হৃদস্পন্দন

  • Home


  • Download

  • Social

  • Feature


প্রতিকল্পের খোঁজে
           
জীবনে অম্লজান তুমি, আবেগের শান্তিনিকেতন।
তোমার অনুপস্থিতি, পোড়ায় এ পাপ-দেহ-মন।

শ্রাবণের ধারা-পাতে, অক্ষরমালা ভিজতে থাকে,
ক্লান্ত কবি ক্ষান্ত দেয়, পান্ডুলিপি সরিয়ে রাখে।

বাষ্পাকুল নতনেত্রে, ভানুসিংহ কথা বলে,
অলস যত দ্বিপ্রহরে, 'ছিন্নপত্র' পড়ে চলে।

থাকুক ছন্দ পরমানন্দ 'গীতবিতান' জুড়ে,
আমরা সেই কবেই ফেলেছি, সহজপাঠ ছুঁড়ে!

সমুদ্রস্নানে যে তৃপ্তি আছে, রবীন্দ্রগানে-ও তাই,
তাই তো কেবল ঘুরে-ফিরে,তোমাতেই ফিরে যাই!

নবমাতার প্রতি

তাকিয়ে তুমি দেখতে যখন শীতল অহংকারে,
ওগো সম্মোহিনী, প্রণয়-ছন্দ ভাঙত বারেবারে ।

খিদে পেয়েছে, দৃষ্টি যখন মাতৃস্তন্যটিতে,
ছোট্ট শিশুর বায়না ভোলাবে রবীন্দ্রসঙ্গীতে ।

কখনও রাতের অপেক্ষাতে, অলস দু-হাত ভুলে,
জড়িয়ে তোমায় চাইতো ধরতে বন্য ক্রীড়াচ্ছলে ।

হয়তো তখনও ঘুমিয়ে তুমি কাদা,
চিকণ গ্রীবায় চাঁদের আলো সাদা ।

বুকের উপর পেখম মেলে উড়ন্ত দুটো ময়ূর,
অনিবার্য আকাঙ্ক্ষাতে সইতো না আর সবুর ।

অবুঝ শিশু, বুঝতো না তো কিছু
ককিয়ে কেঁদে, দেখতো আগুপিছু ।

বাবা-ও আছে, মা-ও আছে, সুখী পরিবার,
দুই পারে দুই মানব-জমিন, অপেক্ষা অনিবার ।

কবি অভিষেক ঘোষ 
কসবা, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ


















বেলুন 

আমাদের হাতে আজ তৃতীয় বিশ্বের সাক্ষরহীন বেলুন, সারস কিংবা হাঁস হয়ে পার হচ্ছে
টান টান লাভাস্রোত
ডানাগুলি গলে গলে পড়ছে অনুর্বর মাটির গভীরে, অধরা কথা গুলি আজ এসো
এসো মধুমাস
আলোর ঝুলবারান্দা
এই পৃথিবী আমাদের,আমাদের ঘাম ও অশ্রু নিয়ে রঙিন সকাল নিশ্চিত নিয়ন্ত্রিত
নিশ্চিন্দে জাবর কাটার দিন
শেষ হয়ে গেছে কবেই
তুমি এসে বারবার শুধরে
দাও আমাদের ভুলভ্রান্তি
আমাদের সহযোগী গমনপথ...

সুরাসুর

বুকের উপর মুখ রেখে ঘুমিয়ে পড়েছো
জেগে দেখো কতদূর পৌঁছনোর পর কাছে এল
হত্যার সীমানা,যারা এখনও জীবিত
তারা হয়তো লাশ হবে কাল
তাই আজ সকাল সকাল,সকাল সকাল
সকলের কাছে ঋণী তুকারাম
কবীর মান্টো কাউকে ভুলিনি
গোপনে আরতি করি
ভিড়ে তো মিশে থাকে সমস্ত মুখ ও মুখোশ
আর জল গড়াতে থাকে বহুদূর
না আমি অক্ষত আছি
জীবিতের ধর্ম বুঝি বহুস্বরে সুরাসুর...

কবি হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় 
মালঞ্চ, দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান






ডাক

চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি ডাকবাক্স 
অঘ্রাণের আকাশে উড়ে যায় দুটি সাদা বক
নিজেকে নিঃস্ব করি প্রাণভোমরার মুগ্ধগানে
মনে মনে পৌঁছে যাই প্রাচীন আয়নার সামনে
দেখি, নদীর উপর আজ কোনও নৌকো নেই
ছুঁয়ে আছি এই বিভঙ্গ, এই সুন্দর প্রতিবিম্ব 
তুমুল ঝড়ের আগে স্মৃতির দুয়ার খুলে বসি
অবিরল ঢেউ এসে পড়ে জীবনের যত শোকে। 
না-লেখা চিঠির কথাগুলো সব উড়তে থাকে
আকাশে এখন আলোর ঢল, ইচ্ছেডানার ভিড়
মেঘাবৃত উদাসীন দুটি চোখের কোণায় দেখি,
কে যেন বসে আছে, চিরনিদ্রার অপেক্ষায়।

কবি মহম্মদ সামিম
পূর্ব খন্যান,খন্যান (ইটাচুনা), হুগলি 

















অধিকার

ফুলের বাগানে __
হেঁটে চলেছি বারংবার
তুলে এনেছি কত অজানা গন্ধ
ফেলে আসা সময় আমায় ভরিয়ে দিয়েছে 
নিস্তব্ধে...
কথারা আজ মগ্ন
মুগ্ধতার দিকে পথ চলা
আমার জন্মগত অধিকার।

