হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিনশীত সংখ্যা ॥ ১৪২৭প্রথম বর্ষ ~ দশম সংখ্যা কবিতা: উত্থানপদ বিজলী ॥ অসিকার রহমান ॥  জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ॥ নিমাই জানা ॥ কল্যাণ গঙ্গোপাধ্যায় ॥ অনুশ্রী যশ ॥ বর্ণজিৎ বর্মন ॥ নিশিকান্ত রায় ॥ দীপক বেরা ॥ সোমা ঘোষ ॥ সাব্বির হোসেন ॥...
সে এক একা নির্জনতাসে এক একা নির্জনতা!নিঃসীম দ্বীপের মতো।যেন মাঝ সমুদ্রের জল শান্ত অঞ্চল!একা এবং একার মতো।চেয়েছিলাম বিরহী অভিমানের মতো নির্জনতা!ভোরের রোদ্দুরের মতো নির্জনতা পেলাম কই!শহরের প্রকষ্টে প্রকষ্টে ঘুণ পোকা।কুরে কুরে খেয়েছে সমস্ত নির্জনতা।সমস্ত সম্বন্ধ,সম্পর্ক,সাহচার্যগুলো গনগনে চিৎকার ঝগড়াতে বারুদ ঠাসার মতো,কেবল একটু আগুন...
আবাদভিতর ভিতর স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়াটা ঘিরে ধরে। উদ্বাস্তু লাঙলের কর্ষণ রাজপথের বুক চিরে নাভি বেয়ে নেমে আসে।মধ্যবিত্ত পৃথিবী জুড়ে যোনি আঁকা হলে থেমে যায় ফলা। শুধুমাত্র নিষিদ্ধ বিপ্লবের বীজ পুঁতবে বলে.. উবু হয়ে শুয়ে, মগ্ন শিশুর মতো গর্ত খুঁড়ে চলেছ বহুকাল। অথচ তুমি মানুষের শিকড় পেলে...
জীবনরেখা১থেমে গেছে পানসের স্রোতনিলামে উঠেছে শুঁড়িখানাচাবুকের মত ফোটে সেঁকোবিষদাম পায়নি চাঁদ-বণিকের সোনা ২উৎস মুখে চোরাবালির টানশুকিয়ে গেছে নদীর জলস্তরউপরদিকে তাকিয়ে থাকা দায়মাটি খোঁজে নিজের জীবন রেখা ৩তোমাকে কখনও খুঁজিনি সমর্পিতানিস্তরঙ্গ বিজ্ঞাপনের পাতায়ভালোবাসার অক্ষর ছুঁয়ে আছেতোমার গোপন কাজলরেখায় ৪বদলে গেছে অমর উপত্যকাছাড়তে হবে মোহআকাশ আছে অন্য ঠিকানায়ছাড়তে...
গত ঋতু ও শরৎ সদ্য বিদায়ী এ শরতের নীল নভস্তলে সময়েই হিমের পরশ নেমেছে।তবুও মহামারীর যাঁতাকলে পরে শিউলির গন্ধ পৌঁছেছে দ্বারে দ্বারে।এ শরতের কাশবনে বৃষ্টির অবসর না মেলায়,নেতিয়ে; কোনোটা আবার ছিঁড়ে ছিঁড়ে গেছে খানিকটা।কোথাওবা মুথা ঘাসের কুশি গজানোর সুরাহা মেলেনি।এ শরতে মজেছিল পচে যাওয়া...
ভীষণ রকম একা সেদিন মাথার উপর ছায়া ছিল,আকাশ মাড়িয়েছি পৃথিবীর ইতিহাসে,জয়ী হয়েছি ভেবে দু'আঙ্গুল উচিয়ে আনন্দে বলে উঠলাম হে মৃত্যু,বল তুমি কতদূর?আমার চাওয়া পাওয়া পূর্ণ না হলেওবিশ্বাস বেচে নিঃশ্বাস ফেলেছিলামসবুজ ক্ষেতের নীড়ে।টলমল পানি ছুঁয়ে শান্তির খোঁজেঘুরেছি অলিগলি,রাজপথ আরহাতপাতা মানুষের ভিড়ে।অভাবে অলিন্দ ঘেঁষেঅমলিন দেয়াল হেসেপিতার...
কাপ অফ টিঅবহেলার পর্যায় সারণীতেযোজ্যতা মাপে ঘটনাক্রম,বিন্দু বিন্দু স্বেদ জমাট বেঁধেগোমড়া মুখো মেঘসময় সময় দুকূল ভাসায়।অপেক্ষারত বাসন্তিক প্রেমঅদূরে শীতঘুমে আচ্ছন্ন।আদুরে আদুল উষ্ণতামুছে দেয় কুয়াশার চাদর,উড়ে যায় বিবর্ণ ঝরাপাতা।ভেসে যায় অভিমানী বেলা,উড়ন্ত বাষ্প কণায়উষ্ণতা সন্ধানী মনডুব দেয়--এক কাপ চা-য়।কবি সুজিত কুমার মালিকমইখণ্ড, হেলান, আরামবাগ...
