মিলি মন্ডল রায়ের কবিতা


শাশ্বত তোমাকে

এক অরূপ গোধূলিবেলায় তুমি আমায় দেখিয়ে 
ছিলে সূর্যাস্ত,
লাল আবীর ছড়ানো পাহাড়ের ঢাল বেয়ে অস্তগামী সূর্যের যাত্রাপথে বেজে উঠেছিল সন্ধ্যাপূজার ঘন্টাধ্বনি।
শান্ত নির্বাক পাহাড়ের  হৃদয়তন্ত্র জুড়ে তুমুল আলোড়ন,
শেষ সূর্যের ঝিকিমিকি আলোর অপার সৌন্দর্য তোমাকে দিয়ে আমি নিলাম অতন্দ্র প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গিরিচূড়ার নীরব ব্যথাটুকু।

কোনো এক কুসুম ভোরে আমরা একসাথে শুনেছি সমুদ্রের গর্জন,দেখেছি তীব্র উচ্ছ্বাস! সাদা ফেনায় লুকিয়ে থাকা কত অভিমান। সকালের সোনালী আলোয় ঝিনুক বুকে জমে আছে কতো না বলা কথা।
আমার সেই নীল অতল সমুদ্র, তীরে আছড়ে পড়া লহরী সব তুমি নিও।আমার জন্য থাক ঝিনুকের যন্ত্রণাটুকু।

কত বৈশাখী সন্ধ্যা ভেসে যেতো তোমার গানে ---
"ও চাঁদ, চোখের জলে লাগলো জোয়ার দুখের পারবারে," মাঝে মাঝেতীব্র দহন শেষে শান্ত মাটি ভিজে যেতো অকালবর্ষণে, হঠাৎ,বৃষ্টির আলতো ছোঁয়া পেয়ে কেঁপে উঠতো গন্ধরাজ,ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধে মিশে যেতো জুঁইয়ের ঘ্রাণ।
ছোট্ট শহরের সেই আনন্দ সন্ধ্যা আকুল আলো জোয়ার খেলা সব তোমার। 
আমি চাই শুধু নিঃসঙ্গ  মাটির বুকে বন্দী থাকা জল।

এখন অসময়,তোমার আমার মাঝে বিষাদ দূরত্ব
তোমার না দেখা সব স্বপ্ন ধুয়ে যায় রাতের 
নিয়ন আলোয়
আমার এখানে মোমজ্বলা নিস্তব্ধতা,জোনাকির লুকোচুরি
নীরব দহনে অনন্ত নির্ঘুম আকাশ জুড়ে নক্ষত্র অভিমান
গভীর রাতের মালকোষ হয়ে বেজে যায়!
কচি ধানের নম্র-শীষে জমে থাকে শাশ্বত সময়।

কবি মিলি মন্ডল রায়
বনগ্রাম, উত্তর চব্বিশ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গ




















শিউলি বিছানো ভোরের বাতাসে ভেসে আসে চেনা দিনের গন্ধ,এবার বুঝি নীলপদ্মের ফোটার সময় হলো।।

0 Comments