হৃদস্পন্দন

  • Home


  • Download

  • Social

  • Feature


সৌমিত্র চৌধুরীর অণুগল্প 
টিয়ার খোঁজে 

এই পাড়াতে আমি এখনও আসি। 

আগে আসতাম টিয়াকে দেখবো বলে। টিয়ার ভালো নাম সুদর্শনা। সুদর্শনা সকালের টিউশনি ফেরতা পাঁই পাঁই করে সাইকেল চালিয়ে বন্ধুদের অনেকটা পেছনে ফেলে চলে আসতো। বটতলা মোড়ে হ্যান্ডেলে হাল্কা মোচর মেরে ডানদিকের ফাঁকা রাস্তা ধরত। তারপর ফুল ছাপ ওড়না বাতাসে দুলিয়ে সোজা আমতলা মাঠ। আম গাছের নিচে কয়েকটা ভাঙাচোরা সিমেন্ট বাঁধাই বেঞ্চি। একটা দখল করে আমি বসে থাকতাম। ও সাইকেলটা স্ট্যান্ড করে এদিক ওদিক ঘাড় ঘুরিয়ে নিচু গলায় কথা বলত। আমার খেলা নিয়েই বকবক করত বেশি। কোন ম্যাচে আমার সটে গোল হলে ওর আনন্দ দেখে কে? বলত, ‘কার্লোস, কলকাতার ময়দানে খেলবে তুমি একদিন’। কথা চলত অল্প সময়। তারমধ্যেই ও হঠাৎ লাফ দিয়ে উঠত। ‘দেরি হয়ে গেল কালোদা, আমি যাচ্ছি’ বলেই পাখির মত ফুড়ুৎ করে হাওয়া। আম গাছের মগ ডালে ঘন পাতার আড়ালে কয়েকটা টিয়া তখন ট্যাঁ ট্যাঁ করে উঠত। ওদিকে পিছন ফিরে সাইকেলের প্যাডেল দাবাতে দাবাতে সুদর্শনাও পাখির সুরে গলা সপ্তমে তুলত। 
তখন গড়িয়ে যাওয়া সকাল। ওর স্কুল যাওয়ার তাড়া। ক্লাশ নাইনের ভালো ছাত্রী ও। আমার প্রথম বর্ষ। পাসকোর্স। মফস্বলের কলেজ। ক্লাসে যাবার তাড়া নেই। গেলেও হয়, না গেলেও। সুদর্শনা চলে গেলে আমতলা মাঠে কয়েকজন বন্ধুর সাথে হাল্কা একটু ফুটবল খেলে বাড়ি ফিরি। ফুটবল আমার রক্তে ছিল। জেলার টিমেও তিন বছর খেললাম।  
তত দিনে সুদর্শনা রায় চলে গেল চেন্নাই। মেডিক্যাল পড়তে। আমি বেকার। ফুটবল তো পয়সা দেয় না। তাই ছাত্র পড়াই। আর সম্ভবনা নেই জেনেও নির্ভুল ইংরাজিতে চাকরির দরখাস্ত লিখে চলি। মোবাইল হোয়াটস অ্যাপে যোগাযোগ করে সুদর্শনার ব্যস্ততার খবর জানতে পারি। আরও জানতে পারি, সুদর্শনার বাবা চান তাঁর একমাত্র মেয়ে যেন বাংলাতে না ফেরে।  
সব জেনেও এ-পাড়াতে আমি ফিরে ফিরে আসি। সাইকেল ঠেঙিয়ে এসে ভাঙা বেঞ্চিটা দখল করি। আমতলার মাঠে বাচ্চা-জোয়ান এখনও কার্লোস রোনাল্ডোর স্বপ্ন বুকে নিয়ে ফুটবলে লাথি মারে। আমগাছের উঁচু শাখায় একটা পাখির ট্যাঁ ট্যাঁ শুনতে পাই। 

গাছের মগ ডালে পাতার আড়ালে আমি টিয়াকে খুঁজতে থাকি। 

সাহিত্যিক সৌমিত্র চৌধুরী
নিউটাউন, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ 



লেখক পরিচিতিঃ 

ড. সৌমিত্র কুমার চৌধুরী (জন্ম 25.11.1954, মালদা) বিশিষ্ট ক্যানসার বিজ্ঞানি ও লেখক। ভূতপূর্ব বিভাগীয় প্রধান ও এমেরিটাস মেডিক্যাল সায়েন্টিস্ট (ICMR); চিত্তরঞ্জন জাতীয় কর্কট রোগ গবেষণা সংস্থা। অধ্যাপনা করেছেন এবং তিন দশক কর্কট রোগ সংক্রান্ত গবেষণায় নিযুক্ত। ক্যানসার বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে শতাধিক গবেষণা পত্র। আবিষ্কৃত পেটেন্টের সংখ্যা দুটি। পেটেন্টের ভিত্তিতে করে ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টায় রত দিল্লীর আই সি এম আর। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বহু গবেষণা সংস্থার সদস্য ড. চৌধুরীর অধিনে ডক্টরেট ডিগ্রী সম্পূর্ণ করেছেন দশ জন ছাত্র-ছাত্রী।

বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি অসংখ্য গল্প কবিতা প্রবন্ধ, ভ্রমণ আখ্যান এবং কয়েকটি উপন্যাস লিখেছেন। বহু বিদেশী গল্প কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেছেন। বিজ্ঞান বিষয়ক শতাধিক রচনা বাংলা পত্রিকায় (জ্ঞান ও বিজ্ঞান, কিশোর বিজ্ঞানী, কিশোর জ্ঞান বিজ্ঞান, বিজ্ঞান বিচিত্রা ইত্যাদি) প্রকাশিত হয়েছে।  বহু সাহিত্য পত্রিকায় – দেশ, বর্তমান, এই সময়, কথা সাহিত্য, একুশ শতক, শৈব ভারতী, সঙ্কেত ইত্যাদি— অসংখ্য ছোটগল্প লিখেছেন তিনি। 

পুরস্কারঃ 
‘যোগমায়া স্মৃতি পুরস্কার’ (২০১৫), জ্ঞান ও বিজ্ঞান পত্রিকায় বছরের শ্রেষ্ঠ রচনার জন্য্য। 
‘চৌরঙ্গী নাথ’ পুরস্কার (২০১৮), শৈব ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত উপন্যাসের জন্য। 
গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য স্মৃতি পুরষ্কার (2019), পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দফতর থেকে), পঁচিশ বছরের অধিক কাল বাংলা ভাষায় জনপ্রিয় বিজ্ঞান রচনার জন্য)।   

প্রকাশিত বইঃ 
১। বিজ্ঞানের জানা অজানা (কিশোর উপযোগী বিজ্ঞান) 
২। আমার বাগান (গল্পগ্রন্থ)। 
৩। বিদেশী সংস্থায় গবেষণা গ্রন্থঃ Anticanc cancer Drugs-Nature synthesis and cell (Intech)।

   
























জাগলারি
মীরা মুখোপাধ্যায়

হাত থেকে  পড়ে গেলো শব্দের জাগলারি
ঝন্ করে। ভালো লাগছেনা, ভালো  লাগছেনা এই
শব্দদাস হয়ে সত্রে সত্রে মাধুকরী

বরং বৃষ্টির মধ্যে হেঁটে আসি নলবন দিয়ে 
বরং যেটুকু আলো সন্ধ্যাবেলা 
মেঘ ভেঙে নেমে আসছে তাই মাখি....
বরং যে কটি ঘাস আজো বাঁচে
দাঁতে নখে লড়ে তাহাদের কাছে বসি

এ বয়সে জাগলারি
ভালো লাগছেনা, আর ভালো লাগছেনা

কবি মীরা মুখোপাধ্যায়
তেলিপুকুর, ডাক শিমুরালী, নদীয়া




অরুণ কুমার দাঁ এর দুটি কবিতা 

ইচ্ছে নদী 

রূপকথা সব ঘুমিয়ে গেছে
ইচ্ছে নদী জাগে -
প্লাবন গ্রাম মেঘের ছায়া
আতরগন্ধ ঢাকে -
জলছবিতে ভাসছে চাঁদ
এমন দৃশ্য দেখে
উঠলো নেচে আধপোড়া গ্রাম
জ্যোৎস্না গায়ে মেখে ।

বাক্স

সবার একটা গোপন বাক্স থাকে-
জমির দলিল
স্মৃতিমাখা কিছু পোস্টকার্ড
অনেক খুচরো পয়সা -
জংধরা কিছু দুঃখ
চকচকে কিছু স্বপ্নআদর
পাঁচ টাকার কয়েন ।

সবাই বহু যত্নে আমৃত্যু
বাক্সটাকে আগলে রাখে। 

কবি অরুন কুমার দাঁ
ভিড়িঙ্গি স্কুলপাড়া, দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান


















ডাক্তারের মৃত্যু এবং 
শান্তনু গুড়িয়া

ডাক্তাররা যে মানুষ মারে ---
এ-কথাটা আজ পাবলিকে জানে
কিন্তু একজন ডাক্তার কীভাবে মারা যায়
সে খবরে কারও আগ্রহ থাকে না!

কেউ বলে, ডাক্তাররা মানুষ না, দেবতা ---
তাদের আবার মৃত্যু হয় নাকি?
রোগ-শোক তাদের ছুঁতেই পারে না
উল্টে তারাই মনেপ্রাণে মানুষের সর্বনাশ চায়
ঘটিবাটি বিক্রি করা চিকিৎসার নামে
ব্যবসা চালায় --- আমৃত্যু রোগকে জিইয়ে
রাখার পদ্ধতি তারা ভালোমতোই জানে । 
কারো মতে, ডাক্তারের মরণ হয়
তারই মতো অর্থপিশাচ কোন সতীর্থর হাতে। 
আবার কারও মতে, মৃত্যু নিকট জেনে  
হাইডোজ ঘুমের ওষুধ মদের সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে
ডাক্তার শেষবারের মতো ঘুমোতে যায়। 
তাছাড়া ভুল ইনজেকশনে মৃত্যু তো
তাদের নখদর্পণে --- কেউ কেউ বলে। 
ভাইরাস প্রাণঘাতী জেনেও
পিছিয়ে যায় না ডাক্তার
অর্থলোভ নাকি এতটাই
কিন্তু বোধহয় সত্যি  নয় এগুলোর কোনোটাই। 

আদতে ডাক্তারের মৃত্যু যেভাবেই হোক না কেন
তার মৃত্যু নিয়ে কেউ ভাবিত নয়  ---
এমনকি রোগীর পরিজনের হাতে কখনো কখনো
ডাক্তারের মৃত্যুর দিনক্ষণ স্থির হয়!

