শৌভিক চ্যাটার্জী'র শ্রদ্ধার্ঘ্য


এসপি কি নেই আর ! 

স্বর্গের অমরাবতী নগরী ঠিক কতটা দোলাচলে দোদুল্যমান তা বলা মুশকিল!বজ্র তার তেজ কতটাইবা কমিয়ে নিয়ে নিষ্প্রাণ নিস্পন্দিত নিষ্প্রভ অন্ধকারে ডুব  দেয় শোকে,যখন স্বর্গরাজ ইন্দ্রের মহাপতন ঘটে? একথাও কি লেখা আছে পুরাণের সহস্র বছর পুরনো পাতার ছত্রে!তবে রত্ন গর্ভা ভারত মা যে পুত্রহারা শোকের বিষাদে ভেঙে চুরমার হয়ে আসছে রোজ একথা বলাই বাহুল্য। 

উত্তর থেকে দক্ষিন,পূর্ব থেকে পশ্চিম এই আসমুদ্রহিমাচল এর রক্তপ্রবাহে যে ধ্রুপদী ঐতিহ্যের স্রোত বয়ে চলে,সেই স্রোতস্বতী জোয়ারের একটা ঢেউ এর নাম এসপি বালাসুব্রাহ্মণ্যম বা এসপি বালু।১৯৪৬সালের উত্তাল ভারতের অগ্নিযুগের কোলে,জন্ম নেবে এক বিস্ময় সন্তান,যে আগামী দিনের ভারতকে বার বার প্রেমে ডুবিয়ে দিয়ে যাবে তাঁরই স্বরের সুরে,একথা ইতিহাস জানত না নিজেও।
      
গতকাল চলে গেলেন এসপি বালু।অকস্মাৎ মৃত্যু সংবাদ আর অকস্মাৎ মনে হয় না।এই বিষাক্ত বছরের ক্রমায়াত বিষাদ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বেঁচে থাকাটাই বিলাসিতা।মৃত্যুযোগ যেন ভাগ্যের বড় স্বাভাবিক প্রবণতা।কোভিডে চলে গেলেন এসপি।'মেরে রঙ্ মেঁ রঙণে ওয়ালি..'র সুরে আবিষ্ট করেছেন বহুদশকের প্রেমিক মন,সেই মানুষটা আর নেই! মেনে নিতেই হয়।তাছাড়া উপায় কী আর? 
       
১৬টি ভাষায় প্রায় ৪০০০০ গান গেয়েছেন এসপি।একদিনে,সর্বাধিক ২১টি গান রেকর্ড করার কৃতধী এই মানুষটি।'এক্  দুজে কে লিয়ে','হাম আপকে হ্যায় কোন','রোজা'এবং বিভিন্ন সিনেমায় ঠিক কী মনমোহিনী কাণ্ডকারখানা ঘটিয়ে ছিলেন,এ কারও অজানা নয়! ভাবা যায়,পদ্মশ্রী,পদ্মভূষণ সহ মা সরস্বতীর এই বরপুত্র ছ-ছবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।
     
'তেরে মেরে প্যায়ার কা ইয়ে ক্যায়সা হ্যায় ইয়ে বন্ধন্' একথা বোধহয় বলে বা লিখে বোঝান যাবে না! অনুভূতি প্রবণ সঙ্গীত বা যেকোনও প্রেমের সূত্রধার এই সুর।আটের দশকের কিশোর মনের ইনফ্যাচুয়েশনের কুয়াশা কাটিয়ে যে সুর এনে দিয়েছিল আলো,বলে দিয়েছিল ভালবাসি,সে যে এসপির কন্ঠ; এ বোধহয় ভোলার নয়।'ইয়ে হাঁসি ওয়াঁদিয়ার' কাশ্মীরী নৈস্বর্গের চিরপিপাসিত নয়ন বেদনা,খুঁজতে থাকবে,রিফ্লেক্ট করতে থাকবে কান্না,'আঁখো মেঁ তু হ্যায়,আঁসুয়ো মেঁ তু হ্যায়,আঁখে বন্দ্ করলু,তো মনমে ভী তু হ্যায়..'
এসপির মৃত্যু নেই!

শৌভিক চ্যাটার্জী 
কালনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ




















0 Comments