
লাল জামা
আকাশে শরতের ছেঁড়া ফাটা মেঘ। কখনও ঘন মেঘের আকার নিচ্ছে কখনও আবার
ঝলমলিয়ে রোদ উঠছে। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে পুজো পুজো গন্ধ। মানুষের মনে ধীরে ধীরে উৎসবের মেজাজ ফিরে আসছে। কোথায় করোনা ভাইরাস। সবাই এরই মধ্যে বের হয়ে পড়েছে পুজোর বাজার করতে। পুটিদের এই বস্তি অঞ্চলেও শুরু হয়ে গিয়েছে সাজ সাজ রব। যারা লোকের বাড়ি কাজ করে আজ কাল বাদে সবাই বোনাস পাবে। তার পর শুরু হবে জামা প্যান্ট কেনা। সাজবার জিনিস কেনা। বাবারা অনেকদিন কাজ করতে পারেনি। তখন লকডাউন ছিল। কিন্তু এখন আর কেউ ঘরে বসে নেই। সবাই নিজের নিজের কাজে যাচ্ছে। পুজোর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আর এই শরতের আকাশের মতো বারো বছরের পুটির মনটাও দুলে দুলে উঠছে। আজ ওঁর মা বোনাস পাবে।
গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে পুটি রান্না করছে। রান্না বলতে একটু আলু সোয়াবিনের তরকারি। ঘরে ভিজে ভাত আছে। এটাই ওঁর সকালের খাবার। ওঁর মা বিনতার ফিরতে ফিরতে বেলা দেড়টা। তখন বাবু বাড়ি থেকে ভাত, তরকারি, মাছ বা মাংস নিয়ে আসে। সেটাই ওরা দুপুরে খায়। বিকেলে বিনতার কোনও কাজ থাকে না বলে রাত্রে আলাদা রান্না করে। তখন পুটি ওঁর মা বাবা সবাই একসঙ্গে খায়।
এখন স্কুল বন্ধ বলে কিছু ভাত রেখে দেয় বিনতা। পুটি কিছু একটা করে সেটাই খায়। এখন পুটির আর কোনও কাজ নেই। পাড়ার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খেলাধুলো করবে। তার পর স্নান করে মায়ের জন্য অপেক্ষা করবে, কখন মা খাবার নিয়ে ফিরবে।
সকালে ওদের বস্তিরই ছেলে হারুদার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। হারুর বয়স প্রায় উনিশ কুড়ি। লম্বা চেহারা, গায়ের রঙ একটু চাপা। চুলটা খুব সুন্দর। সিনেমার দেবের মতো। হারুদাকে পুটির খুব ভাল লাগে। ওঁর বাবার টোটো আছে। সেটা ফাঁকা থাকলে পুটিকে এদিক ওদিক ঘুরিয়ে আনে। কয়েকদিন ধরেই পুটি মায়ের
কাছে ঘ্যান ঘ্যান করছিল। বলছিল- ওমা, আমাকে কবে জামা কিনে দেবে?
দাঁড়া, বাবু বাড়ি থেকে বোনাসগুলো পাই।
গতকাল ওঁর মা বলেছিল- কাল বোনাস পাব। দাদাবাবু বলেছে। বিনতার সব বাড়ি সমান নয়। কেউ কেউ আগে আগে বোনাসের টাকা দিয়ে দেয়, কেউ দিতে একটু দেরি করে। পুটি জানে মা আজকে জামা কিনতে যাবে। তাই সকালে খাবার জল নিতে
গিয়ে হারুর সঙ্গে দেখা হতেই পুটি বলল- আজ আমাদের টাউনে নিয়ে যাবে?
কখন?
মা ফিরে এলে। দুপুরের দিকে।
দেখি, বাবার টোটোটা থাকলে নিয়ে যাব। হারুর বাবারও ফেরার কোনও ঠিক থাকে না। যদি দেরি করে ফেরে তাহলে সন্ধ্যার আগে আর বের হয় না। হারুও মনে মনে ভাবল, তাঁর বাবা যেন আজ একটু দেরি করে ফেরে। তার পর হারু বলল- পুজোর জামা কিনবি?
