হৃদস্পন্দন

  • Home


  • Download

  • Social

  • Feature


জয়দ্রথ বধে
অসিকার রহমান 

সাঁঝের আগেই সন্ধ্যাগুলো পায়ে পায়ে
সূর্যের মুখোমুখি দাঁড়ায়, 
: অর্ক তুমি থামো, এগোবে না এক পাও, 
আমরা সন্ধ্যা তবু এখনই আঁধার চাই না
মানুষও চায় না দ্রুত ত্রিসন্ধ্যা নামুক। 

সন্ধ্যার অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা রাত্রি বলে,
: অন্ধকার আলো রাত্রি দিন সকাল সন্ধ্যা
সকলের পিতা সূর্যদেব 
ওখানেই আমাদের জন্ম। 
গতিপথে সন্ধ্যা নামছে
সূর্যকে পথ ছাড়ো, যেতে দাও ওর অভিমুখে...

পৃথিবীতে সন্ধ্যেবেলায় সাঁঝ, রাত্রিবেলায় রাত, 
খুন করার জন্যে আর নাটক করে না কেউ —
জয়দ্রথ বধে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করাও চলে...

কবি অসিকার রহমান
খুজুটিপাড়া, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ






মিনতি গোস্বামীর অণুগল্প 
আঘাত 

শোকে পাথর হওয়া কাকে বলে নীনা আজ হাড়ে হাড়ে বুঝছে।মায়ের দিকে তাকিয়ে সে চোখের জল ফেলেছে,মাকে জড়িয়ে হাঁউমাঁউ করে কেঁদেছে,তবু মায়ের মুখ থেকে একটি শব্দ ও বের হয়নি।মা আজ শোকে পাথর,আর একমাত্র নীনাই সেই পাথরকে আগলে বসে আছে।ডাক্তার বলেছেন,আরো কোন বড় আঘাতে হয়তো কোনদিন সুস্থ হতে পারেন নীনার মা।

নীনার মা দশদিন বাকরুদ্ধ হয়েছেন।একমাত্র ছেলে হঠাৎ করে করোনায় মারা যায়।হাসপাতাল থেকেই সরকারিভাবে তার সৎকার হয়েছে।বাড়ির কেউ শেষদেখা ও করতে পারেনি।মৃত‍্যুসংবাদ শোনার পরেই মীরাদেবী আর কথা বলেননি।

নীনার বাবা বেসরকারি কাজ করতেন।
নীনার বয়স  যখন পাঁচ,গাড়ি এক্সিডেন্টে তার বাবা মারা যান।নীনা আর ছেলে অরুনাভকে মীরাদেবীই বড় করেন অনেক কষ্টে।
পুরোনো জামাকাপড় সেলাই করে,পাঁপড়ের ব‍্যবসা করে সংসারটা টানেন মীরাদেবী।অরুনাভ লেখাপড়ায় ভালো ছিল।এঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেই একটা চাকরি জুটিয়ে নেয়।মাকে রেহাই দেয় কাজকর্ম থেকে।

মাত্র দুবছর সুখের পরেই এই শোক মীরাদেবী মেনে নিতে পারেননি​।মীরাদেবী নীনার থেকে বেশ ভালোবাসতেন অরুনাভকে।

অরুনাভ ছিল মায়ের আদর্শ ছেলে।সে মা ও বোনকে আঁকড়ে থাকতো।তাদের দেখভাল ও কর্তব‍্যে তার কোন ত্রুটি ছিলনা। মাকে কথা দিয়েছিল,"বোনের ভালো পাত্র দেখে বিয়ে দেবার দায়িত্ব সে পালন করবে, তারপর নিজে বিয়ে করবে"।সে কখনো কোন মেয়ের দিকে তাকায়নি সংসারের কথা ভেবে।

নীনা কিন্তু কলেজে ভর্তি হয়েই একটি ছেলের প্রেমে পড়ে।অন‍্য বন্ধুদের মত সে নীনাদের বাড়িতে ও আসতো।একদিন তাদের ঘনিষ্ট হবার দৃশ্য মা দেখে ফেলেন। নীনার মা সেদিন জোর গলায় নীনাকে বলেন,"হাসানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত‍্যাগ করতে,কারণ হাসান বিধর্মী।তার সাথে বন্ধুত্ব করা যায়,বিয়ে করে সংসার করা যাবেনা।সে যদি এই সম্পর্ক স্থায়ী করে তাহলে অরুনাভ আত্মহত্যা করবে।আর মীরাদেবীও সেটা কোনদিন ই হতে দেবেননা।
সেই থেকেই নীনার চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা।
নীনাও আর এগোতে পারেনি।

নীনা কদিন পর সন্ধ‍্যেবেলায় হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে,"হাসান ছাড়,ছাড়।মা দেখে ফেলবে।
ঘরের দরজাটা খোলা আছে,পর্দাটা টানা নেই।মা এক্ষুনি এসে পড়বে।
উঃ,তুই আমাকে ছাড়,আমার খুব লাগছে।
তুই আমাকে পাগলের মত ভালোবাসিস কেন?প্লিজ আ‌‌মাকে ছেড়ে দে।আমার পোশাকটাই তুই ছিঁড়ে ফেললি?"

