হৃদস্পন্দন

  • Home


  • Download

  • Social

  • Feature


🔹সামাজিক বার্তা:


      📚প্রাণকৃষ্ণ ঘোষ🔸আলিশা,পূর্ব বর্ধমান🔸



🌍তামাম ভাইরাসের ভ্রূকুটি পেরিয়ে খানিক মানুষ হয়ে ওঠা যাক। থমকে যাওয়া সভ্যতার গতিপথের আবর্জনা ঢেকে দেওয়া হোক মানবতার স্নেহের পরশ দিয়ে। একে একে অসহায়দের দিকে ছড়িয়ে যাক টিকে থাকার মূলমন্ত্র। এখন তো কারও অজানা নয়,প্রকৃতি ঠিক সময়ে সবক শিখিয়ে দেয়।আমাদের পৃথিবীটা যতটা আমাদের ঠিক ততটাই পশুদের,পাখিদের, নদীর, সমুদ্রের,জঙ্গলের –এই বার্তাটা জনসমক্ষে ছড়িয়ে যাক। সভ্যতার উত্থানে সভ্যদেরই তো দায়িত্ব নিয়ে সহমর্মিতার আবহ তৈরি করার কথা। প্রকৃতির রূপ, রস,গন্ধ নিয়েই সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক। সবার আগে সভ্য হয়ে ওঠাই হোক বেঁচে থাকার প্রামাণ্য উপপাদ্য।

            📗 অরবিন্দ সরকার🔸পূর্ব বর্ধমান 🔸


১.বন জ্যোৎস্নায় জেনেছি তোমাকে
আকর ফুলের রেণুতে পেয়েছি তোমাকে
সংঘর্ষে রয়েছ লাবণ্যে রয়েছ
ও আমার রক্তপাত...
ও আমার বৃষ্টিপাত...


২.সমূহধ্বনি কোথা থেকে আসে
 নিজশৃঙ্খলে আর কতদিন
 ফিরে এসো
 এই নিবিড় ছায়ায়
 এই কাক জ্যোৎস্নায় । 



        🔵সঞ্জয় চক্রবর্তী🔸 সল্টলেক,কলকাতা🔸

           


🔰সত্যের মতো আন্দোলনে ক্ষুধার্ত দাবী গগন ভেদারি। 
নিঃস্ব প্রাণের অব্যক্ত অভিযোগে পিপাসিত অজস্র অধ্যায় কালিমালিপ্ত ।


পরশ শিশুকালে মনোরম বালুকাবেলার পূর্ণিমা খোঁজে,
একাকীত্বের দুয়ারে অতীত-সকালে এসেছে বিপ্লব ।
সুন্দরমের ব্যথা যে সুখের ভেলায় ভেসেছিল,
তার মুক্তি ঘটেছে বর্তমানের সাঁঝে ।


মৃত্যু স্বাধীন,
অমরত্বের প্রাঙ্গনে শীত তাপ নিয়ন্ত্রিত,
প্রভুত্ব অন্ধকারে বৈচিত্র্যময় খোলসটা খুলে রাখে,
দিবসে সূর্যস্নাত সে অত্যাচারী ।


এখানে চেতনার নীল জল সমুদ্র গহীন থেকে উঠে আসে,
শিহরণে মানহীন মানবের চৈতালি রাতের বিরতি, উপবাসী ফেরিওয়ালা অ-বিক্রিত ঝাঁকাটা রেখেছে মাটিতে ।


পণ্য দেওয়া নেওয়ার অনুপম হাসিগুলো স্বার্থ সন্ধানী,
লবনমাখা সাদা ভাতে পতন্মুখ রকমারি ব্যঞ্জন ঋনী। 

ক্রুর সময়ের সাথে লাভ ক্ষতির সংগ্রাম শাশ্বত ।
জীবন কাব্যিক দূরত্বের থেকে বাস্তবতায় ফিরতে চায়,
রক্তখেকো শ্বাপদের আগামী নখর ধারাল হয়েছে অমানিশায় ।


তিজেলের ফুটন্ত সোনালী ধান,
কালবৈশাখী পর্ব পেরিয়ে পরিণতির পরমা মেখে লাল ।  
দুঃসময়ের শিল্পে উত্তর আকাশের ইন্দ্রধনুটা বাঁকা,
বিষক্রিয়ায় ব্যাভিচারী হয়েছে কঙ্কাল ।

               ________________________________
                     

🔸প্রবন্ধ



                          ✍ মিঠুন রায়🔹ত্রিপুরা🔹



🔰উনিশ শতকের বাংলায় অন্ধবিশ্বাস  ও কুসংস্কারের  বিরুদ্ধে যিনি বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তিনি অক্ষয় কুমার দত্ত।বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন তিনি।তিনি একাধারে সাংবাদিক,প্রাবন্ধিক আবার  সাহিত্যিকও।
প্রাবন্ধিক হিসেবে  প্রবন্ধের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি তাঁর রচনায় সর্বপ্রথম পরিপূর্ণতা লাভ করে।তাঁর সমস্ত লেখাই ছিল গুরুগম্ভীর তথ্যনির্ভর ও জ্ঞানগর্ভ।
     শিক্ষাবিদ অক্ষয় কুমার দত্ত নবদ্বীপ শহর থেকে পাঁচ মাইল উওরে চুপী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৮২০ সালের ১৫ই জুলাই।পিতা পীতাম্বর দত্ত পুলিশ - ইন্সপেক্টর ও মাতা দয়াময়ী দেবী গৃহিণী।কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতেই প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়।ঐ সময় সেখানকার শিক্ষক হার্ডম্যান জেফ্রয়ের কাছেই গ্রীক্,ল্যাটিন,জার্মান,ফারসি সহ নানা ভাষা শেখেন।পিতার আচমকা মৃত্যুতে লেখাপড়াই খানিকটা বাধা আসে।স্কুল জীবনের ইতি টেনে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
      ঈশ্বর গুপ্তের সাথে পরিচয় হলে তিনি  সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রবন্ধ লেখার কাজ শুরু করেন।কিছুদিন বাদেই তও্ববোধিনী সভার সহ-সম্পাদক হন।পরবর্তী সময়ে তও্ববোধিণী পাঠশালায় অক্ষয় কুমার ভূগোল ও পদার্থবিদ্যার শিক্ষক হিসেবে কাজে যোগ দেন।কুসংস্কার ও অন্ধত্ববাদে বিশ্বাসী ঘরকুনো বাঙালিদের অজ্ঞতা দূর করে মননে বিজ্ঞান চেতনা গড়ার লক্ষ্যে তিনি বিদ্যাদর্শন নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।তাঁর একাজে  সহযোগিতা করেন প্রসন্ন কুমার ঘোষ।একসময় অক্ষয় কুমারকে তত্ত্ববোধিণী পত্রিকার সম্পাদক পদে মনোনীত করা হয়।তাঁর প্রচেষ্টায় পত্রিকাটি নতুন রূপ পায়।সাহিত্য,বিজ্ঞান,দর্শন,সমাজতত্ত্ব,ইতিহাস,ভূগোল সহ নানা বিষয়ে  পত্রিকায় নানা প্রবন্ধ প্রকাশ হতে থাকে।ঐসময় তিনি প্রাচীন পাঠক্রম এর পরিবর্তে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন পাঠক্রম চালু করার উপর গুরত্ব আরোপ করেন।তিনি শিশুশিক্ষাকে তিনটি ভাগে ভাগ করেন।দুই থেকে ছয় বছর পযর্ন্ত শিশুদের প্রথম পর্বের শিক্ষা।মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় পর্বের শিক্ষা হবে ছয়-সাত থেকে চৌদ্দ -পনের বছর পযর্ন্ত।তৃতীয় পর্বের শিক্ষা মানে পনের-ষোল থেকে বিশ-বাইশ বছর পযর্ন্ত।তিনি উচ্চশিক্ষায় বিজ্ঞানকে যুক্ত করতে আগ্রহী ছিলেন।বিজ্ঞান প্রসারের জন্য নিজের সম্পত্তির অর্ধেক দান করেন।তত্ত্ববোধিণী পত্রিকার সম্পাদক থাকার সুবাদে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য উৎস সাহিত্যের সঙ্গে তাঁর গভীর পরিচয় ঘটে।একদিকে তিনি  যেমন হোমারের ইলিয়াড,এলিড,জয়সের Science Dialogue প্রভৃতির সঙ্গে পরিচিত ছিলেন,অন্যদিকে তেমনি প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্র সমূহ আয়ত্ত ছিল তাঁর।
    কাব্য রচনার মধ্যে দিয়েই অক্ষয় দত্ত সাহিত্য অঙ্গনে পদার্পণ করেন।মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেরণায় তিনি বাংলা প্রবন্ধ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।চারুপাঠ,ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়,বাহ্যবস্তর সহিত মানব প্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার প্রবন্ধ  সমূহ যেমন-বারি বিজ্ঞান,জ্যোতিষ,প্রাণীবিদ্যা,পদার্থবিদ্যা,উদ্ভিদবিদ্যা ইত্যাদি বিষয়ে লিখিত।তাঁর লেখা "ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়"গ্রন্হটি সুপ্রসিদ্ধ ইংরেজ লেখক হেম্যান উইলসনের গ্রন্থ অনুসারে রচিত।এই গ্রন্হে তাঁর প্রখর বিদ্যাবুদ্ধি বিচার,উপন্যাস চাতুর্য,অসামান্য শাস্ত্রজ্ঞান এবং প্রবল স্বদেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়।
  বিধবা বিবাহ প্রবর্তনের ক্ষেত্রে পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে মনেপ্রাণে সমর্থন করেন।'বিধবা বিবাহের যৌক্তিকতা '-নামক প্রবন্ধে তিনি সংস্কারযুক্ত মনোভাব নিয়ে বিধবাবিবাহের সপক্ষে বিবিধ যুক্তি তর্কের অবতারণা করেন।তিনি সমাজসংস্কার মূলক আন্দোলনে বিদ্যাসাগর কর্তৃক প্রভাবিত হয়েছিলেন।অক্ষয় কুমার দত্ত,মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ অন্যান্যদের সাথে ব্রাক্ষ্ম ধর্মে দীক্ষা নেন।ব্রাক্ষ্ম চিন্তাধারায় বিশ্বাসী হিন্দু হলেও পাশ্চাত্যের বিজ্ঞান  ও শিল্প কলার প্রাধান্য মেনে নেবার মানসিকতা তার মধ্যে ছিল।তিনি বীজগণিতের সূত্রের মাধ্যমে দেখিয়ে দেন যে,মানুষের বাসনা পূরণে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা নিস্প্রয়োজন।নারীশিক্ষার প্রসার,বিধবা বিবাহ,বাল্য বিবাহ ও বহুবিবাহ নিরোধ  প্রভৃতি সমাজসংস্কারমূলক কাজে তিনি উদ্যোগী হন।স্বদেশী মনোভাবাপন্ন অক্ষয় দত্ত উইলিয়ম গর্ডন ইয়ং -এর দেওয়া চাকরি,শিক্ষা বিভাগের ডেপুটি ইন্সপেক্টর-এর পদ তিনি গ্রহণ করেন নি।কলকাতায় নর্মাল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হলে বিদ্যাসাগরের অনুরোধে অক্ষয় কুমার ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
      তিনি ভালোবাসতেন প্রকৃতিকে।উদ্ভিদপ্রেমিক ছিলেন।আমেরিকা ও ইউরোপের নানা স্হান থেকে দুর্লভ বৃক্ষচারা সংগ্রহ করে তিনি তাঁর বাসভবনে শোভনোদ্যান নামক সুন্দর একটি বাগান তৈরি করেন।বাগানের প্রত্যেকটি  তরু,গুল্ম ও লতার বিজ্ঞানসন্মত নাম,প্রজাতি ও তার স্বরূপ সংক্ষেপে বর্ণনা করেন।এমনকি নিজের বাড়িতে ভূতাত্ত্বিক সংগ্রহশালাও গড়ে তুলে ছিলেন।
     বাংলা গদ্য সাহিত্য রচনায় বিদ্যাসাগরের পরেই স্হান অক্ষয় কুমার দত্তের।গদ্য রচনার স্বার্থে তিনি একটি পরিচ্ছন্ন গদ্যশৈলী আয়ত্ত করেন।অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য এ প্রসঙ্গে বলেন -"অক্ষয় কুমার এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সমবয়সী এবং  প্রায় সমকালেই সাহিত্য জগতে আবিভূত হয়েছিলেন।যে জাতীয়  রচনা বাংলা ভাষায় দীর্ঘকাল বিদ্যাসাগরী রীতি বলে খ্যাতি অর্জন করেছেন সে জাতীয় লেখক কিন্তু আসলে অক্ষয় কুমার।"
     পরিশেষে বলা যায়,বিজ্ঞানমনস্ক অক্ষয় কুমারের বিজ্ঞানচর্চা সম্পর্কে একটা কাহিনী উল্লেখ করা প্রয়োজন।গভীর রাত।এক তিনতলা বাড়ির ছাদে স্বামী -স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া চলছে।যুবকটির অপরাধ,তিনি স্ত্রীর প্রতি মনোযোগী নন।এই গভীররাতে বাড়ির ছাদে বসে তিনি এক খগোল-যন্ত্র নিয়ে আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করেছেন।জ্যোতিবিজ্ঞান তাঁর প্রাণের বিষয়।বিরক্ত হয়ে স্ত্রী ছাদে উঠে এসেছেন আজ।এমন লোক কে দেখেছে,যে দুই  প্রহর-আড়াই প্রহর রাতে স্ত্রীর শয্যা ছেড়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে!এতো সামান্য বিড়ম্বনা নয়!উওরে যুবকটি শান্ত কন্ঠে বললেন,-"এমন লোকের স্ত্রী  এরূপ কথা বলে,তা যে আরও বড় বিড়ম্বনার"।এই যুবকটি হল অক্ষয় কুমার দত্ত।বিজ্ঞান,গণিত,,ভূগোলের ক্ষেত্রে তিনি অসংখ্য পরিভাষা তৈরী করেছেন।দ্বিশততম জন্মবর্ষ আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে এই মহামানবকে নতুন করে জানার।প্রকৃতঅর্থেই  তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞান আন্দোলনের পথপ্রদর্শক।