হ্যাঁ। মাকে বলেছি একটা লাল জামা কিনে দিতে। ল্যাহেঙ্গা। তার সঙ্গে ল্যাঙ্গিস। কেমন মানাবে বলো?
দারুণ মানাবে তোকে। এই পুটি শোন, এবার পুজোতে তুই আমার সঙ্গে ঠাকুর দেখতে যাবি?
হ্যাঁ।
হারুর মনটা পুলকিত হয়ে উঠল। তার পর বলল- ঠিক আছে। যদি বাবার টোটো পাই তাহলে ভাল তা না হলে অন্য একটা টোটো ভাড়া করে নেব।
ভাড়ার কথা শুনে পুটির মুখটা একটু শুকিয়ে গেল। পুটির মা টোটো ভাড়া করে না। হেঁটেই যাতায়াত করে।
কীরে, তুই অমন হ্যাঁ করে কী দেখছিস। তোকে ভাড়ার কথা চিন্তা করতে হবে না। ওটা আমিই দেব। তোর মা ফিরলেই আমাকে খবর দিবি।
পুটি চলে যেতেই হারুর চোখটা কী একটু নেচে উঠল? পুটিকে যতই দেখছে ততই অবাক হচ্ছে। বয়স কম হলেও এরই মধ্যে দেহে একটা আলাদা আকর্ষণ ফুটে উঠছে।
ছিঃ ছিঃ, পুটিকে নিয়ে কী ভাবছে সে। পুটি জল নিয়ে চলে যেতেই সেও সেখান থেকে চলে গেল।
বিনতার আজকের মতো কাজ সারা হল। বোনাসের টাকাকটা ঠিক মতো আঁচলে বেঁধে
নিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বৌদি ঘর থেকে বের হয়ে বললেন- একটু দাঁড়া বিনতা।
তার পর একটা ব্যাগ ওঁর সামনে রেখে বলল- এই জামাগুলো আমার মেয়ের ছোট হয়ে
গিয়েছে। তোর মেয়ের তো বছর বারো বয়স বললি। মনে হচ্ছে হয়ে যাবে। তুই এগুলো নিয়ে যা। খুব ভাল ভাল জামা।
জামাগুলো দেখে বিনতার খুব পছন্দ হল। বিশেষ করে লাল জামাটা। পুটির খুব পছন্দ এই রকমের লাল জামা। এইরকম জামা দোকানে ঝুলতে দেখেছিল বিনতা।
একবার ওই ধরনের জামার দাম জানতে গিয়ে বিষম খাবার জোগার হয়েছিল। ভালই হল জামাগুলো পেয়ে। সে দু’হাতে দু’টো ব্যাগ নিয়ে বাড়ির পথ ধরল।
পুটি ঘরের দরজা ভেজিয়ে টিভি দেখছিল। এখানে সবাই হুক করে আলো নিয়েছে।
পুটির বাবাও নিয়েছে। হঠাৎ খুট করে শব্দ হতেই তাকিয়ে দেখল হারুদাকে।
ও তুমি। মা এখনও ফেরে নি। তার পরেই দেখল হারুদা কেমন করে তার দিকে তাকিয়ে আছে। কী হয়েছে হারুদা। তোমার চোখ এমন লাল কেন? শরীর খারাপ? বসো জল আনছি। এই বলে পুটি ঘরের বাইরে যেতেই হারু ওকে টেনে ধরল।
