
অমৃতা বিশ্বাসের ছোটগল্প
জীবনের টানে
ঘুটঘুটে অন্ধকার, চারিদিকে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ, বিশালাকার শাল গাছের জঙ্গল - সেই নিস্তব্ধতা কে খানখান করে দিল এক বিভৎস শব্দ,আর তারপরেই এক গগনবিদারী আর্তনাদ। তারপরেই সব চুপ। কিছুক্ষণের মধ্যেই দৌড়ে এল অনেক লোক, রাতের নৈশব্দ ভেদ করে ছুটে এল বেশ কিছু মানুষ,কারুর হাতে টর্চ কারুর হাতে হ্যারিকেন। এসে যা দেখল,এই দৃশ্য তাদের গা সওয়া হয়ে গেছে। হাইওয়েতে পড়ে রয়েছে একটা থেঁতলে যাওয়া লাল ওয়াগনার, আর সামনেই দাঁড়িয়ে একটা মালবাহী লরি। লরিতে জনমনিষ্যি নেই, তারমানে অবধারিত তারা পলাতক। আর দোমড়ানো মোচড়ানো গাড়িটা থেকে এদিক ওদিক ছিটকে পড়েছে তিনটি নিথর দেহ।
অভ্যস্ত হাতে কোনোরকমে রক্তাক্ত শরীরগুলোর নাড়ি দেখে নিশ্চিত হল তারা আর ইহজগতে নেই। ততক্ষণে পুলিশ এসে গিয়েছে, চলে এসেছে প্রেসের গাড়িও। তিনচার ঘন্টার মধ্যে অবশ্য আবার সব স্বাভাবিক হয়ে গেল এই ব্যস্ত হাইওয়েতে। যদিও বিভিন্ন নিউস চ্যানেলে অবশ্য আজ একটাই খবর - উঠতি গায়ক রাজা চৌধুরীর জীবনাবসান। আসানসোলে ফাংশন থেকে ফেরার পথে মালবাহী লরির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রান হারিয়েছেন রাজা চৌধুরী ও তাঁর দুই সঙ্গী বিকাশ ও শ্রাবণী, ড্রাইভার এর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, ধরে নেওয়া হচ্ছে সে পালিয়ে গেছে আইনী শাস্তির ভয়ে।
সারাদিন ধরে টিভি তে একই খবর দেখে চলেছে সীমা। শাশুড়ি মা কে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পাঁচ মাসের পোয়াতি সীমা,ছেলের শোকে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি। অ্যাক্সিডেন্টের দিন বাচ্চু কে বারবার বারন করেছিল সীমা কাজে যেতে,এটাও বলেছিল যে তার সকাল থেকে ডান চোখ নাচছে,শরীরটাও কেমন যেন আনচান করছে,দাদাবাবুর কাছ থেকে একটা দিনের ছুটি নিতে। কিন্তু বাচ্চু সেদিন জেদ ধরে বেড়িয়ে গিয়েছিল,আর ফলে গেছিল পরেরদিন সকালে বাড়ি ফিরে একসাথে ভাত খাবে। আজ আর অন্ন মুখে ওঠেনি কারুরই,পুলিশ থেকে এসেও খোঁজ খবর করে গেছে দুবার। বারবার নিথর দেহগুলো টিভি তে দেখাচ্ছে,কিন্তু একবারের জন্যেও বাচ্চুর কোনো উল্লেখ করছেনা, সবাই ধরেই নিয়েছে বাচ্চু কাপুরুষের মতো পালিয়ে গিয়েছে,কিন্তু এমন ও তো হতে পারে দূরে কোথাও বাচ্চুর নিথর দেহটা ছিটকে পড়েছে। নিজের অজান্তেই চেঁচিয়ে উঠল সীমা, কোনোরকমে সামলে নিল নিজেকে। "জয় মা মঙ্গলচণ্ডী, একটিবার জানাও মা মানুষটা কোথায় আছে,আমার