শুক্লা মুখার্জি'র গল্প



 জন্মদিন

ভোরের দিকে গা'টা শিরশির করে ঘুমটা ভেঙে গেল সুমিতার। পাশের বেডসাইড টেবিলে রাখা ঘড়িটায় আবছা আলোয় দেখলো চারটে দশ, তারমানে উঠতে এখনো দেরি আছে। তার ওপর আজ রবিবার, আরও একটু দেরিতে উঠলেও ক্ষতি নেই। 
পাশে দিগন্ত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। আজকাল মাঝেমধ্যে খুব রাগ হয় মানুষটার ওপর, কেমন সুন্দর সংসারের সব দায়িত্ব সুমিতার ওপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত আছে। আর সুমিতা?  সে বেচারি যতই সংসারের যাঁতাকলে পেশাই হয় বেশিরভাগ রাগ,অভিমান সব গিয়ে পড়ে দিগন্তর ওপর। 
ঘুমন্ত স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ কেন জানি না খুব মায়া লাগলো সুমিতার। কাজের চাপ, বাইরের সব কাজ ওই ই তো সামলায়। আর তাছাড়া ভালো -মন্দ মিশিয়েই তো মানুষ... 
আজকাল সে নিজেও মাঝে মাঝে মেজাজ হারিয়ে ফেলে, আসলে বয়েস তো তারও বাড়ছে.... 
আজ চব্বিশে মার্চ, সুমিতার জন্মদিন। ক'দিন ধরেই মনে করে রেখেছে। আজ চল্লিশে পা দিল সে। নিজের মনেই বিড়বিড় করে ওঠে, "বুড়ি হয়ে গেলাম ".. অন্যরকম একটা আনন্দে মনটা ভালো হয়ে গেল  কিন্তু এটা কি হল?  প্রতিবছর দিগন্ত ঠিক রাত বারোটায় তাকে উইশ করে, এবছর বেমালুম ভুলে গেল.?.. "পাঁচরকম কাজে ব্যস্ত থাকে,ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক...সকালে ঠিক উঠে সরি..সরি..করবে".. নিজেকে নিজেই স্বান্ত্বনা দিয়ে চাদরটা টেনে নিয়ে চোখ বন্ধ করে সে। 
--" ম্যাডাম, আর কতক্ষণ ঘুমাবেন? উঠুন."...দিগন্ত  হাঁক পাড়ে.. 
--"এ মা!  এত বেলা হয়ে গেছে, ডাকবে তো? "..অপ্রস্তুত হয় সুমিতা। 
--" কেন ডাকবো? রোজই তো সকালে ওঠো, আজ রবিবার.. তাই আর ডাকিনি।আমি মাঠ থেকে ঘুরে এলাম..এবার চা চাই... তাই ডাকলাম".....
--"আসছি "...বাথরুমে ঢুকে সুমিতা ভাবে দিগন্ত তো কিছু বললো না?  তারমানে নিশ্চই ভুলে গেছে আজ সুমিতার জন্মদিন।       
রুকু অর্থাৎ রুক্ষ্মিণী মানে সুমিতা আর দিগন্তের একমাত্র কন্যা এখন মামারবাড়ি বর্ধমানে।সেই পরীক্ষার পরেই গিয়েছে, আগামীকাল ফিরবে৷ আর তো তিনদিন পর রেজাল্ট, দেখতে দেখতে ক্লাস নাইন হয়ে গেল। দু'কাপ চা নিয়ে দু'জনে ব্যালকনিতে এসে বসে। 
---" রুকুকে প্রদীপ দিয়ে যাবে তো? দ্যাখো, যদি ওর অসুবিধা থাকে তাহলে বরং আমি গিয়ে নিয়ে আসবো"...দিগন্ত জিজ্ঞাসা করে। 
---"না না, তোমায় যেতে হবে না.. ভাইয়ের কিছু কাজ আছে কলকাতায়, ওই আসবে বলেছে "..
---" আচ্ছা, আমি আজ দুপুরে খেয়ে একটু দিদির বাড়ি যাবো। দিদি ফোন করেছিল, কিছু দরকার আছে বলছিল...সন্ধ্যের আগেই চলে আসবো"...
---"আচ্ছা "..মনটা ক্রমশই ভারী হচ্ছে সুমিতার। 
চায়ের কাপ দুটো নিয়ে রান্নাঘরের বেসিনে রেখে চোখদুটো জলে ভরে যায় সুমিতার। যা ভেবেছিল ঠিক তাই, দিগন্ত ওর জন্মদিনটা একদম ভুলে গেছে। সারাজীবনটা ওদের জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছে সে.. আর আজ ওর জন্মদিনটাও কেউ মনে রাখলো না..... 
--" সুমি...আজ ব্রেকফাস্টে লুচি আর সাদা আলুচচ্চড়ি করো"..ব্যালকনি থেকে অর্ডার আসে। 
--"হুমম"...চোখ মুছতে মুছতে রান্নাঘর থেকে জবাব দেয় সুমিতা। 
একবার ভাবে দিগন্তকে মনে পড়িয়ে দেয়, কিন্তু আবার ভাবে 'না থাক',মনে যখন পড়েইনি আর মনে পড়াতে হবে না...... 
জলখাবার খেয়ে এটা ওটা বকতে বকতে বাজারের থলি হাতে বেরিয়ে যায় দিগন্ত। 
---"নাহ, এখনো মনে পড়লো না ওর "....মনের মধ্যে অভিমানের পাহাড় জমতে শুরু হয়েছে... 

