
শ্রীপর্ণা দে'র অণুগল্প
উত্তরসাক্ষী
বৃষ্টি মুখরিত রাতের রাক্ষুসে অন্ধকার যেন সারা পৃথিবীকে গ্রাস করতে আসছে।শোবার ঘরের জানালার পাল্লাগুলো সশব্দে খুলে সজোরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঠিক যেন অপ্রয়োজনীয় লোকের মুখের উপর গৃহস্বামী যেভাবে দরজা বন্ধ করেন ঠিক সেরকম।মেঘের গর্জন আর বেসামাল ঝড়ে পূর্বার ঘুমটা হঠাৎ ভেঙে গেল।এরকম এক দুর্যোগের রাতে পূর্বা চার বছর আগে ডেঙ্গুতে তার স্বামী জয়কে হারিয়েছিল। জয় মারা যাবার পর সে ঘন অন্ধকারকে ভীষণ ভয় পায়।এই বুঝি কোনো অঘটনের অশনি সঙ্কেত।পূর্বা জানালা বন্ধ করতে গিয়ে বিদ্যুতের ঝলকানিতে অদূরে কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে লোকটিকে দেখে অস্ফুট কণ্ঠে বলল-‘প্ৰদ্যুত!’
কুড়ি বছর আগে সে বাবার মুখে শুনেছিল যে কোনো এক দুর্ঘটনায় প্ৰদ্যুত মারা গেছে। এত বছর পর সমাজের কাছে নাম হারিয়ে প্রদ্যুত এখন বদ্ধ উন্মাদ পদু। সে নিজে নাম হারালেও তার হৃদয়েই স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে পূর্বার নাম।
সাহিত্যিক শ্রীপর্ণা দে
কান্দি, কলাবাগান, মুর্শিদাবাদ



0 Comments