সিঁথির সিঁদুর অক্ষয় রেখো মা", নিজের মনেই বিলাপ করতে থাকে সীমা। টিভিতে এখনও সেই এক খবর চলছে,বারবার বলা হচ্ছে ড্রাইভার নিখোঁজ। অবাক হয়ে যায় সীমা,একটা জলজ্যান্ত মানুষ যে নিখোঁজ,সেদিকে কারুর কোনো মাথাব্যথা নেই। যে গাড়িটা ওইভাবে দুমড়ে মুচড়ে তালগোল পাকিয়ে গেছে,সেই গাড়ির চালক পালাবে কি করে,এই কথাটা কারুর মাথায় আসছেনা। কিছুতেই সীমা মেনে নিতে পারছেনা যে বাচ্চু তার দাদাবাবুর এই চরম বিপদে তাকে ফেলে রেখে কাপুরুষের মতো পালিয়ে যেতে পারে।
কেটে গেছে পুরো একটা দিন। মুখে ঠান্ডা কিছুর ফোঁটা পড়ছে তার,কোথায় যেন ব্যঙ ডাকছে,গা শিরশির ভাবটা যেন আরো বাড়ল,মনে হচ্ছে ভিজে যাচ্ছে সে, তারপরেই যেন একটা বিকট চিৎকার করে উঠল কেউ - আস্তে আস্তে অনেক কষ্টে চোখ খুলে তাকাল বাচ্চু। নিকষ কালো অন্ধকারে কিছুই বুঝে উঠতে পারলনা সে। মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে,তার সাথে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুতের ঝলকানি আর বাজের শব্দ - কানে তালা লেগে যাবার জোগাড়। অনেক কষ্টেও মনে করতে পারল না সে এখানে কিভাবে এসে পড়ল, এই জায়গাটাই বা কোথায়। দু তিনবার ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হল সে। সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা।অনেক কষ্টে ডানহাতটা টেনে বেড় করল সে,একটু তোলার চেষ্টা করল, কিন্তু না পারলনা, হাতটা পড়ে গেল আর মুখে ছিটকে এসে পড়ল কাদার মতো কিছু একটা। ঘষটে ঘষটে এগোনোর চেষ্টা করল বাচ্চু, কিন্তু কাদায় বারবার পিছলে যেতে লাগল তার ক্লান্ত শরীর। বারবার ব্যর্থ হয়ে সেখানেই আবার জ্ঞান হারাল বাচ্চু।
ভোরের দিকে বৃষ্টি থামতে গাড়িটা রাস্তার ধারে দাঁড় করিয়ে একটু হাল্কা হতে জঙ্গলে ঢুকেছিল নির্মল, হঠাৎ একটা গোঙানির শব্দ পেয়ে এগিয়ে যায় সে। এখনও পুরোপুরি আলো ফোটেনি,ঘড়িতে সাড়ে পাঁচটা বেজে গেলেও এখনও মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। একটু এগোতেই চোখে পড়ল কাদামাখা অবস্থায় পড়ে রয়েছে একটা মানুষের দেহ, গায়ে হাত না দিয়ে তড়িঘড়ি এগিয়ে যায় গাড়ির দিকে। "স্যার একবার চলুন, জঙ্গলের ভিতরে একজন পড়ে রয়েছে", উদ্বিগ্ন স্বর বলে ওঠে নির্মল। গাড়িতে বসে একটু চোখটা লেগে গিয়েছিল এই অঞ্চলের দুঁদে পুলিশ অফিসার ইন্সপেক্টর সোমনাথ বসুর। নির্মলের কথায় তড়িৎ গতিতে গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে যান জঙ্গলের ভেতর। বাচ্চুর কর্দমাক্ত শরীরের সামনে পৌঁছে নাড়ি পরীক্ষা করে দেখেন যে নাড়ির গতি অত্যন্ত ক্ষীণ হলেও এখনও প্রানটা ধুকপুক করছে। নির্মলকে ডেকে সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চুকে নিজেদের গাড়িতে তোলার আদেশ দেন।