🔸অণুগল্প:

      📚 সুমিতা মুখোপাধ্যায় 🔹আসানসোল 🔹



🔵 চারিদিকে রঙের আগুন ।
মাস টা ফাল্গুন। গ্রামের রাস্তায় একাকী ঘুরছে দিয়াশা।মামার বাড়ি এসেছে সে। শহরের বাইরে এলে পৃথিবী টাকে যেন অন্যরকম লাগে। সামনে দুটো সুউচ্চ দেবদারু গাছ,তার ফাঁক দিয়ে অস্তমিত সূর্যের রঙিন  আভা পলাশ আর শিমুলের বুকে এসে পড়ছে। দিয়াশার মন গেয়ে ওঠে, "ও পলাশ ও শিমুল কেন এ মন মোর রাঙালে "। দিয়াশার মন যে এখন রঙিন  হয়ে আছে। দিগন্ত আসছে। আর কিছুদিন পরেই ওদের মহামিলন।বড় অফিসের এক্সুকিউটিভ সে,অফিস তাকে এখন পাঠিয়েছে  বিদেশ। মাস খানেক পরেই ফিরবে সে। এই তো কালকেই কত কথা হল।
ভাবতে ভাবতে অনেক দূর  চলে এসেছে দিয়াশা।
কি মুস্কিল কত দূর  এসে গেছে সে। চারিদিক কেমন অচেনা লাগে।
সন্ধের অন্ধকার  ছুঁয়ে যেতে  শুরু করেছে। হঠাৎ  দূরের  আলো আধাঁরি থেকে ওর নাম ধরে কেউ যেন  ডেকে  ওঠে। ও এগোতে থাকে,চেনা গলা ।
দিগন্ত না..
হ্যাঁ  তাইতো।
কিন্তু কি ভাবে সম্ভব। এতোটা দুষ্টুমি কি সে করতে পারে। তাকে না জানিয়ে কখন সে এসেছে। এগিয়ে চলে দিয়াশা। যত এগোয় দিগন্তের গলা যেন হাওয়ায়  মিলিয়ে যেতে  থকে। প্রানপণে ছুটে
সেই জায়গায় পৌঁছতে চায় দিয়াশা। গাছের শিকড়ে পা আটকে ছিটকে মাটিতে পরে সে।
অসহ্য ব্যাথায় কেঁদে ওঠে সে। সব কিছু যেন  অন্ধকার হয়ে যায়। একটা ঝাঁকুনিতে চোখ মেলে দিয়াশা। দেখে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে আছে সে,বড় মামি তার মাথায় হাত রাখে। দিয়াশা বোঝে সবটাই স্বপ্ন। মামিকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে ওঠে সে। সব কিছু যে তার ওলট পালট হয়ে গেছে। বিদেশ থেকে দিগন্ত ফিরেছে সত্যি,
কিন্তু সাথে এনেছে এক মারণ রোগ ।
যার পোশাকি নাম কভিড ১৯ ৷ কয়েকদিন কোয়ারেন্টাইন এ থেকে ধরা পরেছে এই রোগ। এখন সে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মৃত্যুর সঙ্গে  লড়াই করছে। দিয়াশা জানেনা তার জীবনে কি ঘটতে চলেছে এখন । তার সামনে / তাদের সামনে এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ।
চোখের জল মুছে দিয়াশা গায়-
" নয়ন তোমায় পায়না দেখিতে, রয়েছো নয়নে নয়নে ।
হৃদয় তোমারে পায়না জানিতে, হৃদয়ে রয়েছো গোপনে "




     ✍অদ্রিজা মণ্ডল🔹আলিশা,পূর্ব বর্ধমান🔹


🔰একটা হাত ধরতে চেয়েছিলাম
আর খুঁজেছিলাম একটা সিঁড়ি

হঠাৎ আড়মোড়া ভেঙে চলতে শুরু করলো
যে মালগাড়িটা
জানেনা গন্তব্যে পৌঁছাবে কী না
উদ্দেশ্যহীন নিত্যযাত্রী মন ঘুরে মরে ভুলভুলাইয়ায়
পটপরিবর্তনের খেলায় আর আরোপিত গুরুত্বে
বিভ্রান্ত যৌবন
দেবদূত বদলে যায় করাল দানবে

সিঁড়ির শেষে দেখতে চেয়েছিলাম সূর্য
পোড়া মন,মনের ঘরে আজো ধাপ খোঁজে
ত্রৈরাশিকের অঙ্ক


🔰নিজামুদ্দিন মণ্ডল 🔹বারুইপুর,বীরভূম 🔹 


🔵ছানা ফেলে পাখি উড়ে গেছে বহুদিন
শূন্য খাঁচা
সে পাখিটি আর কোনোদিনও ফিরবে না
আজও খাঁচা নাড়িয়ে দেখি-
সত্যিই কি পাখিটি নেই !

ভিতর থেকে হাহাকার চিৎকার করে ওঠে
ব'লে চুপ কর,
আমি ক্ষান্ত হই
তারপর আস্তে আস্তে খাঁচাটিকে ভুলে যাই
জল-দানা কিছুই দিই না
ওই খাঁচায় অনেকে আসে যায়
শুধু পাখিটিই নেই
সে উড়ে গেছে অনন্ত ঠিকানায়...
                                         
🔹অণুগল্প:


   🔰বিশ্বনাথ দেবনাথ🔹বড় নীলপুর,পূর্ব বর্ধমান🔹


📘সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। একরাশ দুঃখের পাথর বুকে নিয়ে হরিহর মুখার্জি,তিতলির পুতুল ঘরে ঢুকে পুতুলের পেছনে লুকিয়ে রইলেন। বিয়ে করে তিতলি আজ শশুর বাড়ী চলে যাবে। ছোট থেকেই মাতৃহারা তিতলির বাবার সাথে লুকোচুরি খেলার সাক্ষী এই পুতুল ঘরের পুতুলগুলো। তিতলি লুকোতো আর হরিহর বাবু পা টিপে টিপে ঘরে এসে তিতলিকে ধরে বলতেন- টুকি,তোকে ধরে ফেলেছি। তিতলিও ফোঁকলা দাঁতে হাসতে হাসতে বাবাকে জড়িয়ে ধরতো। কিন্তু আজ দিনটা সম্পূর্ণ অন্য। লুকিয়ে থাকা হরিহর মুখার্জি চাইছেন না তাকে কেউ খুঁজে পাক। কিন্তু বিধি বাম। হঠাৎই পুতুল ঘরের দরজাটা একটু ফাঁক হলো। হরিহর বাবু কান্না ভেজা চোখে দেখতে পেলেন,তার সেই ছোট্ট ফোঁকলা দাঁতের হাসিখুশী মেয়েটা,মুখ বাড়িয়ে বলে উঠলো- টুকি...
বাইরে তখন সানাইয়ে বিদায়ী সুর,মেঘ ডেকে উঠলো গুড়ুম গুড়ুম করে...

        🔰 সুপ্রতিম রং 🔹টালিগঞ্জ,কলকাতা 🔹


🔥থানায় থানায় চলছে তল্লাশি। জামুরিয়া থেকে জেরুজালেম। আমি শ্রোডিনজার ইকুয়েশনে ভেসে চলেছি। গোটা পৃথিবী থমকে হাইজেনবার্গে। বিদ্যাসাগর সেতুর প্রতিটা থামে উদ্ধত জলরাশির বেজে ওঠা নিশ্চুপ থিম সং। আমি সময়ের সেই সুর বরাবর হেঁটে যাই। কোমল রে আর কড়ি মা অনুসন্ধান চালিয়ে খুঁজে পেয়েছে আমার পায়ের ছাপ, সমস্ত পরিকল্পনা নস্যাৎ করে বিষুবীয়চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এইমাত্র ভেঙে দিলাম ধার করা তারকা পেনের নীব। গায়ে রক্ত মাখতে মাখতে তোমরা উৎসব করছো, আমি দেখতে পাচ্ছি পেট না থাকলে এতগুলা মাথা কাটা যেতনা, মন না থাকলে গনগনে লালচে আগুনে রাস্তার র‌ঙ হতনা কালো। চুমুতে বিষ মিশিয়ে আমার প্ল্যাটার ভাগ করার আগেই, আমি হয়ে উঠবো বিপ্লবী নাথুরাম, কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই। মনে করো প্রশ্নটা কি ছিল---
"টীকা লেখ - মনুষ্যত্ব"। 


🔸অণুগল্প:
  
     ꗇ চয়ন কুমার রায়🔹টিকরহাট, পূর্ব বর্ধমান🔹




🔵 রাস্তা ভুল করে আদিবাসী গ্রামের ভিতর দিয়ে অযোধ্যা পাহাড়ের জঙ্গল ঘেরা পাকদন্ডী পথ ধরে আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলেছে। হঠাৎ ড্রাইভার ব্রেক কষে গাড়ি দাঁড় করাতেই একটা হালকা ঝাঁকুনি খেলাম। সামনে এক আদিবাসী যুবককে দেখে প্রথমটায় হকচকিয়ে গেলেও,স্বাভাবিক গলায় ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম, "পিন্টু,কী চায় ও? "
"স্যার,ও আমাদের গাড়িতে যাবে বলছে। "
সমীর আর তরুণের মৃদু আপত্তি সত্ত্বেও ছেলেটাকে গাড়িতে তুলে নিলাম।
আপত্তির যথেষ্ট কারণও আছে। বছর আটেক আগে, এখানকার এরকম রাস্তা থেকেই মাওবাদীরা দু'জন মানুষকে অপহরণ ও খুন করেছিল।
এই আদিবাসী ছেলেটি,জিতরাম,আমাদের ওর মালিকের হোটেলে তুলল।
দর্শনীয় জায়গাগুলো দেখিয়ে আনলো। বেশ টায়ার্ড লাগছিল। ডিনার করতে যেতে ইচ্ছে করছিল না। কয়েকটা ছেলে অডিও বাজিয়ে নাচানাচি শুরু করেছে। ভাবছিলাম জিতরামকে ডিনার ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে রাখলেই ভালো হতো ।
জিতরাম যেন অন্তর্যামী,ঠিক মনের কথা বুঝতে পারে।
জল, গ্লাস, ডিনার পৌঁছে দিয়ে গেল।
বন্ধুদের বললাম,"ছেলেটাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে ভালই করেছি,কি বলিস? "
সকালে ঠাণ্ডা হাওয়ার সাথে টিপটিপ বৃষ্টি। বাথরুমের গিজারটাও খারাপ। ম্যানেজারের কাছে যাবার জন্য পা বাড়িয়েছি,দেখি জিতরাম দু'বালতি গরম জল নিয়ে হাজির।
ফেরার সময় জিতরামের পরিষেবায় সন্তুষ্ট হয়ে কিছু টিপস দিলাম। ওটা ওর কাছে আশাতীত রকম বেশী মনে হলো। সে খুশি খুশি মুখে ঘরের ভিতর ওর অনুসন্ধানী দৃষ্টি দিয়ে যেন কিছু খুঁজছিল। দেখতে না পেয়ে অবাক হলো।
বললাম, "কিছু খুঁজছ জিতরাম? "
সে লাজুক মুখে সংকোচের সঙ্গে যেটা ইশারা করে বোঝাতে চাইলো,তা দেখে বিরক্ত হয়ে তরুণ বলে, "ওসব আমরা খাইনা জিতরাম। "
জিতরামের বিশ্বাস হয় না ।
"সব বাবুরা তো খেতেই আসে কাকা,আর বোতলের তলানিটুক আমাদের দিয়ে চলে যায় । ওই যে পাঁচ আর ছ'নম্বরের দাদাবাবুরা কাল বিকালে এসেছে,ওরা আধবোতল দিয়েছে ।
"হ্যাঁ,ছেলেগুলো অনেক রাত পর্যন্ত মাতলামি করেছে। খারাপ লাগলেও বাধা দেবার সাধ্য নেই। সবাই যে মাতলামো করতে আসেনা,প্রকৃতির রূপের মোহেও যে অনেকেই ছুটে আসে -এসব কথা জিতরাম বুঝবে না।
ফেরার সময় আরো কয়েকটা টাকা দিতে চাইলাম,কিন্তু ও নিল না। বলল,"যখন পলাশ ফুলে পাহাড়টা লাল হয়ে যাবে তখন আবার আসবে কাকা। "
ওর কথায় এবার আমার অবাক হওয়ার পালা !
                  -------------------------------------

🔹অণুগল্প:


 

✍শৈবাল মুখোপাধ্যায় 🔺সুকান্তপল্লী,পূর্ব বর্ধমান🔺


 ꗇ পাড়ার মুদিখানা দোকান থেকে বের হতেই রায়বাবুর মুখোমুখি হলেন পালবাবু। পালবাবু বললেন- শুনলাম,আপনি নাকি বাড়িটা বিক্রি করে দিচ্ছেন?
প্রশ্নটা শুনে রায়বাবু কষ্টের হাসি হেসে বললেন-ঠিকই শুনেছেন।
বিক্রি করে কোথায় উঠবেন? ফ্ল্যাটে?
হ্যাঁ।
কোথায় কিনলেন?
উত্তরপাড়া।
আপনার বাড়িটা আমার খুব ভাল লাগে। আমার স্ত্রীর গাছের খুব সখ। জায়গার অভাবে বাগান করতে পারিনি। আপনার বাগানটা বেশ। সামনে ফুলের বাগান পিছনে আম জামের।
হ্যাঁ। আমার মিসেসের সখ বলেই তো বেশি জায়গা কিনে বাড়িটা করলাম। ও নিজের হাতে সমস্ত বাগান পরিচর্যা করে, কিন্তু এখন-
মিসেস রায়ের কষ্ট হবে।
হলেও কিছু করার নেই। ডিশিসনটা দু’জন মিলে নিয়েছি।
কিন্তু ফ্ল্যাটে ফুলের টব ছাড়া কিছুই করা যাবে না। বাগানের গাছপালা থাকলে গরমকালে বাতাস আর ঠান্ডা মনে বেশ তৃপ্তি জাগাত।
একটা বেদনাঘন শ্বাস ত্যাগ করে রায়বাবু বললেন-জীবন বাগানের যে গাছ সেই গাছেরই ছায়া পেলাম না। এখন বাড়ির গাছ থাকা আর না থাকা সমান।