কবি তীর্থঙ্কর সুমিত
মানকুন্ডু ব্রাহ্মণ পাড়া, পশ্চিমবঙ্গ 





 


শব্দময় মানুষের সারি

আগুন রাতের হাহাকার শুনেছিল বাহার শুনিয়া গাঙ--
শ্মশান মশানের রাহাজানি রাজপথ ছেড়ে চলে রাজভবন,
যা কিছু দলিল দস্তাবেজ সরগরম গনগনে আঁচে---
সমুদ্রের লোনা জল জানে অন্ধকারের গ্রাম রাত জাগে
মোটা চাল ভাতে শাকে আধোঘুম পুড়ে মরে ঘর পোড়া সুখে। 

বড় ভয় হাড় মড়মড়ি সময় দাঁত ঘসটানি ক্রোধের শাসানি 
ঘাম রক্তের স্বপ্ন ঝরেছে জানে বোরো ধান শীষে শিশির বিন্দু,
কে যেন বলেছিল কেবলই ক্ষরণ জানে ফেলে আসা হিংস্র জনপদ
শহীদ স্তম্ভের পাদপীঠ জানে করুণ দৃশ্যের সম্ভ্রম ভালোবাসা, 
ঋতু বদলের মায়া প্রদীপের আলোয় কাঁপে সিংহাসনের ছায়া। 

দিনের জোয়ারের রোদ বোঝে বেলা শেষে গোধুলি রঙের খেলা 
ফিরে আসা উঠোনে অপেক্ষায় ম্লান চিহ্ন ভালোবাসা, 
নিটোল বুকের ভারী নিঃশ্বাস জানে আকালের হাহাকার---
তবু্ও আকাশ জানে মেঘের সমাগম মাটির অঙ্কুর টানে
কবরে শ্মশানে কোথাও তো কেউ নেই কেবল বাঁধা জীবন আলিঙ্গন। 

ভেজা মাটির গন্ধে শেকড়ে তখন মৌসুমি বাতাসের টান---
গাছে ফুলে পাতায় শাখায় চেনা সব পাখিদের আবাহনী ডাক,
হা-হা হৃদয়ের কথা গানে কান্নায় না ফেরা মুখের সারি
জঙ্গল মাটি পাহাড় নদী প্রসন্ন পরাগে জাগে আলোর মানুষ ---
নিশ্চয় দাঁড়িয়ে শব্দময় মানুষের সারি সকল চৈতন্যময়। 

কবি বিকাশ চন্দ
পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত 














ক্ষুধার্ত ব্ল্যাকহোল 

একটা ব্ল্যাকহোল যখন তৈরি হয় তার দুরন্ত খিদে মেটানোটা মুখ্য হয়ে ওঠে।তাছাড়া অর্জুনকে দেখানোরও একটা চাপ কাজ করে।এখন অর্জুনের পরিণতি নিয়ে কিছু বলতে গেলে একটা রাজনৈতিক সন্দর্ভ হয়ে যাবে।আমি সেপথে যাব না 

কালো কিন্তু সবসময়,কালো বলতে আমরা যা বুঝি,কালোই হয় না।এমন দুধে-আলতা রঙ নিয়ে সে হাজির হয় যে মুহূর্তেই বাঘ সিংহও ভেড়াজন্মকে শ্রেষ্ঠ মেনে নেয়।রহস্য ত্রিপল হয়ে ওঠে

সেই ব্ল্যাকহোল এখন সব গিলে খাচ্ছে।খাবেই।তাকে আটকানো 
দুঃসাধ্য।জেনে সবাই আহার্য হবার পরিণতিতেই উদ্বাহু এখন 

কাঠঠোকরা,খরগোশ,রয়ালবেঙ্গলও বৈষ্ণবমন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছে 

স্নান ও জলের রসায়ন 
 
স্নানের সঙ্গে জলের সম্পর্কটাকে অনিবার্য এবং অবিচ্ছেদ্য বলে 
আমরা মেনে নিয়েছিলাম।কাজেই সহজ জলের মতো যে জল তারও পা দুটো একটু ভারী হয়ে ওঠে।আমাদের শরীরের তৃষ্ণাও
অদম্য হয়ে ওঠে।জাত,কুল,শীল সব জলাঞ্জলি দিতেও উদগ্রীব 

অথচ আমি বিভিন্ন রকম জলের খুব ভেতর থেকে খবর নিয়ে দেখেছি 
জল মাত্রই সবাই সিক্ত নয়।হাজার হাজার বছর স্নান না করে রয়েছে 
তাদের অনেকেই।অনেক জলই জল সম্পর্কে ইদানিং বীতশ্রদ্ধ 

জলের অভাবে গঙ্গা যমুনার বুকেও মরুর পায়ের শব্দ।তৃষ্ণার্ত সমুদ্র 
যেভাবে বরফ চিবিয়ে খাচ্ছে রোজ পৃথিবীর মেরুদণ্ড থেকে চকোলেট 

শালিক চড়ুইরা এসব বুঝে ধুলোতেই ডানা ঝাপটিয়ে খেলে

কবি দিশারী মুখোপাধ্যায় 
দুর্গাপুর,পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ  



 