এবারে ফেরত আসি সীমার গল্পে। প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেছে এই ঘটনার- পুরোনো হয়ে গেছে এই খবর। রাজা চৌধুরীর বাড়ির লোক ও ক্লান্ত বারংবার সংবাদমাধ্যম কে সাক্ষরতার দিতে দিতে। তবে একটা ব্যাপার স্পষ্ট সেদিন অ্যাক্সিডেন্টের সময় গাড়ির স্টিয়ারিং এ ছিলেন স্বর্গীয় রাজা চৌধুরী স্বয়ং। হাইওয়ের সিসিটিভি ফুটেজে সেটাই দেখা গেছে। কিন্তু বাচ্চুকে পাশে বসিয়ে তিনি কেন গাড়ির চালাচ্ছিলেন,বা এই দূর্ঘটনার পর বাচ্চু এরকম ভোজবাজির মতো উড়ে গেল কেন,সেটা জানার কোনো উপায় নেই আর। সীমা ও তার শাশুড়ি মেনেই নিয়েছে যে বাচ্চু নিখোঁজ। সীমা রাজা চৌধুরীর বাড়িতে যেতে তাকে এককালীন কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। সীমার মনে এখনও যেন কোথাও একটা ক্ষীণ আশা আছে যে বাচ্চু ফিরে আসবে।
এইভাবে দিন যায়, মাস যায় কিন্তু বাচ্চু ফেরেনা। প্রায় দেড় মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। সংসার চালানোর তাগিদে মাধ্যমিক পাশ সীমা বাধ্য হয়েছে দুটো বাড়িতে রান্নার কাজ নিতে। অবশ্য বাচ্চুর মা মানুষটা সত্যিই ভালো,পোয়াতি বৌকে একা খাটতে তিনি দেননি,তিনিও বাড়ি বসে ঠোঙা বানিয়ে রোজকার করার চেষ্টা করছেন এই বৃদ্ধ বয়সে। এক সন্তানহারা মা আর এক স্বামীহারা স্ত্রী একে ওপরের দুঃখে কষ্টে বড্ড বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে নিজেদের ওপর।
রাত প্রায় বারোটা, হঠাৎই একটা অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে সীমার ভাঙাচোরা মোবাইলে। অচেনা নম্বর দেখে প্রথমে না ধরলেও দ্বিতীয়বারে ধরে সে। ওপাশ থেকে এক গুরুগম্ভীর কন্ঠস্বর,"সীমা পাল কথা বলছেন?"একটু হকচকিয়ে যায় সে। ওপাশ থেকে বলে, "আমি হিরাপুর থানা থেকে বলছি, আপনাকে একবার আমাদের এখানে আসতে হবে,একজনকে চিহ্নিত করতে হবে। বুক কেঁপে ওঠে সীমার,কিছু বলার আগেই ওপাশ থেকে আবার সেই গম্ভীর স্বরে বলে, "আমাদের পুলিশ হেফাজতে সদর হাসপাতালে গত দেড় মাস ধরে একজন ভর্তি আছেন। এতদিন অজ্ঞান ছিলেন,আজ জ্ঞান ফিরেছে তার। হাসপাতালে তার জামা থেকে একটা চিরকুট পাওয়া যায়, সেখানেই আপনার নম্বরটা পেয়েছি।
