছাত্র  অবস্থায় কোন শিক্ষকের কাছে ভালোবাসা পাই নি। পড়াশনায় খুব ভালো ছিলাম না। তার জন্য প্রহার কি একমাএ পথ? কিছু কিছু শিক্ষক এতো নিষটুর প্রহার করতেন যে মনে হতো এরা শিক্ষক না হয়ে কশাই হলে ভালো হতো। কিংবা মনে হতো ওদের ঘরে বুঝি আমাদের মতো সন্তান নেই? এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে এ, এম স্যারের কথা। লম্বা দোহারা চেহারা। ফর্সা মুখ।
ইংরেজিতে আমি দূর্বল ছিলাম। তার কাছে পড়ে বুঝে ছিলাম ইংরেজি ভাষা শেখা কত সহজ।
ছোট ছোট বাক্যে কি সহজে ইংরেজি লিখতে শিখিয়ে ছিলেন। এরপর যখন কোন ছাত্র পড়া না করে আসতো, তাকে প্রথমে জিজ্ঞেস করতো তোমার কি আমার পড়া বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে?
দেখ, কারো হয়তো আমার পড়ানোর কৌশল বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে, তা হলে তারা আমার বাড়ি গিয়ে বুঝে নিতে পারো। কোন টাকা পয়সা লাগবে না। এই রকম কথা আমি আজ পর্যন্ত শুনি নি। পড়া না করলে তিনি বলতেন---একটু মন দিয়ে  পড়ো। দেখবে পড়ার মধ্যে কত আনন্দ। আজ তুমি ফাঁকি দিচ্ছ, কিন্তু এটা বুঝঝো না, পড়ার আনন্দ থেকে চিরতরে তুমি বঞিত হচ্ছ । জানবে জীবন এক সংগীত, তার তান লয় রয়েছে এই পড়াশুনার মধ্যে। সারা বিশ্বকে তুমি হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারবে। 
       এ, এম, তো  আমার দেখা টিচার। কিন্তু যাকে দেখেনি। যিনি জীবনের সব স্তরে আমাদের পথ নির্দেশ দিয়েছেন।   
   শোকে দু :খে বেদনায় আনন্দ সৃষ্টিতে কিভাবে জীবনকে সংগীত করে তুলতে হয়, তা তার  কাছ থেকে আমি পেয়েছি।সে আর কেউ নয়, তিনি আমার সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

 সাহিত্যিক দেবদাস কুণ্ডু 
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত 














1 Comments