ওয়াশিং মেশিনে জামাকাপড়গুলো ভেজাতে ভেজাতেই ফোনের রিং শুনতে পায়। হাত মুছে এসে দেখে 'মা কলিং '....
--" হ্যালো"...
---"হ্যাপি বার্থডে মাই প্রিন্সেস "..মায়ের গলা শুনে আবার দু'চোখ জলে ভরে যায়।  এরপর একে একে ভাই, ভাইয়ের বউ নন্দিনী, ভাইপো...... জন্মদিনের অভিনন্দনে মনোকষ্ট কিছুটা হলেও দূর হয়... সবশেষে মেয়ের গলা শুনতে পেয়ে মন এখন অনেকটাই হাল্কা। তবে একটা কাঁটা খিঁচখিঁচ করতেই থাকে..... 

আজ বাবার কথা খুব মনে পড়ছে। যতদিন বাবা বেঁচেছিলেন সুমিতার জন্মদিন খুব ধূমধাম করে পালন করতেন, তুলনায় প্রদীপের জন্মদিনে আড়ম্বর একটু হলেও কম হত... এ নিয়ে প্রদীপের মনে একটু ক্ষোভ বরাবরই ছিল। 
যাইহোক, বিয়ের পর থেকে দিগন্তও তার জন্মদিন প্রতিবার মনে রেখে সাধ্যের মধ্যে পালন করে থাকে। তবে দিগন্তর এবছর প্রমোশন হবার পর থেকেই কাজের চাপ খুব বেড়ে গেছে, অবশ্য সাথে সাথে মাইনেটাও একলাফে বেড়েছে বেশ অনেকখানি।
সুমিতার বিয়ের বেশ কিছুদিন আগেই দিগন্তের মা ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইহলোক ত্যাগ করেছিলেন। তারপর ওদের বিয়ের চারবছরের মাথায় শ্বশুরমশাইও হঠাৎ করেই সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়ে মারা গেলেন। রুকু তখন সবে একবছরের। রুকুর কচি গলায় আধো আধো স্বরে 'দাদু' ডাক শুনে বাচ্চাদের মত আনন্দ পেতেন। মানুষটাকে আজও খুব মিস করে সুমিতা। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ী এসে নিজের বাবাকে শ্বশুরমশায়ের মধ্যে খুঁজে পেয়েছিল সে। 
দিগন্তরাও এক ভাইবোন। দিগন্তর দিদি অপর্ণা শ্যামবাজারে থাকে। জামাইবাবু যাদবপুর ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক। শ্যামবাজারে বনেদী বাড়ি ওনাদের। দিদির ছেলে মেডিক্যালে থার্ড ইয়ার আর মেয়ে ক্লাস টুয়েলভ। 

