তানিয়া ইসলামের মুক্তগদ্য



পর্দার এপার ওপার 

আমরা সকলেই জানি পর্দার ওপারে দেখায় রঙিন স্বপ্ন,আর এপারে কঠিন বাস্তব।যে বাস্তব চলে সময়ের সাথে,যেখানে মানুষের অতীত চাইলেও ফিরে আসে না আর ভবিষ্যৎ ইচ্ছে করলেও দেখতে পায় না...
সবই নির্ধারিত হয় বর্তমানে আমাদের কর্মফল দিয়ে।
কিন্তু পর্দার ওপার হলো রামধনুর মত। যেখানে সময় বাঁধা যায়,যেখানে অতীতকে ইচ্ছে মত সাজানো যায়,যেখানে ভবিষ্যৎকে বাস্তবের রূপ দেওয়া যায়,যেখানে ফেলে আসা ভালোবাসা ফিরে পাওয়া সম্ভব।
পর্দার ওপার আসলে আমাদের জীবনের প্রতিবিম্ব।রোমান্স,নাটক,সংসারের প্রতিলিপি,সুখ-দুঃখ, নস্টালজিয়া সব যেন একসুতোয় বাঁধা থাকে।যাতে আমাদের ফ্ল্যাশব্যাক হয়।
সেরা ডিরেক্টর,যা কে বলা যেতেই পারে,"বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ এর সেরা"।সত্যজিৎ রায়।"পথের পাঁচালি" র মত চলচ্চিত্রে অপু-দূর্গা আর গেরীমাটি দিয়ে রচিত তাদের সংসার যেন আর পাঁচটা সংসারের অনুভূতিকে একছাতার নিচে উপস্থাপনা করেছে।"জনঅরণ্য","মহানগর" এর মত চলচ্চিত্র প্রমাণ করে আমাদের জীবনের ছোট্টো একটা 
অধ্যায়কে।
ঋতিক ঘটক পরিচালিত-"সুবর্ণরেখা",''মেঘে ঢাকা তারা"।মৃণাল সেন পরিচালিত "২২শে শ্রাবণ","পদাতিক"।
বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত পরিচালিত "মন্দমেয়ের উপাখ্যান",
"উত্তরা"।এমন অনেক উদাহরন পাই।তাছাড়াও "বেলাশেষে"," অলীক সুখ","এক যে ছিল রাজা" ইত্যাদি...
আদতে চার দেওয়ালের মাঝে কয়েক ঘন্টায় ক্যামেরার রিলে থাকা মানুষের ইমোশন,
আবেগ,অনুভূতি,নাচ,গান,যুদ্ধ,প্রেম-ভালোবাসা, অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের স্বপ্নের এক কোলাজ তৈরী করে।যে রিল এক বৃহৎ জীবন আর সময় কে আটকে রেখে জীবনের বিনোদন সঞ্চালন করে।আর সেই পর্দায় ফুটে ওঠে জীবনের রূপ।
কিন্তু কথায় আছে "বন্যেরা বনে সুন্দর,আর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"....ঠিক তেমনই রিলের এপার আর ওপারের ব্যবধান অনেক।জীবন আদতে খরস্রোতা নদী।সাদা কালো রাঙতায় মোড়া এক বৃহৎ উপহার এই পৃথিবীর।।

গদ্যকার তানিয়া ইসলাম 
ক্ষুদিরামপল্লী, বাহির সর্বমঙ্গলাপাড়া, পূর্ব বর্ধমান   



























0 Comments