হৃদস্পন্দন

  • Home


  • Download

  • Social

  • Feature


পরমায়ু
গৌতম কুমার গুপ্ত 

স্বার্থ ছুঁয়ে থাকা অখন্ড এই মাংসপেশী
ভুল করেও পরার্থে কদাপি নয়
ফুল তুলে গেঁথে নেয় পবিত্র পাপে
মুঠোবন্দী করে  সময়সারণী 
      হাতের ম্যাজিকে

স্বর্গ থেকে আমদানী করে এনেছি 
মিহি বাতাসের লয়
সেই ই তো প্রথম এবং দুর্বোধ্য জয়
নরকে শুধু ভাগ করে রাখো 
      আদায়ের নয়ছয়

কাঁচ খুলে লুফে নেয় ঘ্রাণ স্বচ্ছ শরীর
অদ্ভূত মায়াবী গাত্রবর্ণে প্রতিমার ঢং
এঁকে ফেলি নিঁখুত এক উৎসবের রঙ

জলবায়ু আমাদের গৃহে ডেকে নেয়
কতটুকু জল আর কতটুক বায়ু
বেঁচে থাকা প্রবলে স্বার্থপর 
        আগামী পরমায়ু

কবি গৌতম কুমার গুপ্ত 
সুভাষপল্লী, বেনাচিতি, দুর্গাপুর
























রংধনু
সুকান্ত মণ্ডল 

অথচ খাঁ খাঁ রোদ্দুরে পুড়ে যাচ্ছিল শরীর
প্রেমহীন অরণ্যের দাবানল আকাশ ছুঁয়ে
মেঘের বিষাদ হয়ে ঝরেছিল সেদিন মনে।

প্রথম আলাপের কথা ভাবতে ভাবতে
মৌসুমী গিটারে শুনি বৃষ্টি নামার সুর।
কোথায় তুমি? কোন জানালায় পর্দা নামাও এখন?
বৃষ্টি দিনে একলা ছাতায় রোজ
                      এখনও আমি তোমার করি খোঁজ...

