নির্জন উত্তম দেবনাথ বন্য দুটো পাখি খুলে হৃদ-আঁখি ছিল মুখোমুখিনিভৃত গভীর অরন্যের শুনে নিবিড় ডাকাডাকি।সবুজ ঘাসের দেশ অভিসার নেশায় আনমনে,হঠাৎ শুকনো পাতার শব্দ, সব যেন শব নিস্তব্ধ।লজ্জাবতী একান্ত গোপনে মেলে ধরেছিল নিজেকেপ্রজাপতি এসে চুমু খেয়ে কানে কানে বলে গেলনীরবে সব কথা বলা গেলো না গো...
সমাধি পিঙ্কি ঘোষতোমার ইচ্ছের মহা মিছিলেভাসিয়ে নিয়ে চলেছো আমায়।আমিও দ্বিধাহীন অনুগামিনীরমতো তোমায় অনুসরণ করেছি।হঠাৎ পিছনে ফিরে দেখি-শত সহস্র সমাধি।প্রশ্ন করি, কাদের সমাধি?তুমি নীরব, কেবলই সামনেচলার মত্ত উন্মাদনা তোমার।চেয়ে দেখি, প্রতিটা সমাধিআমারই মৃত ইচ্ছের।তোমার ইচ্ছের স্রোতে ভেসে,তোমার ইচ্ছেদের কাছেমৃত্যু হয়েছে আমার ইচ্ছেদের।হত্যা করেছি আমার আধফোটা...
কল্পনা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ছুঁয়ে আছি লুব্ধক, কষ্টিপাথর আনন্দ দুঃখশোকে ক্ষয় নেই যারশুধু অখন্ডতাদু'চোখের গ্রহতারা থেকে নীলাভ শঙ্খধ্বনিঅদূরে অপেক্ষমান আমারই দুয়ারে মৃত পালকের উৎসর্গে পীতবাস সূর্যের ভাসানএসেছিলাম খুঁজে নিতে অসম্ভবের রীতিনীতি দিনের মত ফুরিয়ে এসেছে দৃষ্টিনিয়েছি তরলের আকারকাশফুলের রোঁয়ার মত হাওয়ায় উড়ে উড়ে অন্তর্জাত জানালাগুলো খুলেছে নাকি ভেবে দেখামনের মধ্যে...
বন্দর-বিষয়কঅভীক মুখার্জ্জীবন্দর জুড়ে কান্নার ফুল ফোটেবাতাসের স্বাদ সামুদ্রিক ও নোনানিখোঁজ নাবিক সময়ের পথে হাঁটেফেরার জাহাজ রাস্তা চেনে না। নোঙর শুধু মৃতদেহেই মানায়আমরা আবার মেঘ ভেঙে পথ হাঁটিবন্দর ধূসর শূন্যতা শুধু শানায়আমরা কেবল সমুদ্র-উৎসবে মাতি। কবি অভীক মুখার্জ্জী                 আড়িয়াদহ,...
সুজিত রেজের চারটি কবিতা সত্যকেউ খোঁজে না আমাকে।আমি নিজেই নিজের নিরুদ্দেশ প্রাপ্তির                                            খবর ছড়িয়ে দি।কেউ বোঝে না আমাকে।আমি নিজেই নিজেকে বোঝাই          ...
হরিণী অজিত কুমার জানা চঞ্চল তনু মন,আঁখিতে অশান্ত ঘূর্ণি।কাঁপে সবুজ বন রক্তে ছুটে হরিণী।।আকাশের পাড় ভেঙে,মেঘ ঢুকে নীলিমায়।কৃষ্ণচূড়া ঠোঁট রাঙে ঘুম নেই বিছানায়।।ভালবাসার ময়দান ছুটে কোথা যায় হরিণী।আঁখিতে  গোলাপ ফুটে কেঁদে মরে ফুলদানি।।কবি অজিত কুমার জানা কোটরা, হাওড়া, পশ্চিমব্ঙ্গ ...
শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অণুগল্প অবাধ্য স্কুলে পড়ার সময় ঠিক হাঁটুর ওপর পর্যন্ত খাটো স্কার্ট পরার শখ হয়েছিল। মা বাবা দুজনেই না করে দিলেন। একটু বায়না করায় বাবা সোজা থাপ্পড় কষিয়ে বলেছিলেন, "এত অবাধ্য কেন? অসভ্য মেয়ে! ছেলেদের অ্যাটেনশন চাই, তাই না?"এমএ করে একটা ছোট চাকরি পাওয়ার...
মৌটুসী ঘোষের মুক্তগদ্য প্রিয় কাঞ্চনজঙ্ঘাতোমায় প্রথম দেখেছি আমি-আমার অনেকটা বেশি বয়সে,তখন স্পর্শ করা গেলেও সঙ্গী করা যায় না! তাই তো বারংবার ছুটে আসিতোমার কাছে- তোমায় একটু দেখবো বলেঅথবা আমাকে তুমি দেখবে বলে!পাইন বনের আড়াল থেকে তোমায় প্রথমএকাকী দেখেছিলাম রিশপ থেকে-খুব খুব কাছে পেতে ইচ্ছে করেছিল!রক্তিম বর্ণের,সোনালী...
