শেকল ভাঙার গানঅভিনন্দন মাইতি নড়ছি না নিজেনাড়াচ্ছি না অন‍্যকেও।সবাই কুঠো রুগী।কখন ঢুকেছে ঘুণ পোকাজানি না নিজেরাও। দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি ফোঁপরা বাঁশ...নড়ছি না নিজেনাড়াচ্ছি না অন‍্যকেও।সবাই কুঠো রুগী।গুমোট বেঁধে আছে ভয়।ক‍্যালেন্ডারের মতো আটকে আছি দেয়ালে।একটু নড়লেইনাড়ানো যেতো কতো কালো শেকড়,ভেঙে খানখান হতো কতো শেকল।দাঁড়িয়ে আছে...
আ-ফোটা দিন বিকাশরঞ্জন  হালদার ছায়াবৃত্তে জেগে থাকে সাঁজধরা মুখ।মুঠোর হাওয়া। মধুর-দৃষ্টিপাত! কবিতার মূর্তি গ'ড়ে নিজস্ব অবুঝ। অক্ষর-পতঙ্গ ওড়ে নদীর খাতায়। তোমার হিল্লোলিত পদচিহ্নে এখনও আ-ফোটা দিন! বড় আশ্চর্য মনে হয়! আমার নিঃশব্দের পৃথিবী জুড়ে শব্দের ছড়াছড়ি! রোদ মাথায় হেঁটে যায় পথিক সময়,প্রাণহীন পৃথিবীর পথে। দ্রষ্টব্য...
তোয়াঞ্জলীসায়ন যদি সময় পাই তোমাকে নিয়ে যাবোপ্রিন্সেপ ঘাটের গঙ্গার ধারেসেই জলে কান পেতে তোমার বুকের ঘ্রাণ নেবোভাষায় লেখা থাক বর্ধমানের অন্নকথাভারতের আলপথ বেয়ে আমি আউশের গান ধরিঅন্নমাতার চুলের কালোয় যে রাত নামেসেখানেই পড়ে দেখো- বিদ্রোহ আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ইস্তাহারতোমাকে নিয়ে যাবো খাজুরাহো শিলার...
রমণগামী মৃত্তিকানবনীতা সরকার লেখার ভেতরে প্রবেশ করলেইকয়েকটা হাত ছেঁকে ধরে আমারগলা থেকে ঊরু...আঘাতে ভেঙে যাওয়া কাঁচ এর মতঝাপসা লাগে চোখ।লেখার ভেতরে প্রবেশ করলেই শুনতে পাইঅসংখ্য ক্রন্দন রোল,চিল চিৎকার,মিটিং মিছিল।তারপর হঠাৎ নিস্তব্ধ চরিদিকযোনির ফাটল থেকে বেরিয়ে আসেনিষ্কাম শীতলতা,দেখি-সন্তানের নাভীতে সদ্য প্রস্ফুটিত আামি, রমণগামীমৃত্তিকা।।কবি নবনীতা সরকার মালঞ্চপল্লী, মকদমপুর, মালদা ...
নাভিজ্বরনিমাই জানানাভি পুড়ে গেলে জ্বরের নিরাময় হয়ে এসো জলপটির উপরনরম আঙ্গুলের স্পর্শে জ্বরের সংক্রমণ উড়ে যাচ্ছে নাভি বিন্দু দিয়েক্রমশ হারিয়ে ফেলছি সকল মায়াময় সংসার যোগছিন্ন হয়ে যাচ্ছে সকল বন্ধন , ঋষির মত যোগাসনে নিমগ্ন আধপোড়া শরীর আমার বগলের তলার পারদ মেপে যায় ফারেনহাইট...
কাঁটাতারইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায়সম্পর্কের প্রলম্ব সাঁকো কে    অনন্তের সঙ্গে বেঁধে দেবার প্রতীক্ষাজ্যামিতিক সকল রেখাকে অতিক্রম করেছে।গীতিকাব্যে ঋতুস্নান সেরেকর্কট ক্রান্তির উষ্ণ আবহে তপ্ত হতে হতেবালিতে পললে ধানের ক্ষেতেমহীনের ঘোড়াগুলি হেঁটে যেতে থাকে।মাঠের পর মাঠ সবুজ ঘাসপাশে বহতা নদী এক চলমান প্রস্তাব যেন প্রেমযার কোন কল্পিত সূত্র নেই ...
মিথ্যাচারীসৌমিত্র চ্যাটার্জীশজারুর সরল ডানার ঝাপটায় খসে পড়ে জিজ্ঞাসু জ্যোৎস্নার মুখোশকান্না শুনে মনে হয় দীপ নিভে গেছে অন্ধকারের পশ্চাতদেশেঅথচ অরণ্যত্যাগী হরিণের কপালে নির্বিচারে ঝলসে ওঠে উৎসবের আগুনতেজস্বী দেবদারুর আত্মার ভিতর অলৌকিক জমকালো মনপথ ছেড়ে নেমে আসা চন্দনের বৃত্ত ছায়ার শপথে ঘেরা নতুন বৃষ্টিপাতেছড়িয়ে ছিটিয়ে...
সরলরেখাসমাজ বসু লিখতে গেলে ঝুঁকতে হয়, ঝুঁকি--আর কখনো কোথাও ঝুঁকতে পারি না, নিষেধ আছে।যেদিকে তাকাই--কত মুখ, মুখোশ আর শিরদাঁড়া পরষ্পরে ঝুঁকেকত কথা বলে-- হাত মেলায়,আর নিমেষেই মিলে যায় তাদের অঙ্ক।--দেখি,আর লিখি--লিখতে গেলে ঝুঁকতে হয়, ঝুঁকি।জানি,এ কোন হাড়জনিত সমস্যাই নয়,শুধু সরলরেখার মত--সর্বদা টানটান ঋজু থাকার...
স্তব্ধ রাত্রির ক্লান্ত অঘরীদেবদত্ত চক্রবর্ত্তীনা নানাকিচ্ছু হতে পারিনি আমি!সেই ছোটবেলা থেকে আজ অব্দিনিয়ম আর শৃঙ্খলে আটকে ছিলামসমুদ্র থেকে দূরে! আর সমুদ্র সরে গেছেনদীর মতো প্রতিদিন দূর থেকে বহুদূরে!স্রেফ কিচ্ছু না হতে পারার সাহসপ্রয়োজন ছিল আমার যা ছিল না আমার কোনকালে!জীবনভর তাই শুধু প্রতীক্ষা...
ভাঙা প্রাণমেঘনা রায় নেড়েচেড়ে দেখি,রাতের গায়ে আরও রাত নামেখুদে খুদে ইউফো উড়ছে দক্ষিণে বামেওপরের দিক স্তব্ধ ও স্থির স্বপ্নের মতো গোলকিংবা পৃথার মতো তুলতুলে কাম জর্জর বিপুলস্বপ্নও তো ভেঙে লক্ষচির হয়; নাও ভাঙে যদিকুয়াশার ভেতর হারিয়ে যায় নিরবধি নদীনেড়েচেড়ে দেখি ঘুম গুলি নক্সাদার,বৃত্তাকারছানাছানি করিসুষুন্মা...
পরিবর্তনস্বপন জায়দারনিকোনো মাটির উঠোনে সকালে,এসে পড়তো রোদ আমার প্রিয় চণ্ডীমণ্ডপ।গফুর চাচা এসে পালা বাঁধত 'প্রতিশোধ '।জেলেপাড়ার হরেন সাজতো জমিদার গিন্নি,বামুনপাড়া ডাক্তার কাকা তার আত্মঘাতী মেয়ের হারমনিতে কর্নসাটের তাল খুঁজতো। চরণদাস আসরের শেষ মাথায় বিবেকের সুরদিত ভাসিয়ে,-বিবর্তনের আলোয় আজ বড়ো নিশান উড়ছে বাতাসেগফুর তুমি ভিন্নধর্মী,জেলেপাড়ার হরেন...