মীরাদেবী হঠাৎ একটা লাঠি নিয়ে ছুটে আসেন।
চিৎকার করে বলেন,কোথায়,কোথায় গেল জানোয়ারটা?
আজ ওকে মেরেই ফেলবো।"

নীনা মায়ের গলা জড়িয়ে কাঁদতে থাকে।
কাঁদতে কাঁদতে বলে,"মা কেউ কোথাও নেই।আমি চেয়েছি শুধু আমার মাকে।আমি আবার তোমাকে ফিরে পেয়েছি।এমন করেই তুমি আমাকে আগলে রাখো মা।"

লেখিকা মিনতি গোস্বামী 
বোরহাট কালীতলা, নূতনগঞ্জ, পূর্ব বর্ধমান 


















এই যে নদী
লক্ষ্মণ দাস ঠাকুরা

ওই যে নদী জল ভরা অধঃনেত্রে
তাকায় আমার দিকে একবার।
তারপর চলে যায় সাগর সঙ্গমে।
আমার লালিত লাম্পট‍্য গুলো 
ওর বুকে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়লো।
অমনি আকাশে উঠলো অহংকারী রামধনু 
ছিলা পরাতেই ঠাস করে গালে পড়ল চড়।
কড়্  কড়্ বজ্রপাত,ঝোড়ো হাওয়ার দাপাদাপি 
কালো বরণ মেঘের কোলে বিদ্যুতের আস্ফালন।
মাথার উপর কাকেদের ভিজে 'রা' কা-কা।
'রোদ্দুর তোমার দেখা নাইরে, তোমার দেখা নাই '
বলা মাত্রই নদীর বুক ফেটে জলের ফোয়ারা -
ক্ষুধার্ত মানুষের মুখ বুদ্ বুদ্ হয়ে ঝরে পড়ে।
অবশেষে আমিই নদী হতে চাইলাম 
আমাকে লালকার্ড দেখালো ঈশ্বর 
এখন আমি এক স্মৃতি হারা তৃষ্ণার্ত নদী।

কবি লক্ষ্মণ দাস ঠাকুরা
সুকান্তপল্লী, কালনাগেট, পূর্ব বর্ধমান














তবু পারলাম কই 
চিত্তরঞ্জন গিরি 

রসনায় যতটুকু তিক্ততা ছিল ডুব দিয়ে যায় মিষ্টতায়।
বারবার ছুঁয়েছি আত্মনিমগ্ন এ হৃদয় অমৃত সুধায়।
ধারাপাত দিয়েছিল অ-আ- ক-খ সন্ধানী সন্ধিৎসু বর্ণপরিচয়।
বনপাহাড়ি এঁকেছিল- মিঠেল সুরের ,ঝিলমিল তরঙ্গের,অমৃত সুধার -চারকুঠরীর মাঝে ,ক্ষুদ্র এ জলাশয়।
যত জল খেলি, গ্রহদের আঁকিবুকি ,ওলো সই, তৃষ্ণা মেটে কই! 
ভৈরবী ঠুঁরী,জোছনার সুধা,আহাঃ কি অপরূপ তরঙ্গের ক্ষুধা!
ভাটিয়ালি -রাখালীর, মেঠো মেঠো সুরের ফাঁকে- ছুঁয়ে ছুঁয়েই যায়, ভরতনাট্যম ,উর্বশী নিশ্চই।
ওলো সই -পারলাম না তো কই
অসংখ গাছগাছালি সবুজ সজীবের সমারোহ পর্যায় বৃত্তে নিত্য নতুন প্রাণের ভাষা খোঁজে গানের কথাকলিতে শ্বাস বায়ু খুঁজে চলে আমৃত্যু জীবনের স্বাদ।
কত রং-লাল,নীল,সবুজ,হলুদ,বাসন্তিকা- একটার পর একটা কত খেলে এলাম,কত পার হলাম-কই পারলাম নাতো,শিল্পের স্থপতি হতে নিখাদ !
যে রঙ পাথরের অশ্রুতে উষ্ণতা ঢেলে দেবে
জনম দুঃখিনির পোড়া ঘুটেতে ফুরফুরে দখিনা হওয়া হয়ে,নেচে বেড়াবে কবে কোথায়,পাওয়া যাবে,আত্মার বালুচর -দৃষ্টির রঙ সবুজ হবে।
অল্প অল্প শ্বাস নেওয়া প্রদীপের সলতেটি হঠাৎ জেগে উঠে, বলবে-এই রঙ তো কেউ মাখায় নি তুমি পেলে কি করে!
নাহ, হলো না,মাথা নেড়ে নেড়ে গেলাম -কই পারলাম না তো!
চেনা অচেনার ভিড়ে ,তুমি হাতছানি- দিয়ে, ডাক দিয়ে যাও
আমি হেঁটে যাই,আমি ছুটে যাই-তবু দূর-দূর থেকে যায়, আজও তোমাকে ছুঁতে পারলাম কই।

কবি চিত্তরঞ্জন গিরি
পঞ্চসায়র রোড, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
















নির্জন কথাগুলি
শ্রীমন্ত সেন

ভিড়ের মধ্যে বেজে ওঠা যে কথাগুলি হারায়—
বার বার তারা ফিরে আসে একাকীত্ব মেখে,
নির্জনে নির্ঘুম রাতে অথবা
কথার পিঠে কথা হয়ে আবছায়া মেখে।
হাতছানি রেখে যায় চৌকাঠে,
নরম আলোয় রেখে যায়
বিবক্ষার আকুতিটুকু।

আকাশ নেমে আসে চুপি চুপি
আলগা ঠোঁটে ছুঁতে,
বাতাস ভাসিয়ে নিয়ে রেখে আসে
সেই আকুতিটুকু তোমার দুচোখে—
তাই না-বলা কথাগুলি
তোমার চোখের নির্জন সৈকতে
বুঁদ হয়ে থাকে খেলায়…