অনেকদিন পর দুই বাবার কথা মনে করে মনটা আবার ভারী হয়ে যায়। সত্যিই, বাবারা ছাড়া মেয়েদের মন বোধহয় আর কেউ তেমন করে বুঝতে পারে না। মনে মনে এই বিশেষদিনে দুই বাবাকে প্রণাম জানায় সে। 
কিন্তু একটা ব্যাপারে একটু অবাক হয় সুমিতা। দিগন্ত না হয় ওর জন্মদিনটা ভুলে গেল.. তাই বলে ননদ, নন্দাই, ভাগনা, ভাগনী সবাই ভুলে গেল?  অথচ প্রতিবছর সকাল হলেই দিদি ফোন করে উইশ করে... 
সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতেই কলিংবেলের আওয়াজ কানে আস.. 
--"দিগন্ত এত তাড়াতাড়ি চলে এল? "..নিজের মনে মনেই বলে সুমিতা..... 
দরজা খুলে দেখে পারুল। তার হেল্পিং হ্যান্ড, তার ভরসা, তার সারাদিনের সঙ্গী। পারুল ছাড়া সুমিতার চোখে অন্ধকার। সমবয়সী হওয়ার জন্য তারা দুজনে সুখ-দুঃখও ভাগ করে নেয় অনেকসময়। 
পারুলের স্বামীর জন্য ওর সংসারে অশান্তির শেষ নেই। একটা বিস্কুট তৈরির কারখানায় কাজ করে, কিন্তু যা মাইনে পায় তার বেশিরভাগই মদ আর জুয়ায় শেষ করে। তারওপর আবার পারুলের থেকেও টাকাপয়সা চাইবে.. না দিলেই গালমন্দের সাথে গায়ে হাতও তোলে... 
আবার মাঝে মাঝে কি যে হয় কে জানে?  নিজেই নাকি বলে, " আর মদ খাবো না, জুয়া খেলবো না "...তখন যেন পারুলের আনন্দের সীমা থাকে না... দুটোছেলেকে নিয়ে মহানন্দে থাকে... কিন্তু সে আনন্দ বেশিদিন থাকে না.. আবার যে কে সেই... এই বুঝি সংসার...... 

আজ ঘরে ঢুকতেই সুমিতা দেখলো পারুলের মুখচোখ কেমন থমথমে। কিছুটা জেনেশুনেই সুমিতা জিজ্ঞাসা করে...
---" কি হয়েছে পারুল? "...
---" আর কি হবে বৌদি?  সেই একই কাহিনী... 
জানো, আজ প্রায় দশদিন ধরে নেশাভাঙ করে নি কো...কি খুশিতেই না ছিলুম গো আমরা.. কিন্তু ও শয়তানের আমাদের খুশি সহ্য হলনি গো... কালরাতে আবার ওইসব ছাইপাঁশ গিলে এসে কি অশান্তিটাই না করলে"......নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে যায় পারুল। 
একবারের কথা মনে পড়ে সুমিতার। সেবার পারুল একদিন কাজে এসেছে, মাথায় সিঁঁদূর নেই.. শাঁখা-পলা সব খুলে ফেলেছে..
---"কি হল পারুল?  তোমার মাথায় সিঁদূর নেই কেন?  শাঁখা-পলা সব কি হল?.. সুমিতা কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করে.. 
--"সেই এক অশান্তি বৌদি। আর ভালো লাগছে নি গো। হারানকে বললুম তুমি মরেছো আজ থেকে.. আমি বেধবা হলুম আর আমার 
কানু-ভানুও অনাথ হলো...কেউ নেই আমাদের "
তার দু'দিন পর দেখে পারুল এসেছে মাথা ভর্তি সিঁদূর, হাতে শাঁখা-পলা, পায়ে আলতা.. মুখে আবার পানও চিবোচ্ছে... 
---"কি ব্যাপার পারুল? .. বিদ্রুপের সুরে জানতে চায় সুমিতা। 
---"ওই দ্যাখো না, কানুর বাবা বললে, 'তুই এমনি করে ঘুরছিস.. আমি কি মরে গেছি?  আর এমন করবোনি '..তাই আর কি "..লজ্জা পায় পারুল।