এলে, রঙ হয়ে এসো,
বেলা গড়িয়ে যাওয়ার আগে

বিবর্ণ আকাশে অন্তত একটা রংধনু এঁকে দিও।

কবি সুকান্ত মণ্ডল 
মালদা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত 




















সৌমিত্র চৌধুরীর ছোটগল্প 

সময়ের সাথে 

অন্যদিন এতটা অপেক্ষা করতে হয় না। আজ বহুক্ষণ দাঁড়িয়ে। সকাল থেকে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করে যেতে হয়। এখানে দাঁড়িয়ে এখন যে একটু স্বস্তির শ্বাস ফেলবে তার উপায় নেই। ছোট্ট জায়গায় ঠেসাঠেসি ভিড়। কতক্ষণ আর এক ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যায়। দু’পা, কোমর টন টন করছে। কষ্ট হচ্ছে খুব।  
সরু রাস্তার ধারে দুটো লম্বা দেবদারু গাছ। তার মাঝখানে ঘাস বিহীন চিলতে জমি। জমি ঘেঁসে রাস্তাটা বড় একটা বাঁক নিয়েছে। তারপর সোজা গিয়ে মিলেছে চওড়া সড়কে। গত বছর উদ্বোধন হয়েছে রাস্তাটার। এখনও জ্বল জ্বল করছে সাইনবোর্ডঃ পশ্চিমবঙ্গ সরকার নির্মিত রাজ্য সড়ক। তারিখঃ ২/১/২০০২। 
রাজ্য সড়ক খুবই প্রশস্ত কিন্তু এখানে রাস্তাটা চওড়া করা যায় নি। উন্নয়নের ছোঁয়া বর্জিত সরু পথ। পথের ধারে ক’হাতের চিলতে একটু জায়গা ফাঁকা পড়ে আছে। আর ওখানেই দম চাপা ভিড়। রোজ দিন না-হলেও সপ্তাহে ছ’দিন। বিশেষ করে স্কুল যখন ছুটি হয়।
স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে রোজই গজগজ করে সুদিপা। এত ছোট জায়গায় দাঁড়ানো যায়?  আটত্রিশের শরীরটা নিয়ে এক পাশে ঝুঁকে মাঝে মাঝেই প্রতিজ্ঞা করে ফেলে। কাল থেকে আর এখানে দাঁড়াবোই না। কিন্তু শপথ ভেঙে একফালি মাটির উপর গাদাগাদি ভিড়েই দাঁড়াতে হয়। অন্য উপায় তো নেই। স্কুলের সামনে ওটুকুই ফাঁকা জায়গা। 
চারটে বাজতে না বাজতেই হাজির হতে হয়। মৌচাকে মৌমাছিদের মত গায়ে গায়ে লেপটে থাকা। অন্যের গায়ে হেলান দিয়ে একরাশ ভন ভনানি শুনে যাওয়া। তারমধ্যে আবার কোন কোন দিন ধাক্কা ধাক্কি করেও পা’দুটো সোজা রেখে দাঁড়ানো যায় না। তার মধ্যে আবার কানে খোঁচা মারে হরেক শব্দ। আওয়াজ কখনও তীক্ষ্ণ কখনও মৃদু। গলা কখনও নরম কখনও গম্ভীর। দাঁড়িয়ে থাকা বাবা-মা’দের গলায় উৎকণ্ঠা। কখনও চাপা স্বরে ফিস ফিস। আবার উঁচু গলা। কথা কথা আর কথা। তাল মিলিয়ে সময় চলতে থাকে। 
রাস্তার খাঁজে ছায়া বিহীন সরু দুই দেবদারুর নিচে প্রত্যেক দিনই এক ছবি। শুধু রবিবার বাদ। স্কুলের সামনে সরু রাস্তার ওপারটায় গাদাগাদি ভিড়। রাস্তা একমুখী। হুস হুস গাড়ি ছুটছে। আগে এত গাড়ি চলত না। ইদানীং দেশী বিদেশী গাড়ির ঠেলায় রাস্তা পার হওয়া দায়। কেবলই কান ফাটানো চিৎকার। ঘন ঘন হর্ন বাজিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের পিলে চমকে দিয়ে ছুটছে গাড়ি গুলো। মানুষের পা যেন কোন মতেই রাস্তায় না-পড়ে। দু’টো দুর্ঘটনা ঘটেছে এই রাস্তায় গত মাসে। তাই লোকজন সতর্ক। যতই ভিড় থাক, গাদাগাদি করে চিলতে জায়গাটাতেই এক অন্যকে আঁকড়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
দাঁড়িয়ে থাকাটা কষ্টের। বয়স হচ্ছে তো! শীতকালে এক রকম কষ্ট। সবার গায়ে তখন সোয়েটার কোট। আয়তনে বেড়ে একেকটা মানুষের বেঢপ শরীর। ওই শরীরে চিলতে জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় অসম্ভব। বর্ষায় ছাতা মাথায় দিয়ে দাঁড়ানোর আবার অন্য হ্যাপা। আর গরম কালে বিকেল চারটাতেও তো রোদে ফটফট করে চারদিক। কপালে হামলে পড়ে চড়া রোদ। তবু শীত গ্রীষ্ম বর্ষার সব অসুবিধা মানিয়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেই হয়। মাথা ঝিম ঝিমিয়ে করে। দু’পায়ে টনটন। 
আজকে আবার রোদের বড্ড তাত। সঙ্গে গরম হাওয়া। সায়া ব্লাউজ ঘামে ভিজে সপ সপ করছে। গলায় মুখে চ্যাটচ্যাটে ঘাম। রুমাল দিয়ে মুখের ঘাম মুছল সুদিপা। তারপর স্কুলের গেটের দিকে টানটান তাকিয়ে রইল। চারটে দশ বাজলে স্কুলের পেল্লাই বন্ধ গেট খোলা হয়। এখনও দশ মিনিট বাকী। সময় যেন কাটতেই চায় না। 
গেট খুললে ছেলে মেয়েরা হুড়মুড় করে বেরোতে শুরু করবে। ছেলেদের নীল প্যান্ট, সাদা জামা। মেয়দের সাদা শার্ট, স্কারটের রঙও সাদা। সাদা নীল পোশাকে দল বেঁধে কিছু ছেলে মেয়ে স্কুলের গেট থেকে বেরিয়ে লাফাতে লাফাতে পুল কারে গিয়ে ওঠে। ওদের আগে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুল কারের চালক আর কন্ডাকটারদের দাবি মত এমনই ব্যবস্থা। ওরা চলে যাবার পরে উঁচু ক্লাসের ছেলে মেয়েরা বেরোয়। বাবা-মায়েরা সাবধানে রাস্তার ওপারে গিয়ে সন্তানের হাত ধরে। 
গাছ তলায় ভিড় কমতে থাকে। সুদিপা আর কয়েক জনকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। প্রতিদিনই একরাশ বিরক্তি ভাঁজ ফেলে সুদিপার মুখে। মনে মনে বলে, ওঃ, কেন যে বেরোতে এত দেরি করে পিউ! ওর বন্ধু টনি বিপু রনি সব একে একে বেরিয়ে যায়। কিন্তু পিউয়ের পাত্তা নেই।  মুখটা যদি পলক দেখা যেত! একবার ঘড়ির দিকে তাকাল সুদিপা। চারটে কুড়ি। এখনও বেরচ্ছে না! কোন বিপদ হয় নি তো? 