আমি একুশ দেখিনিস্বপঞ্জয় চৌধুরীআমি একুশ দেখিনিদেখেছি এর বর্ণমালার জ্বলজ্বল তেজদীপ্ত ঔজ্জ্বলতাআমি একুশ দেখিনিদেখেছি শহীদ মিনারের মাথা উঁচু করে সূর্য ছোঁয়ার অহম। এখানে রাত ছিল ফাগুনের মধ্যরাত লাল-লাল শিমুলের পাপড়িগুলো বিছিয়ে ছিল থমথমে মখমল রাজপথ।আমি একুশ দেখিনিদেখেছি বঙ্গশিশুর প্রথম কথার বুলি অ-আ-ক-খ, নিঃসঙ্কচে সাদা বলাকার মেঘে ওড়াওড়ি।আমি একুশ দেখিনিদেখেছি বৃষ্টির শব্দের মতো কি এক স্নিগ্ধ মূর্ছনা ছোট্ট বালিকার পায়ে প্রথম ঘুঙূরের ঝঙ্কার খালি পায়ে সৈকতে হেঁটে চলার শিহরিত মূহুর্ত।আমি একুশ দেখিনিদেখেছি সহসা জল্লাদের মতো কিছু হাত-পা-চোখ কণ্ঠ থেকে কণ্ঠকে জীবন থেকে জীবনকে আর স্বপ্ন থেকে স্বপ্নকে কেড়ে নেয়ার বর্বরতা। এখানে রাত ছিল গুমোট অন্ধকার রাত রফিকের, সালামের, বরকতের রক্তভেজা শার্ট আর মরা বাড়ির মতো থমথমে শহর।আমি একুশ দেখিনিদেখেছি নদীর জল কেটে কেটে এগিয়ে যাওয়া স্টীমারের ভেঁপু। স্বচ্ছ জলের ভেতর ছোট ছোট মাছের খেলা।আমি একুশ দেখিনিদেখেছি মাথা উঁচু করে বিশ্বকে ছোঁয়ার আহবান শিশুর হাতে স্লেট কৃষকের হাতে লাঙ্গল আর দলছুট বালকের হাতে ঘুড়ি-নাটাই। এখানে রাত ছিল মাংসপোড়া অভিশপ্ত বসন্তের রাত এখনও রাত আসে তবে তা শুধুই প্রতীক্ষার শুভ্র সকালের।    কবি...
কাল সিন্ধু শুভজিৎ দাস"আর্সেনিকের আলো হেঁটে যায় উড়ে যায় দৃশ্যেরা ,আয়নার নীচে দারিদ্র্য ধরা পড়ে উবে যায় ধোঁয়াটে কাব্য ,ফেয়ারনেস ক্রিমের উজ্জ্বল্য বাষ্পাকারে,দৃশ্য পটভূমির পর্দায় নাচে পুতুলেরা রাঙা ফুলের সুবাসে ঢেকে দেয় বাসি হলুদ ফলেরউদ্ভাস ;আমি- তুমি হাসি ছেলেখেলা - ছায়া খেলায় বাস্তুতন্ত্রের বিবর্তনকে নিয়ে,অর্বাচীন মস্তিষ্কে ক্ষুধাকে আঁকি চেয়ে...
হাতসুজিত রেজএই হাত নীরার মুখ ছুঁতে পারে নাএই হাত শুধু পীড়া দেয় পীড়া--- অনন্ত যন্ত্রণা এই হাত অন্ধকার লুফে নেয়আরও গভীর অদ্ভুত জীবনানন্দীয় অন্ধকার                                         ...