                    --------------------------



           

         📚 কৃষ্ণা মালিক 🔸সেহারা বাজার,পূর্ব বর্ধমান 🔸



🔵 ঘন্টার কাঁটায় লাফিয়ে উঠে পড়েছিল কাঁচুমাচু বনফুল। পুস্তকবিপনীর জংশনগুলি অকারণ পেরিয়ে যাচ্ছিল,সময়কে থামাতে পারছিল না বলে। খুব দ্রুত ক্ষয় পাচ্ছিল মোমবাতি,তবু অপেক্ষারত ক্যানভাসে স্থিতধি কমলালেবুর পরছাঁইও নিরাকার। ..অবশেষে গম্বুজে হেলে পড়লো দেমাকি আলো,আর রঙে রঙে নিভৃত হয়ে বনফুলের সঙ্গে কমলালেবুর মোলাকাত। অল্প সময়ে প্রতিস্থাপিত হলো ক্যানভাসে। ততক্ষণে রক্তমোচন,লাটাইএ গোটানো হতে থাকে বিদায়কালীন সূর্যাস্ত।...বাসস্টপে করুণাবশতঃ মিনিট কয়েকের আয়ুতে সিঞ্চিত হলো কমলা আলো। আবাহনে দুব্বোয় কখনও সে শবনম আদরে মেহেশুস রাখেনি,অথচ প্রথম উদযাপনই ছিল পেয়ালায় কফির ছলাতে বিদায়ের ভাসান। জীবনানন্দীয় পঙক্তির দ্বিরাগমন মনে পাল উড়িয়েছিল ভাটার ফিরতি স্রোতে। নোনাজল গালের ওপর রেখে দিচ্ছিল আয়ুর অন্য নাম।


🔸গল্প:



               📚 সিদ্ধার্থ সিংহ🔺কলকাতা🔺




🔰 শময়িতার সন্দেহটা এখন আর সন্দেহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সে বুঝে গেছে, তার কপাল পুড়তে চলেছে। না-হলে যে শ্রয়ন সন্ধে গড়াবার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমে ঢলে পড়ত। বিছানাটা পর্যন্ত ঝাড়তে দিত না। একটু উঠতে বললে কোন ঘরে গিয়ে যে শুয়ে পড়ত বোঝা যেত না। খুঁজতে খুঁজতে ওর দম বেরিয়ে যেত। সেই শ্রয়নই কিনা এখন রাত এগারোটাতেও বাড়ি ঢোকে না! কোথায় যায়! নিশ্চয়ই কোনও মেয়ের পাল্লায় পড়েছে !
নাকি আমি যাতে ওর ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটাই, সে জন্য অফিস থেকে চুপিচুপি বাড়ি ঢুকে অন্য কোনও ঘরে গিয়ে একচোট ঘুমিয়ে নেয় ! তার পর পেটের মধ্যে যখন ছুঁচোয় ডন মারে, তখন আর থাকতে না পেরে খাওয়ার জন্য জামাটামা গুঁজে বুটটুট পরে এমন ভাবে ঘরে ঢোকে যেন এক্ষুনি অফিস থেকে ফিরল !
কিন্তু না। সেটাও যে না, তাও প্রমাণ হয়ে গেল। ক’দিন ধরে তন্ন তন্ন করে গোটা বাড়ি খুঁজেও সে তার স্বামীকে কোত্থাও পায়নি। তা হলে কি এই বাড়ির মধ্যে এমন ঘরও আছে,যার হদিশ সে জানে না !
হতেই পারে। এখন অবস্থা অনেকটা পড়ে গেলেও এক সময় তো সবই ছিল। লোক-লস্কর। লেঠেল-বাহিনী। এমনকী বিশ্বস্ত গুপ্তচরও। ছিল প্রচুর জমিজমাও। ওদের জমিদারি নাকি বহু দূর অবধি বিস্তৃত ছিল। এখন অবশ্য সেই অর্থে বলতে গেলে কিছুই নেই। থাকার মধ্যে শুধু আছে ওর বাপ-ঠাকুর্দার তৈরি করে যাওয়া এই বাড়ি। কেন যে এত বড় বাড়ি বানিয়েছিলেন কে জানে! এক একটা ঘর তিন তলার সমান উঁচু উঁচু। কড়িবরগার ছাদ। সেখান থেকে লম্বা লম্বা রড দিয়ে আদ্যিকালের সিলিং ফ্যান ঝোলানো। চালালেই ঘটাং ঘটাং আওয়াজ হয়। যত না হাওয়া লাগে,তার চেয়ে বিরক্ত লাগে বেশি। ওগুলো খুলে ফেলে নতুন ফ্যান লাগানোর কথা বলতে গেলেই শ্রয়ন একেবারে রে রে করে ওঠে। বলে, না না না। ওগুলো খোলা যাবে না। ওগুলো আমাদের পূর্বপুরুষের স্মৃতি।
গোটা বাড়িতে লোক বলতে সাকুল্যে তিন জন। সে, তার স্বামী আর তাদের একমাত্র ছেলে। অথচ দোতলাতেই বিশাল বিশাল এগারোখানা ঘর। ঘর তো নয়, এক-একটা ফুটবল খেলার মাঠ। কেউ হুট করে ঢুকলে ডবল বেডের খাটটাকেও তার মনে হবে ঘরের কোণে যেন একটা ছোট্ট জলচৌকি পড়ে আছে ।
এ ছাড়া,এ দিকে ও দিকে ছোট ছোট ঘর তো আছেই। কিছু তালা দেওয়া, কিছু হাট করে খোলা। এখান সেখান থেকে নেমে গেছে চোরাগোপ্তা সরু সরু সিঁড়ি। উপরেও উঠে গেছে বেশ কয়েকটা। বাইরে থেকেও আছে খানকয়েক লোহার ঘোরানো সিঁড়ি। কোনওটা দোতলা,কোনওটা তিনতলা অবধি। সেগুলি আর ব্যবহার হয় না। বেশির ভাগ পা-দানিই উধাও হয়ে গেছে। কারা যে নিয়ে গেছে!
বিয়ের পর এতগুলো বছর কেটে গেলেও এ বাড়ির সব ক’টা ঘর এখনও তার খুলে দেখা হয়নি। নীচে ক’টা ঘর আছে কে জানে! উপরের কয়েকটা ঘর তো পায়রাদের দখলে চলে গেছে। তাদের বকম বকমে প্রথম দিকে ওর ঘুমই হত না। এখন অবশ্য অভ্যাস হয়ে গেছে।
কত লোক এসে ওদের ধরে। থাকার জন্য তো বটেই, কেউ কেউ বন্ধ ঘরগুলো গো-ডাউন হিসেবেও ভাড়া নিতে চায়। তার উপরে আছে নতুন নতুন গজিয়ে ওঠা প্রমোটারদের নানা প্রলোভন। শুধু সে ভাবে চাপ দিতে পারে না শময়িতার মামাতো ভাইয়ের জন্য ।
শময়িতা বহু বার তার স্বামীকে বলেছে, নীচের ঘরগুলো তো খোলাও হয় না। পড়ে থেকে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পয়-পরিষ্কার করে ভাড়া দিয়ে দাও না… টাকার টাকাও আসবে। ঘরগুলোতেও আলো-বাতাস ঢুকবে।
কিন্তু শ্রয়নের সেই এক কথা— না। আমাদের বংশের কেউ কখনও বাড়িঘর ভাড়া দেয়নি। আমিও দেবো না। না খেতে পেয়ে মরে গেলেও দেবো না। এটা আমাদের ঐতিহ্য।
শময়িতা বহু বার চেষ্টা করেও ওকে বোঝাতে পারেনি, দিন বদলে গেছে। সময়ও পাল্টে গেছে। সময়ের সঙ্গে পা মিলিয়ে চলতে না পারলেই পিছিয়ে প়ড়বে। বিপদে পড়বে। তোমাদের খুড়তুতো ভাইদের দেখো…
ওদের খুড়তুতো ভাইদের বাড়িটাও ওদের মতোই বিশাল। ওদের বাড়ির লাগোয়াই। খুড়তুতোরা চার ভাই। কেউই কিছু করে না। ওদের গায়ের রং এত ফর্সা যে, যে-পাড়ার লোকেরা দু’পুরুষ আগেও ওদের দিকে চোখ তুলে তাকাবার সাহস পেত না, ওদের প্রজা ছিল, অবস্থা পড়ে গেছে দেখে তারাও ওদের পিছনে লাগে। দেখলেই, সাদা পাটালি বলে খেপায়।
আর ওদের বাবা? মানে শ্রয়নের কাকা? প্রত্যেক দিন সকালে বাজার যাওয়ার আগে ব্যবহারে-ব্যবহারে শতচ্ছিন্ন ময়লা একটা ফর্দ পাড়ারই একটা মুদিখানা দোকানে জমা দিয়ে যান। ফেরার সময় সেই ফর্দ মিলিয়ে মুদিওয়ালার রেডি করে রাখা প্রতিদিনকার তেল, নুন, মশলা নিয়ে বাড়ি আসেন।
শ্রয়ন নাকি একবার তার কাকাকে জি়জ্ঞেস করেছিল, এক মাসের না হোক, অন্তত সারা সপ্তাহেরটা তো একসঙ্গে কিনে রাখতে পারেন।
উনি বলেছিলেন, সে তো পারিই। কিন্তু কাল যদি মরে যাই?
কাকার কথা শুনে শ্রয়ন থ হয়ে গিয়েছিল। শ্রয়নদের অবস্থা অবশ্য তার কাকাদের মতো নয়। কাকারা কোনও কিছুই ধরে রাখতে পারেননি। বহু আগেই সব বেচেবুচে দিয়েছেন। এখনও এই বাড়িটা ছাড়াও শ্রয়নদের আরও একটা বাড়ি আছে। দেশের বাড়ি। সেই বাড়িটা আরও বড়। সাত ভূতে খাচ্ছে। শময়িতা ওই বাড়ির কথা জানার পরে ছ’মাসে ন’মাসে অন্তত একবার কোনও রকমে ঠেলেঠুলে শ্রয়নকে পাঠাত। যারা ওদের জমি ভাগে চাষ করে তাদের কাছ থেকে টাকা তুলে আনার জন্য। কিন্তু যেহেতু জমিগুলো একলপ্তে নয়, ভিন্ন ভিন্ন লোকে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় চাষ করে এবং এখন নতুন নতুন নিয়মকানুন যা হচ্ছে, আর যে ভাবে রন্ধ্রে রন্ধ্রে রাজনীতি ঢুকে পড়ছে, তাতে জমিতে থেকেই জমি রক্ষা করা যাচ্ছে না। আর তারা তো গ্রাম থেকে পাঁচশো মাইল দূরে বসে আছে। সুতরাং ছড়ানো-ছেটানো চাষের জমিগুলো সব দখল হয়ে যাবার জোগাড়়।
শময়িতা কত বার বলেছে, জমি কখনও কারও বাপের হয় না। দাপের। আমরা ওখানে থাকিই না, তো দাপট দেখাব কী! তা ছাড়া, আমরা তো আর ওখানে থাকতে যাব না। শুধু শুধু অত জমি ওখানে ফেলে রেখে কী হবে? একদিন দেখবে সব দখল হয়ে গেছে। এ বার আস্তে আস্তে জমিজমাগুলো বিক্রি করার চেষ্টা করো। দরকার হলে ক’টা দিন ওখানে গিয়ে থাকো। কিন্তু কে শোনে কার কথা! ঘুম পেলে ও আর কিচ্ছু চায় না।
এই ঘুমের জন্যই শ্রয়ন কোনও দিন চাকরি বাকরি করেনি। খুড়তুতো ভাইদের মতোই পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া টাকাতেই বসে বসে খেত। বিয়ের পর শময়িতাই বলেছিল, জানো তো, রাজার ধনও ঝিনুক মাপতে ফুরিয়ে যায়। শুধু পড়ে পড়ে ঘুমোলে চলবে? এত ভাল রেজাল্ট তোমার, কিছু একটা করো। না। তোমাকে টাকার জন্য চাকরি করতে বলছি না। আসলে, কাজের মধ্যে থাকলে তোমার মনটাও ভাল থাকবে,তাই…
সে হ্যাঁ-ও বলেনি, না-ও বলেনি। তার পর এমপ্লয়মেন্ট গ্রেজেট দেখে শময়িতাই একটা চাকরির সন্ধান দিয়েছিল। ওকে দিয়ে শময়িতাই দরখাস্ত লিখিয়েছিল। এবং শময়িতা নিজে গিয়েই সেটা পোস্ট করে এসেছিল। ইন্টারভিউয়ের দিন শময়িতাই সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল। এবং ইন্টারভিউয়ে ঢোকার ঠিক আগের মুহূর্তে শ্রয়নের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলেছিল, তুমি যদি খুব ভাল করে ইন্টারভিউ দাও, তা হলে টানা তিন দিন তোমার ছুটি। যত ইচ্ছে ঘুমিয়ো। আমি তোমাকে একবারও ডাকব না।
ওই কথা শুনে চকচক করে উঠেছিল শ্রয়নের চোখ। সত্যি?
শময়িতা বলেছিল, সত্যি। আর তাতেই কাজ হয়েছিল। কিন্তু এই ঘুমের জন্য ও কম দিন অফিস কামাই করেছে? গেলেও, অফিসে বসে বসেই ও ঘুমোত। সেই জন্য ওর সহকর্মীরা পর্যন্ত ওর নাম দিয়ে দিয়েছিল— ঘুমকাতুরে। সেই বদনাম ঘোচানোর জন্যই শময়িতা রোজ সকালে তাকে জোর করে ঘুম থেকে তুলে দিত।
ক’দিন আগে হঠাৎ কী হল, শ্রয়ন অফিস থেকে ফিরেই চা খেতে খেতে শময়িতাকে বলল, জানো তো, আমাদের অফিসের কলিঙ্গদা, যে সব থেকে বেশি সিগারেট খেত, একেবারে চেনস্মোকার, গত কাল থেকে সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।
শময়িতা জানতে চাইল, কেন?
— কেন আবার? ওর বউ খেতে বারণ করেছে, তাই।
— বাঃ, তোমাদের কলিঙ্গদাকে তো বেশ ভাল বলতে হবে।
— কেন? আমি ভাল না?
— তোমাকে যে ভাল বলব, তুমি কি তোমার বউয়ের কথা শোনো?
— শুনি না বুঝি? এক বড় অপবাদ? ঠিক আছে, কাল থেকে তুমি যেটা বারণ করো, আমি আর সেটা কিছুতেই কবর না।
— কী?
— পড়ে পড়ে আর ঘুমোব না।
— তুমি? ঘুমোবে না? তা হলেই হয়েছিল।
— এই তো? চ্যালে়ঞ্জ। কাল থেকে তোমাকে আর ডাকতে হবে না। আমি নিজে তেকেই সক্কালবেলায় উঠে যাব। দেখে নিয়ো।
শময়িতা একটু হেসে বলল, তার সঙ্গে তা হলে এটাও দেখতে হবে, সূর্য পশ্চিম দিকে উঠেছে কি না…
— সুর্যের কথা আমি বলতে পারব না। আমি আমার কথা বলছি।
— ঠিক আছে, দেখা যাবে।
সত্যি সত্যিই শ্রয়ন যে এটা করতে পারবে শময়িতা তা কল্পনাও করতে পারেনি। হ্যাঁ, এখন ক’দিন ধরে ওকে আর ডাকতে হচ্ছে না। শ্রয়ন নিজে থেকেই সকাল সকাল উঠে পড়ছে। অফিসেও বেরিয়ে পড়ছে ঠিক সময়ে। এই সব দেখে শময়িতার মনে হঠাৎ খটকা লাগল, আচ্ছা, অফিসে গিয়ে ও আবার ঘুমোচ্ছে না তো! একটা ফোন করে দেখব! মনে হতেই মোবাইলটা হাতে তুলে নিয়েছিল শময়িতা। তার পর বেশ কয়েক বার পর পর চেষ্টা করে গেল শ্রয়নকে মোবাইলে ধরতে। কিন্তু না। ওর ফোনে নট রিচেবল। অগত্যা শময়িতা ফোন করল, অফিসের ল্যান্ড নম্বরে। দুটো রিং হতে না-হতেই ও প্রান্ত থেকে ভেসে এল, হ্যালো?
— শ্রয়ন আছে?
— না। ও তো আজ আসেনি।
— আসেনি?
— না। ও তো দু’-তিন দিন ধরে আসছে না।
— মানে?
— আপনি কে বলছেন?
কথাটা শুনে শময়িতা বলতে যাচ্ছিল, আমি ওর ওয়াইফ বলছি। কিন্তু না। ও আর একটা কথাও বলল না। সঙ্গে সঙ্গে লাইন কেটে দিল।
এ রকম উত্তর শোনার জন্য শময়িতা একদম প্রস্তুত ছিল না। ভাবতে লাগল, দু’-তিন দিন ধরে ও অফিসে যাচ্ছে না! কিন্তু রোজই তো খেয়েদেয়ে অফিসের নাম করে বেরোচ্ছে। তা হলে যাচ্ছে কোথায়! তবে কী... হ্যাঁ, হতেই পারে। রাইয়ের হাজব্যান্ড হীমবন্তদা তো স্কুল টিচার। যথেষ্ট সচ্ছল অবস্থা। তবু বউ-ছেলেমেয়েকে আরও একটু ভাল রাখার জন্য একটা কোচিং সেন্টার খুলেছিলেন। পাশের পাড়ায় একটা গ্যারেজ ঘর ভাড়াও নিয়েছিলেন। শুধু সকালেই নয়, বিকেলেও দফায় দফায় ইলেভেন-টুয়েলভের ছেলেমেয়েরা সেখানে টিউশন নিতে যেত। শনি-রবিবারও বাদ যেত না।
সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু তার মধ্যেই ঘটে গেল একটা অঘটন। ওই পাড়ার ছেলেরা হঠাৎ একদিন তাঁকে শুধু বেধড়ক পেটালই না, মারতে মারতে প্রায় আধমড়া করে দিল। এবং বলে দিল, এ অঞ্চলের ত্রিসীমানার মধ্যে যেন আর না দেখি...
রাই অবাক। তার স্বামীর মতো স্বামী হয় না। একেবারে মাটির মানুষ। কোনও সাতেপাঁচে থাকেন না। আর তাঁকে কিনা এ ভাবে মারধড়? পা়ড়ার দু’জনকে নিয়ে দৌড়ে গিয়েছিল সে। থানায় গিয়ে শুনেছিল তাঁর স্বামীর কেলোরকীর্তির কথা। লাস্ট ব্যাচ চলে যাওয়ার পরেও, অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়া সদ্য কোচিংয়ে আসা ক্লাস ইলেভেনের একটি মেয়েকে উনি স্পেশাল ক্লাস নেওয়ার জন্য থাকতে বলেছিলেন। কয়েকটি অঙ্ক দেখিয়ে দেওয়ার পরেই উনি নাকি আচমকা মেয়েটিকে জাপটে ধরে পাগলের মতো অসভ্যতা শুরু করে দেন।
প্রথমটায় হকচকিয়ে গেলেও পর মুহূর্তেই মেয়েটি চিৎকার করে ওঠে। আশপাশের লোক জড়ো হয়ে যায়। তারা দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে দেখে মাস্টারমশাই ঘরের কোণে সিঁটিয়ে আছেন আর মেয়েটি ভয়ে-আতঙ্কে হাউহাউ করে কাঁদছে। খবর পেয়ে দৌড়ে আসে গলির মুখে ক্যারামবোর্ড খেলতে থাকা পাড়ার ছেলেরা। তাদের বুঝতে অসুবিধে হয় না কী ঘটেছে। ওরা তার স্বামীকে কলার ধরে টেনে হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে ঘর থেকে বার করে এনে রাস্তার উপরে ফেলে এলোপাথাড়ি কিল-চড়়-লাথি মারতে থাকে।
মার সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। খবর যায় লোকাল থানায়। পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
শুধু ওই মেয়েটিই নয়, ওই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে নাকি একে একে আরও অনেক মেয়েই মুখ খুলেছিল। বলেছিল, তাদের সঙ্গেও নাকি উনি অসভ্যতা করেছেন। কিন্তু ভয়ে, লজ্জায়, কে কী বলবে ভেবে তারা চেপে গেছে। কেউ কেউ বাড়িতেও জানিয়েছিল ব্যাপারটা। কিন্তু বেশির ভাগ বাড়ি থেকেই নাকি বলেছিল, যা হবার হয়ে গেছে। কাউকে কিছু বলতে যাস না। এ সব জানাজানি হলে মানসম্মান নিয়ে টানাটানি হবে। থানা পুলিশ হবে। আজেবাজে প্রশ্ন করবে। বিয়ে দিতে গেলে সমস্যা হবে। তার চেয়ে বরং চুপ করে থাকাই ভাল। দরকার হলে ওখানে আর পড়তে যাস না।
এই সব শুনে হাসিখুশি প্রাণোচ্ছল রাই কেমন যেন গুটিয়ে নিয়েছিল নিজেকে। কারও সঙ্গেই সে ভাবে আর মিশত না। শময়িতার সঙ্গেও না। যেন স্বামী নয়, দোষটা সে-ই করেছে। এটা দেখে রাইয়ের জন্য সমবেদনা হলেও মনে মনে বেশ খুশিই হয়েছিল সে, আর যাই হোক, তার স্বামী অন্তত ও রকম নয়।
কিন্তু অফিসে ফোন করে এ কী শুনল সে! ও দু’-তিন দিন ধরে অফিসে যাচ্ছে না! ভাগ্যিস ওর মোবাইলে নট রিচেবল আসছিল। তাই বাধ্য হয়ে অফিসের ল্যান্ড নম্বরে ফোন করেছিল। না হলে তো সে জানতেই পারত না, তার বিশ্বাসটাকে ঘুণপোকারা ভিতরে থেকে কী ভাবে কুরে কুরে ফোঁপরা করে দিয়েছে।
তখনই তার সন্দেহ দানা বেঁধে উঠেছিল। মনে মনে বলেছিল, না। ও ঠিক করেনি। তার বিশ্বাসে আঘাত করেছে। এ জন্যই কি যখন তখন হুটহাট করে ও বেরিয়ে যাচ্ছে! রাত করে ফিরছে! তার মাইনের কোনও হিসেব পাচ্ছে না সে! কানাঘুষোয় জানতে পারছে, তার স্বামী একটু একটু করে দেশের জমিজমা বেচে দিচ্ছে! তার মানে সে যা সন্দেহ করছে সেটা সত্যি! ও অন্য কোনও মেয়ের পাল্লায় পড়েছে! তার পিছনেই ঢালছে সব টাকা! ছিঃ ছিঃ ছিঃ। আমার কথা না হয় বাদই দিলাম। এ সব করার আগে কি ছেলের মুখটাও ওর একবার মনে পড়ল না! জানাজানি হলে লোকের কাছে আমি মুখ দেখাব কী করে! মা-বাবাই বা কী ভাববেন! আচ্ছা, ক’দিন আগে কতগুলো কাগজে আমাকে দিয়ে ও সই করিয়েছিল না! টিক দেওয়া জায়গাগুলো দেখিয়ে বলেছিল, সই করতে। ও বলেছিল দেখে সে সই করে দিয়েছিল। একবার চোখ বুলিয়ে দেখারও প্রয়োজন মনে করেনি। ওগুলো কীসের কাগজ ছিল! ও আবার কায়দা করে ডিভোর্সের কাগজে সই করিয়ে নেয়নি তো! চার দিকে যা শুনছি, আমার তো এখন সন্দেহ হচ্ছে…
না। আমি ওকে ছাড়ব না। এর একটা হেস্তনেস্ত করে ছাড়ব। ওর সত্যিই যদি কাউকে মনে ধরে থাকে, তা হলে তাকে নিয়েই থাকুক। আমার কাছে আসতে হবে না। বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে আমি। তাঁদের অবর্তমানে গোটা বাড়িটাই আমার। আর বাবার যা ফিক্সড ডিপোজিট করা আছে, সে সব তো আমিই পাব। তার সুদে আমার আর আমার ছেলের বাকি জীবনটা খুব ভাল ভাবেই চলে যাবে। দরকার নেই তাকে। ঠিক আছে, দেখি... বলেই, ফোন করেছিল তার মামাতো ভাইকে। সে থাকে পাশের পাড়ায়। ওই এলাকার বেশ হোমড়াচোমড়া। পার্টি করে। সব শুনে সে বলল, কিচ্ছু ভাবিস না, আমি তো আছি। তোকে পরে ফোন করছি।
শময়িতা জানে, ও এই রকমই। পরে ফোন করছি বলেছে মানে ও আর ফোন করবে না। নানা নক্কাছক্কা করে বেড়ায়।
কিন্তু না। তার কিছুক্ষণ পরেই সে ফোন করল। এবং শময়িতাকে কিছু বলতে না দিয়েই বলল, শোন, তুই যে ওর অফিসে ফোন করেছিলি, ওখানে তোর পরিচয় দিসনি তো?
— না।
— ঠিক আছে। ও এলেও ওকে একদম কিচ্ছু বলবি না। ওকে বুঝতেই দিবি না যে, তুই টের পেয়েছিস। বুঝেছিস? ও যখন কাল অফিসে বেরোবে, তার আগে তুই শুধু আমাকে একটা মিস কল করবি, বুঝেছিস? তোকে আর কিচ্ছু করতে হবে না। যা করার আমিই করব। দেখি ওর ক’টা পাখনা গজিয়েছে...
মামাতো ভাইয়ের কথা মতোই কাজ করেছিল শময়িতা। সমস্ত যন্ত্রণা চেপে রেখে রোজকার মতোই ডাইনিং টেবিলে খাবার বেড়ে দিয়েছিল সে। হাজার চেষ্টা করেও নিজেকে কিছুতেই সামলাতে পারছিল না। এই লোকটাই সে? যে তাকে একদিন ভালবেসে বিয়ে করেছিল! এই-ই সে! বারবার চোখ চলে যাচ্ছিল শ্রয়নের চোখের দিকে।
শ্রয়ন যখন এঁঠো হাত বেসিনে ধুয়ে জামাপ্যান্ট পরার জন্য শোবার ঘরে ঢুকল, শময়িতা তখন পাশের ঘরে গিয়ে রোজকার মতো স্বামীর হাতে তুলে দেবার জন্য রুমাল, পার্স আর চশমাটা নিয়ে, না, মিস কল নয়, চুপিচুপি ফোন করে তার মামাতো ভাইকে খুব চাপা গলায় জানিয়ে দিল, ও এক্ষুনি বেরোচ্ছে।
শ্রয়ন বাড়ি থেকে  বেরিয়ে গলির মুখে এসে টপাটপ বোতাম টিপল মোবাইলের। তার পর দাঁড়িয়ে রইল। সামনে দিয়ে একটা বাস চলে গেল। যেটা ওর অফিসের সামনে দিয়ে যায়। কিন্তু ও তাতে উঠল না। ও ইচ্ছে করলেই একটা কেন, একসঙ্গে দু’-চার-পাঁচটা নতুন গাড়ি কিনতে পারে। কিন্তু মৃত্যুর আগে যেহেতু ওর বাবা বলে গিয়েছিলেন, দ্যাখ, আমাদের তো বাপ-ঠাকুর্দার রেখে যাওয়া টাকার সুদে সংসার চলে। সেই সুদ কিন্তু দিনকে দিন কমছে। ফলে যতটা সুদ আসছে, তার চেয়ে কম খরচ করতে হবে। কিছু কিছু করে সুদের টাকা জমিয়ে মূল টাকার সঙ্গে ফিক্সড করতে হবে। না হলে মহাবিপদ। কারণ, আমার তো মনে হয়, যে হারে সুদ কমছে, সেই দিন আর বেশি দূরে নেই, যে দিন সুদ দেওয়া তো দূরের কথা, নিরাপদে টাকা গচ্ছিত রাখছে বলে ব্যাঙ্কগুলি উল্টে টাকা চাইবে। সুতরাং এখন থেকে সতর্ক হতে হবে। খরচের বহর কমাতে হবে। এক্ষুনি রাশ টানতে না পারলে আর দেখতে হবে না…
সেই কথা মাথায় রেখেই বাবার মৃত্যুর পরে ও খরচ কমাতে শুরু করেছিল। বাড়িতে দু’-দুটো গাড়ি থাকলেও ও ট্রামে বাসেই যাতায়াত করত। যখন চাকরি পেল তত দিনে গাড়ি দুটো পড়ে থেকে থেকে লড়ঝড়ে হয়ে গেছে। কেজি দরেও বিক্রি করা যাবে না। ও আর গাড়ি কেনেনি।
দু’মিনিটও হল না, ওর সামনে একটা ওলা এসে দাঁড়াল। ও সেটায় উঠে পড়ল।
ট্যাক্সিটা স্টার্ট দিতেই ওর পিছু নিল একটা নয়, গলির এ মুখে এবং ও মুখে অপেক্ষা করতে থাকা দু’-দুটো ঝাক্কাস বাইক। দুটো বাইকেই চালক ছাড়াও পিছনে একজন করে ছেলে।
টিভি সেন্টারের সামনে দিয়ে এসে ট্যাক্সিটা লর্ডস বেকারির মোড় থেকে বাঁ দিকে বাঁক নিল। আনোয়ার শাহ রোড ধরে খানিকটা গিয়ে, ডান হাতের লেক গার্ডেন্সের ব্রিজে উঠল। তার পর লেকের ভিতর দিয়ে শরৎ বসু রোড হয়ে এ গলি ও গলির ভিতর দিয়ে একেবারে ভবানীপুরে। আইকোর বিল্ডিংয়ের পিছনে একটা ঝাঁ-চকচকে নতুন আটতলা বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তার পর সেই বাড়িটার কারুকাজ করা বিশাল লোহার ফটক দিয়ে সোজা ঢুকে গেল ভিতরে।
এই বাড়িটার নীচেই কার পার্কিং প্লেসের সামনের বেশ খানিকটা জায়গা নিয়ে পার্টি অফিস। সকাল-সন্ধে ভিড় লেগেই থাকে। যত না পাড়ার ছেলে থাকে, তার চেয়ে বেশি থাকে অন্যান্য এলাকার ছেলেরা। এত ভিড় হয়ে যায় যে, কার পার্কিং প্লেসে আর কুলোয় না। ফুটপাতে চেয়ার বিছিয়ে বসে পড়ে। এই সকালবেলাতেই বসে রয়েছে পার্টির তিন-চার জন ছোকরা।
বাইকবাহিনীর কাছ থেকে ফোন মারফত সেই খবর পৌঁছে গেল শময়িতার মামাতো ভাইয়ের কাছে। পৌঁছতেই সে মনে মনে বলল, পেয়েছি ব্যাটাকে। পালাবে কোথায়! আমার হাত থেকে ওর আর নিস্তার নেই। ওকে একেবারে হাতেনাতে ধরব। ভেবেই, বাইকের চার জনকে ওখানে পাহাড়ায় থাকতে বলে শময়িতার বাড়ি থেকে শময়িতাকে তার সদ্য কেনা অল্টোয় তুলে সোজা হাজির হল সেখানে।
পার্টি অফিসের সামনে যে ছোকরাগুলো বসে ছিল, তাদের প্রায় সকলেই শময়িতার মামাতো ভাইকে চেনে। তাকে গাড়ি থেকে নামতে দেখেই তারা এগিয়ে গেল। উনি তখন শময়িতার মোবাইলে তোলা শ্রয়নের ছবিটা দেখিয়ে ওদের কাছে জানতে চাইল, এই লোকটাকে কি তোমরা চেনো?
ওরা ‘চিনি’ বলতেই শময়িতার মামাতো ভাই বলল, এই লোকটা কি এখানে রোজই আসে?
ওদের মধ্যে থেকে একজন বলল, রোজ নয়, তবে প্রায়ই আসে। কেন বলুন তো? কোনও লাফড়া হয়েছে নাকি?
সে কথায় উত্তর না দিয়ে মামাতো ভাই উল্টে প্রশ্ন করল, কার কাছে আসে?
ওদের মধ্যে থেকে অন্য জন বলল, কার কাছে আবার? উনি ওনার নিজের ফ্ল্যাটে আসেন।
— নিজের ফ্ল্যাট! চমকে উঠল শময়িতা। তার পরেই কী মনে হতে, নিজের মনেই বলল, বুঝেছি, তার মানে নতুন কোনও সংসার পেতেছে এখানে! ঠিক আছে, দেখাচ্ছি মজা…
মামাতো ভাই ওদের কাছে ফের জানতে চাইল, উনি কি এখানে ফ্ল্যাট কিনেছেন নাকি ভাড়া নিয়েছেন?
— না না। ভাড়া না। ভাড়া নিলে তো আমরা জানতাম। উনি কিনেছেন। তাও তো প্রায় পাঁচ-ছ’মাস হয়ে গেছে। তবে যত দূর জানি উনি রাতে থাকেন না। ওনার নাকি অন্য জায়গাতেও বাড়ি আছে।
উদ্বিঘ্ন হয়ে শময়িতা জিজ্ঞেস করল, সঙ্গে কে থাকে?
ছেলেগুলো কিছু বলতে যাবার আগেই মামাতো ভাই বলল, সে যে-ই থাকুক না কেন, অফিসে না গিয়ে ও যখন এখানে এসেছে, তখন নিশ্চয়ই সে আছে। তোমরা জানো ও কোন ফ্লোরে থাকে?
— হ্যাঁ হ্যাঁ, ফাস্ট ফ্লোরে।
— চলো তো...
ওরা যখন বাড়ির ভিতরে ঢুকে লিফটের জন্য অপেক্ষা না করেই সিঁড়ি দিয়ে তরতর করে উঠছে, তখন নিজের মনেই বিড়বিড় করতে লাগল শময়িতা, এই জন্যই কিছু দিন ধরে দেখছি, ও আমাকে এড়িয়ে চলছে। রাত করে বাড়ি ফিরছে। তার মানে...
দোতলায় উঠে কলিংবেল টিপছে তো টিপছেই। বারবার টেপাতেও না খোলায় মামাতো ভাইয়ের নির্দেশে ওই ছোকরাগুলো দরজা ধাক্কানো শুরু করল। শুরু করল হাঁক পেড়ে ডাকাডাকি। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে এ ফ্ল্যাটের ও ফ্ল্যাটের লোকেরা দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন। জানতে চাইলেন, কী হয়েছে?
অনেকক্ষণ পরে অবশেষে যে লোকটা লুঙ্গি পরে ঘুম-জড়ানো চোখে দরজা খুলে বেরিয়ে এল, সে আর কেউ নয়, শময়িতার স্বামী— শ্রয়ন। ঘুমের ঘোরেই সে জিজ্ঞ়়েস করল, কে?
শময়িতা বলল, আমি।
শময়িতার গলা শুনে যেন চারশো চল্লিশ ভোল্টের শক খেল সে। মুহূর্তে উধাও হয়ে গেল তার ঘুম। কেন? কী হয়েছে? প্রশ্ন করতে যাওয়ার আগেই প্রায় ধাক্কা মেরে শ্রয়নকে সরিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকে গেল ও। এ ঘর ও ঘর সে ঘর দেখল। না। তিনটে বড়় ঘরের একটাতেও কেউ নেই। কেউ কেন, ঘরে কোনও আসবাবও নেই।
থাকার মধ্যে আছে শুধু একটা ঘরে ব়়ড় একটা আনকোরা খাট। তাতে আরও আনকোরা নরম তুলতুলে বিছানা। পলিথিনের মোড়ক অবধি খোলা হয়নি। এক পাশে গুটিয়ে রাখা তোষক। আর দু’দিকে ছড়িয়ে আছে মাথায় দেওয়ার দুটো বালিশ। একটা কোল বালিশও।
খাটের নীচ-টিচ ভাল করে দেখে, কাউকে না পেয়ে ও দিকের করিডরে গিয়ে উঁকি মেরে শময়িতা দেখার চেষ্টা করল, কলিংবেল আর চিৎকার চেঁচামেচি শুনে কেউ ও দিক থেকে পালিয়েছে কি না। না। সে সুযোগ নেই। কাউকে কেন, অন্য কারও কোনও চিহ্নই যখন ও খুঁজে পেল না, তখন শ্রয়নের  মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ও জিজ্ঞেস করল, সে কোথায়?
শ্রয়ন অবাক হয়ে জানতে চাইল, কে?
— কে বুঝতে পারছ না? যাকে নিয়ে এখানে সংসার পেতেছ, সে।
— সংসার!
— আকাশ থেকে পড়ছ, না? এই তো এরা আছে... বলেই, ওই বাড়ির নীচ থেকে যে ছোকরাগুলো তাদের সঙ্গে গিয়েছিল, তাদের দিকে তাকিয়ে শময়িতা বলল, এই, তোমরা বলো তো এর সঙ্গে কে থাকে…
ছোকরাগুলো এ ওর মুখের দিকে চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল। সেটা দেখে শময়িতা বলল, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তোমরা বলো।
ওরা একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে বলল, কই, কেউ না তো...
— তা হলে কি উনি এখানে একা থাকেন?
— হ্যাঁ, তাই-ই তো দেখি।
— এটা আমাকে বিশ্বাস করতে হবে? যার অত বড় বাড়ি। বাড়িতে অতগুলো ঘর। একটু খড়কুটো পর্যন্ত নাড়তে হয় না। চাওয়ামাত্র হাতের সামনে সব কিছু পেয়ে যায়। ও সব ছেড়েছুড়ে সে এখানে একা থাকার জন্য আসে?
এতক্ষণ চুপচাপ ছিল শ্রয়ন। এ বার মুখ খুলল সে— আসে। তোমার মতো বউয়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য আসে।
— আমার মতো বউ মানে? আমি কী করেছি?
— কী করেছ জানো না? কোনও দিন শান্তিতে একটু ঘুমোতে দিয়েছ?
মামাতো ভাই বলল, ঘুমের সঙ্গে এখানে থাকার সম্পর্ক কী?
— আমি এখানে ঘুমোতে আসি।
— ঘুমোতে!
শ্রয়ন বলল, হ্যাঁ, ঘুমোতে।
— কিন্তু ওরা যে বলল, এটা তোমার ফ্ল্যাট?
— না। আমার না।
মামাতো ভাই জিজ্ঞেস করল, তা হলে কার?
— আমার ছেলের।
শময়িতা যেন আকাশ থেকে পড়ল। ছেলের? মানে? বাবাই জানে?
— না।
মামাতো ভাই ফ্ল্যাটের চার দিকে তাকিয়ে বলল, এটার দাম তো মনে হয় কোটি টাকার নীচে হবে না...
— আমি কি একবারও বলেছি কোটি টাকার কম?
শময়িতা বলল, এত টাকা তুমি কোথায় পেলে?
— দেশের ওই চাষের জমিগুলো আর রাখা যাচ্ছিল না। যে কোনও সময় দখল হয়ে যেত। তাই তুমি বারবার করে বলেছিলে দেখে ওগুলো বিক্রি করে দিয়েছি।
শময়িতা বলল, অতখানি জমি বিক্রি করে দিয়েছে? সেটা দিয়ে তুমি মাত্র তিন কামরার এইটুকু একটা ফ্ল্যাট কিনেছ?
— না। সব টাকা দিয়ে কিনিনি। বাকি টাকা ছেলে আর তোমার নামে ফিক্সড করে দিয়েছি। মনে নেই, তোমাকে দিয়ে সে দিন কতগুলো কাগজে সই করালাম? তুমি তো উল্টেও দেখলে না কীসে সই করছ। অন্ধের মতো সই করে দিলে। ওগুলো ছিল ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের কাগজ।
এটা শুনে শময়িতার দিকে তাকাল মামাতো ভাই। শময়িতা বলল, সেটা তো আমাকে আগে বলতে পারতে। ঠিক আছে,চলো।
— কোথায়?
— বাড়িতে।
— না। আমি যাব না।
— কেন?
— ঠিক আছে,আমি যেতে পারি।
তবে একটা শর্তে ।
— কী শর্ত?
— ঘুমোবার সময় আমাকে আর কখনও বিরক্ত করবে না…
— আর? মাথা খারাপ? একদম বিরক্ত করব না।
মামাতো ভাই বলল, তা হলে এই ফ্ল্যাটটা?
এই বাড়ির নীচ থেকে যে ছোকরাগুলো তাদের সঙ্গে এসেছিল, তাদের একজন বলে উঠল, এটা ছেড়ে দিলে আমাদের বলবেন দাদা, যে দামে কিনেছেন, তার থেকে অন্তত দশ লাখ টাকা বেশিতে বিক্রি করিয়ে দেব।
শময়িতা মুচকি হেসে বলল, সে তো বলবই। তবে মনে হয় না,আমাদের বিক্রি করার কোনও দরকার হবে। বলেই,ফ্ল্যাটের দরজায় তালা লাগিয়ে সবার সঙ্গে শময়িতাও নীচে নেমে এল। মনে মনে বলল, সত্যি, ঘুমোনোর জন্য যে কেউ এ রকম একটা ফ্ল্যাট কিনতে পারে, বাপের জন্মে শুনিনি। সত্যি কার পাল্লায় পড়েছি আমি। রক্ষে করো ঠাকুর। রক্ষে করো ।
                     ----------------------------