রোজই এক উৎকণ্ঠা। মাঝে মাঝে মাথা ঘুরে ওঠে। পা টলে যায়। তারপর রোদ আরেকটু হেলে পড়লে স্কুলের গেটে পিউর ঝলমলে মুখটা দেখতে পেয়ে স্বস্তির শ্বাস ফেলে সুদিপা।
-এত দেরী করলি কেন? 
-পলাশ আর দীপার সাথে গল্প করছিলাম।
-মা যে কখন থেকে অপেক্ষা করছে!
উত্তর দিল না পিউ। মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে একটু হাসল। তারপর ধীরে ধীরে বলল,
‘আজ হিস্ট্রি ম্যাম অনেকক্ষণ ক্লাশ নিলেন। পড়াতে পড়াতে কী বললেন জানো?’
-কী বললেন? 
-বললেন, ‘ইতিহাস মানে চলে যাওয়া সময়ের গল্প। এসব পড়তে হবে। তবে মনে রাখবে তোমাদের সময় কিন্তু সামনে পড়ে আছে...’। 
    কিছুক্ষন চুপ থেকে পিউ আবার বলল, ‘ম্যাম বলেছেন সময় কাজে লাগাও, দেখবে সময়ের গাড়ি চেপে একদিন পৌঁছে যাবে আলাস্কা আমাজন আমেরিকা। কথাটা কিন্তু দারুণ, তাই না মা’!
-ঠিকই তো। আর কী বলেছেন?
-মা, পরে বলবো। খুব খিদে পেয়েছে এখন’। 
-ও মা! বাড়ি চল তাড়াতাড়ি। এখন বিস্কুট আর জল খা। 
মেয়ের ক্ষুধার্থ মুখের দিকে তাকিয়ে সুদিপা বলল, ‘তোর বাবাও তো এখন বাড়ি ফিরবে। ওর জন্যও তো খাবার বানাতে হবে’। 
-তার চেয়ে চলো না মা, ওই দোকানটা থেকে বিরিয়ানি খেয়ে বাড়ি ফিরি। বাবার জন্যও নিয়ে যাই। 
-দোকানটা সদ্য খুলেছে। খাবার বানিয়ে দিতে সময় লাগবে। 
-একটু না হয় অপেক্ষা করি।
-তোর বাবা তো অফিস ফেরত অপেক্ষা করবে। ওকেও তো খেতে দিতে হবে। 
-বাবা আজ তাড়াতাড়ি ফিরবে কেন?
-জানিস না, সপ্তাহে দু’দিন সন্ধ্যা বেলা আরেকটা অফিসে গিয়ে কাজ করে।
-ঠিক আছে। আমাদের ফিরতে দেরী হবে, কথাটা বাবাকে ফোন করে জানিয়ে দাও।
-এখানে কোথা থেকে ফোন করবো? 
বেশ ঝাঁজাল স্বরে কথাটা বলল সুদিপা। খানিক বাদে মনটা একটু নরম হয়ে এল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে ধীরে ধীরে বলল, ‘বাজারের এসটিডি বুথ থেকে ফোন করা যায়। কিন্তু বাড়িতে ফোনটা ধরবে কে? ফোন তো বাজবে আমাদের শোবার ঘরে। আর তোর বাবা তো ফ্ল্যাটের বাইরে, নয়ত রাস্তায়। ফোনটা ধরবে কী ভাবে?
পিউয়ের হাত ধরে টানতে টানতে একটা অটো রিক্সায় উঠে সুদিপা বলল, ‘খুব ঘামছিস তুই’।
রুমালে মুখের ঘাম মুছতে মুছতে কি যেন ভাবছিল পিউ। একটু থেমে ধীরে ধীরে বলল, ‘মা, একটা কথা বলবো’?
অটোর রিক্সায় পিছনের সিটে মায়ের কানের কাছে মুখ এনে পিউ বলল, ‘সবার পকেটে যদি একটা করে ফোন থাকতো...!
-তাই আবার হয় নাকি? 
-যদি হ’ত? 
-কী করতিস তাহলে?
-আমার ফোনটা দিয়ে বাবাকে এখনই জানিয়ে দিতাম।
-কী জানাতিস?
-আমাদের ফিরতে দেরী হবে। তুমি ফ্ল্যাটের তালা খুলে অপেক্ষা কর। আমরা খাবার নিয়ে যাবো। 
-খুব পাকা হয়েছিস তুই। জানিস ছোট বেলায় আমাদের পাড়াতে মাত্র একটা বাড়িতে ফোন ছিল। 
-খিল খিল করে হাসল পিউ। বলল, ‘এখন আমাদের বিল্ডিঙে সবার ফ্ল্যাটে ফোন। জানো, নিচের তলায় রন্টু কাকুর বাড়িতে দুটো ফোন’।  
-তাই নাকি’? কথাটা বলে একটু হাসল সুদিপা। 
একটু পরে বাড়ির কাছে এসে অটো রিক্সা থেকে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়াল ওরা দু’জন। 
কেমন করে যে এতটা সময় কাটল! বাড়ির কাছে মোড়ের মাথায় একটা দোকানের  বারান্দায় এসে দাঁড়াল সুদিপা। দোকানটা আগে এসটিডি বুথ ছিল। ইদানীং হালফ্যাশানের মোবাইল স্টোর। ওখান থেকে নিজের মোবাইল অ্যাপে একটা ট্যাক্সি বুক করল। মায়ের বাড়ি যাবে। মা গত পরশু মাথা ঘুরে পড়ে গেছিলেন। পঁচাত্তর বছর বয়স হয়েছে মা’র। ইদানীং শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। মা থাকেন দাদার সাথে। সেই অশোক নগর। এখান থেকে অনেকটাই দূর। 
সন্ধ্যা নেমেছে। বেজায় শীত। উলের মোটা চাদরটা একান্নোর ভারী শরীরে জড়িয়ে নিল সুদিপা। ফেব্রুয়ারি মাস। কনকনে ঠাণ্ডা। সঙ্গে হাড় কাঁপানো বাতাস। শীতে কাঁপছে লোকজন। হঠাৎ ব্যাগের ভিতর থেকে মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল। প্রথমটায় বুঝতে পারেনি সুদিপা। খানিক পরে বুঝতে পেরেই ব্যাগের চেন খুলে হাত ঢুকাল।  
মনিটারে পিউ। হোয়াটস অ্যাপে ফোন করেছে। ও ফোন করতে পারে বলে অনলাইনে থাকতে হয় এসময়। এসময় ওর সকাল। ঘুম থেকে উঠে পৃথিবীর অপর প্রান্ত থেকে ফোন করছে পিউ। উত্তর গোলার্ধ থেকে ভেসে আসা পরিস্কার কণ্ঠস্বর। পিউ বলল, ‘মা কেমন আছো’।
-ভালো আছি। তুই কেমন?
-এই চলছে।
-তোর ওখানে নাকি খুব ঠাণ্ডা?
-ভালোই ঠাণ্ডা। চারদিকে বরফ। তাপমাত্রা মাইনাস তিরিশ। 
-উরিব্বাস! তুই ভালো আছিস তো?
-ভালো আছি। মা তুমি চিন্তা করো না। সামনের মাসে তো দেশে ফিরবো।
-আমি দিন গুনছি রে!
-শোন, বাবার জন্য একটা জ্যাকেট নিয়ে যাবো। তোমার জন্য কী কিনবো? 
-বড় পাকা হয়েছিস। কিছু কিনতে হবে না।
-মা, তুমি না আর পালটালে না।
-চুপ কর্‌। পরে কথা বলবো’ বলে ফোনটা বন্ধ করে ট্যাক্সিতে উঠল সুদিপা। ঘড়ির দিকে
 তাকিয়ে মনে মনে বলল, এতক্ষন দাঁড়িয়ে আছি। মনেই হল না!  
কেমন করে যে দৌড়ে দৌড়ে সময়গুলো চলে যায়! 