অবিরাম খেলা

লাল আর কালো রং এ বোনা 
সাড়ে চার লক্ষ বছরের সাপলুডো খেলা,
এই মানব জেনোম- 
একরাশ মাছিদের মতো এনে দেয়,
কাটাকুটি চিন্তার মেলা।
আপেলের গায়ে জল
বোঁটা থেকে ঝরে
নক্ষত্রও অদৃশ্য শিকল ছিঁড়ে 
উল্কা হয়ে পড়ে
এ ধরার ভিজে ভিজে পেটের উপরে-
গর্ভের শিশু যেমন,সবচেয়ে পুরোনো জলের সখ্যে, 
চিত আর উপুড় হয়ে,খেলা করে অবিরাম 
এ ধরার অলিতে,গলিতে রজঃ,বীর্য,ঘাম
অনিদ্রা রোগীর দিবাস্বপ্নে
বার বার চায় যে বিরাম
জানিবার কারাগার থেকে। 
প্রখ্যাত প্রত্নসম্পদে
সেই মানবক আজ,অক্লেশে,নির্বিচারে,বর্বরের 
দুঃসাহসে যোগচিহ্ন দিয়ে - 
নিজের ও নিজের একান্ত 
নোনা মেয়েছেলেটির নাম লেখে।

কবি অনিন্দ্য দত্ত
আন্ধেরী পূর্ব, মুম্বাই, ভারত







তাহাদের কথা 

পর্দার নিয়ম কে কে জানেন হাত তুলুন
নখ ও দাঁতের সঠিক ব্যবহার কে কে শিখেছেন বলুন

বিধিহীনমেয়েমানুষ ছুঁয়ে (পড়ুন : আঁচড়ে কামড়ে) পর্দানশিন কাদের রুটিনমাফিক সাবলীল দিবানিশিযাপন
(চেপে যান)                                      
অন্ধকারের নীচেও যে অন্ধকার সেখানে সন্তরণপ্রিয় ক'জন অন্ধ খুলে ফেলেন সুইমিং কস্টিউম
(চেপে যান)

স্ট্রিটলাইটই শুধু জানে রুক্ষরুটি ও পরিযায়ী নিতান্তমানুষের কথা
মজলিসি ঝাড়বাতি জানে পলিশড্ অধ্যক্ষ সমুদয় সভাকবিকবিসভা জানে সং রঙ নন্দনএ্যাকাডেমিরবীন্দ্রসদন

অনেকেই রাস্তা চেনেনা অথচ রাস্তা সবাইকে চেনে গভীর রাত্রে রাস্তার নাম বদল হয়
(রাস্তা শুয়ে থাকে)
রাস্তাতেই 

কবি রথীন বন্দ্যোপাধ্যায়
  বি-৭/১৪, আড়রা - কেলীনগর, পশ্চিম বর্ধমান












পরিতৃপ্তি

এখন সবাই ভবিষ্যতের কথা জানতে চায় 
কী ঘটবে জীবনে জানতে চায় 
কালোটাকা কবে ঘরে আসবে জানতে চায়
আর আমি অন্ধ ভক্ত প্রকৃতির 
চাঁদ ফুল তারার চিত্রকল্প আর 
ছন্দমিল নিয়ে নিভৃতে লড়ে যাই  
ওই স্তনবতী মহিলার গুরুনিতম্বে চোখ চলে যায়  
দেশ ও দশ নিয়ে ভাবার সময় কোথায় 
রসালো আম সবুজ তৃণ নিয়ে  
আগডুম বাগডুম লিখে হই পরিতৃপ্ত। 

কবি শান্তনু গুড়িয়া
বেড়াবেড়িয়া, বাগনান, হাওড়া




ক্রোমোজোম 

রোজ ক্ষয়ে যাচ্ছি একটু একটু করে,
অণু পরমাণুতে,প্রতিটা ক্রোমোজোমে।
বুকের বুকশেলফে যে বইগুলো আছে,
ওতে বইপোকারা থাবা বসিয়েছে।
নাড়ির পেঁচালো জটিলতায় যেন মায়ের টান খুঁজে পাচ্ছি আজকাল।
আঁতুর ঘরে পরে থাকা কচি কান্না ভেসে ওঠে
চোখের ক্যানভাসে।
শৈশব ছুটে বেড়ায় দামাল ছেলের মতো পাঁজরের অস্থি মজ্জায়।
তবে কি মানুষ হয়ে জন্মেছিলাম!
ক্রোমোজোমের উপস্থিতিতে তার প্রমাণ জমে ওঠে।
হরমোনের গন্ধে মানুষের অবস্থান টের পাই নিজের মধ্যে।
মানুষের মাঝে মানুষ হয়ে ছিলাম। 
হেঁটেছি, চলেছি,গায়ে মেখেছি শোক, 
দেখেছি উত্থান পতন।
দেখেছি জীবনের থেমে যাওয়া।
বুঝেছি এ জীবনটা স্বার্থে চলে।
রোজ পেশি মোটা করেছি,
ভোগ করেছি মানুষ হওয়ার আনন্দ।
বিলাসিতায় প্রমাণ রেখে গেছি মানুষ হওয়ার।
তবে আজ কেন ক্ষয়ে যাচ্ছি রোজ!
বইগুলো কেন বাঁচিয়ে রাখতে পারছি না!
পাতাগুলো লাল হয়ে যাচ্ছে, 
বিদীর্ণ হচ্ছে বুকের ছাতি! 
কি দিয়ে যাবো পৃথিবীকে?
পোকা কাটা বই?
নাকি এক বুক আশ্বাস মানুষের পাশে থাকার?
কর্মে রয়ে যায় স্থান, বইয়ের পাতায় নয়। 
এখনো সময় আছে, 
ক্ষয়ে যাবার আগে ক্রোমোজোম থেকে বেরিয়ে
নিজেকে মানুষ বলে দাবি করে নেবো।
নাভি যেদিন ভেসে যাবে গঙ্গায়, 
যেন তাতে গন্ধ ছুঁয়ে থাকে মনুষ্যত্বের, মানবিকতার।

