অনন্য বিশ্বপথিক অলোকরঞ্জনকবি অলোকরঞ্জনের কবিতার ভাষা চিরকাল ক্ষুধা,  তৃষ্ণা, রোদবৃষ্টি, স্বপ্ন ও ভালোবাসায় পুষ্টঅলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত  বাংলা আধুনিক কবিতার আলো অন্ধকার আয়ুু ...এক অলৌকিকযান...কবিতা কি বা কবিতা কেন,কবিতা দুর্বোধ্য হবে না সহজবোধ্য হবে, এসব তর্কে না গিয়ে বরং কবিতার কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ান যাক......এখন লিখতে গেলে সমগ্র...
রোজানাআমি রোজ দেখি।রোজ দেখতে তোমার মত কোথায়!কেমন নিস্পন্দিত, নিস্পলক চাউনি রোজকার রোজটার!প্রশ্ন করে কেন চেয়ে থাক রোজ রোজ রোজের আশায়।তবে রোজকার দিকে তাকিয়ে থাকতে মন্দ লাগে না! ইদানীং মেঘাত্যয় রোজের গভীরেও যত্নে লালিত রোজকার যত্নশীলা জলের গুঁড়ো দেখতে পাই।'তুমি আগে বাড়ি,এস,তারপর খাব,'কিংবা 'ঠান্ডা লাগিও...
ছিপসময়ের তীব্রতায় আত্মতুষ্টি ও মারণব্যাধি!টগবগে নদী, লাস্যময়ী রুপমাছেদের উন্মাদনা, নেশা বিভোর নৃত্য সারি সারি বক, মাছরাঙাবঁড়শির ফাঁদ পেতে প্রহরগুনে।নতুন স্রোতের পূণ্যস্নানেভাঙতে থাকে বংশ, পরিচয়, স্তম্ভদিশাহীন তবু, আত্মভোলা খেলায় মত্তছিপের ডগায় লাফিয়ে দেখেপৃথিবীটা ভীষণ বিষাক্ত ! চোখের জলহৃদয় ফেটে চৌচির হলেলাভা হয়ে অশ্রু ঝরে নীরব যন্ত্রণার জলোচ্ছ্বাসবুক...
ফিরে এসকতদিন হল চলে গেছ,ফিরে এস প্লাবনের মতএকাকী বাউল দেখ হারিয়েছে পথবাঁকা পথ এলোমেলো কত গ্রাম কত শহরের শেষে ঘুমিয়ে পড়েছে ওই পথের ওপাশে।আলতো আদরে তাকে দেখাও নিশানআবার উঠুক জেগে, বাজুক সে গানকতদিন হল চলে গেছ,ফিরে এস প্লাবনের মতপুরুষ স্তনের মত নিতান্ত নিস্ফলাএজীবনে এনে দাও...
পাশপোর্টভাঙনের সূত্র মেনে হৃদয় ভেঙে পড়েজীবনের প্রতিটি পাতায় লেখা হয় ভুলের কবিতাপৃথিবী রঙের দুঃখ দিয়ে আমরা সাজাই বাসরচাঁদের করুণ আলোয় ভেসে যায় সম্মোহনী রাজ‍্যপাঠঅসহায় সাঁতার কাটছি মরুভূমির মাঠেনগ্ন দুঃখ গুলো কপালে তিলক এঁকে দিব‍্যি গাইছে রামধুন গানধর্ম বাবারা সম্ভ্রম খোয়ানোর দীক্ষা দিচ্ছে প্রতিদিনরুক্ষ...
নিঃস্বতামুঠো টা খুলে গেছে হাওয়ায় আমি ঘর ছাড়ার জন্য প্রস্তত হচ্ছি কেউ খুঁজে চলেছে ঘর কারও জন্য পৃথিবীটাই একটি বাড়ি এবার শরীরটি অর্ধস্বচ্ছ হচ্ছে যোগীবাদ ছেড়ে দেখো মিলিয়ে যাচ্ছি পৃথিবীতে অর্ন্তদৃষ্টি ধুয়ে যাক গরম রক্তে চোখ খোলো মানুষ একপশলা কেঁদে নিয়ে  কবি প্রসাদ সিং মারাইখুন্তি, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিমবঙ্গ  ...
বিষধরমনের অভিসারে চলা পথে,কিছু শ্যাওলা আর ছত্রাক বীজ বুনেছে। স্যাঁতস্যাঁতে একটা ভিজে গন্ধে ভরে গেছে রক্তঘর। অলিন্দের ঘন কুয়াশায় হারাচ্ছি পথ,চোখ জ্বেলে চলতে চলতে বিরামহীন এক রাত্রি চলমান। ধমনীর অলিতে গলিতে চুঁইয়ে পড়ছে চর্বি। অভিসারের থেকে জন্মানো অপ্রত্যাশিত চর্বি। পথ হারানোরও নেই অবকাশ,সামনে গোটা শরীরে বয়ে যাওয়ার দুর্দান্ত...
*প্রচ্ছদ শিল্পী- তানিয়া ইসলাম সম্পাদকীয়:সব হারানোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে কোনো না কোনো পাওয়ার গল্প। অনেকটা ঠিক,সময়ের কাঁধে চড়ে দুঃখ পেরোতে চাওয়ার মত।আসলে প্রতিটি উৎসবই প্রাণের কথা বলে,বেঁচে থাকার গল্প শোনায়।  করোনা পরবর্তী সময়ে আমরা যখন একটু একটু করে আনন্দ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি ঠিক তখনই...
রাত্রিরাত আরও গভীর নিকষ রাত্রি হয়ে উঠলতুমি অপেক্ষায় থাক, ভোর এখনও অনেক দূরেরাত্রি জমাট পাথর। কিভাবে ভাঙবে তাকেরাত্রির ভেতরে রাত্রি।তোমার বসবাস ওষুধে ইনজেকশনেএকে তুমি অবকাশ ভাবইনসুলিনের সূঁচে দুলছে তোমার অবকাশতোমার হাতের ওপাশে বুদ্ধদেব বসুর গদ্যগ্রন্থগুলিমাথার উপরে উঁকি দিচ্ছেন সার্ধশতবর্ষের রবীন্দ্রনাথ।..তারুণ্যস্পৃষ্ট রকমারি কবিতার বইমোমবাতির...
তবু দিগন্তে ফোটে অলীকফুলভাদর থেকে আশ্বিনের শিউলি পথে যেতে যেতে চোখে পড়ে মানুষের শূন‍্যতাচারদিকে কত ছোট ছোট দেয়াল, ছিন্ন আশার ছাইউড়ছে বাতাসেতার-ই মধ‍্যে মানুষের একক সন্তরণ যাঁর যাঁরনিজস্ব অন্ধকারে এসব আদিগন্ত চর্যাপদ যা আবছা শ্বাসটুকু নিয়ে খুলে ফেলে অদৃশ্য জটবুনোফুল ফোটে প্রাচীরের গায়ে নির্বিকার ব‍্যস্ততায় তখন পৃথিবীতে...