
শব্দময় মানুষের সারি
আগুন রাতের হাহাকার শুনেছিল বাহার শুনিয়া গাঙ--
শ্মশান মশানের রাহাজানি রাজপথ ছেড়ে চলে রাজভবন,
যা কিছু দলিল দস্তাবেজ সরগরম গনগনে আঁচে---
সমুদ্রের লোনা জল জানে অন্ধকারের গ্রাম রাত জাগে
মোটা চাল ভাতে শাকে আধোঘুম পুড়ে মরে ঘর পোড়া সুখে।
বড় ভয় হাড় মড়মড়ি সময় দাঁত ঘসটানি ক্রোধের শাসানি
ঘাম রক্তের স্বপ্ন ঝরেছে জানে বোরো ধান শীষে শিশির বিন্দু,
কে যেন বলেছিল কেবলই ক্ষরণ জানে ফেলে আসা হিংস্র জনপদ
শহীদ স্তম্ভের পাদপীঠ জানে করুণ দৃশ্যের সম্ভ্রম ভালোবাসা,
ঋতু বদলের মায়া প্রদীপের আলোয় কাঁপে সিংহাসনের ছায়া।
দিনের জোয়ারের রোদ বোঝে বেলা শেষে গোধুলি রঙের খেলা
ফিরে আসা উঠোনে অপেক্ষায় ম্লান চিহ্ন ভালোবাসা,
নিটোল বুকের ভারী নিঃশ্বাস জানে আকালের হাহাকার---
তবু্ও আকাশ জানে মেঘের সমাগম মাটির অঙ্কুর টানে
কবরে শ্মশানে কোথাও তো কেউ নেই কেবল বাঁধা জীবন আলিঙ্গন।
ভেজা মাটির গন্ধে শেকড়ে তখন মৌসুমি বাতাসের টান---
গাছে ফুলে পাতায় শাখায় চেনা সব পাখিদের আবাহনী ডাক,
হা-হা হৃদয়ের কথা গানে কান্নায় না ফেরা মুখের সারি
জঙ্গল মাটি পাহাড় নদী প্রসন্ন পরাগে জাগে আলোর মানুষ ---
নিশ্চয় দাঁড়িয়ে শব্দময় মানুষের সারি সকল চৈতন্যময়।
0 Comments