মৃত্যুর পর ডাক্তারের আত্মা কি শান্তি পায় ?
বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার ঘূর্ণাবর্ত পাক খায়
পাক খেতে খেতে একদিন মিশে যায়
                  ঝরা পাতার দলে
যে নাকি একদা পথে বসিয়েছে কত পরিবারকে
                  ছলে-বলে-কৌশলে!

কবি শান্তনু গুড়িয়া
বেড়াবেড়িয়া, বাগনান, হাওড়া


















প্রবীর দে'র রম্য রচনা 
জিপিদার ডায়েরি—১৫

'সৃজন প্রক্রিয়া' 

অতিমারী বা মহামারী বা ইংরেজিতে প্যান্ডামিক যা-ই চলছে বলি না কেন যারা বেঁচে আছি এখনও তাদের অধিকাংশই মনমারীর কবলে আছি নিশ্চিত ভাবে বলা  যেতে পারে ।

সকাল থেকে ওয়ার্ক ফর্ম হোম সামলে  ঘরের বউ এর ফাইফরমাশের গুঁতো খেতে খেতে কেমন যেন বোকা বোকা স্বভাবের হয়ে গেছি। হয়ত সত্যিই বোকা নই,কিন্তু নিজেকে কেন জানি না আজকাল ওরকমই মনে হয়।সন্ধ্যার পরে বউ যখন টিভির সিরিয়ালে ধ্যানস্থ হয় ,তখন একটু যা ফুরসৎ মেলে...।ঐ তখনই একটু অনলাইন আড্ডায় জিপিদাকে পাই।জিপিদারও তো আমার ই দশা...।

নাহ্,আজ আর বেশিক্ষণ রিংটোন এর মিউজিক শুনতে হয়নি মোবাইলে,জিপিদা শুরুতে ই ফোন এটেন্ড করতে সমর্থ হয়েছে। কি জানি,আজ হয়ত বাড়ির ডিউটি চার্টে  রিলাক্সেশন পেয়েছেন !

প্যান্ডামিকে অফলাইন পড়াশুনা র  সাময়িক অব্যাহতি,ধীরে ধীরে সাবজেক্টিভ প্রশ্ন প্যাটার্ন থেকে অবজেক্টিভ প্রশ্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন ব্যবস্থা র প্রবর্তন,আর চলতি পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক (জনমত ) সিদ্ধান্তের সংমিশ্রণে গৃহীত পরীক্ষাহীন মূল্যায়ন ব্যবস্থার প্রচলন ,অনলাইন লুকোচুরি র মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থার প্রচলন,(অনলাইন লুকোচুরি বিষয়টি না বুঝতে পারলে অবশ্যই  ছোট একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে পারি ---গুগল মিটে লাইভ ক্লাস করতে করতে  কয়েকটি অঙ্ক করতে দিয়ে  পারিবারিক ফাইফরমাশ খাটা...এরকম আর কি),ভুয়ো টীকাকরন হল কিনা সে টেনশনে জ্বর এসে গিয়ে করোনা টেষ্টের  বিড়ম্বনা...প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে জিপিদার গুরুত্বপূর্ণ মতামত নিতে নিতে বেশ সমৃদ্ধ হচ্ছি বেশ কিছুক্ষণ ধরেই...।
হটাৎ মনে হল আলোচনাটির ডাইমেনশন টা একটু ঘুরিয়ে দিই। 
বললাম," জিপিদা,বর্তমানে ইলেকট্রনিক সোসাল মিডিয়ায় এত যে সাহিত্য সৃজনের বিপ্লব (মূলত কবিতা বিপ্লব  বলা যেতে পারে ) চলছে ....সে সম্বন্ধে কিছু খবর- টবর রাখ কি তুমি?
একথা বলার পর একটা কথার ঝড় ওঠার সম্ভাবনা আছে জানতাম,তবে রিস্ক নিলাম ভার্চুয়াল সাক্ষাৎ বলেই।
টেলিফোনে ওদিক থেকে যে ভয়েসটা এতক্ষণ আসছিল,তার পরিবর্তন ঘটবে  জানতাম, হ্যাঁ সে অনুমান মিলেই গেল… 
"খবর রাখি মানে?তোর একথার আসল মানে টা কি?আরে গত সপ্তাহে এই বিষয়ে একটা  আস্ত  প্রবন্ধ লিখে ফেললাম...আর তুই বলছিস্ খবর -টবর রাখি কিনা"! 

