শুভ্রাশ্রী মাইতির কবিতা



স্বপ্নেরা ভেসে ওঠে

গুঁড়ো গুঁড়ো স্বপ্নের ভেতর হৃদয়ের জোছনা সেঁচে
চুপি চুপি তুলে আনি ফেলে আসা শহরের চাঁদজল ভেজা রূপোর ঘরবাড়ী।
একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ,একটা সবুজ মাঠ আর
নির্জন হলুদ বিকেল 
স্মৃতির পোস্টঅফিস ছাড়িয়ে পাড়ি দেয় সুদূর অনন্তে...
থোকা থোকা মেঘরোদের নীলচে সবুজ শার্টে তখন পুরুষালী ডিওর গন্ধ।
ধানী ওড়নার সুগোল মুঠোয় সযত্নে জমানো কাঠচাঁপার মিষ্টি সুঘ্রাণ।
ফুটপাতের বুক ছুঁয়ে সেদিন ধূসর শহরের সবকটি অলিতে গলিতে শুধুই এলোমেলো বসন্ত।
একটা ফুলফোটা ঝুলবারান্দায় ঠিক ভেসে আসে সে খবর হাওয়ায় হাওয়ায়।
বিকেলের রাঙা আলোয় ক্রিংক্রিং সাইকেলটা দুষ্টু কোকিলের মতো ডেকে যেতেই
একটা উজ্জ্বল মেঘরোদ পক্ষীরাজের ডানা মেলে হুশ করে উড়ে যায় ফুলপরীদের দেশে।
নতুন এক রূপকথার গল্প শোনাতে বসে আকাশ নদীর জলের কাছে।

কিন্তু এই রূপকথার গল্পটাও একদিন হারিয়ে যায় নিরুদ্দেশে।
যেমন হারায় অন্য সব গল্প।
কারণ রূপকথার গল্পে শুধু রাজপুত্র,রাজকন্যা নয়,রাক্ষসও যে থাকে দলে দলে।
তাই কালবোশেখীর কালো মেঘ বসন্তেও ঘিরে ধরে চাঁদশহরের নীল আকাশ।
ঝড়ো হাওয়ায় ভেঙে চৌচির ঝুলবারান্দার ফুলের টব।
সাইকেলের চাকায় শুধু ভেঙে যাওয়া কাঁচের টুকরো।
ঘন্টি থেমে গেছে কখন--সেই কোন পুরাতনী যুগে।
শুধু একটা লাজুক গোলাপী স্পর্শ,হাতে হাত ধরা কিছু রঙীন দুপুর,
সিনেমার ছেঁড়া টিকিট আর বইয়ের পাতার শুকনো গোলাপ
মাঝে মাঝে ডাক দিয়ে যায় মনখারাপের একলা দুপুরে-
আয়নায় প্রতিচ্ছবির মুখের বয়সে ধূসর বলিরেখা আর
চুলের রূপালী ঝিলিকের হাত ধরে ফিরে ফিরে আসে ফেলে আসা শহর
চাঁদ হাসি হেসে,ভালবেসে---
রূপোর ঘরবাড়ী ভেসে ওঠে...শুধু ভেসে ওঠে।

কবি শুভ্রাশ্রী মাইতি
মহিষাদল, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ















0 Comments