🌿 সিদ্ধার্থ সিংহের পরিচিতি:
২০২০ সালে 'সাহিত্য সম্রাট' উপাধিতে সম্মানিত এবং ২০১২ সালে 'বঙ্গ শিরোমণি' সম্মানে ভূষিত সিদ্ধার্থ সিংহের জন্ম কলকাতায়। ১৯৬৪ সালে।  ক্লাস নাইনে পড়ার সময়ই তাঁর প্রথম কবিতা ছাপা হয় 'দেশ' পত্রিকায়। প্রথম ছড়া 'শুকতারা'য়। প্রথম গদ্য 'আনন্দবাজার'-এ। প্রথম গল্প 'সানন্দা'য়। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহল তোলপাড় হয়। মামলা হয় পাঁচ কোটি টাকার। ছোটদের জন্য যেমন মৌচাক, শিশুমেলা, সন্দেশ, শুকতারা, আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, চিরসবুজ লেখা, ঝালাপালা, রঙবেরং, শিশুমহল ছাড়াও বর্তমান, গণশক্তি, রবিবাসরীয় আনন্দমেলা-সহ সমস্ত দৈনিক পত্রিকার ছোটদের পাতায় লেখেন, তেমনি বড়দের জন্য লেখেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ এবং মুক্তগদ্য।‌ বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাতেও। 'রতিছন্দ' নামে এক নতুন ছন্দের প্রবর্তন করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দুশো পঁতাল্লিশটি। তার বেশির ভাগই অনুদিত হয়েছে বিভিন্ন ভাষায়। বেস্ট সেলারেও উঠেছে সে সব। এ ছাড়া যৌথ ভাবে সম্পাদনা করেছেন লীলা মজুমদার, রমাপদ চৌধুরী, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, মহাশ্বেতা দেবী, শংকর, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সুচিত্রা ভট্টাচার্য, নবনীতা দেবসেন, রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে। তাঁর লেখা নাটক বেতারে তো হয়ই, মঞ্চস্থও হয় নিয়মিত। তাঁর কাহিনি নিয়ে ছায়াছবিও হয়েছে বেশ কয়েকটি। গান তো লেখেনই। মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন বেশ কয়েকটি বাংলা ছবিতে। তাঁর ইংরেজি এবং বাংলা কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কয়েকটি সিনেমায়। বানিয়েছেন দুটি তথ্যচিত্র। তাঁর লেখা পাঠ্য হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের এক তারিখ থেকে একত্রিশ তারিখের মধ্যে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, মুক্তগদ্য, প্রচ্ছদকাহিনি মিলিয়ে মোট তিনশো এগারোটি লেখা প্রকাশিত হওয়ায় 'এক মাসে সর্বাধিক লেখা প্রকাশের বিশ্বরেকর্ড' তিনি অর্জন করেছেন। ইতিমধ্যে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ শিশু সাহিত্য সংসদ পুরস্কার, স্বর্ণকলম পুরস্কার, সময়ের শব্দ আন্তরিক কলম, শান্তিরত্ন পুরস্কার, কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত পুরস্কার, কাঞ্চন সাহিত্য পুরস্কার, সন্তোষকুমার ঘোষ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা লোক সাহিত্য পুরস্কার, প্রসাদ পুরস্কার, নতুন গতি পুরস্কার, ড্রিম লাইট অ্যাওয়ার্ড, কমলকুমার মজুমদার জন্মশতবর্ষ স্মারক সম্মান, সামসুল হক পুরস্কার, সুচিত্রা ভট্টাচার্য স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, অণু সাহিত্য পুরস্কার, কাস্তেকবি দিনেশ দাস স্মৃতি পুরস্কার, শিলালিপি সাহিত্য পুরস্কার, চেখ সাহিত্য পুরস্কার, মায়া সেন স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াও ছোট-বড় অজস্র পুরস্কার ও সম্মাননা। পেয়েছেন ১৪০৬ সালের 'শ্রেষ্ঠ কবি' এবং ১৪১৮ সালের 'শ্রেষ্ঠ গল্পকার'-এর শিরোপা।
                     