জিপিদার মানভঞ্জন করতে তো বেশী সময় লাগে না ….একবার শুধু বললাম ,'জান তো জিপিদা,ম্যানেজমেন্ট চাইছে লকডাউনের বিধিনিষেধ একটু শিথিল হলেই অফিস খুলে দিতে...ওয়ার্ক ফ্রম হোম বাতিল! তোমায় জাস্ট খবরটা জানালাম …’ 
ব্যস! ওয়েদার চেঞ্জড্। 
আমার মুখ থেকে যখন শুনছে,তাতে হয়ত বিশ্বাসটা এসেই গেছে যে খুব শীঘ্রই  'রাতদিন সাতদিন' বাড়ির অফিসারের কড়া শাসনে থাকার জ্বালা থেকে কিছুটা অন্তত রেহাই মিলবে...  অর্থাৎ স্বাধীনভাবে একটু খোলা হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিতে পারবেন।

চুপ করে আছি বলে কিনা জানি না,দেখি নিজেই বর্তমান সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভারচুয়াল সাহিত্য সৃজন প্রক্রিয়া সম্বন্ধে বলতে আরম্ভ করলেন...

“এই যে কথাটি বললি না ,’ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়াতে  সাহিত্য বিপ্লব ‘ –এটাকে একটুও হালকা দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার চেষ্টা করিস না যেন । আরে বাবা,এই প্যান্ডামিক পরিস্থিতিতে মানুষ  ঘরের মধ্যে দিনের পর দিন ভারাক্রান্ত মনে প্রায় বন্দীদশায় দিন কাটাচ্ছে ।চারিদিকে বহু পরিচিতজনের মৃত্যু মিছিলে বিষন্ন মনকে  হাল্কা করতে সচেষ্ট হয়ে মানুষ  যদি  তার অনুভূতিকে সৃষ্টিশীল বিষয়ে রূপদান করতে চায় কিম্বা বলা যায় সৃজনশীল বিষয়কে আঁকড়ে ধরে কাটাতে চায় তো ক্ষতি কি ?

কিন্তু মুশকিল টা কোথায় জানিস!
সবক্ষেত্রে উদ্দেশ্যটা ঠিক এক রকম থাকছে না। সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ থাকুক বা না থাকুক সাহিত্য কর্মসৃষ্টির প্রকাশের দ্বারা  সোসাল এসটিম নিডস্ ফুলফিলের প্রচেষ্টান্মুখ কিছু ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিও পরিলক্ষিত হচ্ছে।অধিক উৎপাদন হচ্ছে হয়ত কিন্তু গুণগত দিক থেকে প্রশ্নচিহ্ন  রয়েই যাচ্ছে।আর লক্ষ্য করলে দেখতে পাবি বর্তমানে পাঠকের চেয়ে লেখকের সংখ্যা অনেক বেশী।পড়ছে না কেউ ঠিকঠাক,শুধু লাইক দিলেই হল। আর একটা বিষয় আছে ,সাহিত্যের সকল শাখায় কিন্তু সৃজন বৃদ্ধির হার তো আর এক নয়,  শুধু  কবিতা আর কবিতা...গল্প,প্রবন্ধ  ইত্যাদির সংখ্যা তো নগণ্য। আর কবিতাও এখন  টি টুয়েন্টি ম্যাচের মত অথবা বলা যায় অবজেক্টিভ টাইপ প্রশ্নের মত।  কবিতারও আবার এখন অনেক ভাগ  -- অনু কবিতা,পরমানু কবিতা ,চার লাইনের কবিতা, সাত শব্দের কবিতা… ইত্যাদি ইত্যাদি ।এরপর হয়ত এক শব্দের কবিতা লেখার প্রচলন ঘটবে । 
তখন কেউ হয়ত  সম্বন্ধী শব্দের প্রতিশব্দটি লিখে উপরে হেডিং দিল 
‘এক শব্দের কবিতা – ………
কবি……’।

কিন্তু জিপিদা,এসবের কারণটা কি সে সম্বন্ধে কোন আইডিয়া দিতে পার…

'আমার কি মনে হয় জানিস,সাম্প্রতিক কালের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন অর্থাৎ সাবজেক্টিভ থেকে অবজেক্টিভ টাইপ এ আসাটা কবিতাকে হয়ত প্রভাবিত করেছে।মানুষ এখন সৃজনের মানের চেয়ে  প্রচার যন্ত্রের সক্রিয়তার দ্বারা নিজেকে খুব সহজে প্রকাশিত করতে চাইছে হয়ত।নতুন নতুন কবিতা ঘরানার প্রবর্তনের প্রচেষ্টার পিছনেও হয়ত এ উদ্দেশ্য থাকতে পারে । হ্যাঁ,ঘরানা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে মৌলিকত্বকে অস্বীকার করছিনা,ঠিকই তবে গ্রহন করার বিষয়ে স্বাধীনতা তো রয়েছেই।তবে হ্যাঁ ,এসবের ফলে কালজয়ী সৃজনের ফোকাস কিছুটা হয়ত বাধাপ্রাপ্ত হয়।আর কবিতার ঘরানা তৈরির ক্ষেত্রে অনুমোদন প্রদানকারী কোন নির্দিষ্ট যোগ্য প্রতিষ্ঠান না থাকায় কবিতার বিচিত্রতায় হয়ত সমৃদ্ধ হচ্ছি ঠিকই,কিন্তু ভাবিকালে এসবের গ্রহনযোগ্য অস্তিত্ব কতটা মজবুত হবে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ।সেক্ষেত্রে পরে মনে হতে পারে ,সময় নষ্ট হয় নি তো !অবশ্য এগুলো আমার একান্ত নিজস্ব মতামত।

একনাগাড়ে অনেক কিছুই বলে গেলেন জিপিদা। খুব যে বিস্মিত হয়েছি তা বলবো না।জিপিদার থেকে আর নতুন কিছু তো পেতে হবে …
বললাম ,এত যে কবিতা প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে জিপিদা …কত যে অনুভুতি, কল্পনা, বাস্তবের অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি কবিতায় রূপ পাচ্ছে … তা এ সবই কি মৌলিক ভাবনা ?