মুখের মাস্কটা একটু ঢিলে হয়ে গিয়েছে। ফলে বার বার নেমে যাচ্ছে। আর বিনতা ব্যাগ নামিয়ে রেখে ঠিক করে নিচ্ছে। রাগে গজ গজ করতে থাকে বিনতা- কী রোগ হয়েছে রে বাবা কে জানে। মুখে মাস্ক বাঁধ, হাতে সাবান দাও। সকাল থেকে চার বাড়ির কাজ। কাজ করবে নাকি বার বার হাত ধোবে। প্রথম তিনটে বাড়ি শুধু বাসন মাজা, ঘর মোছা। আর শেষ বাড়িতে বাসন মাজা, ঘর মোছা, কাপড় কাচা, রান্না করা। সেই সকালে বের হয়ে ঘরে ফিরতে ফিরতে বেলা একটা দেড়টা বেজে যায়। মেয়েটা সকাল থেকে একাই থাকে। বিনতার স্বামী বাসের ড্রাইভার। সেও এখন সকালে বের হয়ে যায়। ফেরে সেই রাত্রে। শাশুড়ি বেঁচে থাকতে কোনও অসুবিধা ছিল না। কিন্তু শাশুড়ি মারা যেতেই ঘর ফাঁকা থাকে। এখন স্কুল বন্ধ। মেয়ে একা ঘরেই থাকে। একা একা কী করে কিচ্ছু জানতে পারে না বিনতা। আজ আবার মেয়েটাকে নিয়ে বাজারে যাবে। পুটি হয়তো তাঁর ফেরার পথ চেয়ে বসে আছে।
হাতে অতিরিক্ত একটা ব্যাগ থাকাতে অনেক কৌতূহলীমুখ তার দিকে চেয়ে আছে। কেউ কেউ জানতেও চাইল- কাজের বাড়ি থেকে পুরনো জামা কাপড় দিল বুঝি?
বিনতা ঘাড় নেড়ে সায় দিল। আসলে বিনতার কারও কোনও বিষয়ে আগ্রহ নেই। সে তাঁর মতো করে থাকতেই পছন্দ করে বেশি। সে দেখলেও কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করে না। অথচ ওকে সবাই জিজ্ঞাসা করবে। বিরক্ত লাগলেও মুখে কিছু বলতে পারল না বিনতা। এদেরকে নিয়েই তাকে চলতে হয়।
বস্তি অঞ্চল। মূল রাস্তা পার হয়ে সরু গলির পথ ধরল। দু’দিকে ছোট ছোট ঘর। টালির চালা, টিনের চালা। কারও ইটের দেওয়াল তো কারও দরমা দিয়ে ঘেরা।অলি গলি সরু পায়ে চলার পথ। সেই পথ পার হয়ে একদম জলার দিকে ছোট্ট একটা দরমার ঘর। উপরে খড়ের ছাউনি। এর বেশি কিছু করতে পারে নি পুটির বাবা। জলার ওপারে ট্রেন লাইন। ঘরের সামনে আলাদা উঠোন বলে কিছু নেই। একটু ডাঙ্গা মতোন। সেখানেই দু’টো বাঁশ পুঁতে একটা দড়ি টাঙানো আছে। সকালের ধুয়ে যাওয়া শাড়ি, সায়া ব্লাউজ, পুটির জামা, ওঁর বাবার জামা প্যান্ট ঝুলছে। কী যে করে না পুটি। সকাল থেকে ঘরে থেকে এগুলো পর্যন্ত তুলে রাখতে পারে নি। এদিকে কখন যেন মেঘ করে এসেছে। জল পড়লেই সব ভিজে যাবে।
ঝলমলিয়ে রোদ উঠছে। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে পুজো পুজো গন্ধ। মানুষের মনে ধীরে ধীরে উৎসবের মেজাজ ফিরে আসছে। কোথায় করোনা ভাইরাস। সবাই এরই মধ্যে বের হয়ে পড়েছে পুজোর বাজার করতে। পুটিদের এই বস্তি অঞ্চলেও শুরু হয়ে গিয়েছে সাজ সাজ রব। যারা লোকের বাড়ি কাজ করে আজ কাল বাদে সবাই বোনাস পাবে। তার পর শুরু হবে জামা প্যান্ট কেনা। সাজবার জিনিস কেনা। বাবারা অনেকদিন কাজ করতে পারেনি। তখন লকডাউন ছিল। কিন্তু এখন আর কেউ ঘরে বসে নেই। সবাই নিজের নিজের কাজে যাচ্ছে। পুজোর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আর এই শরতের আকাশের মতো বারো বছরের পুটির মনটাও দুলে দুলে উঠছে। আজ ওঁর মা বোনাস পাবে।
গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে পুটি রান্না করছে। রান্না বলতে একটু আলু সোয়াবিনের তরকারি। ঘরে ভিজে ভাত আছে। এটাই ওঁর সকালের খাবার। ওঁর মা বিনতার ফিরতে ফিরতে বেলা দেড়টা। তখন বাবু বাড়ি থেকে ভাত, তরকারি, মাছ বা মাংস নিয়ে আসে। সেটাই ওরা দুপুরে খায়। বিকেলে বিনতার কোনও কাজ থাকে না বলে রাত্রে আলাদা রান্না করে। তখন পুটি ওঁর মা বাবা সবাই একসঙ্গে খায়।
এখন স্কুল বন্ধ বলে কিছু ভাত রেখে দেয় বিনতা। পুটি কিছু একটা করে সেটাই খায়। এখন পুটির আর কোনও কাজ নেই। পাড়ার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খেলাধুলো করবে। তার পর স্নান করে মায়ের জন্য অপেক্ষা করবে, কখন মা খাবার নিয়ে ফিরবে।
সকালে ওদের বস্তিরই ছেলে হারুদার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। হারুর বয়স প্রায় উনিশ কুড়ি। লম্বা চেহারা, গায়ের রঙ একটু চাপা। চুলটা খুব সুন্দর। সিনেমার দেবের মতো। হারুদাকে পুটির খুব ভাল লাগে। ওঁর বাবার টোটো আছে। সেটা ফাঁকা থাকলে পুটিকে এদিক ওদিক ঘুরিয়ে আনে। কয়েকদিন ধরেই পুটি মায়ের
কাছে ঘ্যান ঘ্যান করছিল। বলছিল- ওমা, আমাকে কবে জামা কিনে দেবে?
দাঁড়া, বাবু বাড়ি থেকে বোনাসগুলো পাই।
গতকাল ওঁর মা বলেছিল- কাল বোনাস পাব। দাদাবাবু বলেছে। বিনতার সব বাড়ি সমান নয়। কেউ কেউ আগে আগে বোনাসের টাকা দিয়ে দেয়, কেউ দিতে একটু দেরি করে। পুটি জানে মা আজকে জামা কিনতে যাবে। তাই সকালে খাবার জল নিতে
গিয়ে হারুর সঙ্গে দেখা হতেই পুটি বলল- আজ আমাদের টাউনে নিয়ে যাবে?
কখন?
মা ফিরে এলে। দুপুরের দিকে।
দেখি, বাবার টোটোটা থাকলে নিয়ে যাব। হারুর বাবারও ফেরার কোনও ঠিক থাকে না। যদি দেরি করে ফেরে তাহলে সন্ধ্যার আগে আর বের হয় না। হারুও মনে মনে ভাবল, তাঁর বাবা যেন আজ একটু দেরি করে ফেরে। তার পর হারু বলল- পুজোর জামা কিনবি?
হ্যাঁ। মাকে বলেছি একটা লাল জামা কিনে দিতে। ল্যাহেঙ্গা। তার সঙ্গে ল্যাঙ্গিস। কেমন মানাবে বলো?
দারুণ মানাবে তোকে। এই পুটি শোন, এবার পুজোতে তুই আমার সঙ্গে ঠাকুর দেখতে যাবি?