  🔴 লক্ষ্মণ দাস ঠাকুরা 🔸সুকান্তপল্লী,পূর্ব বর্ধমান🔸




🔰ধীরে ধীরে তোর মুখ ভুলে যাচ্ছি।
রাত আমার পাশে শোয়
ঘুম জাগে।
চাঁদের পাহারা 
নক্ষত্রেরা ভয়ে মিটি মিটি।
ক্ষিদের আগুনে হাত সেঁকে সকাল।
পাখির চুম্বন ঠোঁটে রক্ত ঝরে।
ফোর-জি ঘোরায় ঘড়ির কাঁটা।
স্বপন  গেছে পরবাসে।
শূন্যতার গাঢ় অন্ধকার  
ঘিরে ধরে ' স্মৃতি  সত্তা ভবিষ্যৎ' । 
         
         
          🔰বিষ্ণু চক্রবর্তী🔸করিমগঞ্জ,আসাম🔸


🌈 সকাল সকাল ঘুম ভাঙতো
তোর মিষ্টি গলা শুনে,
নয়তো ঝগড়া গুলো
যেন 'প্রভাত সঙ্গীত'।
আজকাল সেটা হয়না,
হবে কোনো'ও দিন,
সে আশা করতে পারি না আর ।
আজ হঠাৎ করেই তুই
ফোন করলি,সেই সকাল বেলা ।
"বৃষ্টি হচ্ছে"। এতক্ষণে শুকনো
এদিকটা ভিজলো -ততোক্ষণে ।
জানাইনি। আসলে জানাতে
চাইনা আমি,আমার সবকিছুতেই
তোর মিশে থাকা -তোর না জানা
থাক না হয় !
শরীর খারাপে তোর যত্ন'টা তোলা থাক,
অনুভূতিগুলো ঢাকা থাক পাঁজরের হাড়ে।
তুই ভেবে যা তোকে কেউ ভালোবাসে না,
অপরপক্ষ সাজাক তোর জন্য
ভালোবাসার শেষ নিভৃতে ।
না,এদিকে আর বৃষ্টি হয়না ।

🔸অণুগল্প:


     📚পুলক কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়🔹পূর্ব বর্ধমান🔹



🔰অনেকক্ষণ হয়ে গেল,কই,ছেলে বা বউমা কেউই তো এখনও ফিরল না। মনটা ভীষণ 'কু' গাইছে। হাবিজাবি কত কী দুশ্চিন্তা ! রাস্তাঘাটে বিপদ-আপদের তো শেষ নেই। "তুমি এখানেই বসে থাকো,আমরা একটু পরেই আসছি" বলে সেই যে গেল,ব্যস্ !
   ক'দিন ধরে সবকিছুই কেমন অন্যরকম লাগছে।
যে-নাতি মোটেই তেমন কাছে ঘেঁষত না সে যেন হঠাৎ ভীষণ ন্যাওটা হয়ে উঠল। ছেলে পাশে বসে গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়,"জ্বরটা ছেড়েছে তো মা ? তুমি কিন্তু বড্ড  অনিয়ম করো।" বউমার গলা থেকেও যেন মধু ঝরছে, "কতদিন ধরে বলছি,তবু আমার বাপের বাড়িটা আপনি দেখলেনই না। আর কোনও কথা শুনব না,এবার নিয়ে যাবই।"
 
ওরা সবকিছু বেশ গুছিয়ে-টুছিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখানে বসতে বলে কোথায় যে গেল ! এই জায়গাটাও কেমন যেন অন্যরকম। কপালে ভাঁজ নিয়ে মা অবাক।
      তাঁরই মতো একজন পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন,মুখের হাসিটাও বেশ চওড়া,"আপনাকে রেখে গেল বুঝি !.... ভালই হয়েছে।....আমরা এতগুলো বুড়োবুড়ি এখানে তো দিব্যি রয়েছি ।"
             


       🔰অন্তরা দাঁ 💢কাঁটাপুকুর,পূর্ব বর্ধমান💢



🔷 ওরা হেঁটেছিল লাইন বরাবর 
যখন ফুরিয়ে এসেছে দৈনিক রসদ
নগদ টাকা'ও প্রায় নেই 
ভুখা মরে যাওয়ার চেয়ে... 
মরিয়া হয়ে হেঁটেছিল ওরা... 

আর কিছুটা যেতে পারলেই পাওয়া যাবে ফিরতি ট্রেন 
পরিবার-পরিজন,গরম ভাতেরগন্ধ 
নোলক-পরা প্রিয় মুখ 
কচি হাতে তেষ্টা'র জল ! 

ঘুম নয়,অবসাদ হেমলক হয়ে 
আলকাতরা'র মতো চুঁইয়ে নেমেছিল 
চেতনায়...শান্তি ! 

অন্ধ,কালো মালগাড়ি ছুঁয়ে গেলে 

কাটা পড়ে রইলো হাঁটুভর ধুলো-পা,হাত
যে আঙুল ছুঁয়েছিল শেষবার 
সন্তানের মুখ, 
জীবনে'র গ্লানি মাখা নাড়িভুড়ি
সস্তা চাউমিনের মতো, 
বিস্বাদ পোড়া রুটি ক'খানা,সঞ্চয়। 

পায়ে হাঁটা গরীব মানুষের জন্য 
আমাদের মাথাব্যথা ছিল না কখনো

পাঁচলাখী লাশগুলো গাড়ি চেপে ফিরবে এবার !











                                 অঙ্কনে-তানিয়া ইসলাম


   🔵রঞ্জুলা দাশ🔸সৈঁতা🔸তারকেশ্বর🔸  হুগলী 


🔰ভালো নেই ।
আশৈশব অজানার পথে হাঁটতে হাঁটতে একটা সাঁকো পেরোলাম।
মনে হল,দিগন্ত ছুঁই ছুঁই এক কলরব উঠবে ।
দেখলাম,বেলাশেষে পাখিগুলো বাড়ি ফিরে গেল।
থমথমে মুখে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি,
ধ্রুবতারা স্পষ্ট ।
তারা গোনা শুরু করলাম ।
যুবতীদের গায়ে বোধহয়,হারানো বিজ্ঞপ্তি সাঁটা থাকে,
টেনে হিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলে পোশাক ।
মৃত্যুদূতের মতো এগোতে থাকে ।
কিন্তু,পথ আটকে যায়-প্রশ্নচিহ্নে ।
ভিড় করে এসে জোনাকির দল,
দিগন্তের কাছে সমর্পণ ।
চোখ বুজে আসতেই -
ঠিকরে পড়ে আলো,
ইচ্ছে হ'ল বিশ্বাস করতে-
ভালো আছি,ভালো থাকবো ।  


          📚বিভাস সাহা🔸নরউইচ,ইংল্যান্ড🔸

🌿 আজ বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল,
হয়েওছে নিশ্চয়
কারণ চরাচর আমার মতই ক্ষত বিক্ষত।
উপড়ে তুলে ফেলা মণি দুটো চোখের মধ্যে ঢুকিয়ে
আমি আকাশের দিকে তাকালাম,
শেষ রাত্রির আকাশ
প্রথম দেখেছিলাম সেই দশ বছর বয়সে
মাকে দাহ করে ফেরার সময়।

রাত কত হইল? উত্তর মেলে না…
এই একটা প্রশ্ন আমাকে তছনছ করে
পঁচিশটা বসন্ত কেড়ে নিয়ে গেল।

এখন আমি সাদা রুমাল উড়িয়ে
যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করব
আর এক মিনিটের নীরবতা।

আমার গায়ের উপর দিয়ে একটা ব্যাঙ লাফিয়ে গেল
একটা অবাক খরগোশ--
আর সাপের হিসহিসানির মধ্যে
পরিষ্কার শুনতে পেলাম এক মানবী কণ্ঠস্বর
‘পথিক,তুমি কি পথ হারাইয়াছো?



🌿 যারা যুদ্ধে যায় তাদের কেউ কেউ ফিরে আসে
আর যারা ফেরে না তারা অপেক্ষা করে
আমাদের জন্যে
ধানের ক্ষেতের পাশে
অমল অঘ্রাণের দিকে চেয়ে।
তারপর আকাশ পিদিম পুড়ে পুড়ে শেষ হয়ে গেলে
তাদের অপেক্ষমান চোখ একদিন
শকুনের ঠোঁট থেকে খসে পড়ে
আমাদের নিভৃত দুপুরে । 

    🔵 অভিজিৎ রায়🔺বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ🔺 



📗 আত্মহত্যা ও খুনের গোপন বিবাহ
বহুদিন পার করে সাঁকোর উপরে
হানিমুনে এসে দেখে স্মৃতিদের দাহ
এইখানে করে তারা ফিরেছিল ঘরে।

আত্মহত্যা ও খুনের চুক্তি দ্বিপাক্ষিক,
সই করা কাগজের চুক্তি ভঙ্গ হলে
হানিমুনে এসে চাঁদ লজ্জা ছুঁড়ে দিক
নগ্ন হয়ে শুয়ে থাক নদীটার কোলে !

