
অনিন্দ্য দত্ত'র অণুগল্প
গাধা
রেল লাইনের ধারে আকন্দের ঝোপ।তার পাশে একটা বাতিল ধোপার গাধা আস্তে ধীরে ঘাস খাচ্ছে।বিকেল মরে আসছে।
আকন্দের পাশে করবীর ঝাড়ে একটা হলদে বাদামি প্রজাপতি ঘুরছে।গাধাটা মাঝে মাঝেই দাঁড়িয়ে ঝিমোয়।
অনেক বয়স হয়েছে তার।নেহাৎ গাধা বলেই তাকে এখনো কেউ কেটে খেয়ে ফেলেনি।
শুধু,মাছিগুলো অতিরিক্ত বিরক্ত করলে সে চটাপট লেজ চালায় আর গম্ভীর স্বরে ডেকে ওঠে।
বুড়ো বলে তার সারাক্ষণ খিদে পায়।
তার মনে আছে,এই রেললাইন দিয়ে কিছু দিন আগেই,একরাশ মানুষ খুব ক্লান্তভাবে হাঁটতে হাঁটতে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলো।তাদের পরনের চটি,বাচ্ছাদের জুতো অনেক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল লাইনটাতে।
তারপর ট্রেন তাদের উপর দিয়ে গিয়ে গিয়ে,রোদ্দুর আর বর্ষা ঝরে ঝরে,সেগুলো কেমন যেন চারপাশের গাছপালার অংশ হয়ে গেছে।
আজ গাধাটা হঠাৎ দেখল,তিনটে লোক একটা বস্তায় করে কিছু একটা এনে লাইনের পাশে আকন্দ ঝোপের পাশে ফেলল,বস্তাটা ছটফট করতে লাগলো।উঃ,উঃ করে বস্তাটার থেকে আওয়াজ আসতে লাগলো,সেই দেখে ওই লোক তিনটে বস্তার উপর এলোপাতাড়ি মস্ত তিনটে ছুরি চালাতে লাগলো।
একসময় সব আওয়াজ থেমে গেল।
লোকগুলো ও আস্তে আস্তে চলে গেল। বস্তাটা শুধু রক্তে রক্তে মাখামাখি হয়ে পড়ে রইলো।
গাধাটা কি বুঝলো কে জানে,হটাৎ ঘ্যাঁ ঘ্যাঁ করে ডেকে উঠলো,এই ডাকে ভয় পেয়ে করবী ঝাড়ে একটা বহুরূপী সড়সড় করে নেমে এসে নিমেষে একছুটে রেল লাইন পেরিয়ে গেল।
সূর্য ও তখনই টুপ করে ঢুবে গেল।



0 Comments