সাহিত্যিক সৌমিত্র চৌধুরী
নিউটাউন, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ 



লেখক পরিচিতিঃ 

ড. সৌমিত্র কুমার চৌধুরী (জন্ম 25.11.1954, মালদা) বিশিষ্ট ক্যানসার বিজ্ঞানি ও লেখক। ভূতপূর্ব বিভাগীয় প্রধান ও এমেরিটাস মেডিক্যাল সায়েন্টিস্ট (ICMR); চিত্তরঞ্জন জাতীয় কর্কট রোগ গবেষণা সংস্থা। অধ্যাপনা করেছেন এবং তিন দশক কর্কট রোগ সংক্রান্ত গবেষণায় নিযুক্ত। ক্যানসার বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে শতাধিক গবেষণা পত্র। আবিষ্কৃত পেটেন্টের সংখ্যা দুটি। পেটেন্টের ভিত্তিতে করে ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টায় রত দিল্লীর আই সি এম আর। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বহু গবেষণা সংস্থার সদস্য ড. চৌধুরীর অধিনে ডক্টরেট ডিগ্রী সম্পূর্ণ করেছেন দশ জন ছাত্র-ছাত্রী।

বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি অসংখ্য গল্প কবিতা প্রবন্ধ, ভ্রমণ আখ্যান এবং কয়েকটি উপন্যাস লিখেছেন। বহু বিদেশী গল্প কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেছেন। বিজ্ঞান বিষয়ক শতাধিক রচনা বাংলা পত্রিকায় (জ্ঞান ও বিজ্ঞান, কিশোর বিজ্ঞানী, কিশোর জ্ঞান বিজ্ঞান, বিজ্ঞান বিচিত্রা ইত্যাদি) প্রকাশিত হয়েছে।  বহু সাহিত্য পত্রিকায় – দেশ, বর্তমান, এই সময়, কথা সাহিত্য, একুশ শতক, শৈব ভারতী, সঙ্কেত ইত্যাদি— অসংখ্য ছোটগল্প লিখেছেন তিনি। 

পুরস্কারঃ 
‘যোগমায়া স্মৃতি পুরস্কার’ (২০১৫), জ্ঞান ও বিজ্ঞান পত্রিকায় বছরের শ্রেষ্ঠ রচনার জন্য্য। 
‘চৌরঙ্গী নাথ’ পুরস্কার (২০১৮), শৈব ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত উপন্যাসের জন্য। 
গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য স্মৃতি পুরষ্কার (2019), পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দফতর থেকে), পঁচিশ বছরের অধিক কাল বাংলা ভাষায় জনপ্রিয় বিজ্ঞান রচনার জন্য)।   

প্রকাশিত বইঃ 
১। বিজ্ঞানের জানা অজানা (কিশোর উপযোগী বিজ্ঞান) 
২। আমার বাগান (গল্পগ্রন্থ)। 
৩। বিদেশী সংস্থায় গবেষণা গ্রন্থঃ Anticanc cancer Drugs-Nature synthesis and cell (Intech)।










সুজিত রেজের তিনটি কবিতা 

ভালোবাসায় এমনই হয় 

ভেতরে আছি--ভেতরে আছি--ভেতরে আছি--
বাইরে যাব-- বাইরে যাব--এখন নয়?
ভালোবাসায় এমনই হয় !

জেগেই আছি--জেগেই আছি--জেগেই আছি--
চোখের পাতা--চোখের পাতা--স্বপ্নময় 
ভালোবাসায় এমনই হয় !

কুয়াশা ছেঁড়া--কুয়াশা ছেঁড়া--কুয়াশা ছেঁড়া--
মৃদুমন্দ-মৃদুমন্দ বাতাস বয়,
ভালোবাসায় এমনই হয় !

শুধুই আলো--শুধুই আলো--শুধুই আলো--
অন্ধকার--অন্ধকার গভীর নয়,
ভালোবাসায় এমনই হয় !

এই যে আমি--এই যে আমি--এই যে আমি--
এখন থেকে--এখন থেকে--আমার নয়,
ভালোবাসায় এমনই হয় !

অবনী

অবনী ফেসবুকে আছ?
উত্তর এল, না। 
তবে তুমি কোথায়?
ইলেকট্রিক চুল্লিতে।

নিমতলা শ্মশানে গেলাম। মশানের সিংহদুয়ারে ডোম দাঁড়িয়ে। একটা পোড়া বিড়ি দিয়ে কান খুঁটছিলেন।

অবনী কোথায় বলার আগেই তিনি একমুঠো ছাই আমার হাতে দিলেন।

অবনী তাহলে সত্যিই মরে গেছে!

হ্যাঁ। মরে গেছে। পুড়ে গেছে। ল্যাঠা চুকে গেছে।

কী নাম আপনার?
শক্তি চাটুজ্যে।
এ কথা বলে তিনি গঙ্গার ঘাটে নেমে গেলেন।

প্রলাপ

এতদিন চাপে ছিলাম।
হয়ত খাপেও ছিলাম---শীতঘুমে
অন্তরীক্ষে---ব্যোমে,
খাপছাড়া তলোয়ার হতে চেয়েও ঝিন্দের 
                       বন্দি অথচ তাসের গোলাম।

এখন আমি মন দি ---মন্দির
---মসজিদ---গির্জায়
চণ্ডীমণ্ডপের পোড়ো আটচালায়।

কলপচুলে ধুলো-বালি-মাকড়সার জাল
সিঁদুর -বাতাসা- গন্ধ আতরগোলাপ
আর মনোলোগ---এক বোতল যন্ত্রণাগোলা 
                               ছেনেল প্রলাপ।

