তিনটি কবিতায় ~ উদয়ন চক্রবর্তী


উদয়ন চক্রবর্তী'র তিনটি কবিতা 

একটা অসম্পূর্ণ কবিতা

যে কোনো সময় বিনা প্ররোচনায়
ইচ্ছে মতো পংক্তি তে বসিয়ে
দিচ্ছে কেউ যতি চিন্হ পূর্ণচ্ছেদ,
প্লাস্টিক কাপড়ে মুরে শবদেহ গাড়ির
সীমিত আয়তক্ষেত্রের আকাশ মুখি বুকের ওপর
মুহূর্তে ইতিহাস হয়ে উদাসী দুলকি চালে চলেছে
হঠাৎ শেষ হয়ে যাওয়া কবিতার শেষ লাইন
ধূসরতার বিষাদ ব্যথা বুকে পংক্তি নির্মাণে,
সে পংক্তির কান্না শোনার কেউ নেই কাছাকাছি
শুধু সবাই জানতে পেরেছে সে মৃত তৈরি করেছে
অসম্পূর্ণ কবিতার একটা যুক্তিহীন অন্তমিল
আর মৃত্যু হচ্ছে কবিতার শেষ পূর্ণচ্ছেদে।

সভ্যতার জাইগোট

নদী তার বিষাদ নৈরাজ্য নিয়ে না ভেবে
মানুষের কাছে সোহাগ চেয়ে
অনুগত হতে চায় সাগরের সহবাসে
চাঁদের চুম্বন পেয়ে জোৎস্নায় তরুণীর
আবেগে মানুষের প্রেমপত্র পড়ে দেখতে চায়
দু পাড়ে জীবনের কোলাহল গলে গেলে
নদীতে মিশে যায় সভ্যতার জাইগোট
মেঘেরা নদীর কাছ থেকে প্রাণ সঞ্চয় করে
ঝরে পড়ে সবুজ ধানে জমাট দুধ হয়ে সহস্র খিদে এক ধারাবাহিক ইতিহাস বুকে
জীবিত মানুষের অহংকার বাঁচে সে নিসর্গ অনুকম্পায়।


কিন্তু

সাঁকোর মাঝখানে এক দাঁড়কাক
ঘার কাৎ করে চেয়ে দেখে
সাঁকোর দু-প্রান্তে শিকারী সময় লেজ নাড়ছে
পেরিয়ে আসা পথ পেরোতে হবেই
যতটা ধুলোঝড় আর কুয়াশা বিছানা পাতুক
স্মৃতি তারাদের চোখে চোখ রেখে
শিশিরভেজা হবে অবাধ্য শরীর রোদের আবাসে
কথারা বিষ আর মধু মুখে নিয়ে ভেসে যাবে
মেঘেদের সাথে ফানুসের পিঠে চেপে
জীবন বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বে সমাপ্তি রাতে
পর্দা নেমে আসবে কুমির কান্না বুকে জড়িয়ে
প্রিয়জন যত ঘুমে কাতর নিজস্ব দিগন্ত রেখায়
শত্রুরা যারা লিখে রেখেছে ডাইরি
এক সাথে বলবে লোকটা ভালো ছিল কিন্তু---।

কবি উদয়ন চক্রবর্তী 
কোন্নগর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ 





























0 Comments