একটুপরেই একথলি বাজার করে এসে চায়ের অর্ডার করে দিগন্ত। 
--" শোনো, আজ কিন্তু একটু তাড়াতাড়ি রান্নাটা সেরে ফেলো, বেরোতে হবে একবার, দিদির ওখানে যাবো.. মনে আছে তো? "....
---" হ্যাঁ.. হ্যাঁ.. খুব মনে আছে "...মনে মনে একটু ক্ষুন্ন হয় সুমিতা। 
---" আজ তোমার প্রিয় ইলিশ এনেছি, জম্পেশ করে রাঁধো তো"...
---"তা হঠাৎ আমার প্রিয় ইলিশ? "..সুমিতার মনে আশার আলো... 
---" এমনিই... ভালো পেলাম তাই "....
---" অ... এমনিই "... সুমিতা মুখ ঘুরিয়ে রান্নাঘরের দিকে যায়। 

দুপুরের খাবার পর একটু বিশ্রাম নিয়েই দিগন্ত বেরিয়ে যায়। বিকালের দিকে এককাপ চা নিয়ে ব্যালকনিতে এসে বসে সুমিতা। হঠাৎ চোখ যায় তার বেডরুমের জানলাটার পাশে যে চিলতে জায়গাটা আছে ওইখানে। দুটো পায়রা নিত্য দাম্পত্য খুনসুটিতে ব্যস্ত। সুমিতা গলা বাড়িয়ে পা উঁচু করে দেখে বাসায় দুটো ছোট্ট ছোট্ট ডিম, মা মাঝে মাঝে যাচ্ছে আর সে দুটোয় তা দিচ্ছে, কয়েকদিন পরেই সেখান থেকে ছানা বের হবে... প্রকৃতির নিয়মে সব সংসারেই একই খেলার পুনরাবৃত্তি শুধু..... 

সন্ধ্যার মুখেই দিগন্ত ফিরে এলো। 
---" সুমি."..বাথরুম থেকেই হাঁক পাড়ে.. 
--"কি হল কি?  "...
---" তাড়াতাড়ি একটা ভালো শাড়ি পরে তৈরি হয়ে নাও... চলো একটু ঘুরে আসি "...বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসে দিগন্ত। 
চোখদুটো চিকচিক করে ওঠে সুমিতার, " তাহলে কি দিগন্তর মনে পড়ল? "....
---" কেন, হঠাৎ ঘুরতে যাবো কেন? "...নিশ্চিন্ত হবার জন্য সুমিতা জিজ্ঞাসা করে। 
---" আরে চলোই না.. এমনিই.. কিছু না.. মেয়েটা চলে এলে সেই তো আবার সময়ই পাবে না "...
তারমানে দিগন্তর মনে পড়ে নি.. হতাশ হয়ে যায় সুমিতা। 
সন্ধ্যেবেলায় দু'জনা একটু এদিক সেদিক ঘুরে দিগন্ত তাকে একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়। 
---" চলো আজ আর রান্না করতে হবে না, রাতে এখানেই খেয়ে যাবো "...
ছোট্ট রেস্টুরেন্ট কিন্তু বাইরে থেকেই বেশ সুন্দর লাগছে। ভিতরে ঢুকতেই দ্যাখে ননদ, নন্দাই, ভাগনা, ভাগনী সবাই ওর জন্য অপেক্ষা করছে। ওকে দেখেই সবাই হইহই করে ওঠে। 
---" হ্যাপি বার্থডে সুমি " ননদ এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরে। "ভেবেছিলে ভুলে গেছি?  এবছর আমরা ভাবলাম তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দেবো... আসল ভাবনাটা কিন্তু তোমার ভাগনা -ভাগনীর। "....
---" হ্যাপি বার্থডে মামি "..সমস্বরে বলে ওঠে দু'জনে। 
দিগন্ত পিছনে দাঁড়িয়ে মিটমিট করে হাসছে। 
---" জানিস দিদি, এক একসময় সুমির মুখটা দেখে না খুব হাসি পাচ্ছিল, বেচারি ভেবেছিল আমরা সবাই ওর জন্মদিনটা ভুলে গেছি ".....
রেস্টুরেন্টটা যথাসম্ভব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। একটু পরেই আরো সুন্দর একটা কেক টেবিলে এসে উপস্থিত হয়। সবকিছু দেখে সুমিতার দু'চোখ জলে ভরে ওঠে... তবে এবার অভিমানে নয়, আনন্দে... কৃতজ্ঞতায়...। 
ডিনার সেরে দিদিরা বেরিয়ে গেলে সুমিতারাও ফ্ল্যাটে ফিরে আসে। বাকী কেকটা রেস্টুরেন্ট  থেকে প্যাক করে দিয়ে দিয়েছে। 
আজকের সন্ধ্যেটা খুব সুন্দর কাটলো। রুকুর জন্য একটু মনখারাপ লাগছিল... দিগন্তটা ওকে একবারের জন্যও বুঝতে দেয়নি এতসব প্ল্যান। ননদ খুব সুন্দর একটা শাড়ি দিয়েছে সুমিতাকে। 
রাত্রে বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে ঘন নীল রাতপোশাক গায়ে চাপায় সুমিতা। 
---" এই রংটায় তোমাকে সেই আঠারো বছর আগের সুমির মতই লাগছে, কে বলবে চল্লিশ হল"....বিছানায় আধশোয়া হয়ে টিপ্পনী কাটে দিগন্ত। 
---"তোমার জন্য আরও একটা সারপ্রাইজ আছে"...
---"কি? বলো না. "...সুমিতা অধৈর্য্য হয়। 
---" না..না... অতো সহজে নয়, আগে আমার সব কথা শুনবে বলো..তবেই পাবে "..দিগন্তর চোখে দুষ্টুমি..... 
---" না, আগে দাও, তারপর ভেবে দেখবো তোমার কথা শুনবো কি না "...সুমিতাও ছেলেমানুষ হয়ে ওঠে। 
দিগন্ত বালিশের নীচে থেকে একটা ছোট্ট বক্স বার করে সুমিতাকে দেয়.. 
---" হ্যাপি বার্থডে"..
বক্স খুলেই  সুমিতা আনন্দে দিগন্তকে জড়িয়ে ধরে। একটা খুব সুন্দর ছোট্ট হিরের পেনড্যান্ট। সুমিতা বেশ কিছুদিন আগে দিগন্তকে বলেছিল এইরকম একটা পেনড্যান্ট তাকে কিনে দেওয়ার জন্য.. "মানুষটা ঠিক মনে রেখেছে"....  
---" কি? এবার আমার সব কথা শুনবে তো? মনে পড়িয়ে দেয় দিগন্ত। 
---"আর না শুনে উপায় আছে?"..লাইটটা অফ করে দেয় সুমিতা। 