যদি কোনও দিন পড়তে পারি,
নিশ্চয় সাড়া দেব।

কবি শ্রীমন্ত সেন 
২৯/এ/১, ভাগীরথী লেন, মাহেশ, হুগলী 




















উদয়ন চক্রবর্তী'র তিনটি কবিতা 

বহ-মান এপিটাফ

ইষৎ লালচে গোধূলি রোজই
অনুভবে বৃষ্টি ঝরায় দিগন্তে 
পাখিদের ডানায় সন্ধ্যের লুকোচুরি দেখে 
অন্ধকার হেসে লুটোপুটি
হয়তো অন্য কোথাও -অন্য কোনো দিগন্তে 
বৃষ্টি নামলো সবে-যেমন নেমেছে এর আগেও-
ডাঙার কুমির পা কামরে ধরলো আধফোটা ফুলের 
চোখের জলে লবন জমে থাকে কেন ও বুঝলো না
জানলো চোখের জল একান্ত নিজস্ব সম্পদ
দূরে কোথাও ভেঙে গেল নক্ষত্রের সংসার।

এই পৃথিবীর প্রথম বৃষ্টিতে লেখা আছে 
আমাদের অনুভবের ঠাকুরমারঝুলির গল্পকথা
সেখানেই চেনা যাবে আমাদের 
খুঁজলে পাওয়া যাবে অনেক আগের কিছু জলছবি
লিপিবদ্ধ বহ-মান এপিটাফের কোলাজ 
তাইতো এখনও সমুদ্র পাড়ে সূর্যাস্ত দেখি আমরা
পর্বত চুড়ায় তুষারে চোখ রেখে চেখে দেখি প্রাণের সাগরতটে আছড়ে পরা ঢেউয়ের মতো সূর্য্যদয় সূর্যাস্ত।

হয়তো এমনই হবে 

জানি তো সবান্ধবে ভালোবাসা নিয়ে
পথিক হওয়া একটা কল্পনা 
কাক জাগানো জোৎস্নায় জেগে ওঠে
ভুল সে ভুলেই দূরে সরে যায় পরিচিত মুখ,
অসময়ে কখনও ফুটে ওঠে ফুল
সেটা কোনও ভুল না কেবলই আকস্মিক 
সত্য প্রকাশ হয়ে পড়া জানা জগত্ ছেড়ে,
লেন্সে ধরা পড়ে আমার জানার অস্মিতা । 
এক শতক পরে অসময়েও ফুল যদি ফোটে কখনও তখনো পৃথিবী হয়তো ধরে থাকবে সম্পর্ক, 
ধরে রাখবে রূপান্তরিত প্রেম সময়ের জালে,
সবান্ধবে না হলেও পাশাপাশি থাকবে মানুষ। 
যন্ত্র মানুষের সাথে লুকোচুরি খেলবে মানুষ
অসময়ের ফুল দেখার জন্য খুঁজবে কোনও
নতুন সাথী যে বলে দেবে ফুলের বা নতুন
পাখির ডাক যা দেখে শুনে হয়তো প্রেমে পড়েছিল পিতার পিতা লুকিয়ে  কোনও ক্ষণে,
এমনই এ সিঁড়ি পথ উঠে গেছে উঠে যাচ্ছে 
শূন্য থেকে শূন্যতার কাছে।

নদীর স্রোত মেপে

ধূপটা জ্বলছিল যেমন ও রোজ জ্বলে
নিজেকে নিঃস্ব করে
সেটা কী কারণে ওকে জ্বালানো হচ্ছে 
না জেনেই ঈশ্বর নামের ভাস্কর্যের সামনে
কিংবা নিথর কোনও শরীরের কাছে বসে
ও জানে ওর কিছুই এসে যায়না 
এ অবান্তর ব্যবহারের প্রেক্ষাপট।
এমন কত ধূপ দিন রাত নিরন্তর জ্বলে চলেছে নিজেকে দান করে ঠিক ফুলের 
মতো দৈনন্দিন টোপ হয়ে বাজারি সভ্যতায়।
আমরা কাঙাল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি এক কণা
অনুকম্পার ললিপপের আশায় 
দুয়ারের যত দান সে তো আমাদেরই
সে কথা জানা নেই কত জীবনের কুয়াশায় 
নিশিডাকা ভ্রমে হাতড়ে মরে ধূসর ছায়াপথে
ক্ষমতা নদীর স্রোত মেপে তরী ভাসায়।

কবি উদয়ন চক্রবর্তী 
কোন্নগর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ












বুনন
স্বপন নাগ 

আকাশের ক্যানভাসে লক্ষ তারা অপরূপ শিল্প বুনে রাখে...

প্রহরীর চোখে ঠায় জেগে থাকে লুব্ধক
কালপুরুষ দাঁড়িয়ে একা স্বমহিমায়
হাতে তার উদ্ধত ধনুক,
সপ্তর্ষির চোখে বুঝি জেগে ওঠে জিজ্ঞাসা
নাকি সে কর্ষণ শেষে রোপণ করে স্বপ্নের বীজ !

এ পৃথিবীর প্রচ্ছদে যতখানি সবুজ
পাতায় পাতায় বোনা থাকে ছায়ার মায়া।
তার রঙে নতজানু মানুষ ছুটে যায় বারবার
ঘর ছেড়ে, বাহির তাকে ডেকে নিয়ে যায়...