কবি সুজিত রেজ
                        চুঁচুড়া, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ

























মৌটুসী ঘোষের অণুগল্প 

মংপুতে কিছুক্ষণ 

মংপুর ছোট্ট মনাস্ট্রিটা পেরিয়ে এসে পাহাড়ের খাদের ধারে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে মল্লিকার মনে হল- আরে, আজ সে পুরো একা, পাহাড়ে সে নিঃসঙ্গ, কেউ নেই পাশে!রক্তিম অনেক বছর তাকে ছেড়ে চলে গেছে। চশমার ফাঁক দিয়ে দু’ফোঁটা চোখের জল গড়িয়ে গেল, ড্রাইভার সুশীলজিকে বলল- দাদা মেরে লিয়ে প্লিজ দো কাপ ফিক্কাচিয়া(black tea) বোলনা।

হাঁ...ম্যাডামজি

পাহাড়ের রক্তিম বর্ণের সূর্যাস্ত -র স্পর্শে সে তাঁর হারানো রক্তিমকেই খুঁজে পেল! মল্লিকা তাঁর ব্ল্যাক পুলওভারটা আরো ভালো করে জড়িয়ে ভাবল হয়তো রক্তিমের মল্লিকার সুগন্ধ বেশিদিন পছন্দ হয়নি, সূর্যের আলোর সামান্য ছটা মল্লিকার মুখমণ্ডলকে আরো উজ্জ্বল করল! মল্লিকা পাইনের বনে মিশে যাচ্ছে, হিমালয়ের শীতল হাওয়ায় তাঁর চুল এলোমেলো করে দিচ্ছে, তবুও মল্লিকা বলে চলেছে- 

"কোনোদিন কর্মহীন পূর্ণ অবকাশে
বসন্তবাতাসে
অতীতের তীর হতে যে রাত্রে বহিবে দীর্ঘশ্বাস,
ঝরা বকুলের কান্না ব্যথিবে আকাশ,
সেইক্ষণে খুঁজে দেখো, কিছু মোর পিছে রহিল সে
তোমার প্রাণের প্রান্তে; বিস্মৃতিপ্রদোষে
হয়তো দিবে সে জ্যোতি,
হয়তো ধরিবে কভু নামহারা স্বপ্নের মুরতি।
তবু সে তো স্বপ্ন নয়,
সব চেয়ে সত্য মোর, সেই মৃত্যুঞ্জয়—
সে আমার প্রেম,
তারে আমি রাখিয়া এলেম
অপরিবর্তন অর্ঘ্য তোমার উদ্দেশে।
পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে
কালের যাত্রায়।

হে বন্ধু, বিদায়।"

বিচ্ছেদ সে তো বিচ্ছেদ নয়, রক্তিম তুমি আমার অনন্ত আকাশ... 

গল্পকার মৌটুসী ঘোষ 
পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, বর্ধমান 


ছবিঋন- মৌটুসী ঘোষ 



























পীযূষ কান্তি সরকারের দুটি কবিতা 

গিলোটিন

প্রশ্রয়ের আতিশয্য বাড়িয়ে দিল
মধ্যরাতের তাঁবেদারি : 
অনায়াসভরে দিল অনৃত-ভাষণ --
'আমায় বলেছে আপনি একটা এস সি' !
একটা মিথ্যার মিথ সৃষ্টি করে
সীমাহীন অশ্রদ্ধার বাতাবরণ।

তবু প্রশ্ন তোলে না কেউ
কয়েকশত সুতীক্ষ্ণ শব্দবাণ
জিহ্বার তূণে মজুত থাকা সত্ত্বেও
শুধুমাত্র 'এস সি' কেন?
যার আর এক নাম সংরক্ষণের স্নিগ্ধ বাতাস !
আসল কথা
শ্রেণীসংগ্রাম মূল্যবোধ হারালেই
লকলক করে ওঠে অপসংস্কৃতির গিলোটিন।

আমি দাঁড়াতে চাই

আমার পায়ের পাতা থেঁতলে গেছে
মৃত্যু-শীতল চাকার তলায় --
টলমল করে আজ সময়ের ক্রাচ,
তবু মনের দুর্বার আকাঙ্ক্ষার জোরে
সকল ব্যর্থতা মুছে দিয়ে 
আমি দাঁড়াতে চাই।

তাই বুঝি অবগুণ্ঠন খুলে আকাশ পাঠায় নীলহাসি --
পূর্ণিমার চাঁদ অমাবস্যায় ডুব দিয়ে
ফিরে আসে পরের পূর্ণিমায়।
টর্ণেডো - সাইক্লোন ভয়ঙ্করবেগে ছুটে এসে
পরিণত হয় মৃদুমন্দ বাতাসে।
ঝরাপাতা ফিরে আসে কচিপাতা হয়ে
পাঠায় সবুজ-সংকেত,
ফটোসিন্থেসিস চলে
যতো কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ফিরে আসে অক্সিজেন হয়ে।
পাপড়ি-ঝরার ব্যথায় ব্যাকুল গোলাপ --
সেও পাঠায় আশার সুবাস-নির্যাস।
রোদ্দুর-না-পাওয়া ঘাস বিবর্ণ হ'তে হ'তে
মাখিয়ে দেয় ময়শ্চারাইজিং লোশন।
শুধু তোমরা
যতো চামচিকের দল
উপহাস করে উপহার দিয়ে যাও
তোমাদের পবিত্র পদাঘাত।

