
মুক্তি দাশের অণুগল্প
মানুষ-ফানুস
মজুমদারদের বিশাল পোড়োবাড়ির পুরো পেছনদিকটা গভীর জঙ্গলে ভরা। ঝোপঝাড়ে ভর্তি। তার ওপর আবার পশ্চিমদিক ঘেঁষে মস্তবড় একটা ঘন বাঁশবাগান। এদিকে মানুজনের তেমন চলাচল নেই অবশ্য। সূর্যের আলোই ঠিকমতো আধিপত্য করতে পারেনা সেখানে।
ভর দুপুরবেলা। ঠা ঠা করছে রোদ্দুর। বাঁশবাগানের ভেতর আলো-আঁধারিতে দু’টো মামদো ভূত ঘুরঘুর করছিল। প্রথম ভূতটা এক্কেবারে ভীতুর ডিম। বলল, “তোর কি কোনোদিনও আক্কেল হবে না? এইভাবে দিনেরবেলা কেউ ঘুরতে বেরোয়?”
দ্বিতীয় ভূত একটু সাহসী গোছের। সে তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, “কেন কী হয়েছে? তোর প্রবলেমটা কী বল দিকিনি? কথায় কথায় এরকম ভয় পেলে চলবে? হম হ্যায় না?”
প্রথম ভূত বলল, “নারে, আমার বড্ড ভয় করছে, সে তুই যা-ই বলিস!। তবু রাতবিরেত হলে আলাদা কথা ছিল। এরকম দিনেরবেলা কেউ বেরোয়? যদি দুম করে সামনে একটা মানুষ বেরিয়ে পড়ে?
বলতে বলতেই প্রথম ভূতের মনে হল, সামনের ঘনঝোপটা একটু যেন নড়ে উঠল না! পাশের বাজপড়া ঢ্যাঙা নারকোল গাছটার ধার দিয়ে কেউ সাঁৎ করে ওপারে ছায়ান্ধকারে মিলিয়ে গেল। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে প্রথমভূত এবার দ্বিতীয়ভূতের হাতটা সজোরে চেপে ধরে চাপা আর্তনাদে ফিসফিস করে বলল, “তখনি বলেছিলাম…এবার হলো তো? ওই দ্যাখ, সামনে নারকোলগাছের পেছনে একটা জলজ্যান্ত মানুষ! আমি স্পষ্ট দেখেছি! শিগগির পালিয়ে চ’ ভাই এখান থেকে…”
অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল দ্বিতীয় ভূত। হাসতে হাসতেই বলল, “তোকে আর ভূত করতে পারলাম না রে বোকচন্দর! এই একুশ শতকে দাঁড়িয়ে তুই বলছিস কিনা মানুষ দেখেছিস! হাঃ হাঃ হাঃ…আরে বাবা, এই দুনিয়ায় মানুষ বলে কিস্স্যু হয় না! মানুষ-ফানুস সব বাজে কথা। সব বুজরুকি! সব তোর মনের ভুল! বুয়েচিস?”


0 Comments