কবি অর্পিতা আদক
 বাঙালপাড়া ২য় বাইলেন, নবান্ন, হাওড়া 




বিবর্তন

বসন্তের অববাহিকায় উচাটন বাতাস
প্রচ্ছদের আড়ালে কোকিলের কুহু ডাক
লালচে সকাল রোদে ফুটেছে লাল পলাশ 
নেশাবন্ধনী পেরিয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে প্রেমের আগুন 
এমনই চিরহরিৎ প্রেমের আঁচল বিছিয়ে রেখে
পেরিয়ে এসেছি কত বসন্তের রঙিন মেয়েবেলা
ধারালো শব্দে আগুন লিখেছে ষোড়শী বাতাস
আদিরসে সেদিনও ফুটেছিল কোমল গান্ধার
পাগল প্রেমিক আকন্ঠ শুষে নিয়েছিল লীনতাপ।
 
শ্রীরাধারা জানে, 
ঋতু ছোঁয়ালে বেজে ওঠে মোহনবাঁশি.. 
অ্যানড্রয়েড পৃথিবীতেও সেই আপেল টা 
খুঁজে বেড়ায় হানিমুন ট্রিপে আদম ও ইভ
কবিতা থেকে হারিয়ে যাওয়া গাংচিল 
বিকেলের পড়ন্ত রোদ ছুঁয়ে 
ক্লান্ত ডানায় মাখে রোদ্দুর
নদীর বুকে সুর তোলে রূপালি জলনূপুর! 

ঘুমন্ত সভ্যতায় ফেলে আসা 
এমনই খন্ড খন্ড ভগ্নাংশগুলি
জোড়া দিতে দিতে, কখন যেন 
মুছে যাওয়া কবিতারা হেঁটে আসে 
বিস্মৃত সময়ের বিরল গন্ধ উঠে আসে
ছায়া-আবছায়ারা সরে সরে যায় 
ফেলে আসা বৈভবের জীবাশ্ম ঘেঁটে 
উঠে আসে ভূগর্ভস্থ এক স্ফুরণ 
মুঠো মুঠো ইতিহাস, চিরায়ত সংকেত 
খেলনাবাটি সময়, কাদামাটি ভালোবাসা
অনাদরে সময়ের ভাঁজে লেপটে থাকা
বিবর্ণ পত্রলেখা প্রেমের ফসিল অস্তিত্ব! 

একটা সার্থক ফুলের বাগান চাই 
ফুটুক অগণিত ফুল,..সত্যিকারের ফুল
প্রেমের অপূর্ণতা সরিয়ে পূর্ণতা পেতে
যুগে যুগে আবারও জন্ম নেয় প্রেম 
বিবর্তনের অপেক্ষায় থাকা রক্তপলাশটি
প্রতিটি বসন্তের ঋতুরাগে--
আরও বেশি লাল,..রক্তিম হয়ে ফোটে! 

  কবি দীপক বেরা
   হরিদেবপুর, টালিগঞ্জ, কলকাতা
















রাধাভাব

যেদিন থেকে আমার মধ্যে রাধাভাব বুঝেছি
শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই আমার তাকে খোঁজা,
হাটে মাঠে বাটে তাকে খুঁজে ফিরেছ মন।
এই দীর্ঘজীবনে দু একবার যেন পেয়েওছি তাকে
কিন্তু মনের মানুষ কি সহজে মেলে...
কোথাও একটা টোল,একটু কানা ভাঙা
মন খুঁতখুঁত...

কুড়ি তিরিশ চল্লিশ পঞ্চাশ 
মাথা ভর্তি পাকা চুল,পার্কিনসনে কাঁপা হাত
ক্যাটারাক্ট গ্লাসে ভর দিয়ে যতদূর দৃষ্টি চলে
এই ষাটে আজও রূপ লাগি আঁখি ঝুরে...

রাধিকা আমায় ছেড়ে কোথাও নড়েনা...


কবি মীরা মুখোপাধ্যায়
তেলিপুকুর, ডাক শিমুরালী, নদীয়া





















বাস্তুসাপ

প্রেমের গণতন্ত্রে সহবাস আছে,আছে সহমরণ
টুপ করে পড়া উঠোনে জামের রক্তপাত আছে
নিষিদ্ধ কিছু নেই বলেই হয়তো চাঁদ স্থিরমতি
কুকুরের যৌন মিলন টলটলে জলের আরাম
নদীঘাট ভেঙে যায় আপন নিয়মে, খেলায়
ছায়াপথ চুয়ে নামে নীল ছবির গল্প...
সমাধির আশেপাশে ঘাসের শরীরে জাগে শিহরন
ভাসান আছে,বিসর্জন কিংবা দালালের রাত
দেহ ছুঁয়ে প্রিয় বলে কেঁদে উঠছে বাস্তুসাপ...