"আমায় একটু জায়গাটা বলবেন,আমি আসব, "কাঁদো কাঁদো গলায় বলে ওঠে সীমা। ঠিকানাটা লিখে নিয়ে ফোনটা ছেড়ে খাটের ওপর বসে পড়ে সীমা, তাহলে কি মা মুখ তুলে চাইলেন,তাহলে কি বাচ্চুর খোঁজ শেষ পর্যন্ত পাওয়া যাবে। হাজারো প্রশ্ন ভীড় করে আসে তার মনে। অবশেষে নিজের দাদাকে ফোন করে সবটা জানায় এবং পরের দিন ভোরে রওনা দেবে ঠিক করে।
যথাসময়ে পরেরদিন একটা গাড়ি ভাড়া করে ছোটো বোন সীমাকে সঙ্গে করে নিয়ে রানা বেড়িয়ে পড়ে অজানার উদ্দেশ্যে। প্রায় পাঁচ ঘন্টা পর পৌঁছে যায় হিরাপুর থানায়। অফিসার সোমনাথ বসুর সাথে দেখা করতে চাইলে ভেতরে একটা চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। সীমাকে দেখে সোমনাথ উদ্বিগ্ন হয়ে বলে ওঠে, "আপনার এই অবস্থা আমাকে আগে বলতে পারতেন তো।" মাথা নিচু করে সীমা বলে,"আমি খুব অসহায় স্যার,গত দেড়মাস ধরে আমরা বাচ্চুর কোনো সন্ধান পাইনি। সবাই বলেছে রাজা চৌধুরীর ওই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী আমার স্বামী, তাই সে ভয়ে গা ঢাকা দিয়ে আছে। বারবার বলা সত্ত্বেও আমাদের কথা কেউ শোনেনি,আমার স্বামী বাচ্চু পাল কে খোঁজার চেষ্টা পর্যন্ত করা হয়নি। তাই কাল আপনার ফোনটা পাওয়ার পর নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে মনে,দয়া করে নিয়ে চলুন বাচ্চুর কাছে।"
অফিসার বোস রানা ও সীমা কে নিয়ে আসে সদর হাসপাতালে। একটা ঘরের কোনের দিকের বেডের সামনে আসতে দেখতে পায় বাচ্চু কে। কিন্তু এ কি অবস্থা হয়েছে তার - ছফুট লম্বা মানুষ টা যেন বিছানার সাথে মিশে গিয়েছে। নিজেকে সংযত করে এগিয়ে যায় সীমা,বাচ্চু র মাথায় হাত রেখে তার নাম ধরে ডাকে, কোনো সাড়া নেই। আবার চেষ্টা করে,কিন্তু না এবারেও সাড়া দেয় না বাচ্চু।
অজস্র প্রশ্ন নিয়ে তাকিয়ে থাকে সীমা। অফিসার সোম বলেন যে বাচ্চুর জ্ঞান ফিরলেও ওর পুরোপুরি স্মৃতি ফেরেনি, এখনও উঠে দাঁড়াবার ক্ষমতাও হয়নি। এমন সময় ডাক্তার হাজরা এসে পড়েন সেখানে। সীমার পরিচয় পেয়ে তার উদ্দেশ্যে বলতে শুরু করেন,"দেখুন আপনার স্বামী কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থ হতে অনেকটা সময় নেবে, ওনার স্মৃতিভ্রষ্ট হয়েছে,হয়ত কিছুদিন পর সব মনে পড়ে যেতে পারে,আবার নাও মনে পড়তে পারে - সবটাই আপনার ওপর নির্ভর করছে। ওনাকে এখনও কিছুদিন হাসপাতালে রাখলে ভালো হত,কিন্তু আমাদের এখানে বেড কম,তাই ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি। আপনি চাইলে অন্য কোথাও ভর্তি করতে পারেন।"এই বলে নার্সকে ওষুধ পত্র বুঝিয়ে দিয়ে ডিসচার্জ করে দিয়ে বেড়িয়ে যান ডঃ হাজরা।