প্রশ্নটা যে বিতর্কিত সে সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল বটে,কিন্তু জিপিদার মতামত আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জিপিদা হয়ত একটু গম্ভীর হয়ে গেলেন। টেলিফোনে  স্বল্প সময়ের নীরবতা  … তারপর গলাখাকারির শব্দ...জিপিদা বলতে লাগলেন…

“জানিস তো ,ভালো কবিতা যে বেরোচ্ছে না  তা একদম নয়। প্রচুর ভালো ভালো কবিতা  হচ্ছে একালেও । ভালো লাগাটা আপেক্ষিক মানছি। তবে মৌলিক কবিতার সংখ্যা খুব বেশী  কিনা তা নিয়ে অবশ্য আলোচনার অবকাশ আছে।বেশ কিছু কবিতা খুব ভালভাবে পরখ করছি বেশ কিছুদিন ধরে। তা কিছু কবিতা সৃজনের প্রক্রিয়া সম্বন্ধে একটা ধারনা তৈরি করতে পেরেছি।  
আসলে কি জানিস ,আজকাল বেশ কিছু  কবিতা তৈরি হচ্ছে নৈর্ব্যক্তিক প্যাটার্নের  প্রশ্নের অন্তর্গত শূন্যস্থান পূরণের  মত  কিম্বা বলা যায় একত্রিতকরন শিল্পের প্রক্রিয়ার মত। 

খুব আগ্রহ সহকারে বললাম,‘তা একটু গুছিয়ে বল,শুনি… বেশ ইন্টারেস্টিং 
লাগছে …’।

জিপিদা হয়ত উৎসাহ পেলেন…আবার 
শুরু হল…

জীবনানন্দ বলেছিলেন,’সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি ‘। কিন্তু  সকলে তা মানছে না রে!কবি হতেই হবে! আর এক্ষেত্রে  কবিতা তৈরির গল্পটা সেই একই রকম ।এই একটু আগে যা  বললাম …ঐ শূন্যস্থান পূরণ পদ্ধতি নাহলে একত্রীকরণ পদ্ধতি।তবে প্রযুক্তির ব্যবহার মাস্ট ।

একটা কাল্পনিক উদাহরন দিলে তুই হয়ত বিষয় টা ভালো বুঝতে পারবি …

ধর তুই গুগলে গিয়ে সার্চ করে জীবনানন্দের কবিতা বার করলি … এবার বুক ক্রিকেট খেলার ঢঙে  হয়ত  একটা লাইন  সিলেক্ট করলি …
                                  ‘ তবুও মানুষ এই জীবনকে ভালোবাসে ‘
এবার তোকে এই কনসেপ্টে একটা চার লাইনের কবিতা তৈরি করতে হবে ।
এবার তুই  কি করবি…গুগলে গিয়ে লিখে দে ‘মানুষ,  ভালবাসা,কবিতা …’ 
এইরকম একটা কিছু লেখ ,যা কিছু  তোর মনে হবে…
অনেক নামী কবির  কবিতা এল … খুঁজতে খুঁজতে হয়ত তুই সুনীল গাঙ্গুলির ‘ওরে পথিক কেমন কাটল ‘ কবিতা থেকে  দুটো লাইন কপি পেস্ট করলি …
                                     
‘এক জীবনে অনেক সুদূর ,গোটা জীবন সাদা কালায় বোনা
হলুদ ভেবে ধরতে গেলাম ,আগুন আর রক্তভেজা সোনা ।‘

ব্যস ,হয়ে গেল! এবার নিজের ক্ষমতা থাকলে শূন্যস্থান পূরণ করে চতুর্থ লাইন তৈরি কর নাহলে আবার গুগ্লিং করতে থাক।এবার  চলে যাও জীবনানন্দতে …
                                       
‘রণেক্লান্ত নাবিক ঘরে ফিরে আসে যেন অসীম আকাশে’

আর চিন্তা কি … এবার তো  চারলাইনের কবিতা  তৈরিই হয়ে গেল … 

“এক জীবনে অনেক সুদূর,গোটা জীবন সাদা কালায় বোনা
হলুদ ভেবে ধরতে গেলাম ,আগুন আর রক্তভেজা সোনা ।
রণেক্লান্ত নাবিক ঘরে ফিরে আসে যেন অসীম আকাশে’
তবুও মানুষ এই জীবনকে ভালোবাসে“। 

এবার গুছিয়ে একটা নাম দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছেড়ে  দাও। কে আর পায় তোমায় ! দুশো লাইক আর একাত্তরটা কমেণ্ট তো রেডি হয়ে আছে।কবি তুমি হয়েই গেলে…‘।

কি উত্তর দেব বুঝতে না পেরে মোবাইল ফোনটার  দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে  নিশ্চিত হওয়ার চেস্টা করলাম ,রেকর্ডিং এর বাটন টাতে ক্লিক করেছিলাম তো…!