আজ সকাল থেকেই আবার দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। একে সোমবার,দিগন্তর অফিস আছে। বিকালের দিকে প্রদীপ আসবে রুকুকে দিতে। রাতে একটু ভালো -মন্দ রান্না করতে হবে। 
দিগন্ত বেরিয়ে যাবার একটু পরেই পারুল ঢোকে। 
দু'কাপ চা করে কালকের কেকটার থেকে একটুকরো দিয়ে পারুলকে দেয় সুমিতা।
---"সকালবেলায় কেক কেন গো বউদি?"…পারুল জিজ্ঞাসা করে। 
 ---"আর বোলোনা... তোমার দাদার ওইসব কান্ড। গতকাল আমার জন্মদিন ছিল তো তাই...চা'টা খেয়ে নাও, উপহারটা পরে দেখাচ্ছি"...
---"তাই?খুব ভালো"...হঠাৎ পারুলের দু'চোখ জলে ভরে ওঠে,ডুকরে কেঁদে ওঠে সে। 
---" কি হল পারুল? সোফার থেকে উঠে আসে সুমিতা। 
হঠাৎ দেখে পারুলের ঘাড়ের নীচে একটা কালশিটে দাগ, দগদগ করছে.... 
---"এটা কি করে হল পারুল?  বলো কি হয়েছে? "..শিউরে ওঠে সুমিতা। 
---" গতকাল আমারও জন্মদিন ছেল গো বউদি। আর এইটা হল আমার জন্মদিনের উপহার। "...
মুখ নীচু করে শাড়ির আঁচলে চোখ মোছে পারুল। 
সুমিতা সব বুঝতে পারে, পারুলকে আর কিছু বলতে হয় না। 
চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে ব্যালকনিতে এসে বসে সুমিতা। কেকের একটা ছোট্ট টুকরো মুখে দিয়ে দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবতে থাকে সে। গতকালের সুস্বাদু কেকটা আজ যেন একটু বেশিই বিস্বাদ লাগছে তার....।। 

গল্পকার শুক্লা মুখার্জি
সুভাষ পল্লী, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ




        


      















                                                                                                   

0 Comments