পার্থ সারথি চক্রবর্তী'র অণুগল্প

 

স্বাধীনতা স্যার

অভিজিৎ গ্র্যাজুয়েশন করে স্কুল পরিদর্শকের চাকরি পায়। বীরভূমের এক প্রত্যন্ত সার্কেল । সাতটা স্কুলের মধ্যে দু'টোতে ছাত্রসংখ্যা নগন্য।বাকিগুলোতে চলনসই।তবে শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে ।এই সার্কেলে তিন বছর হলো।গত দুবছর অভিজিৎ ১৫ই আগস্টে একটা কাজ করছে ।সার্কেলের সবগুলো স্কুলে সে স্বাধীনতা দিবস পালন করে । এক নতুন আঙ্গিকে । সকাল সাতটায় শুরু । জাতীয় পতাকা উত্তোলন,জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া। প্রায় প্রতিটি স্কুলে ছবি আঁকে,ছড়া বলে বাচ্চারা। গোটা গ্রাম হাজির হয়। যেখানে বাচ্চাদের গায়ে জামা নেই,পেটে খাবার নেই,তারাও মেতে ওঠে।অন্য আনন্দে। যে যেমন পারে অংশগ্রহণ করে ।একা হাতে সামলায় অভিজিৎ ।উৎসাহিত করতে পুরস্কার দেয়- খাতা,  পেন্সিল,  রংতুলি । সবশেষে একটু পেটপুরে খাওয়া । শিক্ষকরাও সাহায্য করে । গতবছর অভিজিৎ  চমকে উঠেছিল বাচ্চাদের 'ক্ষুদিরামের ফাঁসি' নাটক দেখে ।


বাচ্চারা আজ জানে এই দিনটায় ২০০ বছরের ইংরেজশাসনের সমাপ্তি হয়েছিল অনেক দেশবাসীর রক্তের মূল্যে । ওদের কাছে স্বাধীনতার কোন বিশেষ অর্থ ছিল না!  বাবা-মা ক্ষেতমজুর , ছোট কারখানার শ্রমিক।দিন আনতে পান্তা ফুরায়! তাই অভিজিৎ আজ ছাত্রদের কাছে ' স্বাধীনতা স্যার '। সেদিন তারা ছুটে বেড়ায়। আনন্দ করে। পেটপুরে খেতে পায়।
দিনশেষে অভিজিৎ ঝাঁঝরা,  তবে দেহে। মনে অসীম তৃপ্তি ! ২৮ বছরের জীবনে বাচ্চাগুলোর হাসি তার পরম প্রাপ্তি ।স্বাধীনতা দিবসের উপহার !ছোটবেলার কথা মনে পড়ে !
এবারে কি হবে ! অজানা রোগে বিশ্ব ত্রস্ত । স্কুল বন্ধ। কি করে বাচ্চাদের উপহার,খাবার পৌঁছে দেওয়া যায়! 
তন্ময় হয়ে ভাবতে থাকে।

     গল্পকার পার্থ সারথি চক্রবর্তী 
কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ 














0 Comments