চাঁদ খুন করে সেই চেনা নদীজল,
আত্মহত্যা করে সাঁকো নিজস্ব ইচ্ছায়
বিবাহের চুক্তি শেষে কার কী সম্বল
আত্মহত্যা আর খুন সব জানতে চায়।

আত্মহত্যা আর খুন লিভ টুগেদারে
ভালবাসা বেঁচে থাকে ভয় করা ধারে । 

                  📚পরাণ মাঝি ◼ কলকাতা ◼



🔵 জয়ের কাছাকাছি আমরা
দেখা হবে আবার আমাদের
রাতের ঘুম ভেঙে গেলে লাগে বড় একাকী

যত গড়িয়ে যায় সময়
আঁধার ফিকে হয়ে যায়
আলোর ইশারা ডাকে
পাখিদের সমান্তরালে ব্যালকনির গাছগুলো করে ডাকাডাকি

মাঝে মাঝে পোষ্যের সামনে গিয়ে দাঁড়াই
দু'হাত বাড়িয়েও দেয়
না ছুঁলে বেমালুম বিমুখও হয়

আরো কতকিছু পড়ে মনে
কানামাছি সেজে নিসর্গ চিত্রে
স্থির হয়ে থাকি নিজের চোখ থেকে নিজেই উপচে পড়ি

রহস্যের জাল কেটে বিজয়ের কবিতা লিখব বলে
ব্যথার শব্দ গুলো সাদা খাতার পাতায় দিই ঢেলে

মানুষের পতন সমূহ অভিশাপ
জয়ের পারদ উর্দ্ধগামী
ভেসে যেতে যেতে খড়কুটোর মতো শব্দগুলো
হাত বাড়ালে
তোমাকে অন্ধকারেও ভালোবেসে ফেলি

আর চিৎকার করে বলে উঠি
জয়ের কাছাকাছি আমরা
দেখা হবে আবার আমাদের



    📘ড: তৃপ্তি কুন্ডু রায়🔹কালীপুর, আরামবাগ🔹



🔰ধানসিঁড়ি নদীটির মতো তোমার শান্ত মুখ,
শ্রাবস্তীর কোনো কারুকার্য দেখিনিতো।
নয়নজুলির মতো তোমার আধবোজা চোখ,
কোনো পাখির নীড় তোমার দুচোখে খুঁজিনি তো।
আমি তো সেই কালান্তরের পথে হাঁটা পথক্লান্ত পথিক,
প্রবল তৃষ্ণায় আঁজলা ভরে জল পান করার জন্য
নদীটির কাছে আসি,নদীটিকে ভালোবাসি।
নদীওতো গরবিনী  হয়ে বয়ে যায়,
বলে যায় কত কথা, কথকতা।
তারপর শান্ত জলের গভীর অবগাহনে
দিশাহীন মানুষ‌ও ভুলে যায় তৃষা।
চিরকাল প্রেমিকের হৃদয়ের ক‍্যানভাসে
জল রঙে,তেল রঙে,নানা রঙে আঁকা থাকে বনলতা
পটচিত্র যেন কবেকার--
এক চিরন্তনী প্রেমিকা-প্রতিমা।
তার শ্বাস-প্রশ্বাসের উষ্ণ বাতাস ছুঁইনিতো কোনদিন।
সে শুধু জানে  দিতে প্রগাঢ় এক শান্তির আশ্রয়।
রক্ত মাংসের ঘাত-প্রতিঘাতে রেসের ঘোড়ার মতো
টগবগে মানুষের জীবনে শুধু শান্তি নয়,
আরো আরো আরো কিছু বোধ কাজ করে।
শুধু বনলতা নয়,পুরুষের হৃদয়ে
জেগে থাকে চোরাবালি প্রেম।
ইশারায় ডাক দেয় গোপনের চিলেকোঠায়
ঘুঘু ডাকা নিঝুম দুপুর।
কিংবা বিবর্ণ-বিকেলের ভাঙাচোরা খোসে যাওয়া পলেস্তারার মন্দিরের কারুকাজের মতো
তার হলুদ পাতার মুখ-
কিছু বলে নতুবা বলতে চায় চাউনিতে।
সে তো আমাদের কোনো বনলতা নয়।
অটো কিংবা বাসের স্ট‍্যান্ডে,রাতের স্টেশনে,
জাহাজের ডেকের এক কোণে
লাইট-হাউসের মতো আলো জ্বেলে রাখে--
সব অন্ধকারের বুক সাঁতরে সাঁতরে
অন্য এক পার্থিব ভোর দেখাবে বলে।
ক্ষতবিক্ষত ঘামে ভেজা মানুষের বুকটিতে
গভীর ঘুমেও জেগে থাকে পৃথিবীর মানুষীরা-
পার্থিব প্রশ্বাসে-বিশ্বাসে ।

 📌 তানিয়া ইসলাম 🔹ক্ষুদিরাম পল্লী,পূর্ব বর্ধমান🔹



🌈একটি পরশ জুড়ে হৃদয়-অলঙ্কার,
একটি পরশ লেগে শিহরিত দেহ অঙ্গিকার।
ঝড়ে যাওয়া পাতায় জাগে অহংকার,
নীরব চিঠিরা আঘাতহানে;স্মৃতিরা তাসের ঘর।
একটি পরশই আলো করে রাখে বাঁকা সিঁথে,
একটি পরশেই কলঙ্ক ঘুচে,জ্যোৎস্না আসে।
বালুতটে যত ছিল উত্তাপ,
ঢেউ এর ছোঁয়া লেগে ধুয়ে যাচ্ছে পাপ।।



               🌈মীনাক্ষি ঘোষ 🔹খারাদি,পুনে🔹


📙আমায় যেন ডাকছে কারা হিমেল হাওয়ায়
বিবর্ণ রঙ,নিঝুম পথে আঁধার কালো
ভরদুপুরেও
কারণটা কি?
দিন কেটে যায়,রাত্রি আসে রাতচরা কোন
পাখির ডানায়
অন্ধকারে একটু আলো আজ দিবি তুই,
মন- জোনাকি?

শুকনো পাতায় ঘাসে ঘাসে রোদ্দুর মন
গালচে পাতে,বসবি নাকি
আয় না,সময় !
স্মৃতির কাঁটা খুঁজছে ঘড়ির উল্টো কোণ
বলছে ডেকে
ফিরতে পারি,ফেরাও যদি
অকুতোভয় । 

📙নবকুমার পোদ্দার🔸কয়াডাঙা🔸কল্যাণগড়🔸
উত্তর ২৪ পরগণা 



🔰দেখা হলে অপমান হব কিনা জানা নেই।
প্রত্যেক অপমানের পথে অদৃশ্য ভাসান থাকে

হাঁটতে শেখার আদলে
সন্তর্পণে সেখানে ঢাক ফেলতে হয়।

যার হৃদয়ে আয়ুর্বেদ প্রথা
সেইতো  জানে সোনালি সফর

শ্বাস নিতে নিতে অন্ধকার ঝরে
ভাগ্যবিধাতা সব সময় কাছে থাকে না।

তবু জড়িবুটি দিয়েই
ঘোড়াকে পুনরায় কপি পেস্ট করতে হয়।

🔹কবি পরিচিতি: 

জন্ম ৫ ই সেপ্টেম্বর। পেশায় ফিজিওথেরাপিস্ট।
'দেশ' 'কৃত্তিবাস' 'লং জার্ণি' 'সাহিত্যের বেলাভূমি' 'আজকের সম্পূর্ণা 'পদ্য' 'কবিয়াল' 'শুধু বিঘে দুই' 'মধ্যবর্তী' 'যুগসাগ্নিক ' 'বৈঠকী আড্ডা' সহ নানান বানিজ্যিক ও লিটল ম্যাগ পত্র পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
পেয়েছেন যুগসাগ্নিক পত্রিকার পক্ষ থেকে
প্রঁবোধ গুপ্ত স্মৃতি একুশে সম্মাননা।
সাতকাহনা সম্মাননা,বাংলা ক্যানভাস সম্মাননা ।
প্রকাশিত কবিতার বই চারটি। সদ্য প্রকাশিত
'দশভরির ফ্লাইওভার' বইটি ইতিমধ্যেই পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

📙তপন জ্যোতি চৌধুরী ▶কালীবাজার,পূর্ব বর্ধমান◀



🔥অন্যায় আর ব্যভিচারের সমুদ্রে
নিমজ্জিত মানুষগুলো
চিৎকার করে প্রতিমুহূর্তে
ন্যায়ের বুলি আওড়াচ্ছে !
কন্ঠরুদ্ধ বঞ্চিত মানুষের দল
অবাক দৃষ্টিতে জরিপ করছে-
অন্যায় আর ব্যভিচারের পাহাড়
ছাড়িয়ে গেছে হিমালয়ের উচ্চতা !
এ জ্বলন্ত ছবি জাঁকিয়ে বসেছে-
ক্ষুদ্র গৃহকোণ থেকে বৃহৎ রাষ্ট্রে
সমগ্র পৃথিবীতে !

বিশ্বযুদ্ধ কেউ চায়না-
তবুও হয়তো এই পাপের অবসান
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধেই !

 

📌গোবিন্দ ব্যানার্জী 🔹উত্তর ২৪পরগণা,বারাকপুর🔹



🔰একটা দরজা হাতড়ে বেড়াচ্ছি রাত জেগে
অন্ধকার একটা প্রবল খাদ
সেখানে সূর্য নাচে দিনভর
ঘুনশি বাঁধা শিশুর লিঙ্গ বিচার করে
হাই তুলে ঘুমিয়ে পড়ে মা
একটা খুন হয়ে যাওয়া স্বপ্ন দেখে খাদে শুয়ে
আমার কাছে দু'টো রুটি আছে এখন
একটা ঘোরতর আমার
অন্যটা মায়ের, খাদের অন্ধকারে শুয়ে আছে
যার খুন হয়ে যাওয়া জন্মকন্যা -
আমি মায়ের অজাত পুত্র
আমার জন্যই খুন হতে হয়েছে দিদিকে -

🔺সাহানা আফরোজ ♠ পার্কাসরোড,পূর্ব বর্ধমান ♠


🔰সবুজের মাঝে আঁকা বাঁকা লাল মাটির পথ,
নদী পেরিয়ে দেখা যায় টালির ছাদের ছোট ছোট ঘর,
মাটির দেওয়াল ও স্নিগ্ধ ছায়ায় ঘেরা চারিপাশ,
উঠোনের দুই পাশে নুয়ে পড়া সবুজ ঘাস
শহর থেকে অনেক দূরেএএ....
বাংলার প্রাণ,বাংলার মাটি,আমাদের এই গ্রাম,
কি নাই সেখানে ?
আছে পুকুর,দিন-রাত বয়ে যাওয়া ছোট,বড় নদী,খাল-বিল,
আছে শান্তি,আছে ভালোবাসা,
হিংসা বিবাদ ভুলে আছে সব আত্মীয় পরস্পর,
মিলেমিশে আছে সবাই,কেউ নয় সেখানে পর,
যতো দেখি মুগ্ধ হয়ে জুড়াই নয়ন,
এ'যে আমার গ্রাম,আমার বাংলার মাটি,আমার প্রাণ,
দিগন্ত জুড়ে শুধুই ক্ষেত আর ক্ষেত,সবুজের ভালোবাসা,
মিশে আছে আমার শরীরের কণায় কণায়,
সৌন্দর্য‍্যে ভরা মন ভোলানো প্রকৃতি,মোদের জন্মস্থান ।
জানিনা কবে,কখন হারিয়ে যাবো,হয়তো কোনও একদিন-
গ্রাম থেকে দূর,হাজার মানুষের ভীড়ে,
এই চেনা মেঠো পথ,অজানা অচেনা হয়ে রবে,
হয়তো নিজেকে আর পাবো না খুঁজে সবুজের এই মাঝে,
আমার গ্রাম,আমার প্রাণ,সবুজের বুকে আঁকা বাংলার এই মাটি,
তোমাকে ছাড়া আমি,কেমন করে বাঁচি ?

 

📌সুজিত কুমার মালিক🔹মইখণ্ড,আরামবাগ🔹  


🌈জানালার শার্শিতে লেপ্টে থাকা কুয়াশা
উঁকি দিয়ে অনুভব করে শরীরের ওম !
পদদলিত দুর্বারা কি কোনোদিন ভাবে 
নন ব্রেসিডেন্ট অফ লক্যালিটি নিয়ে !
নগ্ন বুকের লীনতাপ ভুলে
মাথায় শুধু পেঁয়াজের ঝাঁঝ
এই ভরা শীতে !
উদাসী বিকালে উপোষী মন
বাসায় ফেরা পাখির মাঝে
খুঁজে চলেছে উত্তর।
কিছু 'বাহাদুর' শাহ-রা
আখের গোছায় পরবর্তী প্রজন্মের।
বোকা আলি,
চালাক কালি
জবাই করে,বলি দেয়
অখণ্ডতার স্বপ্ন।
কুয়াশার চাদর উপেক্ষা করে
অন্ধকার ল্যাম্পপোস্টের নীচে
উৎসুক চোখে পায়চারি করে
অপেক্ষারত মাঝবয়সী লোকটা
শুধু তোমার জন্য !