কবি সোমনাথ বেনিয়া
নিমতা, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ












এ পৃথিবীর রাত

আমি জানতাম জলের মতন তুমি 
সকাল বেলার রোদে ছুঁয়ে দাও আমাকে
ছুঁয়ে দাও আমার মুখের নিভা
বিকেলের আসন্ন আলোয় ছুঁয়ে দাও আমাকে,
ছুঁয়ে দাও আমার জলের প্রতিভা
দেখো ছুঁয়ে ওটা তীর নয়,ওটাআমার মাথার চুল
না না আবিষ্ঠ পুকুর নয় দেখ ছুঁয়ে
ওটা আমার আঙ্গুল
তোমার মুখের মতন অবিকল
দেখো এটা আমার কণ্ঠনালী,
নির্জন জলের রঙে তাকিয়ে আছে আমার
দুটো চোখ তোমার দিকে খালি,
দিনের আলোর ভেতরে তুমি আঙ্গুল
ছুঁয়েছ যেখানে ওটা আমার গরল
বিশ্বাসী এক কবির বুকের বাম দিক
ওটা শুধু পরগাছা সৃষ্টি করে,
দেখ তোমার নাম ডেকে মরছে ঠিক ঠিক।
এক পৃথিবীর সমস্ত আলো নিভে যায়
তুমি ছুঁয়ে দিলে ,ওটা আমার সহস্র
জন্মের সুখ, বাকিটা যন্ত্রনা, অন্ধকার
দুঃখ তোমার পায়ের চিহ্নকে ধরে
রাখা ওটাই আমার বুক।
নীল হয়ে জমে আছে অমোঘ সকাল
হ্যাঁ সেটাই আমার ঠোঁট
তুমি যেদিন রেখেছিলে ঠোঁটের ওপর
ঠোঁট সেই বিকেলের রক্তিল বিন্যাস
হারিয়েছে বোধ।।

কবি জয়ীতা চ্যাটার্জী
নাগবাগান রোড, শ্যামনগর, পশ্চিমবঙ্গ




           
          















দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো- এক গভীর প্রশ্নচিহ্নের সামনে

ভারতীয় সংবিধানে সব রাজ্যগুলোকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি রাজ্য নিজেদের জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ও পুষ্টির মান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যেতে বদ্ধপরিকর হবার কথা। ১৯৮৩ সালে প্রণীত জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি ২০০২ সালের পর আবার ২০১৭ সালে পরিমার্জিত হয়েছে। নতুন নীতিতে অসংক্রমনযোগ্য রোগের বর্ধিষ্ণু চাপ কমানো,স্বাস্থ্য শিল্পের উদবর্তন ও স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ কমানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে,ভারতে অধিকাংশ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা বেসরকারি ক্ষেত্রেই প্রাপ্ত হয়। আর তা হয় মানুষের পকেটের পয়সা দিয়ে,উন্নত দেশগুলোর মত স্বাস্থ্যবীমা থেকে প্রাপ্ত সুবিধা থেকে নয়। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ তে ভারতে জিডিপি র ৩.৮৯ শতাংশ ব্যয় হয় স্বাস্থ্য খাতে। এর মধ্যে সরকারি ক্ষেত্রের অবদান জিডিপি র মাত্র ১ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে খরচ হওয়া টাকার ৬৫ শতাংশ মানুষের পকেট থেকে হয়।
সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এদেশে নিশুল্ক। সরকার এতে ভর্তুকি দেয়। সরকারি পরিষেবায় মোট যত রুগি চিকিৎসা পায়,তার মধ্যে ১৮% লোক বহির্বিভাগে এই সুবিধা পান ও ৪০% এর মত রোগী ভর্তি হন এই সুবিধা পেতে। এতে পরিষ্কার যে সাধারণ, নিম্নবিত্তরাই সরকারি ব্যবস্থার উপর বেশি নির্ভর করেন। অপরদিকে উচ্চ-মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনার উপরেই বেশি ভরসা করে থাকেন। তার প্রধান কারন অবশ্যই সরকারি ব্যবস্থায় পরিষেবার অপ্রতুলতা ও নিম্ন মান। দেখা যায় প্রায় ৩০০০০-৪০০০০ জন লোকের জন্য বরাদ্দ একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতাল। সেক্ষেত্রে মানের আশা করাটাও বিলাসিতা মাত্র। অর্থাৎ যে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন কঙ্ক্ষিত ছিল,তা আজ অবধি হয়ে ওঠে নি। এর সাথে যুক্ত হয় ডাক্তার, নার্স,যন্ত্রাদির অভাব ইত্যাদি অর্থাৎ পরিকাঠামোগত ঘাটতি। কোন কোন ক্ষেত্রে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের যোগসূত্রের অভাব অগ্নিকুন্ডে ঘৃতাহুতি দেয়। জনস্বাস্থ্যের সাফল্যের জন্য, চিকিৎসা ব্যবস্থা সহজলভ্য ও সস্তা হওয়াটা খুব জরুরি। সরকারি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের নির্ভরতাও এই দুটি কারণেই। কিন্তু ন্যুনতম পরিষেবার অভাব সেই উদ্দ্যেশ্যটাকে সফল হতে দেয়নি। ২০০৫ সালের পর থেকে দেশে বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রচুর সংযোজন হয়েছে।দেশের মোট হাসপাতালের ৫৮%, শয্যা সংখ্যার ২৯% ও মোট ডাক্তারের প্রায় ৮১% বেসরকারি ক্ষেত্রে। জাতীয়স্তরের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, শহরাঞ্চলের ৭০% ও গ্রামাঞ্চলের ৬৩% মানুষ বেসরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান খরচ ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষ কেন,অনেক উচ্চ-মধ্যবিত্তদের পক্ষেও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকারি হিসেবে যেখানে শুধুমাত্র ১৭% মানুষ স্বাস্থ্যবীমার আওতায়, সেখানে আকাশছোওয়া চিকিৎসার ব্যয়ভার মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। ১৯৯৫ সালে ভারত TRIPS চুক্তিতে সাক্ষর করে। ফলে যেকোন কম্পানি ফি দিয়ে কোন অসুধ বানাতে ও তার পেটেন্ট নিতে পারে।অনেক এন্টিবাইওটিক যেগুলো অনেক দেশে নিষিদ্ধ, সেগুলোও এখানে দিব্যি চলছে রমরমিয়ে। 