আকাশের মত ওই সাগরের জল
পড়ে থাকে সীমাহীন পটভূমি হয়ে।
শুশুকছন্দে ঢেউ এঁকে দেয় অগণন শিল্পের রেখা
মানুষ শুধু অবাক হতে জানে,
মননে তার বাজতে থাকে বিস্ময়ের গান।

সবখানে ছড়িয়ে আছে শিল্পের আশ্চর্য বুনন,
তাই নিয়ে মুগ্ধ মানুষ সূচীমুখ করে তার শিল্পমন
অবিরাম বুনে চলে লতায় আলপনায়
জেগে ওঠে শিল্পের অমল সুষমা...

কেউ নয়,
সে সব জানে শুধু অকিঞ্চিৎ সূঁচ,
জানে বুঝি বাবুইয়ের চঞ্চল ঠোট
তারা শুধু জানে এই সুনিপুণ শিল্পের ভাষা।

কবি স্বপন নাগ
ইছাপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ


















দালান জাহানের চারটি কবিতা 

রাইফেলের নগ্ন কালোমুখ

এই আফগান মাটি এই আফগান শহর 
তৃষ্ণায়-তৃষ্ণায় মরে গেছে 
ইটগুলো ফাঁক হয়ে বের করে আছে 
তার ক্ষুধার্ত হাত। 

প্রতিটি আলোর কণা 
পাঁজর ভেঙে তোলে আনছে 
সাহসের শেষ জলকণা। 
দাঁতাল বিশ্ব চেপে ধরেছে 
সতেজ সহজ হৃদপিণ্ডগুলো। 

দীর্ঘকাল গলা টিপে ধরে আছে 
রাইফেলের নগ্ন কালোমুখ 
অন্ধকার এবং অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে
তাদের স্বীয় স্বর্গভূমি। 

শূন্যতা কেবলই শূন্যতা নিয়ে 
আজও বসে আছে মহান খোদা। 

আফগান অগ্নিশিখা 

ধ্বংসস্তুপের নিচে 
গড়িয়ে যায় কতগুলো কালো মার্বেল
তাদের বুক জুড়ে বহমান 
অসহায় চিৎকার আর দীর্ঘশ্বাস। 

প্রান্তিক পাগড়ি দিনের আঙুল 
সূর্য রশ্মির সাথে মিলিয়ে যায় সাহসে
এবং ফিরে আসে ভোরের স্বপ্ন নিয়ে। 

সিল্করোট এই উর্বর ভূমি 
আততায়ীর জিহবা চেটেপুটে 
এই মাটি আজ কান্নার সাগর
এই দেশ আজ অগ্নিশিখার নাম
শোকাচ্ছন্ন শিশু কন্যা অবোধ নাগরিক মূর্তি 
রক্তঝরা বিদীর্ণ হৃদয় নিয়ে তারা 
আজও উঠে যায় লাল পাহাড়ে। 

তারা বাঁচবে তারা লড়বে তারা মরবে
নিজের সংস্কৃতিকে ধরে রাখবে
এই মাটি তাদের জন্মের স্মৃতি 
এই দেশ তাদের পতাকার সম্মান 
এই বালিতে মিশে আছে তাদের পূর্বপুরুষেরা। 

হৃদয়ভর্তি মৃত্যুপুরাণ 

একটি দীর্ঘহাত 
টুঁটি চেপে ধরে আছে দীর্ঘকাল। 

আত্মা থেকে টেনে তোলা নিঃশ্বাস 
বর্ষণমুখর গুলি বর্ষণ
রাইফেলের মরণ ট্টিগার 
রক্তঝরা বিদীর্ণ আকাশ
নৃশংসতার সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়া 
একটি জাতির কঙ্কাল। 

হৃদয়ভর্তি মৃত্যুপুরাণ 
আঁকতে-আঁকতে কাঁপে
শামসিয়া হাসানির আঙুল তুলি। 

অভিশাপ 

এই দীর্ঘ বিচ্ছেদ 
একদিন ফিরে আসবে ইতিহাসের পাখি হয়ে 
যারা নিজেদের ঘরগুলো তে  
ঢেলে দিয়েছে বৃষ্টির মতো মৃত্যু বারুদ 
লাল মুখগুলো সাথে নিয়ে 
হাতের রেখা ধরে তালাশ করেছে 
প্রতিটি বাড়ি প্রতিটি ঘর
বোমার আঘাতে ভেঙেছে মসজিদ মিম্বর
আঘাত করেছে গুহায়-গুহায় পাহাড়ে-পাহাড়ে
সেই পাহাড়ের অভিশাপ 
শান্তির বার্তাবাহক মুহাম্মদের অভিশাপ
জমিন ও জগতের মালিক 
সর্বশক্তিমান খোদার প্রোজ্জ্বল অভিশাপ 
পাথরের বৃষ্টিতে রঞ্জিত হবে এই মরুবালি
মরে যাবে তারা নিজেদের অস্ত্রে
নিজেরাই মরে যাবে। 