কবি পীযূষ কান্তি সরকার
উত্তর ব্যাঁটরা, কদমতলা, হাওড়া




















সোমনাথ বেনিয়ার অণুগল্প 
গড়ন 

বিপুল সেদিন রাতে একটা আটার রুটি আলুর তরকারি দিয়ে খাচ্ছিলো। রুটি শেষ হতেই তার ব‌উ ফুলি চারটে বড়ো ফুলকো লুচি নিয়ে এসে তার মধ‍্যে থেকে একটা তুলে বিপুলের পাতে দিয়ে বললো, "মেয়ে লুচি খেতে চেয়েছিলো। দেখলাম ময়দা বেশি নেই। এই চারটে হয়েছে মাত্র। তুমি একটা খাও। মেয়েকে তিনটে দেবো।"
     লুচিটা ছিঁড়তে যাবে কী, বিপুলের মনে হলো তিনটে লুচিতে মেয়ের হবে কি? তার মধ‍্যে মেয়ে ফুলকো লুচি খেতে ভীষণ পছন্দ করে। সে ফুলিকে ডেকে বলে, "আমাকে বরং আর একটা রুটি দাও। লুচি খেলে আবার অম্বল হয়ে যেতে পারে। এটা মেয়েকেই দিও।"
     ফুলিও দ্বিমত পোষণ করলো না। চারটে লুচি ঢাকা দিয়ে ফুলি মেয়েকে খাওয়ার জন‍্য ডাকতে গেল। বিপুল শুকনো পোড়া চ‍্যাপ্টা রুটি ছিঁড়তে গিয়ে ভাবে মেয়ের জীবন ফুলকো লুচির মতো হলেই সে খুশি। নিয়তি তো প্রথম থেকে তাকে পিষে চ‍্যাপ্টা রুটি বানিয়ে পৃথিবীর গামলাতে ফেলে দিয়েছে ... 

সাহিত্যিক সোমনাথ বেনিয়া
নিমতা, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ




















কথা ছিল 
প্রেমাংশু শ্রাবণ

কথা ছিল ঘোর বৃষ্টি হবে, 
মেঘের গা ঘেঁসে যতটুকু আলো থাকে
সেখানে জন্মাবে বুকের ইস্পিত রেণু 
রঙধনু তার নাম।

কথা ছিল এ বর্ষায় প্লাবন হবে 
যেটুকু জীর্ণ দুঃখ বুকের জমিনে অযুত ব্যথায় ঘা হয়ে জেগে আছে 
তার সবটুকু ধুয়ে যাবে 
যেটুকু পলি রয়ে যাবে নীরব একাকীত্বে
তাতে জন্ম নেবে সবুজ কলাই---কাঙ্ক্ষিত সুন্দর।

এমনও কথা ছিল
তুমি যদি সূর্যের কাছ থেকে রোদ এনে দিতে 
বর্ষার ক্রন্দন আর প্লাবণের ব্যথা
সৌম্য সকালে শিশিরের শোভা পেতো! 

হায়! কতো কথায় তো থাকে
ডোবা জলে ডুবে ডুবে সবটুকু তার উচ্ছিষ্ট পাটের কাটির মতো উদোম শুকায় 
একদিন অবিশ্বাসের কঠিন আগুনে 
হৃদয়ের উনুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। 

কবি প্রেমাংশু শ্রাবণ 
যশোর, বাংলাদেশ






রেশ
গার্গী চৌধুরী

কখনো কি শুনেছো 
জল ভরা মেঘেদের ভেঙে পড়ার উচ্ছ্বাস,
ফোঁটা ফোঁটা গান হয়ে ঝরে পড়া এক একটা রেশ?

মেঘেদের আলিঙ্গনে,মিলনে,ভাঙ্গনে
তোমার ভেজা মনটা যখন কুড়োনো স্মৃতিতে বিভোর,নতুন কুঁড়িরা নতুন আবেশে মত্ত।

বৃষ্টি একটা রেশ,নতুন,পুরোনোতে সিক্ত।
ছেলেরা যখন জল কেলির রেশে মত্ত,
কেউ তখন শরীর ভাঙ্গা 
ক্লান্তিতে আরামে ঘুমন্ত ।

বৃষ্টি একটা গান,
ভাঙা টালি থেকে চুঁইয়ে পরা  সিক্ত আবেশে
দুটো শরীর যখন উষ্ণতায় মেশে,
ঠিক তখনই তোমার বিলাসবহুল অট্টালিকায়
বৃষ্টি আসে একাকীত্বের বেশে।

কবি গার্গী চৌধুরী 
৭৪, বিবেক পার্ক, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ 





সিদ্ধার্থ সিংহ'র অণুগল্প 
আম 

টিনের চালে শব্দ শুনেই রাঘব বুঝতে পারল আম পড়েছে।
বাড়িতে একটাই আম গাছ। প্রচুর আম হয়। ছোট্ট ছোট্ট। কিন্তু খুব মিষ্টি। সামান্য হাওয়া দিলেই টুপটাপ ঝরে পড়ে।
গত বছর পর্যন্ত বাড়িওয়ালা বেঁচে ছিলেন। তখন আম পড়লে দু'-চারটে রাঘবকেও দিতেন। কিন্তু তাঁর ছেলে যা পায়, হয় নিজে খায়, না হয় শ্বশুরবাড়িতে পাঠায়। 
কোথায় যেন চাকরি করে! সন্ধেবেলায় যায়। মধ্যরাতে আসে। 
সে দিন মাঝরাতে আম পড়ার শব্দ শুনে রাঘব ঝপ করে বেরিয়ে আম কুড়িয়ে নিয়ে এসেছিল।

সক্কালবেলায় বাড়িওয়ালার ছেলে বলেছিল, হ্যাঁ রে, তোর বউদি বলল কাল রাতে নাকি আম পড়েছিল? তুই তুলেছিস?
রাঘব বলল, হ্যাঁ।
--- এর পর থেকে আম পেলে আগে আমার কাছে নিয়ে আসবি, বুঝেছিস?