যে প্রধান সমস্যাগুলি ভারতের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রকট, সেগুলি হলো-
১। সচেতনতার অভাব রয়েছে গোটা দেশজুড়ে। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে। আর এই অভাব সবচাইতে বেশি প্রভাব ফেলে গর্ভবতী মা, শিশু ও নারী স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে। সরকার বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করা সত্বেও এখনো বাড়িতে প্রসব করাতে গিয়ে অনেক মায়ের প্রাণ যায়। কাজেই সচেতনতা সব স্তরেই বাড়ানো অতি আবশ্যক।

২। স্বাস্থ্য সুবিধা মানুষের কাছে পৌছনোর ক্ষেত্রে বাধা। উপলব্ধ সুবিধা আর প্রাপ্তির মধ্যেকার শূন্যস্থান এখনো পুরণ করা যায়নি। এর কারণ আর্থিক, সামাজিক অনেক রকমের বাধা। 

৩৷ মানব সম্পদের  তীব্র অভাব। আজ অবধি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে যথেষ্ট ডাক্তার,নার্স,স্বাস্থ্যকর্মী কোনটাই তৈরি করা যায়নি। বর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার সঙ্গে অপ্রতুল লোকবল দিন দিন সমস্যা বাড়িয়েই গিয়েছে। যে লোকবল আছে স্বাস্থ্যব্যবস্থায়, তারও সঠিক বন্টন করা হয়নি। এখনো যে কোন মেডিকাল কলেজ চলে জুনিয়র ডাক্তারদের সেবায়।

৪।চিকিৎসার লাগামছাড়া খরচের বহর মানুষের গলায় ফাঁসের মত চেপে বসছে। সেক্ষেত্রে সরকারি কার্যকরী কোন নিয়ন্ত্রণ পরিলক্ষিত হয়না। ফলে বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা এক লাগামহীন লাভদায়ক ব্যবসায় পরিণত হয়ে উঠছে।

৫৷ দায়বদ্ধতার অভাব ভীষনভাবেই দেখা যায় সর্বস্তরে। কাজের চাপের কথা মাথায় রেখেও এই দায়বদ্ধতা কিয়দংশেও যদি দেখান যেত, স্বাস্থ্যের হাল হয়ত এতটা অস্বাস্থ্যকর হতনা।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কিছু সাম্প্রতিক সংস্কারমুলক পদক্ষেপ করা হয়েছে।
ভারত সরকার জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মাধ্যমে National Health Portal এর ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে National eHealth Authority(NeHA) র উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যার  ডিজিটাল কার্ডের মধ্যে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সঞ্চিত থাকবে। দ্বাদশ পরিকল্পনায়  National Rural Health Mission প্রবর্তন করা হয়েছিল।যেখানে গ্রামীন এলাকায় স্বাস্থ্য পরিসেবাকে আরো বেশি লোকের কাছে পৌছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় । যদিও তার খুব বেশি প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।একইরকম ভাবে National Urban Health Mission চালু হয় ২০১৩ তে। কিছু সামান্য পরিকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন রোগী আনা-নেওয়ার ব্যবস্থাদি, ন্যুনতম কিছু ওষুধপত্র প্রদান ছাড়া তেমন কিছু উন্নতি হয়নি।

উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছে আয়ুস্মান ভারত বা Pradhan Mantri Jan Arogya Yojana(PMJAY) প্রকল্পে। NITI আয়গের পরামর্শে একটা সার্বিক স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প রূপায়ণের প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। 
       ক।  প্রায় ৫০ কোটি মানুষের জন্য এই প্রকল্পে আগামী ১০ বছরে ৬.৪০ লক্ষ শয্যার প্রয়োজন হবে। এই মুহূর্তে দেশে মোট ১৪৩৭৯টি হাসপাতালে ৬.৩৪ লক্ষ শয্যা আছে। টিয়ার ২ ও টিয়ার ৩ শহরগুলোর ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালের ভুমিকা সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কারন এদের উপরেই অনেক মানুষ নির্ভর করে। শুধুমাত্র মুনাফা-কেন্দ্রিক চিন্তা-ভাবনা দিয়ে এ কাজ করা সম্ভব নয়। NITI আয়গের প্রস্তাবেও বলা হয়েছে যত বেশি সম্ভব মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ নিতে পারবে ততই মঙ্গল।
       খ। PMJAY র আওতার বাইরে থাকা এবং স্বাস্থ্যবীমা নেই, এমন মানুষদের বীমার ছাতার তলায় আনতে পরিকল্পনা করা আবশ্যক। ফার্মা সেক্টরে NITI আয়গের প্রস্তাবে ২০১৯  সালে একটি কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করার কাজটি করার কথা। ২০১৯ এ National Medical Commission Bill পাশ করান হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে চিকিৎসায়  বেশি বিল,গাফিলতি ইত্যাদি অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে। এই কমিশন নিজে থেকেই কোন তদন্ত শুরু করতেও পারে। রাজ্যগুলির স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মাপার জন্য State Health Index এর প্রবর্তন করে NITI আয়োগ।

