
সমাজ বসুর অণুগল্প
দুর্ঘটনা
একেবারে অফিসটাইমেই তিন মাথার মোড়ে দুর্ঘটনা।বিরক্তি,ক্রোধ আর হিংসা এক্ষুনি ঝাঁপিয়ে পড়বে। ইতিমধ্যেই ইঁটবৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। ঘাতক বাসের উইন্ডস্ক্রিনের কাঁচ ঝনঝন।
চোখের সামনে দু দুটো প্রাণ যাওয়ার আশঙ্কা।গণপ্রহার শুধু সময়ের অপেক্ষা। রঘুদার যা শরীরের অবস্থা। বেশিক্ষণ সইতে পারবে না।আহত ছেলেটার শরীরও রক্তে ভেসে যাচ্ছে। এইভাবে আর কতক্ষণ?
--- আপনারা শান্ত হোন।চোখের সামনে ছেলের মৃত্যু কি কোন বাবা সইতে পারে? আপনারাই বলুন।
--- তার মানে? সমবেত প্রশ্ন উড়ে আসে।
--- ড্রাইভার রঘুদা তার নিজের ছেলেকেই আঘাত করেছে। আগে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর বন্দোবস্ত করুন। তারপর পুলিশ যা করার করবে। কাতুনের কথায় পাবলিক থমকে গেল।
অনিচ্ছাকৃত মিথ্যার আশ্রয়ে,দু দুটো প্রাণ আজ বাঁচিয়ে দিল,কাতুন। ঘাতক বাসের নিতান্তই সাধাসিধে এক কন্ডাকটর।



0 Comments