সাহিত্যিক প্রবীর দে
তুলসীবাগান ,বিরাটী, কোলকাতা -৫১




















তনিমা সাহার অণুগল্প 
হোঁচট

"ওওওও মা গোওও"...

বৃষ্টি হওয়ায় উঠোনটা পিচ্ছিল হয়ে আছে। তাড়াতাড়ি বেরোতে গিয়ে সুমির জুতো কাদায় আটকে উঠোনের ধারের দেওয়ালে গিয়ে ধাক্কা লাগে।

সুমি সদ্য হোঁচট খাওয়া ডানপায়ের বুড়ো আঙ্গুলটাকে চেপে ধরে বসে পরলো। সেখানে নখের চারপাশে কালো হয়ে ফুলে উঠেছে। সে দেয়ালটা ধরে ওঠার চেষ্টা করল। কোনমতে দাঁড়াতে গিয়ে যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠল সুমি। ওই চোট খাওয়া আঙ্গুল নিয়ে একপা হাঁটতে ব্যথায় সুমির প্রাণ বেরিয়ে যাচ্ছে। 

দাঁতে দাঁত চেপে সুমি বাড়ি থেকে বের হয়। আজ প্রায় একবছরের চেষ্টার পর চাকরির জন্য ইন্টারভিউয়ের কলটা এসেছে। এই একবছরে বহুবার বহুরকম হোঁচট খেয়েছে সুমি। অর্থাভাবে আপনজন কিভাবে ধাক্কা দিয়ে হোঁচট দেয় সেটাও জানা আছে তার। তাই হোঁচটের যন্ত্রণা সে ঠিক হজম করে নেবে। কারণ লড়াইটা যে এখনো বাকি। অনেক হোঁচটের জবাব তাকে দিতে হবে।


লেখিকা তনিমা সাহা
নারায়ণপুর, কোলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ













শোক গাঁথা
দেবদাস কুন্ডু 

সব তো ভেসে যাবে
এই দেহ এই হাড় মাংস অস্থি হৃদয় 
তবু কেন বিকেলের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকি
বিষন্নতা হাতে নিয়ে। 

জানি তো একদিন তুমি চলে যাবে
তোমার কথা তোমার ভাব তোমার অলংকার
তবু কেন রাতের মায়াবী আলোয়
বাউলের মতো তোমায় খুঁজি।

জানি আমি একদিন থাকবো না
তবু মাঝেমঝে পাশবই খুলে দেখি
ঘরের দেওয়ালের সংগে কথা বলি
অকারনে চিৎকার করি তোমার সংগে
অভিমানে চলে যাই কখনো দূরে। 

জানি তো এই সম্পর্ক ভেসে যাবে
অলকানন্দের জলে। 
তবু দুপায়ে জড়িয়ে থাকে অজস্র শ্যাওলা।

কবি দেবদাস কুণ্ডু 
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত


















সোমনাথ বেনিয়ার অণুগল্প 
ফাঁকা

বাবা আর মেয়ে। মেয়েকে বিয়ে দিলে ঘর ফাঁকা হয়ে যাবে ভেবে তার বিয়ের চিন্তা বাবা করে না। বাবার বন্ধুরা মেয়ের বিয়ের কথা তুললে বলে, "মা মরা একমাত্র মেয়ে। বিয়ে দিলে ঘরটা বড়ো ফাঁকা হয়ে যাবে গো!"
"তাই বলে বিয়ে দেবে না।"
"নাহ্, সেরকম‌ও নয়! আসলে ..."
     
এদিকে সেই মেয়ে এক ফাঁকে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করে নিলো। তার বাবা কষ্ট পেলেও মেয়ের বিবাহ পরবর্তী জীবন যাতে ভালো যায় সেই ভেবে বাড়িটা মেয়ের নামে লিখে দিলো আর তার বড়ো মুদির দোকান জামাইকে দান করে একদিন তিনি নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন। 
     এখন লোকটি ভাবে তার ঘর ফাঁকা থাকলো না আর যে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় তার তো ঘর‌ই থাকে না...

সাহিত্যিক সোমনাথ বেনিয়া
নিমতা, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ







শ্রীপর্ণা দে'র অণুগল্প 
শ্রীপর্ণা দে

আজ সকালে বকুলের মৃতদেহ বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।তাই অনিতার মন ভারাক্রান্ত। স্ত্রী নিরুদ্দেশ হওয়ায় চার বছরের মেয়ে অনিতাকে মাতৃত্বের স্বাদ দিতে অরিন্দম দ্বিতীয় বিয়ে করে। বছর পাঁচেক যেতেই মাতৃত্বের স্বাদ তো বহু দূরের কথা, নিজের বাড়িতে সে তার অধিকারটুকুও হারাতে শুরু করে। বাবা, সৎ মা, সৎ মাসি এমনকি সৎ ভাই দেবুরও সে চক্ষুশূল। অনিতার আপনজন বলতে শুধু আয়া বকুল।এতদিন বকুলই তাকে স্নেহের আঁচলে সমস্ত ঝড়ঝাপটা থেকে ঢেকে রেখেছিল।