ভারত ২০২০ সালে চিকিৎসা পর্যটন থেকে প্রচুর ডলার আয় করবে বলে বলা হচ্ছে। এবং তা হচ্ছিলও। অবশ্যই করোনা- পূর্ববর্তী সময়ে। তার জন্য অন্য দেশের তুলনায় এদেশে স্বল্পমূল্যে উন্নত চিকিৎসা, সহজে ভিসা প্রাপ্তি বড় কারন। বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, মালদ্বীপ,নাইজিরিয়া থেকে প্রচুর মানুষ এখানে আসে। অথচ ভারতের মানুষই এই সুবিধা নিতে পারেন না।কি অদ্ভুত বৈপরীত্য! ২০১৫- ২০১৮ সালে ভারতে আসা বাংলাদেশি মেডিক্যাল টুরিষ্ট বেড়েছে প্রায় ৮০%। বিশ্বব্যাংক বলছে,বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা খোদ ভারতে। কিন্তু বীমার সুযোগ না থাকায় অধিকাংশ মানুষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
তৃণমূল স্তরে টেস্টিং ল্যবের অভাব,চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব,যন্ত্রাদির অপ্রতুলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সাম্প্রতিক কোভিড অতিমারির ক্ষেত্রেও। যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে সেই পরিকাঠামো তৈরি করতে নাভিশ্বাস উঠেছে। অতিরিক্ত অর্থব্যয় আবশ্যক হয়ে উঠছে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে।জনস্বাস্থ্য, টীকাকরণ ইত্যাদিতে জোর দিতে হবে এখনি। আর বর্তমানে কোভিডের আড়ালে যে অনেক অন্যন্য রোগগ্রস্তরাও অকুল পাথারে, তা বলাই বাহুল্য। একই গুরুত্ব ও প্রাধান্য দিয়ে তাদের চিকিৎসাও সুনিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি নতুন করে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা ও সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরী।কথায় বলে 'স্বাস্থ্যই সম্পদ '।
দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো না হলে অদূর ভবিষ্যতে অতিমারি মোকাবিলা করা কোনমতেই  সম্ভব হয়ে উঠবে না।অতএব সাধু সাবধান!

     লেখক পার্থ সারথি চক্রবর্তী 
কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ











বৈশাখী প্রার্থনা 

স্মৃতি ফুঁড়ে জেগে ওঠে সবুজ 
স্বপ্নের দিন পহেলা বৈশাখ,
বৈশাখী মেলার বাঁশি বেজে ওঠে 
স্নায়ু কোষে,মেখে শুনি ডাক।

গুড়িগুড়ি বৃষ্টিধারা,আকাঙ্খার মাটি
শোনে শুধু সম্ভাবনা, 
সুদূর শৈশব থেকে ধেয়ে আসা
বৈশাখীর সেই কালো ফণা।

এখনো বৈশাখ মানে শুধু বৃষ্টি আশা?
আর চৈত্রের ফাটা মাঠ--
এখনো বৈশাখ মানে স্বপ্নাহত
কৃষকের খেয়াহীন ঘাট?

দিন যায় মাস যায় বছর পেরিয়ে যায় 
কুহকিনী আশা!
চৈত্রের মাঠের কাছে কেবলি ছড়িয়ে যায় 
বৃষ্টির পিপাসা।

এবার বৈশাখে তবে বৃষ্টি হোক
স্নিগ্ধ বৃষ্টি পেলব কোমল, 
মাটিকে করুক শস্যবতী রমণীর মতো 
মায়াবী সজল।

দৃষ্টির লাবণ্য মুগ্ধ করুক,আসুক
ফিরে আকাঙ্ক্ষার দিন,
দূর হোক দুঃখদৈন্য, হালখাতা খুলে
তুমি মুক্ত করো ঋণ।

এবার বৈশাখ হোক ধ্বংসের ওপরে
সৃষ্টি জাগানিয়া মাস।
ফুলে ফুলে সুশোভিত নকশীকাঁথার মত,
এমন কি নিঃস্ব ঘাস!

সেও যেনো সজীবতা ফিরে পায়
এবার বৈশাখে
ভরে থাক চরাচর-নতুন আনন্দ ধ্বনি 
সুর তোলা ঢাকে।

বৈশাখী ঝড়ের কাছে এবার রেখেছি
এই তীব্র আবেদন,
ধ্বংস করে অন্ধকার, আলোয় ভরুক
প্রিয় স্বদেশ অঙ্গন।

কবি প্রেমাংশু শ্রাবণ 
যশোর, বাংলাদেশ














নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ হোম

ব্লগ সংরক্ষাণাগার

  • আগস্ট (3)
  • জুলাই (22)
  • জুন (8)
  • নভেম্বর (15)
  • অক্টোবর (5)
  • সেপ্টেম্বর (81)
  • আগস্ট (66)
  • জুলাই (55)
  • জুন (56)
  • মে (57)
  • এপ্রিল (46)
  • মার্চ (15)
  • জানুয়ারি (14)
  • ডিসেম্বর (73)
  • নভেম্বর (103)
  • অক্টোবর (97)
  • সেপ্টেম্বর (101)
  • আগস্ট (120)
  • জুলাই (88)
  • জুন (76)
  • মে (63)
  • এপ্রিল (11)

