বিশ্বজিৎ করের অণুগল্প


স্বাধীনতা! 

আজ একটু তাড়াতাড়িই শুয়ে পড়ল সুগত, কাল একেবারে ভোরবেলায় চলে যেতে হবে ক্লাবের মাঠে! ফুল দিয়ে সাজানোর ব্যাপার আছে, এ ব্যপারে সম্পাদক মশাই সুগত ছাড়া কারুর কথা ভাবতেই পারে না! শুতে যাওয়ার আগে বৌদি -কে একটু মনে করিয়ে দেওয়া -"বৌদি, নেতাজী-র ফটো রেডি রাখবে"!

একেবারে ঘড়ি ধরে ৬টার আগেই মাঠে চলে এল সুগত, বংকিম ফুল দিয়ে গেল, পতাকা উত্তোলন -মঞ্চ ফুলের সাজে অসাধারণ রুপ নিল সুগত'র শৈল্পিক ছোঁয়ায়! 
ক্রমশঃ ভিড় বাড়তে লাগল, কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণের জন্য কচিকাঁচাদের সে কি উৎসাহ! সকলেই প্রায় উপস্থিত, শুধু পতাকা উত্তোলনকারীর দেখা নেই! সুগত ভাবছিল যে এমন গণ্যমান্য ব্যক্তির দল সুদৃশ্য মঞ্চ থেকে নিয়মানুবর্তিতার উপর কতই না লম্বাচওড়া কথা বলেন! নির্দিষ্ট সময়ের থেকে আধ ঘন্টা পেরিয়ে গেল, উপস্থিত সকলের মধ্যে বিরক্তি শুরু হয়ে গেল! 
সুগত দৌড়ে এসে সম্পাদক মহাশয় -কে বলল-"কি ব্যাপার, বিশু দা! নেতা তো এখনও এলেন না! "
বিশু দা বললেন-" আরে ওনার আজ কত প্রোগ্রাম! একটু তো দেরি হবেই! "
"একটু? ঘন্টাখানেক হয়ে গেল! "
কড়া রোদে কচিকাঁচাদের মধ্যে ছটফটানি শুরু হল। 
সুগত হঠাৎ রিকশাস্টান্ডের সামনে এসে  মাখন দা'কে ডেকে নিল,   প্যাসেঞ্জার-এর আশায় বসেছিল! মাখন দা'তো রীতিমতো নার্ভাস, "আমি পতাকা তুলব?  এত বাবু আছেন তো! "
সুগত হাত ধরে টানতে টানতে বলল-"তুমি তো দেশের নাগরিক, কেন তুলতে পারবে না? "
ঘটনার আকস্মিকতায় সকলে তখন হতবাক! 
পতাকা সাথে  সাথে  গগনভেদী চিৎকার.....
"বন্দেমাতরম "!

গল্পকার বিশ্বজিৎ কর
দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান 















0 Comments