চিলাপাতাজ্বলে ওঠা বনফায়ারের আগুনেউষ্ণতা লেগেছিল তোমার গালেসবুজপাতার আঁকসিতে নেমেছিল গভীর অরণ্য;আদিম গভীরতার আরেক নাম চিলাপাতামাতাল করা বুনো ফুলের গন্ধে যেন অজানা পাখির কবিতা।দূর থেকে ময়ূরগুলো দেখেছিল তোমাকেজয়ন্তী পাহাড় আলিঙ্গন করেছিল আমাকেডিমা নদীর বুকে ভেসে ছিল আমাদের ভেলা;কালজানি বাঁকে বাঁকে ছিল ক্যানভাসের রকমারিচিকচিক চোখে...
হিমঘরেস্বপ্ন আর কিছুতেই জোড়া লাগছে নাপ্রতিদিন কেমন করে ভেঙেছে টের পাইনিহঠাৎ সব অন্ধকার চারিদিকে,কালো ছায়াএক নির্জন দুপুরে কেউ চিৎকার করে বলছেস্বপ্ন জোড়া লাগাবেন... আমি বাইরে বেরিয়ে দেখি সে নেইসন্ধ্যায় আবার সে এসে,চকিতে হারালগভীর রাতে মশারির ঘেরাটোপে থেকেদু’হাত মেলে দেখি কোথাও কেউ নেইএদিকে সব স্বপ্ন...
বরং...বরং বাতিল শব্দের পাশে পাখির মতো করে উবু হই। এদিক-ওদিক আধডোবা মাছের চোখে জমা কৌতুক। সরু হয়ে আসা রাত ছেলেবেলার মতো দুলে দুলে। পুরনো সম্পর্কের মতো নিচু হয়ে আসা স্বর—দু হাত জলের মতো দীর্ঘ—সাম্যবাদী মেঘের তালে তালে বাদ্যযন্ত্রের মতো।মুলতুবী সংসারে চরে জেগে থাকা...
অবৈধ আমির সাথে কেউ কেটে নেয় মাটি। তুলে নেয় বালু।নদীর কংকাল ঘিরে স্তব্ধতার ঢেউ। নদীটাই অবৈধ এখন।অবৈধ দিনরাত বয়ে চলা জলের যৌবন। যারা ছিছি করে তারাই অসহ্য এখন। তাদেরই দৃষ্টিশক্তি ক্ষয়ে ক্ষয়ে রাত নেমে আসে। অন্ধত্বের মহোৎসবে আলোর ক্রন্দন। ফসলের জমি পোড়ে পুড়ে যায় কৃষকের বুকের পাঁজর ইঁট ভাঁটার আগুনে পুড়ে...
শীতবিন্দু অথবা ড্রপবক্সজানালার রেলিং এর বয়স জানতে দরজার নিচে থাকা ঘুটঘুটে অন্ধকারের স্পন্দন মেপে নিতে হয়কোনো ত্রিকোণ সম্পর্কের শরীর থেকে শূন্য কোণে ঘরের মাঝখানে দাঁড়ালে দেখা যাবে একটি পূর্বপুরুষ ঘুড়ি নিয়ে নেমে যাচ্ছে কুয়াশার মিথুন শহরেপুরনো চাঁদ থেকে যে হিমোগ্লোবিনের গন্ধ উড়ে আসে...
মেঘটোপঝিমুনো আকাশটিকে মেঘটোপহিসেবি বাঘ টানে মুগ্ধ শিকার।চিনচিন স্নায়ুর তরঙ্গ অভিঘাতনিরালাদুপুর ধোয়া বৃষ্টির তড়বড়পালকপলকে ব্যস্ত উষ্ণ রোমকূপশিথিলপেশির ভারে শ্লথ হয় দিন।বালির উপর জল জাগে অণুদ্বীপপ্রসাধন ধোয়া জলে কলঙ্ক ঘামকাদার উপর ফুটে স্বপ্নফুল ছাপ।তুমি সেই মিলনবেলার মনখারাপযেখন সবুজ লোটে অকরুণ বেলাক্লান্ত ঠোঁটের কোণে ভুলসুরে গান।আকুপাংচারে...
বাতাসে শীতের শিস দিয়ে কেউ ডাকে... ক্যালেন্ডারের পাতায় নভেম্বর উলটে যেই না ডিসেম্বর এসেছে, ঠান্ডা ঠান্ডা,নরম একটা হাওয়া নাকের ডগা'য়,কে যেন বুলিয়ে দিলো আলতো করে! তার ঢের আগে থেকেই বাহারি টুপি আর সোয়েটারে সেজে উঠেছে বড় বড় শো-রুমে'র ম্যানিকুইনেরা, কালি পুজো'র পর থেকেই টিভির...