তার পর থেকে ও আর আম কুড়োয়নি। আজ টিনের চালে পর পর বেশ কয়েকবার শব্দ হতেই ও আর শুয়ে থাকতে পারল না। ঘর থেকে বেরিয়ে যে ক'টি আম পড়েছিল ও কুড়িয়ে নিল। ঘরের দিকে আসছিল হঠাৎ মনে পড়তেই...

সোজা বাড়িওয়ালার ছেলের ঘরের দরজা ঠক ঠক  করতে লাগল। তখন রাত দেড়টা-দুটো হবে। চোখ ডলতে ডলতে বাড়িওয়ালার ছেলে বেরিয়ে এসে বলল, কী হয়েছে?
হাতের আম দেখিয়ে রাঘব বলল, এই যে আম... সে আমটা নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল।
দশ পনেরো মিনিটও হয়নি, রাঘব খাটে ওঠা মাত্রই আবার টিনের চালে শব্দ। 
সেটা নিয়ে আবার বাড়িওয়ালার ছেলের ঘরের দরজায় ঠক ঠক ঠক ঠক, এই যে আম... আমটা নিয়ে সে ঘরে চলে গেল। 
আবার আম পড়ার শব্দ। আবার তার ঘরের দরজায় ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক--- এই যে আম...

আজ বুঝি হাওয়াটা একটু বেশিই দিচ্ছে। ঘনঘন আম পড়ছে। টিনের চালে শব্দ হচ্ছে। রাঘব গিয়ে আম কুড়োচ্ছে। আর ওই ঘরের দরজায়--- ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক ঠক... এই যে আম...

এ বার বলতেই, সে এত রেগে গেল যে, বিরক্ত হয়ে বলল, যত বার আম পড়বে তত বারই তুই আম কুড়িয়ে নিয়ে আসবি নাকি! এর পরে যদি আম পড়ে তুই আর এখানে নিয়ে আসবি না। যা পাবি, তুই নিয়ে নিস, বুঝেছিস? দাঁড়া... বলেই, রাঘবের কাছ থেকে এতক্ষণ যে আমগুলো সে ঘরে নিয়ে গিয়েছিল, সেগুলো ঘর থেকে এনে ওর দিকে এগিয়ে দিল।

সাহিত্যিক সিদ্ধার্থ সিংহ
২৭/পি, আলিপুর রোড, কলকাতা






রাগীব আবিদ রাতুলের অণুগল্প 
রাস্তা 

রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে হরণের মনে হলো,সময় ঘুরছে-ফিরছে শুধু। এই রাস্তায় এলেই সে একটা গন্ধ পায়,তাই এই রাস্তার নামকরণ করেছে সে গন্ধরাজ। এই রাস্তা ধরে হাঁটলেই তার বড় হওয়ার ; ইচ্ছার ব্যথাটা —প্রশমিত হয়, এক সময় অবশ হয়ে যায় যেন।আজ যেমন মনে হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের কথা তার;প্রায়ই সে নিজেকে এই রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে ভাবে— এই জন্ম-মৃত্যু কিছু নয়,সব কিছুই এই পথে শেষ হবে তার। সে তার কপালের উপর হাঁটছে।

গৌতম বুদ্ধ তাকে ভাবালেও —সে ভাবের ঘরেও; ভন্ড থাকতে চায়। বুদ্ধ হলে এই রাস্তা তার গন্তব্যের শেষ নয়,তাকে এই রাস্তা অতিক্রম করে যেতে হবে। কিন্তু হরন তো এই রাস্তাতেই ঘুরপাক খাচ্ছে,এই তার নিয়তি।
সে  তার কপালের উপর হাঁটছে, কপাল অতিক্রম করবে কি করে।আজ কলেজ ফেরার পরেও সে এই রাস্তায় নেমেছিলো।বাসা থেকে বের হলেই সে এই রাস্তায় গিয়ে উঠে। বুদ্ধ হওয়া তার সম্ভব নয়,এই ভাবতে ভাবতেই সে নিশির কথা ভেবে বসলো। নিশি আর বুদ্ধ ত দুই মেরুর,এই দুই মেরু তাকে টানছে। নিশির টান টা বেশি,নিশিকে সে ভালোবাসে প্রচুর।যদিও এখন ভালোবাসাটা চুমুতে আটকে গেছে, এই রাস্তার উপরেই সন্ধ্যায় মাগরিবের আজানের পরে,যে সময়টা হঠাৎ কেমন স্থিতিশীল, নির্জীব,ঠিক তখনই এক গাছের পেছনে চুমু খেয়েছিলো সে নিশিকে, সব নির্জনেও তারা ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ভেতর ছিলো। এরপর থেকে সে এখন আর নিশির জন্য পুরো দুপুর বা বিকেল থেকে সন্ধ্যা, দেখবার বা কথা বলার জন্য অপেক্ষা করে না। এখন দুজনেই ঠিক মাগরিবের নামাজের, পরবর্তী সময়ের অপেক্ষায় থাকে।যদিও কথাটা কেউ কাউকে জানায় নি,কেউ কাউকে বলে নি এই সময় থাকার জন্য।নিশি এখন ওই সময়টাতেই যেন থেমে যায়,হরণ  আসে। রাস্তা ধরে এখনো হাঁটছে হরণ —এই রাস্তার শেষ সীমানা তার শেষ গন্তব্য,এই রাস্তার শেষেই নিশির বাড়ি। তার পরেই অনন্ত পথ।