🌈রা জী ব   মৌ  লি  ক🔸মিঠাপুর,নদিয়া🔸



🔰শোকের সিঁড়ি বেয়ে উঠছি আর ভাবছি
এ জীবন সমান্তরাল নয়
সুক্তোর মতো আমিও আহার হয়ে উঠি

পোড়ামাটি দানাবেঁধে আছে জঠরে
ওর জল চাই!
এ হাত গঙ্গার মতো পবিত্র হয়ে ওঠে
ভিজিয়ে দেয় তুলসীবন
জন্মদাতার মুখ

এ বুক শোকের ধাম নয়
তবু বিরহ এলে কোল পেতে দিই
নাসপাতি বনে বেজে ওঠে গান

     

        📌 মোনালিসা নায়েক🔹আরামবাগ🔹




🔰 অমাবস্যার অন্ধকারে নিস্তব্ধ ভুবন 
নক্ষত্র বিছানায়
তখন অব্যক্ত কথারা ঘাম হয়ে ফুটে ওঠে,
দেওয়াল ঘড়ির স্পন্দন প্রানের শিকড়ে,
স্মৃতিকোষে জমে থাকা বিষাদী ছাপ–
আঁধার ঘনিয়ে নির্জনতায় মন্দবাসা
কক্ষপথ বদলে গভীর প্রত্যয়ে নবসম্ভাবনার সামিয়ানায়।
পরিযায়ী পাখিরা মেঘমুলুকে পাড়ি দেয়
মেঘ না ছুঁয়েই
আত্মিক বন্ধনীতে তবুও তারা আবদ্ধ,
সঙ্গমসুখের নেশাতুর কাহিনী থাক না-
অপরিচিত শব্দের বিন্যাসে সাজিয়ে রাখি সম্পর্ক।


            🔰 মিনতি গোস্বামী🔸পূর্ব বর্ধমান🔸


🌈"সাতসকালে ফোন কেন? রাতে ঘুম হয়নি?"
"না হয়নি,কাল খবরটা শুনলি? আবার একুশ দিন লকডাউন বাড়িয়ে দিল।হচ্ছেটা কি বলতো?এইভাবে আমরা কতদিন অপেক্ষা করবো?তোর সঙ্গে কতদিন দেখা হয়নি, কতদিন তোর কোলে মাথা রেখে শুইনি, ভাবতে পারছিস?
এই তুই কিছু বলছিসনা কেন?"
"তোর বলাটা শেষ হোক।"
"আচ্ছা শুভ,সত্যি করে বলতো,তুই আমাকে আদৌ ভালোবাসিস?আমি যে এত চিন্তা করে পাগল হয়ে যাচ্ছি,তোর কোন তাপ উত্তাপ নেই।"
"লকডাউনে সারা পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ছে, অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যাচ্ছে,আর আমি কোথা থেকে উত্তাপ পাবো বল ?"
"তার মানে? আমার জন্য কোন উত্তাপ ফিল করিসনা? সত্যি তুই আমাকে ভালোবাসিস?"
"জানিনা যে পর্ণা।"
"তার মানে!এই যে পাঁচ বছর ধরে আমাদের মেলামেশা,এত কথা,এর পরেও বলছিস জানিনা!
তোর মতলবটা কি?'
"পর্ণা , বললাম তো,জানিনা।"
"তাহলে আমাদের ভালোবাসা?"
"এটা একটা অভ্যাস পর্ণা।"
" তাই,ভালোবাসা একটা অভ্যাস?"
"হ‍্যাঁ, আমার তাই মনে হয়েছে।খেলা, গান, কবিতা লেখা, রাজনীতির মত এটাও একটা অভ্যাস।চর্চা না থাকলে চাপা পড়ে যায়।"
"ও বুঝেছি, তার মানে আমি তোর কাছে নেই বলে অভ‍্যাসটা চলে গেছে।তুই আমাকে আর ভালোবাসিস না।"
"কে বলেছে?দিনে তো বার দশেক ফোন করিস পর্ণা।ভিডিও করে দেখছিস কোথায় আছি, কি করছি।তাতেও কি তোর মনে হচ্ছে একথা?"
"অর্ণব তুই জানিস, আমি তোকে ছাড়া বাঁচবোনা,
আমাকে শেষে আত্মহত্যা করতে হবে।"
"আমি জানি পর্ণা, আমি না থাকলেও তুই বেঁচে থাকবি এবং আত্মহত্যা করবিনা।কিছুদিন পর আবার নতুন জীবনে প্রবেশ করবি।"
"ছিঃ,তুই কি রে? বলতে পারলি এসব?"
"এটাই বাস্তব পর্ণা, আমি বলতে পারি বলে আমার প্রতি এত সন্দেহ তোর।আসলে তুই এসব বলিস আমাকে কতটা ভালোবাসিস বোঝানোর জন্য।কিন্তু সত্যি কি এসবের দ্বারা ভালোবাসা বোঝানো যায়? আমার তো তোর সঙ্গ একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে।তোর কথায় ছুটে যাই,গল্প করি, জীবনের সব কিছু ভাগ করে নিই।"
"এটা অভ‍্যাস? তুই ভালোবাসার মানেই  বুঝিসনা।"
"বুঝি পর্ণা,বুঝি। আমি তো আমার মাকে খুব ভালোবাসতাম ।সেই মা যখন আমাকে ছেড়ে চলে গেল, খুউব কষ্ট হয়েছিল।জন্ম থেকে গড়ে ওঠা অভ‍্যাস, মায়ের সঙ্গ।খাবার সময় ডাইনিং টেবিলে বসলেই মায়ের ভাত বাড়ার হাতটা মনে পড়তো।মায়ের ছবির সামনে দাঁড়ালে দুচোখ জলে ভরে উঠতো,কিন্তু দেখ, এখন কেমন অভ‍্যাসটা
পাল্টে নিয়েছি।এখনো ঘরে ফিরি,এখনো খাই, শুধু মায়ের প্রতি ভালোবাসাটা কেমন যেন আবছা হয়ে যাচ্ছে মনে হয়।"
"ছিঃ, তুই ভালোবাসার এভাবে ব‍্যাখ‍্যা করলি?"
"কেন পর্ণা! তোকে তো পাঁচ বছর চিনি।আর মায়ের সঙ্গে যাপন তো কুড়িটা বছরের।তার প্রতি ভালোবাসাটা কি কম ছিল?"
"আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না অর্ণব।তোর  মতলবটা কি খোলসা করতো?"
"পর্ণা, আবেগে ভেসে যখন আজেবাজে কথা বলিস, উল্টোদিকের মানুষটার কথা একবার ভাবিসনা কেন? তুই ভাবিস এই কথাগুলো বলাই ভালোবাসা।আমি মনে করি যাপনের অভ‍্যাসটাকে যত্ন করাই ভালোবাসা।
মুখে না বললেও ভালোবাসা ঠিকই থাকে।
এই যেমন এখন গোলাপী ঠোঁট দুটো কামড়ে তোর বাজে কথা বলার শাস্তি দিচ্ছি,বল পাগলি,কেমন লাগছে?"
"অসভ্য! তুই হয়তো ঠিক।আমি কোনদিন তোর মতো করে ভাবতে পারিনা রে অর্ণব।"
"ভাববি না।ভালোবাসলে ভাবনা ডানা মেলে উড়ে যায়।"


       📌 শুক্লা মুখার্জী🔹পূর্ব বর্ধমান🔹




⛣ এ জীবনের  যাত্রাপথ  ঠিক  কতখানি ?
জানি অপরিমেয় সে যে..
মাটিতে  প্রথম  পদক্ষেপের সাথে  শুরু  হয়ে,
পুণরায় মাটিতে  বিলীন  হওয়া পর্যন্ত
চলতেই থাকে  সে যাত্রাপথ..
পৃথিবীর আলো একদিন দেখেছি যখন,
 আবার একদিন সবকিছু আঁধারে যাবে ঢেকে..
এই আলো -আঁধারির খেলায়
বড় সাধ জাগে..
মাটিতে একটু ছাপ রেখে যাওয়ার..

ছোট চারা পৃথিবীর প্রাণসুধা
আকন্ঠ পান করে,
একদিন  মহীরুহে পরিণত হয়..
নামগোত্রহীন  এক  পথে চলতে চলতে
থমকে দাঁড়াতে হয় সে মহীরুহের কাছে..
সসসম্ভ্রমে...নতমস্তকে...

মনের সুপ্ত বাসনা..
হব ওই মহীরুহের মত..
লজ্জার পরিচয়,  বঞ্চনার যাত্রাপথ
সব পেরিয়ে নূব্জ শরীর
আবার হবে ঋজু...দৃঢ়....

জানি,কঠিন সে পথ..
তবুও..
আলো -আঁধারির এ যাত্রাপথে
বড় সাধ  জাগে..
মাটিতে একটু ছাপ রেখে যাওয়ার..। ।


🖊অনুষ্টুপ পাল🔸আরামবাগ, হুগলি🔸


🔹সূর্য গ্রহণের দিন
কালো রঙ এর চার দেওয়ালের মধ্যে
একই কালো একটু সুতো
কালো সেই সুতোয়
কালো একটা বৃত্ত
কালো সেই বৃত্তে
কালো কিছু শরীর
কালো সেই শরীর মহাশূন্য ।

নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ হোম

ব্লগ সংরক্ষাণাগার

  • আগস্ট (3)
  • জুলাই (22)
  • জুন (8)
  • নভেম্বর (15)
  • অক্টোবর (5)
  • সেপ্টেম্বর (81)
  • আগস্ট (66)
  • জুলাই (55)
  • জুন (56)
  • মে (57)
  • এপ্রিল (46)
  • মার্চ (15)
  • জানুয়ারি (14)
  • ডিসেম্বর (73)
  • নভেম্বর (103)
  • অক্টোবর (97)
  • সেপ্টেম্বর (101)
  • আগস্ট (120)
  • জুলাই (88)
  • জুন (76)
  • মে (63)
  • এপ্রিল (11)

🔴বিজ্ঞপ্তি:

পাঁচ মাসের বিরতি কাটিয়ে আবার ও ফিরছি আমরা। খুব শীগ্রই আসছে আমাদের প্রত্যাবর্তন সংখ্যা।

অনুসরণ করুণ

এক মাসের সর্বাধিক পঠিত পোস্টগুলি:

  • শান্তনু গুড়িয়ার কবিতা
  • ফেরারি মন ~ অসীম বিশ্বাসের কবিতা
  • তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা
  • গেরস্থালি ~ অনুশ্রী যশের কবিতা
  • শ্রমনিবিড় ~ সুমনা ভট্টাচার্য্য'র কবিতা
  • সৌগত রাণা কবিয়ালের কবিতা
  • উষ্ণতা ~ পিঙ্কি ঘোষের কবিতা
  • প্রচ্ছদ, সূচিপত্র ও সম্পাদকীয়
  • প্রেমাংশু শ্রাবণের কবিতা
  • ফিরে ফিরে আসা ~ অন্তরা দাঁ এর মুক্তগদ্য

বিষয়সমূহ

  • Poetry speaks 2
  • অণু কথারা 21
  • আবার গল্পের দেশে 8
  • উৎসব সংখ্যা ১৪২৭ 90
  • একুশে কবিতা প্রতিযোগিতা ২০২১ 22
  • এবং নিবন্ধ 3
  • কবিতা যাপন 170
  • কবিতার দখিনা দুয়ার 35
  • কিশলয় সংখ্যা ১৪২৭ 67
  • খোলা চিঠিদের ডাকবাক্স 1
  • গল্পের দেশে 17
  • ছড়ার ভুবন 7
  • জমকালো রবিবার ২ 29
  • জমকালো রবিবার সংখ্যা ১ 21
  • জমকালো রবিবার ৩ 49
  • জমকালো রবিবার ৪ 56
  • জমকালো রবিবার ৫ 28
  • জমকালো রবিবার ৬ 38
  • দৈনিক কবিতা যাপন 19
  • দৈনিক গল্পের দেশে 2
  • দৈনিক প্রবন্ধমালা 1
  • ধারাবাহিক উপন্যাস 3
  • ধারাবাহিক স্মৃতি আলেখ্য 2
  • পোয়েট্রি স্পিকস 5
  • প্রতিদিনের সংখ্যা 218
  • প্রত্যাবর্তন সংখ্যা 33
  • প্রবন্ধমালা 8
  • বিশেষ ভ্রমণ সংখ্যা 10
  • বিশেষ সংখ্যা: আমার প্রিয় শিক্ষক 33
  • বিশেষ সংখ্যা: স্বাধীনতা ও যুবসমাজ 10
  • ভ্রমণ ডায়েরি 1
  • মুক্তগদ্যের কথামালা 5
  • রম্যরচনা 2
  • শীত সংখ্যা ~ ১৪২৭ 60

Advertisement

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.

মোট পাঠক সংখ্যা

লেখা পাঠাবার নিয়মাবলী:

১. শুধুমাত্র কবিতা, মুক্তগদ্য অথবা অণুগল্প পাঠাবেন। ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং অন্যান্য বিষয়ক লেখা সম্পূর্ণ আমন্ত্রিত। ২. লাইনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। ৩. লেখা মেইল বডিতে টাইপ করে পাঠাবেন। ৪. লেখা মৌলিক ও অপ্রকাশিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। অন্য কোনো ব্লগ, ওয়েবজিন অথবা প্রিন্টিং মিডিয়ায় প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ৫. মেইলে আপনার লেখাটি সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত, কথাটি উল্লেখ করবেন। ৬. লেখার সাথে আবশ্যিক ভাবে এক কপি ছবি ও সংক্ষিপ্ত ঠিকানা পাঠাবেন।  ৭. লেখা নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হবে। এক মাসের মধ্যে কোনো উত্তর না এলে লেখাটি অমনোনীত ধরে নিতে হবে। ৮. আপনার লেখাটি প্রকাশ পেলে তার লিঙ্ক শেয়ার করাটা আপনার আবশ্যিক কর্তব্য। আশাকরি কথাটি আপনারা মেনে চলবেন। আমাদের মেইল- hridspondonmag@gmail.com
blogger-disqus-facebook

শান্তনু শ্রেষ্ঠা, সম্পাদক

আমার ফটো
পূর্ব বর্ধমান, India
আমার সম্পূর্ণ প্রোফাইল দেখুন

সাম্প্রতিক প্রশংসিত লেখা:

তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা

তোয়াঞ্জলী ॥ সায়নের কবিতা

নিমাই জানার কবিতা

নিমাই জানার কবিতা

পার্থ প্রতিম পালের অণুগল্প

পার্থ প্রতিম পালের অণুগল্প

๑ জন্মদিন ๑

๑ জন্মদিন ๑

আঁচড় ~ শর্মিষ্ঠা ঘোষের কবিতা

আঁচড় ~ শর্মিষ্ঠা ঘোষের কবিতা

হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন

© হৃদস্পন্দন ম্যাগাজিন। শান্তনু শ্রেষ্ঠা কর্তৃৃক পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত থেকে প্রকাশিত।

Designed by OddThemes | Distributed by Gooyaabi Templates