কবি দালান জাহান
বোয়ার সেন্ট্রাল আফ্রিকা





















পাভেল ঘোষের ছোটগল্প 
ভুবনস্যার 

আজ ভুবনস্যারের স্বপ্ন ভঙ্গের দিন...!আকাশের দিকে ছল ছল চোখে তাকিয়ে সে'কথাই ভাবছেন উনি...! মেঘগুলোকে আজ বড় অভিমানী দেখাচ্ছে..! যেন অন্য পাড়ায় ওদের বাসা। দল বেঁধে ছুটছে একের পর এক। মাঝে মাঝে রোদ্দুর লুকোচুরি খেলে উস্কে দিচ্ছে ভুবনস্যারের স্মৃতিমেদুর সোনালী দিনগুলোকে....! 
শুরুতে যে স্কুল থেকে শিক্ষকতার পাঠ নিয়েছিলেন,আজ বছর দেড়েক সেই স্কুলেই চলে এসেছেন জেনারেল ট্রান্সফার নিয়ে।
মাঝে সুদীর্ঘ উনিশ বছর কেটেছে সুদূর বাঁকুড়ার পলাশপুর চন্ডীবালা বিদ্যাপীঠে।ওখানকার রুক্ষ মাটি,জল বাতাসকে জীবনের ছন্দ করে নিয়েছিলেন উনি। স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের জগৎ জুড়ে ছিলেন 'ভুবনস্যার'। কিন্তু শেষ বয়সে মাতৃভূমিকে উপেক্ষা করতে পারেননি উনি।চলে এসেছেন হৃদয়পুরে।
পলাশপুরে শেষ দিনটা আজও চোখের সামনে ভাসে ওনার।ছাত্র ছাত্রী অভিভাবকরা ভালোবেসে জড়ো হয়েছিল বিদ্যালয় জুড়ে।তারা কিছুতেই যেতে দেবে না তাদের প্রিয় স্যারকে।শেষ মুহূর্তে একটা কথাতেই উনি ছাড় পেয়েছিলেন,"পলাশপুর আমার বাবা,হৃদয়পুর আমার মা।মায়ের জন্য বড় মন খারাপ করছে যে..! মাঝে মাঝেই আসবো..! চিন্তা নেই আপনাদের.."
শেষের বাক্যকে সম্মান দিয়ে ওনারা রাজী হয়েছিলেন।
এখনো ছুটি পেলেই ছুটে যান পলাশপুরে। ওখানে সবার সাথে দেখা করে তবেই ওনার 'ছুটি' । উনিশ বছরে পলাশপুরের ধুলোয় যতন করে গাছ লাগিয়েছেন কয়েক হাজার। সবার হৃদয়ে একটা মন্ত্রই গেঁথে দিয়েছিলেন,"একটা গাছ,একটা সন্তান,প্রাণ দিয়ে তাকে রক্ষা করুন...।"বিদায় সংবর্ধনায় স্কুলের সভাপতির কথাটা আজও কানে বাজে ওনার,"ভুবনস্যার এই এলাকাকে 'বৃক্ষপুর' বানিয়েছেন....,ওনার কাছে পলাশপুরের মানুষ চিরকৃতজ্ঞ...!"
চোখে জল আসে ভুবনস্যারের।
ধূলোকনার মত উড়ে গেছে তেইশটা বছর।
আর আজ কাকতালীয়ভাবে আগস্টের তেইশ তারিখ। হৃদয়পুরে উত্তমবাবুর জায়গায় ডেপুটেশন ভ্যাকেনসিতে শিক্ষকতা জীবনের হাতে খড়ি হয়েছিল এই দিনে। সেই দিনের স্মৃতি আজও শারদ প্রাতের শিউলির মতোই টাটকা।
দ্বিতীয়বার স্থায়ী শিক্ষক পদে এসেই  হৃদয়পুরের ছাত্রছাত্রীদের 'নয়নের মনি' হয়ে উঠেছেন অচিরেই। তবে কালের নিয়মে 'বেত' ছেড়েছেন বটে,কিন্তু বদ অভ্যাসটা আজও ছাড়তে পারেন নি উনি। ছাত্রদের ভালোবেসে কান মুলে 'হারামজাদা' বলে সম্মোধনটা।
আর এই বদ অভ্যাসটার জন্যই আজ ম্যানেজিং কমিটির সভায় তার ডাক পড়েছে।