হ্যাঁ।
হারুর মনটা পুলকিত হয়ে উঠল। তার পর বলল- ঠিক আছে। যদি বাবার টোটো পাই তাহলে ভাল তা না হলে অন্য একটা টোটো ভাড়া করে নেব।
ভাড়ার কথা শুনে পুটির মুখটা একটু শুকিয়ে গেল। পুটির মা টোটো ভাড়া করে না। হেঁটেই যাতায়াত করে।
কীরে, তুই অমন হ্যাঁ করে কী দেখছিস। তোকে ভাড়ার কথা চিন্তা করতে হবে না। ওটা আমিই দেব। তোর মা ফিরলেই আমাকে খবর দিবি।
পুটি চলে যেতেই হারুর চোখটা কী একটু নেচে উঠল? পুটিকে যতই দেখছে ততই অবাক হচ্ছে। বয়স কম হলেও এরই মধ্যে দেহে একটা আলাদা আকর্ষণ ফুটে উঠছে।
ছিঃ ছিঃ, পুটিকে নিয়ে কী ভাবছে সে। পুটি জল নিয়ে চলে যেতেই সেও সেখান থেকে চলে গেল।
বিনতার আজকের মতো কাজ সারা হল। বোনাসের টাকাকটা ঠিক মতো আঁচলে বেঁধে
নিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বৌদি ঘর থেকে বের হয়ে বললেন- একটু দাঁড়া বিনতা।
তার পর একটা ব্যাগ ওঁর সামনে রেখে বলল- এই জামাগুলো আমার মেয়ের ছোট হয়ে
গিয়েছে। তোর মেয়ের তো বছর বারো বয়স বললি। মনে হচ্ছে হয়ে যাবে। তুই এগুলো নিয়ে যা। খুব ভাল ভাল জামা।
জামাগুলো দেখে বিনতার খুব পছন্দ হল। বিশেষ করে লাল জামাটা। পুটির খুব পছন্দ এই রকমের লাল জামা। এইরকম জামা দোকানে ঝুলতে দেখেছিল বিনতা।
একবার ওই ধরনের জামার দাম জানতে গিয়ে বিষম খাবার জোগার হয়েছিল। ভালই হল জামাগুলো পেয়ে। সে দু’হাতে দু’টো ব্যাগ নিয়ে বাড়ির পথ ধরল।
পুটি ঘরের দরজা ভেজিয়ে টিভি দেখছিল। এখানে সবাই হুক করে আলো নিয়েছে।
পুটির বাবাও নিয়েছে। হঠাৎ খুট করে শব্দ হতেই তাকিয়ে দেখল হারুদাকে।
ও তুমি। মা এখনও ফেরে নি। তার পরেই দেখল হারুদা কেমন করে তার দিকে তাকিয়ে আছে। কী হয়েছে হারুদা। তোমার চোখ এমন লাল কেন? শরীর খারাপ? বসো জল আনছি। এই বলে পুটি ঘরের বাইরে যেতেই হারু ওকে টেনে ধরল।
মুখের মাস্কটা একটু ঢিলে হয়ে গিয়েছে। ফলে বার বার নেমে যাচ্ছে। আর বিনতা ব্যাগ নামিয়ে রেখে ঠিক করে নিচ্ছে। রাগে গজ গজ করতে থাকে বিনতা- কী রোগ হয়েছে রে বাবা কে জানে। মুখে মাস্ক বাঁধ, হাতে সাবান দাও। সকাল থেকে চার বাড়ির কাজ। কাজ করবে নাকি বার বার হাত ধোবে। প্রথম তিনটে বাড়ি শুধু বাসন মাজা, ঘর মোছা। আর শেষ বাড়িতে বাসন মাজা, ঘর মোছা, কাপড় কাচা, রান্না করা। সেই সকালে বের হয়ে ঘরে ফিরতে ফিরতে বেলা একটা দেড়টা বেজে যায়। মেয়েটা সকাল থেকে একাই থাকে। বিনতার স্বামী বাসের ড্রাইভার। সেও এখন সকালে বের হয়ে যায়। ফেরে সেই রাত্রে। শাশুড়ি বেঁচে থাকতে কোনও অসুবিধা ছিল না। কিন্তু শাশুড়ি মারা যেতেই ঘর ফাঁকা থাকে। এখন স্কুল বন্ধ। মেয়ে একা ঘরেই থাকে। একা একা কী করে কিচ্ছু জানতে পারে না বিনতা। আজ আবার মেয়েটাকে নিয়ে বাজারে যাবে। পুটি হয়তো তাঁর ফেরার পথ চেয়ে বসে আছে।
হাতে অতিরিক্ত একটা ব্যাগ থাকাতে অনেক কৌতূহলীমুখ তার দিকে চেয়ে আছে। কেউ কেউ জানতেও চাইল- কাজের বাড়ি থেকে পুরনো জামা কাপড় দিল বুঝি?