মাইলফলক লক্ষ্মণ দাস ঠাকুরামাইলফলক গুলো ছুটে আসছে জিরো পয়েন্টে একা আমি,পিছনে গভীর গিরিখাত।পৃথিবীর পথে ক্লান্ত পথিক, এতদিনের দেওয়া নেওয়ারহিসাব-নিকাশ রাখছিলামঅনুচ্চারিত শব্দে অনন্ত নীরবতায়।কিছু মনগড়া সংখ্যা ছুঁড়ে ফেলতেই শুরু হলো দৌড়।কাঙ্খিত হাত মাথার উপর উধাও আজ।নিঃশব্দে কোলাহলে ডুবতে ডুবতেক্রমশঃ ভুলে যাচ্ছি জীবনের চুক্তি।শকুনের উড়ে যাওয়া ছায়ায়ছুটতে ছুটতে হয়ে...
বিশ্বাস চয়ন কুমার রায় প্রগাঢ় নৈঃশব্দের ও গভীর অন্ধকারেনিমজ্জিত, নৈরাশ্যের মাঝেপ্রাণের সন্ধানে ফেরো, অন্তহীন প্রত্যাশায়।অনাদি কালের বাণী কান পেতে শোনোঊষর প্রান্তর আর নিশ্ছিদ্র শিলাভূমিতেওজীবনের অঙ্কুরোদ্গম অসম্ভব কিছু নয়।জীবন- প্রদায়িনী স্রোতস্বিনী কুলু- কুলু রবেআশার সঞ্চার করে এক বার্তা দিয়ে যায়,সব জঞ্জাল মুক্তকরো, সব পাপ ধুয়ে ফেলো।পৃথিবীর...
রাগীব আবিদ রাতুলের তিনটি কবিতা সংসারে সন্ন্যাসীঅনন্ত সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে উঠেছি একা হতে,আলাদা হয়েছি যখন সব কোলাহলে,সেখানেও পিপড়ার চুপিসারে চলা–রাতেসবই হয়ে যায় ম্লান,সব ভিড়ে কি আর হারাতে পেরেছি তাকে।রাস্তা পারাপারে কুকুরেরাও সজাগ থাকে,আমিও ছিলাম সেখানে,পারিনি তো ভাবনায়বাতাস হতে,বেঁচে যেতে চাই আমিও সব মৃত নদীর...
স্নান-দৃশ্যমুক্তি দাশ নীল রং সব উধাও! আকাশেমেঘেদের সে কি কম ভীড়!গর্জন শুনে বেশ বোঝা যায়,আকাশ বড়ই গম্ভীর।রিম-ঝিম-ঝিম টাপুর-টুপুর,বৃষ্টি কত না ছন্দে!ভরদুপুরে‌ই ঘনালো আঁধার-ভ্রম হয়, বুঝি সন্ধে!পাখপাখলিরা ভিজেই একশা-সাড়া নেই, বুঝি গাঁ-ছাড়া!উঠোন-নদীতে কাগুজে নৌকোভাসিয়েছে কচি-কাঁচারা।স্নানঘরে যেন শাওয়ারের নিচে চানে রত সারা বিশ্ব-মনের গভীরে গাঁথা হয়ে থাকএই...
হাত ইন্দ্রাণী পালএবছর যত চেনাজানা আছে সব শেষ হবে।আমরা আবার আদিম হাতের স্পর্শে                                                        জেগে উঠবো।শরীর জুড়ে আলোর...
যদি ফিরে আসি দীপক বেরা যদি ফিরে আসি আবারপ্রবহমান গঙ্গা-পদ্মা খরস্রোতা হবেদু'পারের পলি-বিধৌত মাটি উর্বর হবে আবার। যদি ফিরে আসি আবার রিক্ত-জীর্ণ পাতায় ক্লোরোফিল ঢেলে এঁকে দেব ক্যানভাসে সবুজ আদিগন্ত চরাচর।যদি ফিরে আসি আবার নেশাগ্রস্ত নিশাচর রাতের ভয়াবহতায়শুষে নেব সন্ত্রাসের বিষাক্ত বারুদগন্ধ বাতাস। যদি ফিরে আসি আবার জলফড়িং প্রজাপতির রঙিন ডানায়এনে...
সুদীপ্ত বিশ্বাসের তিনটি কবিতা বাক্যহারা ১রাতদুপুরে আসছে উড়ে একটা দুটো স্বপ্ন পাখিহারানো সেই সোনালি দিন, এখন একে কোথায় রাখি!আবছা আলোয় চমকে দেখি সেই যে তুমি মেঘের মেয়ে কলসি নিয়ে দুপুরবেলা একটু দুলে ফিরছ নেয়েহাল্কা রঙা কল্কা শাড়ি,দুলছে বেণী ইচ্ছেমত স্তব্ধ চোখে থমকে থাকি,আরে এটাই সেই ছবি...