"স্যার,হেডস্যার আপনাকে ডাকছেন..." অশিক্ষক কর্মী রতনের কথায় সংবিত ফেরে ভুবনস্যারের।
গতকাল ক্লাস সেভেনের অরিত্র অংকে একটা অনভিপ্রেত ভুল করতেই ওর কানটা মুলে বলেছিলেন ভুবনস্যার, "হারামজাদা....! তোর মত ছেলে এই সামান্য ভুলটা  করলো কি করে..?" প্রত্যাশাটা অরিত্রর উপর  বেশী বলে একটু জোরেই মুলে ফেলেছিলেন ওর কান। ব্যাস, এতেই হয়ে গেছে বিপত্তি..! 
আজ সকালে স্কুলে আসতেই হেডস্যার
বললেন,"ভুবনবাবু,অরিত্রর বাবা আমায় ফোন করেছিলেন..। আপনার বিরুদ্ধে কমপ্লেন লজ করতে টিফিনের সময় উনি আসবেন। আসলে আপনাকে ডেকে নেব আমি। কমিটি মেম্বাররাও থাকবেন.…."
গতকাল রাত্রে প্রাক্তন ছাত্র রাজীবের সঙ্গে ফোনে বাক্যালাপটা মনে পড়ে যায় ভুবনস্যারের। ফোনটা রাখার আগে রাজীব বলে উঠেছিল,
"ও স্যার,একবার হারামজাদা বলুন..বড় মিষ্টি লাগে যে শুনতে আপনার কণ্ঠে..!"
"হারামজাদা...! রাখ ফোনটা.." হেসে ফোনটা কেটে দিয়েছিলেন রাজীবের মাস্টারমশাই। আর আজ 'হারামজাদা' বলার অপরাধে..! মনটা বড় বিমর্ষ লাগছে ওনার। 
ভাবতে থাকেন,এই বদ অভ্যাসটা তাকে কাটাতেই হবে...,যেভাবেই হোক,যেমন করেই হোক..!
"না,না,আপনারাই বলুন...,আমার ছেলেকে 'হারামজাদা' বলার রাইট ওনাকে কে দিল? কাল সারাদিন ও কত কষ্ট পেয়েছে জানেন আপনারা..? আমি চাই 'আইদার' উনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চান 'অর' কথা দিন যেন আর...."
প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশের আগের মুহূর্তে কথাগুলো কানে যায় ভুবনবাবুর। গলার আওয়াজ শুনেই বোঝেন,অরিত্রর বাবা। প্রবেশের দরজায় থাকা পর্দার আড়ালে ওনার পশ্চাৎ ভাগ নজরে আসে ভুবনস্যারের। উত্তেজনায় উঠে দাঁড়িয়ে কাঁপছেন উনি।
প্রধান শিক্ষক সুময়বাবু ওনাকে সামলাচ্ছেন শুধু একটা কথাই বলে,"বিষয়টা দেখছি আমরা...! ভুবনবাবুকে ডেকেছি,উনি আসলেই.…."
কক্ষে ঢোকার আগে একটু নার্ভাস অনুভব করেন ভুবনবাবু। শিক্ষাঙ্গনে এই প্রথমবার, লজ্জা ও অপমানের ভয়ে...!
হঠাৎ ওনাকে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সুময়বাবু বলে ওঠেন,"ভুবনবাবু আসুন। কি সব গালমন্দ করেছেন ছাত্রকে..?নিন,এবার আপনি সামলান।আর পারি না বাপু।অনেক তো বয়স হলো,এবার নিজেকে শোধরান....!"
ওনার কড়া কথার কোনো প্রতিবাদ না করে ভুবনস্যার একপ্রকার জোর করেই কক্ষে প্রবেশ করেন নত মস্তকে। কি করে বোঝাবেন উনি,কাউকে একটু বেশী ভালোবাসলে বকার সময় 'হারামজাদা' শব্দটা তার হৃদয় থেকে আসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ? দুটো কান ভীষণরকম গরম হয়ে যাচ্ছে তার। সভায় সকলের মুখ অস্পষ্ট দেখাচ্ছে।বুঝতে পারছেন,মোমের মত গলছেন অপমানে বিদ্ধ হয়ে। 
বেদনায় ভরা অশ্রুকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে চোখ বন্ধ করে ফেলেন ভুবনস্যার। কান্না 'অশ্রু স্রোত' হয়ে গাল বেয়ে নীচে নামতে শুরু করে ওনার।
"ভুবনবাবু,অরিত্র কিছু বলতে চাইছে আপনাকে..."
সুময়বাবুর কন্ঠ কানে যেতেই চোখ খোলেন ভুবনস্যার।দেখেন,ওনার সামনে অরিত্র দাঁড়িয়ে কিছু বলতে চাইছে।
"অরিত্র..আমার ভুল হয়েছে রে..আর কোনোদিন তোকে হারামজাদা.."
ভুবনস্যার পুত্রসম ছাত্রের মাথায় হাত বুলিয়ে অস্ফুট কণ্ঠে বলতেই প্রিয় স্যারকে জড়িয়ে ধরে অরিত্র।
"স্যার,আমি বাবাকে কিছু বলিনি বিশ্বাস করুন...! বাবা রাতুলের বাবার কাছে কাল রাতে জেনেছে..., আমি বলিনি....!"
"তাহলে কাল থেকে তুই ঠিকমতো খাস নি কেন হারামজাদা...?"
কান্না ভেজা গলায় উনি অরিত্রকে প্রশ্ন করেই জিভ বের করেন লজ্জায়..! বুঝতে পারেন ভুবনস্যার, আবার অভ্যাসবশত বলে ফেলেছেন বিতর্কিত শব্দটা..।
"বাবা আজ স্কুলে আপনাকে বকবে শুনে কাল থেকে মন খারাপ করছিল।তাই কিছু খাইনি...! বিশ্বাস করুন স্যার..!"
প্রিয় স্যারের শরীরে মুখ গুঁজে বলে ওঠে অরিত্র।
ঝাপসা চোখের আবছা আলো ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে ওঠে ভুবনস্যারের। কক্ষে সবার 'নতমুখ' নজর এড়ায় না ওনার। বাইরে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখেন,ক্লাস সেভেনের ছাত্ররা দল বেঁধে প্রধান শিক্ষকের কক্ষের বাইরে।হারামজাদাদের মুখগুলো শানিত তরবারির মতোই ঝকঝকে দেখাচ্ছে আজ..!
মেঘেদের দল অভিমান ছেড়ে আপন ভুবনে আসছে,বেশ বুঝতে পারেন উনি..।
মনে পড়ে যায় কাল রাত্রে রাজীবের কথাটা,
"ও স্যার, একবার 'হারামজাদা' বলুন....!"

