জীবন্ত পত্র
জং ধরা লোহার তালা অবশেষে খোলা হলে-
অন্ধকার ঘুণ ধরা কাষ্ঠালয় হতে বেরিয়ে আসে -
একটি দায়িত্ববান দেহ ,
গজিয়ে ওঠে দুটি পরিশ্রমী পা।
ভেজাল বাতাসে এক টানা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে-
নিজের মধ্যে মুড়ে নেয়-
ছোট ছোট টিলাবৃত এক প্রকান্ড পাহাড়,আর-
ফোঁটা ফোঁটা অশ্রুতে পূর্ণ বিশাল অশ্রুসাগর।
তার দীর্ঘশ্বাসে যেন পাখনা পায় শিমুলতুলো,
গা ভাসিয়ে দেয় বৈশাখী বাতাসে।
বিক্ষিপ্ত ইট-পাথরে বিধ্বস্ত পথের হোঁচটে রক্তাক্ত পা চলে-
যানজট, প্যাঁচানো শহর, বিস্ফারিত জনস্রোত ঠেলে।
তার পায়ের শব্দে বেজে ওঠে- চির ধরা রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা আধমরা গাছের শুকনো ডালগুলি,
তারা ঝড়হীন বাতাসে সদিচ্ছায় ভেঙে পড়ে পায়ের পাশে।যেন-
গাছগুলো তার অপেক্ষায় ওৎ পেতে ছিল,
সে এল বলে পত্র পিপাসু ডালের ডগায় ডগায়-
সঞ্চারিত হল একছত্র কচিপাতা ।
কৃষ্ণচূড়ার ফুল ঝর ঝরিয়ে স্বাগত পথ সাজায়,
কাঠঠোকরা নিরামিষী হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে -
নরম পাতার বিছানায়।
আলপথের দুধারের কাদায়-
ধান মুখ থুবড়ে পড়ে লজ্জাতে আড় চোখে তাকায় ।
নির্বাক খালের শ্যাওলা জড়ানো স্যাঁতসেঁতে সাঁকো হয়ে পাড় -
অবশেষে, পচা খড়ের মাশরুম দেখায়-
সেই কুড়ে ঘর।
কোঁচকানো দেহ, ফ্যাকাশে মুখ, ছানিপড়া ঝাপসা লোচন-
প্রতিক্ষায় থাকে ছেলের পত্র দোয়ারে আসবে কখন!
নিস্তেজ হাত বাড়িয়ে দিলে,কম্পিত আঙুল ছুঁতে-
পত্রের ব্যাকুল মরিয়া মুখ-
বাইরে বেরতে চায়।
খাম হতে বেরিয়ে আসে-
শহরের ইট ভাঙার আওয়াজ,
কায়ীম শ্রমে নিঙরানো ঘামের দাগ,আর-
যার উপার্জনের সামান্য এলে-
শুকনো পাতা জ্বলে শুকনো হাতের অনুনয়ে।
কবি শংকর নাইয়া
নালুয়া, মথুরাপুর, দঃ ২৪ পরগনা




0 Comments