
বিমল মণ্ডলের অণুগল্প
পার্থক্য
অনুরূপা সারাদিন সংসার আর সতীনের একটা ছেলের ভালো- মন্দ নিয়ে সারাদিন কাটায়।সতীনের ছেলেটার বয়স প্রায়ই উনিশ। স্বামী নিখিল প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। অনুরূপার একবছর হলো বিয়ে হয়েছে।তার নিজের কোনো ছেলেপেলে হয়নি এখনও। সংসারের সদস্য বলতে এই তিন জন।সতীনের ছেলে অর্থাৎ আকাশ কলেজে পড়ে।
নিখিল বউ মারা যাওয়ার পর বড্ড বাউণ্ডুলে হয়ে গিয়েছিল। ছেলের ভালো মন্দ কিছুই সে খবর রাখত না। সারাদিন স্কুলে না গিয়ে আজেবাজে নেশাও করতো। পাড়ার সরকার- গিন্নি একদিন ডেকে বলল,' নিখিল তুই বিয়ে করবি? ভালো মেয়ে আছে।' নিখিল চুপ করে শুনে আবার বাড়ি চলে আসে। তারপর নিজের থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়,শুধু ছেলেটার মুখের দিকে চেয়ে।
অনুরূপা শিক্ষিতা। অনাড়ম্বর ভাবে বিয়ে হয়।আকাশও বেশ খুশি নতুন মাকে পেয়ে।অনুরূপার বয়সও খুব একটা বেশি নয়। বাইশ কিংবা তেইশ বছরের মতো হবে। সারা পাড়ায় নিখিলের বউয়ের সুনাম ছড়িয়ে গেল।
অনুরূপা স্বামীর খেয়াল যতটা রাখে তার চেয়ে বেশি খেয়াল রাখে তার ছেলে আকাশের। তাই পাড়ার কেউ কেউ বলে থাকেন,' নিখিলের বউ বেঁচে থাকলে এতো আদর পেতো না আকাশ।' আকাশও অনুরূপা কে পেয়ে হাসি খুশিতে থাকে।
সাম্প্রতিক করোনা আবহে আকাশে হঠাৎ জ্বর আসে। নিখিলেরও উপসর্গ বিহীন করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে।অনুরূপা দু'জন কে বেশ চিন্তিত। নিখিল ১৪দিন বাড়ির মধ্যে আলাদা থাকলেও আকাশ কিন্তু অনুরূপার কাছেই থাকলো। কারণ তার রিপোর্ট আসেনি বলে।তা ছাড়া অনুরূপা আকাশকে ছাড়া এক মুহূর্তে থাকতে পারে না।
দু'তিন দিনের পরেও আকাশের জ্বর কমার লক্ষ্মণ দেখা গেল না।পাড়ার লোকেরা বাড়িতে আর আসে না। নিখিল একদিন ছেলেকে দেখতে এসে অনুরূপা আর ছেলের মধ্যে আদর আর মুখে আনন্দের হাসি দেখে নিজের ঘরে গিয়ে আকাশের মায়ের ছবি বুকে জড়িয়ে কাঁদতে থাকে।



0 Comments