কাজী সামসুল আলমের অণুগল্প

 


স্বাধীন ও স্বাধীনতা

আশিস বিকালে সবজি নিয়ে বসেছিল পিচ রাস্তার ধারে। সবজি বিক্রির ফাঁকে সময় করে কাছের  বই দোকান থেকে একটি তিরঙ্গা কিনে এনে ঘুছিয়ে রেখেছে। বেশ বড়,  সাড়ে চার বাই তিন ফুট, একশো কুড়ি টাকা নিল। সে হোক, তাতে আশিসের কিছু মনে হয় নি। ইতিহাসের ছাত্র সে, স্বাধীনতার যুদ্ধে কত ভারত সন্তান শহীদ হয়েছে, অত্যাচারিত হয়েছে, তাঁদের জন্য দেশ স্বাধীন হয়েছে, তাঁদের শ্রদ্ধা জানাতে এইটুকু খরচা তার গায়ে লাগবে না। যখন মুম্বাইতে কারখানায় সুপারভাইজারের কাজ করত, গত বছর এই দিনে ও ভাষণ দিয়েছিলো, সবাই খুব তারিফ করেছিল ওর, যতই হোক ইতিহাসে এম এ।  বছর দুই অনেক চেষ্টা করেও একটা চাকরি যোগাড় করতে না পেরে রফিকদার সাথে ও মুম্বাই চলে গিয়েছিলো।  রফিকদা বায়োলজিতে এম এস সি, সে ঐ কারখানার অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার।  মহামারীতে রফিকদা বলল, চল আশিস বাড়ী পালিয়ে যায়, মরলে দেশেই মরবো, সেই তো কারখানা বন্ধ, মালিক বেতন দেবে না।  জমানো টাকা থেকে সবাই মিলে পিঁয়াজের লরিতে করে ফিরে এসেছে, আর ওখানে যাবে না। কোনোভাবেই সংসার চলছে না, অগত্যা সবজি ব্যবসা, লজ্জার মাথা খেয়ে পিচ রাস্তার ধারে ফুটপাতে পসার সাজিয়ে বসা । 

বায়োলজিতে এম এস সি, রফিক ভ্যানে করে পাড়ায় পাড়ায় মাছ বিক্রি করে এখন, রফিক এসে বলল, "কাল ক্লাবে পতাকা তুলবে, তুই একটা জমিয়ে ভাষণ দিস।" সবজি গোছাতে গোছাতে আশিস বলল, "রফিকদা, তুমি আমার বাড়ী এসো,  উঠোনে পতাকা তুলবো, তুমি ভাষণ দিও, স্বাধীনতার এবং স্বাধীন ব্যবসার।"

  গল্পকার কাজী সামসুল আলম 
বাসুদেবপুর, পূর্ব মেদিনীপুর 


















0 Comments