🔸অণুগল্প:
๑মিনাক্ষি ঘোষ🔹খারাদি, পুনে 🔹

📘সোমঋতার আজ অফিস থেকে বেরোতে বেশ অনেকটা দেরীই হয়ে গেল। লিফটে নামতে নামতে মনে হলো রোহন তো এখনো ফোন করলোনা। ওহ্হো আরে মিটিংয়ের পরে মোবাইলের সুইচটাইতো অন করা হয়নি। আজকাল এই এক জ্বালা হয়েছে। নির্ঘাৎ রোহন ফোন করেছিল। তবে ওয়েট নিশ্চয়ই করবে পার্কিংয়ে। ছুটির পর ঘন্টাখানেকই মাত্র হয়েছে। আজকের মিটিংটার কথা ওকে তো জানানোও হয়নি আসলে মিঃ অসওয়াল উইদাউট এনি নোটিস মিটিংটা সেট করলেন । সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই এগোলো পার্কিংয়ের দিকে। খুব বেশীএকটা গাড়ী নেই তবু তার মধ্যেই চোখ চালিয়ে খুঁজলো হলুদ রঙা ডাটসুনটাকে। উহুঁ এদিকেতো নেই। আরেকটু এগিয়ে বাঁদিকের পার্কিং স্পেসেও চোখ বোলালো। নাঃ কোথাওতো দেখা যাচ্ছেনা। চলে গেল? ফোন সুইচ অফ দেখলে রিসেপশনেওতো খোঁজ নিতে পারতো। এমনতো আগেও হয়েছে কয়েকবার । নট রিচেবল দেখে রিসেপশনে এসে বসে থেকেছে। কব্জি উল্টে ঘড়ি দেখলো নটা দশ। ওলা বুক করতে গিয়ে দেখলো শেয়ার ক্যাব আছে একটা । বেশীক্ষণ দাঁড়াতে হলোনা। একটা ক্যাব এসে দাঁড়ালো সামনে। গাড়ীর নম্বরটা আর ওটিপিটা মিলিয়ে উঠে পড়লো। এখনো তো ফোন এলোনা রোহনের।আরো একবার কল করলো রোহনকে। নাঃ এবারও সুইচড অফ।
গাড়ীটা রাস্তায় পাশে সাইড করে দাঁড়িয়েছে। একটু এগিয়ে গলির মধ্যে বাড়ী। চোখ দোতলার ব্যালকনির দিকে। ব্যালকনির দরজা খোলা তার মানে রোহন এসে গেছে। অথচ ব্যালকনিতে ওর অপেক্ষায় দাঁড়িয়েও নেই। রোহন কি আজকাল একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে? উদাসীন হয়ে পড়ছে সোমঋতার প্রতি? তিনবছরের প্রেম আর আড়াই বছরের বিবাহিত জীবনে এত তাড়াতাড়ি ক্লান্তি এসে গেল ওর?একবুক উৎকণ্ঠা আর একরাশ অভিমান নিয়ে চাবি ঘুরিয়ে লকটা খুললো সোমঋতা। অন্ধকার ঘর। হাতবাড়িয়ে সুইচবোর্ডের দিকে আলো জ্বালতে যাবে হঠাৎই আলো ঝলমল করে উঠলো ঘরটা। আর পেছনে চির পরিচিত হাতের বাহুবন্ধন। সারা ঘর ফুলে ক্যান্ডেলে সাজানো। সামনের ছোট সেন্টার টেবিলে রাখা বার্থডে কেক। নিজের দিকে টেনে মুখটা সোমঋতার মুখের কাছে নামিয়ে আনতে আনতে ফিসফিস করে বললো রোহন ”হ্যাপি বার্থডে ঋতু ।”
একরাশ জল আর খুশীতে দুই চোখ চিকমিক করে
উঠলো সোমঋতার ।
0 Comments