সাহিত্যিক পাভেল ঘোষ 
পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত 





বুনন 
লিটন শব্দকর 

কাঁটামেহেদীর নীলাভ ছুঁয়েছি 
কোন বালুকাময় সমুদ্রবেলা,
ঘুমান্তরেও তটের কাছাকাছি
তারামাছদের সুখবাড়ি খেলা।
ডাইরির নীলে দিনে জলকল্প
রাত নামলেই ঝিনুকের কথন
ভোরবেলা পলিমঞ্চের বিষ্ময়
বকেয়া নিভৃতিরই অণুলিখন।

কবি লিটন শব্দকর 
ত্রিপুরা, ভারত 








তবু ও থেকে যায় 
দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় 

কথার প্রান্তে তুমি বসে থাকো অবিচল
কথারা ছোঁয় না তোমায়
সম্পর্কের বল্কল খসে পড়ার শব্দ শুধু

ক্লান্ত বিকেল ঢলে পড়ে সন্ধ্যার গায়
অন্ধকার চাদর মেলে চারপাশ
না -বলা কথা গায়ে জড়িয়ে উঠে পড়ো তুমি

শেষ কথা আর বলা হয় না
হয়তো আর হবেও না কোনদিন
এরকম কোন এক মায়াবী বিকেলে

তখন প্রশ্নরা শুধু জেগে থাকবে ঠোঁটে
বুভু্ৎসার অনুভবে সবিস্ময়
মুচকি হাসিতে তখন ঢাকতে থাকবো দগদগে ক্ষত

কবি দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়
কাঁঠাল বাগান, উত্তরপাড়া, হুগলি














মোহন দাসের তিনটি কবিতা 

বৃষ্টি

সবকিছু শেষ হয়ে যাবার পরেও

অনেক কিছু বাকি থেকে যায় কখনও কখনও
এই যেমন শীতকাল নয়
তবুও কেমন যেন রোজ ঠান্ডা হয়ে আসছে বুকের পাঁজর।
মেঘ করেনি,নিম্নচাপ নয় তবুও কেমন যেন মেঘলা আকাশ
আজ বৃষ্টি সারাদিন।

সব চলে যাওয়ার মানে শূন্যতা নয়

সব বিচ্ছেদের শেষে ফিরে আসবার পথটুকুও

অবশিষ্ট থাকে না,
দাঁড়িয়ে শোক পালন করবার মতো
শক্তিরও ঘাঁটতি পড়ে যায়। 

অথচ আমি জানি সব চলে যাওয়ার মানে শূন্যতা নয়
ভাঙন নয়,
নয় বিচ্ছেদও

এই তো আজও মননের বারান্দায়-দুয়ারে শুধু তুই আর তুই
চলে গেছিস কোথায় আর;

আমি তো রোজ স্বপ্নেই তোকে ছুঁই।

কষ্ট

আমাকে ছেড়ে চলে গেছ বলে

খুব কষ্টে আছি কি না ঠিকঠাক সময় খাচ্ছি কি না
রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমোচ্ছি কি না
কিছুই জানি না আমি
শুধু জানি,এই ছেড়ে যাওয়া ছেড়ে যাওয়া নয়;
বিচ্ছেদ নয়।

তবুও কেন জানি না এই বুকের ভেতর সারাটা রাত
ব্যথার মাদল বাজে
ধিমি-ধিমি,ধিমি-ধিমি, ধিমি-ধিমি...

আমি কিছুতেই ঘুমোতে পারি না।

কবি মোহন দাস 
চাকদহ, নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ 
                                          





















পুর্নজন্ম
মীরা মুখোপাধ্যায় 

এতো কষ্টের পরও এই যে জন্মের জন্য হাত পাতা
পাথরের মতো নীরবতা ঠেলে 
ডিঙিটাকে জন্মভূখন্ডের দিকে নিয়ে যাওয়া...
পথে আমি পেরিয়ে এসেছি 
জলোচ্ছাস ও হাওয়ার সন্ত্রাস
সোনার কাঁকন নিয়ে বসে থাকা বাঘ ইত্যাদি 

এতখানি পথ....
দেখলে দেখতে পেতে 
আমি কতো রোগা হয়ে গেছি

তারপরও মধ্যরাতে তোমাদের দুজনের কাছে
আবার জন্মের জন্য হাত পেতে প্রার্থনা করেছি

কবি মীরা মুখোপাধ্যায়
তেলিপুকুর, ডাক শিমুরালী, নদীয়া




















প্রতীক্ষা শেষে 
ঝুটন দত্ত

একদিন দেখা হবে তোমার সাথে আমার,
লক্ষ কোটি মাইলের দূরত্ব ঘুঁচে।

ইটের সলিং রাস্তায় হাঁটবো দুজন ঝরা পাতার মর্মর শব্দে, 
নিশি পোকার কোরাসে জ্বলে থাকবে ল্যাম্পপোস্ট। 

কোন গোপন প্রণয় নেই আমাদের,পৃথিবী জানবে তোমাকে ভালোবাসাই আমার ধর্ম। 

কবি ঝুটন দত্ত 
কেন্দুয়া, ময়মনসিংহ , বাংলাদেশ



নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ হোম

ব্লগ সংরক্ষাণাগার

  • আগস্ট (3)
  • জুলাই (22)
  • জুন (8)
  • নভেম্বর (15)
  • অক্টোবর (5)
  • সেপ্টেম্বর (81)
  • আগস্ট (66)
  • জুলাই (55)
  • জুন (56)
  • মে (57)
  • এপ্রিল (46)
  • মার্চ (15)
  • জানুয়ারি (14)
  • ডিসেম্বর (73)
  • নভেম্বর (103)
  • অক্টোবর (97)
  • সেপ্টেম্বর (101)
  • আগস্ট (120)
  • জুলাই (88)
  • জুন (76)
  • মে (63)
  • এপ্রিল (11)