🔴বিজ্ঞপ্তি:

পাঁচ মাসের বিরতি কাটিয়ে আবার ও ফিরছি আমরা। খুব শীগ্রই আসছে আমাদের প্রত্যাবর্তন সংখ্যা।

অনুসরণ করুণ

এক মাসের সর্বাধিক পঠিত পোস্টগুলি:

  • শান্তনু গুড়িয়ার কবিতা
  • ফেরারি মন ~ অসীম বিশ্বাসের কবিতা
  • তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা
  • গেরস্থালি ~ অনুশ্রী যশের কবিতা
  • শ্রমনিবিড় ~ সুমনা ভট্টাচার্য্য'র কবিতা
  • সৌগত রাণা কবিয়ালের কবিতা
  • উষ্ণতা ~ পিঙ্কি ঘোষের কবিতা
  • প্রচ্ছদ, সূচিপত্র ও সম্পাদকীয়
  • ধোঁয়াশা অথবা ছেলেবেলার ডাকনাম ~ সুকান্ত মণ্ডলের কবিতা
  • প্রেমাংশু শ্রাবণের কবিতা

বিষয়সমূহ

  • Poetry speaks 2
  • অণু কথারা 21
  • আবার গল্পের দেশে 8
  • উৎসব সংখ্যা ১৪২৭ 90
  • একুশে কবিতা প্রতিযোগিতা ২০২১ 22
  • এবং নিবন্ধ 3
  • কবিতা যাপন 170
  • কবিতার দখিনা দুয়ার 35
  • কিশলয় সংখ্যা ১৪২৭ 67
  • খোলা চিঠিদের ডাকবাক্স 1
  • গল্পের দেশে 17
  • ছড়ার ভুবন 7
  • জমকালো রবিবার ২ 29
  • জমকালো রবিবার সংখ্যা ১ 21
  • জমকালো রবিবার ৩ 49
  • জমকালো রবিবার ৪ 56
  • জমকালো রবিবার ৫ 28
  • জমকালো রবিবার ৬ 38
  • দৈনিক কবিতা যাপন 19
  • দৈনিক গল্পের দেশে 2
  • দৈনিক প্রবন্ধমালা 1
  • ধারাবাহিক উপন্যাস 3
  • ধারাবাহিক স্মৃতি আলেখ্য 2
  • পোয়েট্রি স্পিকস 5
  • প্রতিদিনের সংখ্যা 218
  • প্রত্যাবর্তন সংখ্যা 33
  • প্রবন্ধমালা 8
  • বিশেষ ভ্রমণ সংখ্যা 10
  • বিশেষ সংখ্যা: আমার প্রিয় শিক্ষক 33
  • বিশেষ সংখ্যা: স্বাধীনতা ও যুবসমাজ 10
  • ভ্রমণ ডায়েরি 1
  • মুক্তগদ্যের কথামালা 5
  • রম্যরচনা 2
  • শীত সংখ্যা ~ ১৪২৭ 60

Advertisement

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

মোট পাঠক সংখ্যা

লেখা পাঠাবার নিয়মাবলী:

১. শুধুমাত্র কবিতা, মুক্তগদ্য অথবা অণুগল্প পাঠাবেন। ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং অন্যান্য বিষয়ক লেখা সম্পূর্ণ আমন্ত্রিত। ২. লাইনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। ৩. লেখা মেইল বডিতে টাইপ করে পাঠাবেন। ৪. লেখা মৌলিক ও অপ্রকাশিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। অন্য কোনো ব্লগ, ওয়েবজিন অথবা প্রিন্টিং মিডিয়ায় প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ৫. মেইলে আপনার লেখাটি সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত, কথাটি উল্লেখ করবেন। ৬. লেখার সাথে আবশ্যিক ভাবে এক কপি ছবি ও সংক্ষিপ্ত ঠিকানা পাঠাবেন।  ৭. লেখা নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হবে। এক মাসের মধ্যে কোনো উত্তর না এলে লেখাটি অমনোনীত ধরে নিতে হবে। ৮. আপনার লেখাটি প্রকাশ পেলে তার লিঙ্ক শেয়ার করাটা আপনার আবশ্যিক কর্তব্য। আশাকরি কথাটি আপনারা মেনে চলবেন। আমাদের মেইল- hridspondonmag@gmail.com
blogger-disqus-facebook

শান্তনু শ্রেষ্ঠা, সম্পাদক

আমার ফটো
পূর্ব বর্ধমান, India
আমার সম্পূর্ণ প্রোফাইল দেখুন

সাম্প্রতিক প্রশংসিত লেখা:

তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা

তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা

সুজিত রেজের কবিতা

সুজিত রেজের কবিতা

গুচ্ছ কবিতায় ~ দালান জাহান

গুচ্ছ কবিতায় ~ দালান জাহান

পার্থ প্রতিম পালের অণুগল্প

পার্থ প্রতিম পালের অণুগল্প

বর্ণজিৎ বর্মনের কবিতা

বর্ণজিৎ বর্মনের কবিতা

হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন

© হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন। শান্তনু শ্রেষ্ঠা কর্তৃৃক পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত থেকে প্রকাশিত।

Designed by OddThemes | Distributed by Gooyaabi Templates