সাতাশ বছরের অনিতার কাছে বকুলের পরিচয় ছিল বেতনভুক আয়ার। রাত্রে হঠাৎই বাবার ডায়েরি থেকে অনিতা জানতে পারে যে বকুলই তার হারিয়ে যাওয়া মা, তার একান্ত আত্মজন। তেইশ বছর অজান্তেই অনিতা মাতৃত্বের স্বাদ পেয়ে এসেছে। সকলের অগোচরে মাতৃবিয়োগে অনিতার দুচোখ জুড়ে ঘোর বর্ষা নামল।   

সাহিত্যিক শ্রীপর্ণা দে 
কান্দি, কলাবাগান, মুর্শিদাবাদ












বাবা-মা 
মিশর রায় 

এখন থেকে ওখান থেকে
      দু এক ফোঁটা যা সংগ্রহ
অতর্কিতে মা-এর দাহ
       বাবার প্রাণের দুষ্ট গ্রহ
ছড়িয়ে গেল মহাকাশের
       পাল্টে যাওয়া প্রত্নসীমায়
এ বিশ্ব তাই আর কারো নয়
       শুধু আমার শুধুই আমার

একলা থাকি একটা কোণে
      দশ কোন ওই জটলা করে
স্বপ্নব্যথায় বাস্তবতা 
        হাঁটতে শেখায় ধর্ম ধরে
প্রান্ত গভীর অন্ধকারে
        তলিয়ে যাব শুদ্ধ চিতায়
পারবো কি আর রক্ত ছেঁড়া
         মা বাবা-কে জন্ম দিতে

কবি মিশর রায়
মুকুন্দপুর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ 


প্রচ্ছদ- মিশর রায় 





ছত্রছায়া 
পার্থ প্রতিম পাল 

গভীরে রেখেছিলাম নদী আর একটা বৃক্ষ।বরফগলা জল আর শিরশিরে হাওয়ায় একটা রোমাঞ্চ অনুভব করেছিলাম।নদীটা গতিপথ পরিবর্তন করে নিয়েছে।বৃক্ষটা কাঠ কয়লার মত শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
দলবদল রংবদল কোনো কিছুই ভালো নয়;তার চেয়ে মৃত একটা বৃক্ষের তলায় শুয়ে থাকা ঢের ভালো।
প্রাণ না থাকলেও ছায়া আছে।

নদীতো ভাঙ্গা গড়ার মাস্টার 
বৃক্ষ মাটি কামড়ে থাকে।

 কবি পার্থ প্রতিম পাল 
শিলিগুড়ি, শিবমন্দির, রবীন্দ্রসরণি


























জীবাশ্ম 
রঞ্জন চক্রবর্ত্তী

অনামী কিশোর এক ঘুমিয়ে আছে পাহাড়ের কোলে
ভোরেই বেরিয়েছিল ফিরতে রাত হবে বলে,
কুয়াশার চাদরটা ভাল করে জড়িয়ে নিয়ে গায়ে
কাকভোরে হেঁটেছিল একা একা অতি দ্রুত পায়ে,
মাথায় চিন্তার বোঝা চোখের তলায় তার কালি
তোর্সা নদীর পাড়ে জীবনের প্রাচীন পাঁচালি,
দূর এক গ্রামে নাকি পাওয়া গেছে জীবাশ্ম প্রাচীন
নৃতত্ত্বের জাদুঘরে সেই গবেষণা রাতদিন।

ভরা পূর্ণিমার রাতে মৃতপ্রায় ছায়াগুলি হাসে
অথবা ছায়ার জীবাশ্ম বুড়ি তোর্সার জলে ভাসে,
খাবরটা বেরিয়েছে কাগজের তৃতীয় পাতায়
কিশোর ঘুমিয়ে আছে পাহাড়ি ফুলের বিছানায়।

কবি রঞ্জন চক্রবর্ত্তী
বরানগর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ 





কোন গ্রহ থেকে 
মৃত্যুঞ্জয় হালদার

কোন গ্রহ থেকে ছুটে আসে সে
ততোধিক ধিক্কারে করে অভিবাদন
মনেপ্রাণে দুঃখের বুদবুদ ভাসে                               
প্রলয়ীপ্রেম করি আস্বাদন।

কোন কামনায় কানাগলি খুঁজি
হেরে জেতা জীবনের আনকোরা খাতা
বিদ্রুপ বর্ণের বর্ণমালা বুঝি
ছিঁড়ে যাক উড়ে যাক বিবর্ণ পাতা।

কোন মোহে মুছে যায় সেই প্রতিশ্রুতি
সংসার সাগরে আলোড়ন যত
যদি ফেরে নিরালায় একাকি নিশুতি
নাম স্বরে করোজোড়ে হব নিয়োজিত।

কবি মৃত্যুঞ্জয় হালদার
                    গড়িয়া, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ 



নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ হোম

ব্লগ সংরক্ষাণাগার

  • আগস্ট (3)
  • জুলাই (22)
  • জুন (8)
  • নভেম্বর (15)
  • অক্টোবর (5)
  • সেপ্টেম্বর (81)
  • আগস্ট (66)
  • জুলাই (55)
  • জুন (56)
  • মে (57)
  • এপ্রিল (46)
  • মার্চ (15)
  • জানুয়ারি (14)
  • ডিসেম্বর (73)
  • নভেম্বর (103)
  • অক্টোবর (97)
  • সেপ্টেম্বর (101)
  • আগস্ট (120)
  • জুলাই (88)
  • জুন (76)
  • মে (63)
  • এপ্রিল (11)