🔴বিজ্ঞপ্তি:

পাঁচ মাসের বিরতি কাটিয়ে আবার ও ফিরছি আমরা। খুব শীগ্রই আসছে আমাদের প্রত্যাবর্তন সংখ্যা।

অনুসরণ করুণ

এক মাসের সর্বাধিক পঠিত পোস্টগুলি:

  • ꩟অমর্ত্য দত্ত'র গুচ্ছ কবিতা꩟
  • শান্তনু গুড়িয়ার কবিতা
  • প্রচ্ছদ, সূচিপত্র ও সম্পাদকীয়
  • অনুসারী ~ হেমন্ত সরখেলের কবিতা
  • থেকে যাস এমনি ~ বিষ্ণু চক্রবর্তী'র কবিতা
  • 🍃 শেষ কথা কে কবে 🍃
  • ๑ সিঁড়ি আর সূর্যের গল্প ๑
  • প্রেমাংশু শ্রাবণের কবিতা
  • শৌভিক চ্যাটার্জী'র কবিতা
  • অনুপম দাশশর্মার কবিতা

বিষয়সমূহ

  • Poetry speaks 2
  • অণু কথারা 21
  • আবার গল্পের দেশে 8
  • উৎসব সংখ্যা ১৪২৭ 90
  • একুশে কবিতা প্রতিযোগিতা ২০২১ 22
  • এবং নিবন্ধ 3
  • কবিতা যাপন 170
  • কবিতার দখিনা দুয়ার 35
  • কিশলয় সংখ্যা ১৪২৭ 67
  • খোলা চিঠিদের ডাকবাক্স 1
  • গল্পের দেশে 17
  • ছড়ার ভুবন 7
  • জমকালো রবিবার ২ 29
  • জমকালো রবিবার সংখ্যা ১ 21
  • জমকালো রবিবার ৩ 49
  • জমকালো রবিবার ৪ 56
  • জমকালো রবিবার ৫ 28
  • জমকালো রবিবার ৬ 38
  • দৈনিক কবিতা যাপন 19
  • দৈনিক গল্পের দেশে 2
  • দৈনিক প্রবন্ধমালা 1
  • ধারাবাহিক উপন্যাস 3
  • ধারাবাহিক স্মৃতি আলেখ্য 2
  • পোয়েট্রি স্পিকস 5
  • প্রতিদিনের সংখ্যা 218
  • প্রত্যাবর্তন সংখ্যা 33
  • প্রবন্ধমালা 8
  • বিশেষ ভ্রমণ সংখ্যা 10
  • বিশেষ সংখ্যা: আমার প্রিয় শিক্ষক 33
  • বিশেষ সংখ্যা: স্বাধীনতা ও যুবসমাজ 10
  • ভ্রমণ ডায়েরি 1
  • মুক্তগদ্যের কথামালা 5
  • রম্যরচনা 2
  • শীত সংখ্যা ~ ১৪২৭ 60

Advertisement

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

মোট পাঠক সংখ্যা

লেখা পাঠাবার নিয়মাবলী:

১. শুধুমাত্র কবিতা, মুক্তগদ্য অথবা অণুগল্প পাঠাবেন। ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং অন্যান্য বিষয়ক লেখা সম্পূর্ণ আমন্ত্রিত। ২. লাইনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। ৩. লেখা মেইল বডিতে টাইপ করে পাঠাবেন। ৪. লেখা মৌলিক ও অপ্রকাশিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। অন্য কোনো ব্লগ, ওয়েবজিন অথবা প্রিন্টিং মিডিয়ায় প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ৫. মেইলে আপনার লেখাটি সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত, কথাটি উল্লেখ করবেন। ৬. লেখার সাথে আবশ্যিক ভাবে এক কপি ছবি ও সংক্ষিপ্ত ঠিকানা পাঠাবেন।  ৭. লেখা নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হবে। এক মাসের মধ্যে কোনো উত্তর না এলে লেখাটি অমনোনীত ধরে নিতে হবে। ৮. আপনার লেখাটি প্রকাশ পেলে তার লিঙ্ক শেয়ার করাটা আপনার আবশ্যিক কর্তব্য। আশাকরি কথাটি আপনারা মেনে চলবেন। আমাদের মেইল- hridspondonmag@gmail.com
blogger-disqus-facebook

শান্তনু শ্রেষ্ঠা, সম্পাদক

আমার ফটো
পূর্ব বর্ধমান, India
আমার সম্পূর্ণ প্রোফাইল দেখুন

সাম্প্রতিক প্রশংসিত লেখা:

প্রচ্ছদ, সূচিপত্র ও সম্পাদকীয়

প্রচ্ছদ, সূচিপত্র ও সম্পাদকীয়

প্রেমাংশু শ্রাবণের কবিতা

প্রেমাংশু শ্রাবণের কবিতা

শান্তনু গুড়িয়ার কবিতা

শান্তনু গুড়িয়ার কবিতা

অদ্রিজা মণ্ডলের কবিতা

অদ্রিজা মণ্ডলের কবিতা

দিশারী মুখোপাধ্যায়ের গুচ্ছ কবিতা

দিশারী মুখোপাধ্যায়ের গুচ্ছ কবিতা

হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন

© হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন। শান্তনু শ্রেষ্ঠা কর্তৃৃক পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত থেকে প্রকাশিত।

Designed by OddThemes | Distributed by Gooyaabi Templates