গল্পকার রাগীব আবিদ রাতুল
ঢাকা, বাংলাদেশ




নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ হোম

ব্লগ সংরক্ষাণাগার

  • আগস্ট (3)
  • জুলাই (22)
  • জুন (8)
  • নভেম্বর (15)
  • অক্টোবর (5)
  • সেপ্টেম্বর (81)
  • আগস্ট (66)
  • জুলাই (55)
  • জুন (56)
  • মে (57)
  • এপ্রিল (46)
  • মার্চ (15)
  • জানুয়ারি (14)
  • ডিসেম্বর (73)
  • নভেম্বর (103)
  • অক্টোবর (97)
  • সেপ্টেম্বর (101)
  • আগস্ট (120)
  • জুলাই (88)
  • জুন (76)
  • মে (63)
  • এপ্রিল (11)

🔴বিজ্ঞপ্তি:

পাঁচ মাসের বিরতি কাটিয়ে আবার ও ফিরছি আমরা। খুব শীগ্রই আসছে আমাদের প্রত্যাবর্তন সংখ্যা।

অনুসরণ করুণ

এক মাসের সর্বাধিক পঠিত পোস্টগুলি:

  • শান্তনু গুড়িয়ার কবিতা
  • ফেরারি মন ~ অসীম বিশ্বাসের কবিতা
  • তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা
  • গেরস্থালি ~ অনুশ্রী যশের কবিতা
  • শ্রমনিবিড় ~ সুমনা ভট্টাচার্য্য'র কবিতা
  • সৌগত রাণা কবিয়ালের কবিতা
  • উষ্ণতা ~ পিঙ্কি ঘোষের কবিতা
  • প্রচ্ছদ, সূচিপত্র ও সম্পাদকীয়
  • ধোঁয়াশা অথবা ছেলেবেলার ডাকনাম ~ সুকান্ত মণ্ডলের কবিতা
  • প্রেমাংশু শ্রাবণের কবিতা

বিষয়সমূহ

  • Poetry speaks 2
  • অণু কথারা 21
  • আবার গল্পের দেশে 8
  • উৎসব সংখ্যা ১৪২৭ 90
  • একুশে কবিতা প্রতিযোগিতা ২০২১ 22
  • এবং নিবন্ধ 3
  • কবিতা যাপন 170
  • কবিতার দখিনা দুয়ার 35
  • কিশলয় সংখ্যা ১৪২৭ 67
  • খোলা চিঠিদের ডাকবাক্স 1
  • গল্পের দেশে 17
  • ছড়ার ভুবন 7
  • জমকালো রবিবার ২ 29
  • জমকালো রবিবার সংখ্যা ১ 21
  • জমকালো রবিবার ৩ 49
  • জমকালো রবিবার ৪ 56
  • জমকালো রবিবার ৫ 28
  • জমকালো রবিবার ৬ 38
  • দৈনিক কবিতা যাপন 19
  • দৈনিক গল্পের দেশে 2
  • দৈনিক প্রবন্ধমালা 1
  • ধারাবাহিক উপন্যাস 3
  • ধারাবাহিক স্মৃতি আলেখ্য 2
  • পোয়েট্রি স্পিকস 5
  • প্রতিদিনের সংখ্যা 218
  • প্রত্যাবর্তন সংখ্যা 33
  • প্রবন্ধমালা 8
  • বিশেষ ভ্রমণ সংখ্যা 10
  • বিশেষ সংখ্যা: আমার প্রিয় শিক্ষক 33
  • বিশেষ সংখ্যা: স্বাধীনতা ও যুবসমাজ 10
  • ভ্রমণ ডায়েরি 1
  • মুক্তগদ্যের কথামালা 5
  • রম্যরচনা 2
  • শীত সংখ্যা ~ ১৪২৭ 60

Advertisement

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

মোট পাঠক সংখ্যা

লেখা পাঠাবার নিয়মাবলী:

১. শুধুমাত্র কবিতা, মুক্তগদ্য অথবা অণুগল্প পাঠাবেন। ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং অন্যান্য বিষয়ক লেখা সম্পূর্ণ আমন্ত্রিত। ২. লাইনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। ৩. লেখা মেইল বডিতে টাইপ করে পাঠাবেন। ৪. লেখা মৌলিক ও অপ্রকাশিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। অন্য কোনো ব্লগ, ওয়েবজিন অথবা প্রিন্টিং মিডিয়ায় প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ৫. মেইলে আপনার লেখাটি সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত, কথাটি উল্লেখ করবেন। ৬. লেখার সাথে আবশ্যিক ভাবে এক কপি ছবি ও সংক্ষিপ্ত ঠিকানা পাঠাবেন।  ৭. লেখা নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হবে। এক মাসের মধ্যে কোনো উত্তর না এলে লেখাটি অমনোনীত ধরে নিতে হবে। ৮. আপনার লেখাটি প্রকাশ পেলে তার লিঙ্ক শেয়ার করাটা আপনার আবশ্যিক কর্তব্য। আশাকরি কথাটি আপনারা মেনে চলবেন। আমাদের মেইল- hridspondonmag@gmail.com
blogger-disqus-facebook

শান্তনু শ্রেষ্ঠা, সম্পাদক

আমার ফটো
পূর্ব বর্ধমান, India
আমার সম্পূর্ণ প্রোফাইল দেখুন

সাম্প্রতিক প্রশংসিত লেখা:

তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা

তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা

সুজিত রেজের কবিতা

সুজিত রেজের কবিতা

গুচ্ছ কবিতায় ~ দালান জাহান

গুচ্ছ কবিতায় ~ দালান জাহান

পার্থ প্রতিম পালের অণুগল্প

পার্থ প্রতিম পালের অণুগল্প

বর্ণজিৎ বর্মনের কবিতা

বর্ণজিৎ বর্মনের কবিতা

হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন

© হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন। শান্তনু শ্রেষ্ঠা কর্তৃৃক পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত থেকে প্রকাশিত।

Designed by OddThemes | Distributed by Gooyaabi Templates