বিনতা ঘাড় নেড়ে সায় দিল। আসলে বিনতার কারও কোনও বিষয়ে আগ্রহ নেই। সে তাঁর মতো করে থাকতেই পছন্দ করে বেশি। সে দেখলেও কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করে না। অথচ ওকে সবাই জিজ্ঞাসা করবে। বিরক্ত লাগলেও মুখে কিছু বলতে পারল না বিনতা। এদেরকে নিয়েই তাকে চলতে হয়।
বস্তি অঞ্চল। মূল রাস্তা পার হয়ে সরু গলির পথ ধরল। দু’দিকে ছোট ছোট ঘর। টালির চালা, টিনের চালা। কারও ইটের দেওয়াল তো কারও দরমা দিয়ে ঘেরা।অলি গলি সরু পায়ে চলার পথ। সেই পথ পার হয়ে একদম জলার দিকে ছোট্ট একটা দরমার ঘর। উপরে খড়ের ছাউনি। এর বেশি কিছু করতে পারে নি পুটির বাবা। জলার ওপারে ট্রেন লাইন। ঘরের সামনে আলাদা উঠোন বলে কিছু নেই। একটু ডাঙ্গা মতোন। সেখানেই দু’টো বাঁশ পুঁতে একটা দড়ি টাঙানো আছে। সকালের ধুয়ে যাওয়া শাড়ি, সায়া ব্লাউজ, পুটির জামা, ওঁর বাবার জামা প্যান্ট ঝুলছে। কী যে করে না পুটি। সকাল থেকে ঘরে থেকে এগুলো পর্যন্ত তুলে রাখতে পারে নি। এদিকে কখন যেন মেঘ করে এসেছে। জল পড়লেই সব ভিজে যাবে।
বিনতা ভাবল ব্যাগদু’টো রেখে জামা কাপড় তুলবে। এই ভেবে ঘরের দিকে তাকাতেই দেখতে পেল ঘরে টিভি চলছে আর ঘরের একটা দরজা একটু খোলা।
বিনতা ডাক দিল পুটি, এই পুটি, এগুলো নে। এই বলে দরজার সামনে ব্যাগ রেখে জামা কাপড় তুলতে নিল। কিরে কী করছিস তুই। শুনতে পাচ্ছিস না। বিনতা
জামা কাপড় নিয়ে ঘরে ঢুকতেই দেখতে পেল পুটি মেঝেতে পড়ে আছে। ঘর আবছাঅন্ধকার। সে তাড়াতাড়ি করে আলো জ্বালালো। তখনই দেখতে পেল পুটির দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে লাল রক্ত বের হয়ে জমাট বেঁধে আছে। পুটি এই পুটি কী হয়েছে তোর?
বিনতা মেয়েকে তুলতে যেতেই বুঝতে পারল মেয়ে আর বেঁচে নেই। সে চিৎকার করে
উঠল পুটি- ই- ই- -।
বিনতা ডাক দিল পুটি, এই পুটি, এগুলো নে। এই বলে দরজার সামনে ব্যাগ রেখে জামা কাপড় তুলতে নিল। কিরে কী করছিস তুই। শুনতে পাচ্ছিস না। বিনতা
জামা কাপড় নিয়ে ঘরে ঢুকতেই দেখতে পেল পুটি মেঝেতে পড়ে আছে। ঘর আবছাঅন্ধকার। সে তাড়াতাড়ি করে আলো জ্বালালো। তখনই দেখতে পেল পুটির দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে লাল রক্ত বের হয়ে জমাট বেঁধে আছে। পুটি এই পুটি কী হয়েছে তোর?
বিনতা মেয়েকে তুলতে যেতেই বুঝতে পারল মেয়ে আর বেঁচে নেই। সে চিৎকার করে
উঠল পুটি- ই- ই- -।



0 Comments