বাচ্চুর পাশে বসে আছে সীমা,সামনে তার বিশাল পরীক্ষা,একদিকে নতুন প্রানকে পৃথিবীতে আনার সময় প্রায় হয়ে এসেছে, অন্যদিকে অসুস্থ বাচ্চুর দেখাশোনা করা। সামান্য দুটো রান্নার কাজে কিছু হবার নয়।
মনে হল যেন পায়ের তলার মাটিটা দুলে উঠল তার,বাচ্চুকে সুস্থ করে তুলতে পারবে তো সে? ঘরের কাঁচের জানলায় নিজের প্রতিবিম্ব টা দেখে বুকের মধ্যে দাঁত করে উঠল সীমার,একি তার সিঁথি এরম খালি কেন? মনে পড়ল কাল তাড়াতাড়ি করে বেরোতে গিয়ে স্নান করে সিঁদুর পরতে ভুলে গেছে। চোখ খুলে তার এরম উস্কোখুস্কো অবস্থা দেখলে খুব রাগারাগি করবে বাচ্চু। একবার হাসপাতালের বাথরুমে গিয়ে চুল আঁচড়ে ব্যাগের ভেতর থেকে সিঁদুর কৌটোটা বের করে সিঁথিটা রাঙিয়ে নিল সীমা। বেড়িয়ে এসে দেখল বাচ্চুকে হুইলচেয়ারে বসানোর চেষ্টা চলছে,বাচ্চুর হাতটা ধরতে যেন অনেক দূর থেকে তাকিয়ে দেখল সে তার সীমার দিকে, ইশারায় কিছু একটা বলার চেষ্টা করলেও বলে উঠতে পারল না। ক্লান্ত অবসন্ন শরীরে মাথায় হাতে পায়ে ব্যাণ্ডেজ বাঁধা অবস্থায় এলিয়ে পড়ল হুইলচেয়ারে।
ভোর হয়ে এসেছে,শরতের আকাশ লাল হয়ে জানান দিচ্ছে দেবীপক্ষের সূচনার।
[হাইওয়ে ধরে ছুটে চলেছে কালো মারুতি অল্টো গাড়িটা - বাচ্চু গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, রানা ও ক্লান্ত সারাদিনের দৌড়ঝাঁপের ধকলে,ঘুম নেই একমাত্র সীমার চোখে। বাচ্চুর সাথে দেখা স্বপ্নগুলো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে। সমস্ত পরিস্থিতি হয়ে উঠতে চলেছে অত্যন্ত সঙ্গীন, আরো এক দু মাস পরে কি হবে সেটা ভেবেই শিহরিত হয়ে ওঠে সীমা। পরক্ষণেই নিজের মনকে শান্ত করে এই বলে যে বাচ্চু একদিন ঠিক সুস্থ হয়ে উঠবে।
চারিদিক থেকে ভেসে আসছে টিভি রেডিও তে মহালয়ার আওয়াজ। পাড়াতে ঢোকার মুখে খেয়াল করল তাদের পাড়ার প্যান্ডেলে মা এসে গেছেন। তাদের ছোট একতলা বাড়িটার সামনে গাড়ি এসে দাঁড়াতেই যেন এক অদ্ভুত দীপ্তি খেলে গেল সীমার মুখমণ্ডলে। গাড়ি থেকে নেমে,বাচ্চুর হুইলচেয়ারটা ঠেলে নিয়ে পাড়ার লোকের ভীড় উপেক্ষা করে মাথা উঁচু করে বাড়িতে ঢুকল সীমা - আজ আর সে পলাতক আসামী বাচ্চু পালের স্ত্রী নয়,প্রমাণ হয়ে গেছে আজকে যে বাচ্চু কাপুরুষ নয়,সে পালিয়ে যায়নি। দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে সাতমাসের অন্তঃসত্ত্বা সীমার জীবনের নতুন সংগ্রাম শুরু হল - এ লড়াই বেঁচে থাকার লড়াই,এ লড়াই বাঁচিয়ে রাখার লড়াই,আর এই লড়াই এ সীমার ভুমিকা মা দশভূজার।।



0 Comments