🔵 পার্থিব ভোর 🔵


    📘ড: তৃপ্তি কুন্ডু রায়🔹কালীপুর, আরামবাগ🔹



🔰ধানসিঁড়ি নদীটির মতো তোমার শান্ত মুখ,
শ্রাবস্তীর কোনো কারুকার্য দেখিনিতো।
নয়নজুলির মতো তোমার আধবোজা চোখ,
কোনো পাখির নীড় তোমার দুচোখে খুঁজিনি তো।
আমি তো সেই কালান্তরের পথে হাঁটা পথক্লান্ত পথিক,
প্রবল তৃষ্ণায় আঁজলা ভরে জল পান করার জন্য
নদীটির কাছে আসি,নদীটিকে ভালোবাসি।
নদীওতো গরবিনী  হয়ে বয়ে যায়,
বলে যায় কত কথা, কথকতা।
তারপর শান্ত জলের গভীর অবগাহনে
দিশাহীন মানুষ‌ও ভুলে যায় তৃষা।
চিরকাল প্রেমিকের হৃদয়ের ক‍্যানভাসে
জল রঙে,তেল রঙে,নানা রঙে আঁকা থাকে বনলতা
পটচিত্র যেন কবেকার--
এক চিরন্তনী প্রেমিকা-প্রতিমা।
তার শ্বাস-প্রশ্বাসের উষ্ণ বাতাস ছুঁইনিতো কোনদিন।
সে শুধু জানে  দিতে প্রগাঢ় এক শান্তির আশ্রয়।
রক্ত মাংসের ঘাত-প্রতিঘাতে রেসের ঘোড়ার মতো
টগবগে মানুষের জীবনে শুধু শান্তি নয়,
আরো আরো আরো কিছু বোধ কাজ করে।
শুধু বনলতা নয়,পুরুষের হৃদয়ে
জেগে থাকে চোরাবালি প্রেম।
ইশারায় ডাক দেয় গোপনের চিলেকোঠায়
ঘুঘু ডাকা নিঝুম দুপুর।
কিংবা বিবর্ণ-বিকেলের ভাঙাচোরা খোসে যাওয়া পলেস্তারার মন্দিরের কারুকাজের মতো
তার হলুদ পাতার মুখ-
কিছু বলে নতুবা বলতে চায় চাউনিতে।
সে তো আমাদের কোনো বনলতা নয়।
অটো কিংবা বাসের স্ট‍্যান্ডে,রাতের স্টেশনে,
জাহাজের ডেকের এক কোণে
লাইট-হাউসের মতো আলো জ্বেলে রাখে--
সব অন্ধকারের বুক সাঁতরে সাঁতরে
অন্য এক পার্থিব ভোর দেখাবে বলে।
ক্ষতবিক্ষত ঘামে ভেজা মানুষের বুকটিতে
গভীর ঘুমেও জেগে থাকে পৃথিবীর মানুষীরা-
পার্থিব প্রশ্বাসে-বিশ্বাসে ।

0 Comments