
মুক্তি দাশের অণুগল্প
ঘৃতাহুতি
মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল শিবু ওরফে শিবনাথের। চোখ না খুলেই পাশফিরে শুয়ে নিতান্তই অভ্যাসবশে বিছানা হাতড়াতে গিয়ে বুঝল,শেফালি পাশে নেই। কোথায় আবার গেল এত রাতে? বাথরুমে? কিন্তু সাধারণত শেফালি তো মাঝরাতে বিছানা ছেড়ে ওঠার মেয়ে না। বরাবরই তার একঘুমে রাত কাবার।
বিছানায় উঠে বসল শিবু। ঘুমচোখে বিকট হাই তুলতে তুলতে উঁচু গলায় হাঁক দিল ‘কোথায় গেলে গো? শুনছ, তুমি কোথায়?’
রান্নাঘর থেকে চাপা গলায় শেফালির সাড়া পাওয়া গেল, ‘এই তো কিচেনে…কেন?’
ধড়মড় করে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল শিবু। জড়ানো গলায় বলল, ‘এত রাতে আবার কিচেনে কী দরকার পড়ল রে বাবা! কি যে কর না!’
বলতে বলতে এবং লুঙ্গিতে গিঁট দিতে দিতে টলোমলো পায়ে সোজা কিচেনের দরজায় এসে দাঁড়াল শিবু। দেখল, শেফালি শেল্ফের তাকে আঁতিপাঁতি করে কি যেন খুঁজে চলেছে। শিবুকে দেখে এত রাতেও দ্বিগুণ উৎসাহে নিচুগলায় শেফালি বলল, ‘এ্যাই জানো তো, পাশের বাড়ির ছেলেটা না শেষপর্যন্ত আজ একটু বেশি রাতের দিকে বাড়ি ফিরে এসেছে।’
‘কোন্ ছেলেটা বল তো? পলাশ? যে পালিয়ে গেছিল?’
‘হ্যাঁ হ্যাঁ, পলাশ…সেই বজ্জাতটা! মনে হয় বিয়ে-টিয়ে করে একেবারে বউ নিয়ে ঘরে ফিরেছে…’
‘তাই? কি করে জানলে?’
‘কি করে আবার! একটু কানটা খাড়া রেখে শোনো! কথাবার্তা শুনে বেশ বোঝা যায় সঙ্গে মেয়ের বাড়ির লোকজনও এসেছে। হেব্বি চেঁচামেচি হচ্ছে!
আবার একটা মোক্ষম হাই তুলে শিবু বলল, ‘হোক গে! তাতে তোমার কি! এখন ছাড় তো এসব…মাঝরাতে যত্তসব…চল চল,আমরা গিয়ে বরং শুয়ে পড়ি!’
বিরক্তি মাখানো গলায় শেফালি বলল,‘তুমি যাও না! কে মানা করেছে? আমার এখন অনেক কাজ!’ বলে শেফালি শিবুকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে ফের শেলফ হাতড়াতে হাতড়াতে বলল,‘দেখছ ওদের সংসারে আগুন লেগে গেছে পুরো…’
ঝাঁঝালো গলায় শিবু বলল,‘তো? তুমি এখানে কিচেনে কী খুঁজে মরছ?’
শেফালি জ্বলন্ত দৃষ্টিতে শিবুর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ঘিয়ের শিশি!’


0 Comments