🔸অণুগল্প:
ꗇ চয়ন কুমার রায়🔹টিকরহাট, পূর্ব বর্ধমান🔹
🔵 রাস্তা ভুল করে আদিবাসী গ্রামের ভিতর দিয়ে অযোধ্যা পাহাড়ের জঙ্গল ঘেরা পাকদন্ডী পথ ধরে আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলেছে। হঠাৎ ড্রাইভার ব্রেক কষে গাড়ি দাঁড় করাতেই একটা হালকা ঝাঁকুনি খেলাম। সামনে এক আদিবাসী যুবককে দেখে প্রথমটায় হকচকিয়ে গেলেও,স্বাভাবিক গলায় ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম, "পিন্টু,কী চায় ও? "
"স্যার,ও আমাদের গাড়িতে যাবে বলছে। "
সমীর আর তরুণের মৃদু আপত্তি সত্ত্বেও ছেলেটাকে গাড়িতে তুলে নিলাম।
আপত্তির যথেষ্ট কারণও আছে। বছর আটেক আগে, এখানকার এরকম রাস্তা থেকেই মাওবাদীরা দু'জন মানুষকে অপহরণ ও খুন করেছিল।
এই আদিবাসী ছেলেটি,জিতরাম,আমাদের ওর মালিকের হোটেলে তুলল।
দর্শনীয় জায়গাগুলো দেখিয়ে আনলো। বেশ টায়ার্ড লাগছিল। ডিনার করতে যেতে ইচ্ছে করছিল না। কয়েকটা ছেলে অডিও বাজিয়ে নাচানাচি শুরু করেছে। ভাবছিলাম জিতরামকে ডিনার ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে রাখলেই ভালো হতো ।
জিতরাম যেন অন্তর্যামী,ঠিক মনের কথা বুঝতে পারে।
জল, গ্লাস, ডিনার পৌঁছে দিয়ে গেল।
বন্ধুদের বললাম,"ছেলেটাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে ভালই করেছি,কি বলিস? "
সকালে ঠাণ্ডা হাওয়ার সাথে টিপটিপ বৃষ্টি। বাথরুমের গিজারটাও খারাপ। ম্যানেজারের কাছে যাবার জন্য পা বাড়িয়েছি,দেখি জিতরাম দু'বালতি গরম জল নিয়ে হাজির।
ফেরার সময় জিতরামের পরিষেবায় সন্তুষ্ট হয়ে কিছু টিপস দিলাম। ওটা ওর কাছে আশাতীত রকম বেশী মনে হলো। সে খুশি খুশি মুখে ঘরের ভিতর ওর অনুসন্ধানী দৃষ্টি দিয়ে যেন কিছু খুঁজছিল। দেখতে না পেয়ে অবাক হলো।
বললাম, "কিছু খুঁজছ জিতরাম? "
সে লাজুক মুখে সংকোচের সঙ্গে যেটা ইশারা করে বোঝাতে চাইলো,তা দেখে বিরক্ত হয়ে তরুণ বলে, "ওসব আমরা খাইনা জিতরাম। "
জিতরামের বিশ্বাস হয় না ।
"সব বাবুরা তো খেতেই আসে কাকা,আর বোতলের তলানিটুক আমাদের দিয়ে চলে যায় । ওই যে পাঁচ আর ছ'নম্বরের দাদাবাবুরা কাল বিকালে এসেছে,ওরা আধবোতল দিয়েছে ।
"হ্যাঁ,ছেলেগুলো অনেক রাত পর্যন্ত মাতলামি করেছে। খারাপ লাগলেও বাধা দেবার সাধ্য নেই। সবাই যে মাতলামো করতে আসেনা,প্রকৃতির রূপের মোহেও যে অনেকেই ছুটে আসে -এসব কথা জিতরাম বুঝবে না।
ফেরার সময় আরো কয়েকটা টাকা দিতে চাইলাম,কিন্তু ও নিল না। বলল,"যখন পলাশ ফুলে পাহাড়টা লাল হয়ে যাবে তখন আবার আসবে কাকা। "
ওর কথায় এবার আমার অবাক হওয়ার পালা !
-------------------------------------



0 Comments