🔴বিজ্ঞপ্তি:

পাঁচ মাসের বিরতি কাটিয়ে আবার ও ফিরছি আমরা। খুব শীগ্রই আসছে আমাদের প্রত্যাবর্তন সংখ্যা।

অনুসরণ করুণ

এক মাসের সর্বাধিক পঠিত পোস্টগুলি:

  • শান্তনু গুড়িয়ার কবিতা
  • ফেরারি মন ~ অসীম বিশ্বাসের কবিতা
  • তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা
  • গেরস্থালি ~ অনুশ্রী যশের কবিতা
  • শ্রমনিবিড় ~ সুমনা ভট্টাচার্য্য'র কবিতা
  • সৌগত রাণা কবিয়ালের কবিতা
  • উষ্ণতা ~ পিঙ্কি ঘোষের কবিতা
  • প্রচ্ছদ, সূচিপত্র ও সম্পাদকীয়
  • ধোঁয়াশা অথবা ছেলেবেলার ডাকনাম ~ সুকান্ত মণ্ডলের কবিতা
  • প্রেমাংশু শ্রাবণের কবিতা

বিষয়সমূহ

  • Poetry speaks 2
  • অণু কথারা 21
  • আবার গল্পের দেশে 8
  • উৎসব সংখ্যা ১৪২৭ 90
  • একুশে কবিতা প্রতিযোগিতা ২০২১ 22
  • এবং নিবন্ধ 3
  • কবিতা যাপন 170
  • কবিতার দখিনা দুয়ার 35
  • কিশলয় সংখ্যা ১৪২৭ 67
  • খোলা চিঠিদের ডাকবাক্স 1
  • গল্পের দেশে 17
  • ছড়ার ভুবন 7
  • জমকালো রবিবার ২ 29
  • জমকালো রবিবার সংখ্যা ১ 21
  • জমকালো রবিবার ৩ 49
  • জমকালো রবিবার ৪ 56
  • জমকালো রবিবার ৫ 28
  • জমকালো রবিবার ৬ 38
  • দৈনিক কবিতা যাপন 19
  • দৈনিক গল্পের দেশে 2
  • দৈনিক প্রবন্ধমালা 1
  • ধারাবাহিক উপন্যাস 3
  • ধারাবাহিক স্মৃতি আলেখ্য 2
  • পোয়েট্রি স্পিকস 5
  • প্রতিদিনের সংখ্যা 218
  • প্রত্যাবর্তন সংখ্যা 33
  • প্রবন্ধমালা 8
  • বিশেষ ভ্রমণ সংখ্যা 10
  • বিশেষ সংখ্যা: আমার প্রিয় শিক্ষক 33
  • বিশেষ সংখ্যা: স্বাধীনতা ও যুবসমাজ 10
  • ভ্রমণ ডায়েরি 1
  • মুক্তগদ্যের কথামালা 5
  • রম্যরচনা 2
  • শীত সংখ্যা ~ ১৪২৭ 60

Advertisement

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

মোট পাঠক সংখ্যা

লেখা পাঠাবার নিয়মাবলী:

১. শুধুমাত্র কবিতা, মুক্তগদ্য অথবা অণুগল্প পাঠাবেন। ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং অন্যান্য বিষয়ক লেখা সম্পূর্ণ আমন্ত্রিত। ২. লাইনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। ৩. লেখা মেইল বডিতে টাইপ করে পাঠাবেন। ৪. লেখা মৌলিক ও অপ্রকাশিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। অন্য কোনো ব্লগ, ওয়েবজিন অথবা প্রিন্টিং মিডিয়ায় প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ৫. মেইলে আপনার লেখাটি সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত, কথাটি উল্লেখ করবেন। ৬. লেখার সাথে আবশ্যিক ভাবে এক কপি ছবি ও সংক্ষিপ্ত ঠিকানা পাঠাবেন।  ৭. লেখা নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হবে। এক মাসের মধ্যে কোনো উত্তর না এলে লেখাটি অমনোনীত ধরে নিতে হবে। ৮. আপনার লেখাটি প্রকাশ পেলে তার লিঙ্ক শেয়ার করাটা আপনার আবশ্যিক কর্তব্য। আশাকরি কথাটি আপনারা মেনে চলবেন। আমাদের মেইল- hridspondonmag@gmail.com
blogger-disqus-facebook

শান্তনু শ্রেষ্ঠা, সম্পাদক

আমার ফটো
পূর্ব বর্ধমান, India
আমার সম্পূর্ণ প্রোফাইল দেখুন

সাম্প্রতিক প্রশংসিত লেখা:

তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা

তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা

সুজিত রেজের কবিতা

সুজিত রেজের কবিতা

গুচ্ছ কবিতায় ~ দালান জাহান

গুচ্ছ কবিতায় ~ দালান জাহান

পার্থ প্রতিম পালের অণুগল্প

পার্থ প্রতিম পালের অণুগল্প

বর্ণজিৎ বর্মনের কবিতা

বর্ণজিৎ বর্মনের কবিতা

হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন

© হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন। শান্তনু শ্রেষ্ঠা কর্তৃৃক পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত থেকে প্রকাশিত।

Designed by OddThemes | Distributed by Gooyaabi Templates