রিসাইকল বিনঅসীম বিশ্বাস উফ্ আর পারি না !ল্যাপটপে গোঁজা মাথাটায়মেমোরি প্রায় ফুল,অফিসের ওয়ার্ড ফাইলেজীবন যেন পদ্মপাতায় জল!প্রিন্টারের কালো কালিতেছাপা বিবর্ণমুখ !উইন্ডো'টা খোলা আছে,এক ঝরোখা মিষ্টি হাওয়া-আসে ঐ পথেই।কি-বোর্ডে আঙুলের আলতো ছোঁয়ায়ভেসে ওঠে স্ক্রিনে সিক্ত উষ্ণ অধর।গলায় লিপস্টিকের দাগহাই লাইট হয়,ভেজে মন, ভেসে ওঠে প্রেম।সিপিইউ'এ...
অনিন্দ্য দত্ত'র দুটি কবিতা নশ্বর ১সময়ের সূক্ষ দাগ পড়েসুন্দরের মুখের উপরে একলব্য শিষ্য তারঅবিরাম ধনূর্বিদ্যা অভ্যাস করেতরুশ্রেণী মেলে পাখাভোরের বাতাস হানে চুমসতত কুন্ডলীকায় প্রাগূষারআধোভাঙা ঘুমপ্রত্যুষের হিমনীলে,নীরব,নিঃঝুম।তেল পোড়ে অবিরাম,নিরন্তর উন্মাদ নাচে রাধাজীবিতের,জীবনের তীক্ষ অক্ষরতালে বাঁধা বাঁধা পড়ে স্বর্গ মর্ত্য বাঁধা পড়ে চতুর তস্কর আরব্য সাগর তীরে পুড়ে যায় জীবন নশ্বরনশ্বর...
রবি চরণেবিমল মণ্ডল আজও তুমি চোখ বুজে অধোমুখেতুমিহীন এই পৃথিবীর ব্যস্ততার মাঝে সারি সারি শবের চিতার কিনারে কিনারেতোমার প্রতিক্ষায় শব্দের সংগোপন রক্তাক্ত নক্ষত্রের নীচে আমাদের ভুল ক্যাম্পাস যেখানে অসীমের অনাবৃত হলঘরে উপভোগ করি কয়েকটি বারমাসতোমার কবিতার পরে,তোমার গানের পরে,তোমার ছবির পরে... আরও কত কত সব...আজ টিকটিক করে ঘড়ির...
লক্ষ্মণ দাস ঠাকুরার চারটি অণুগল্প হিমুধড়াম করে বার দরজাটা খুলেই একুশ বছরের টগবগে দেবেশ মাথায় গামছাটা বেঁধেই মোল্লা পাড়ার দিকে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুট।-আগুন আগুন তারস্বরে শুধুই চিৎকার। ধোঁওয়ায় আটকে পড়া রহিমের বাঁচাও বাঁচাও আর্তনাদ।ভয়ার্ত এক বিভীষিকা পরিবেশ।কোনো কিছু না ভেবেই দেবেশ গামছাটা মুখে বেঁধেই আগুন মাড়িয়ে...
ঈশ্বর,তুমি সব জানোপার্থ সারথি চক্রবর্তীঈশ্বর, তুমি সত্যিই সব দেখতে পাও!তুমি দিগন্তে এঁকে দিয়েছিল-একফালি চাঁদের মত এক টিপমায়ের ছেঁড়া আঁচল দিয়ে ।ধুলোর সাথে কখনো ভেসে আসে         পোড়া মনের গন্ধ  বা        পোড়া দেহের দুর্গন্ধ!ঈশ্বর, তুমি সব শুনতে পাও!প্রাণখোলা অট্টহাসির...
লাশসোমনাথ বেনিয়া নিরাময় একটি হোমের সর্বময়কর্তা। সেই হোমের কেয়ার টেকারের নাম প্রফুল্ল। হোমটা অনাথ মেয়েদের নিয়ে তৈরি হয়েছে। তাদেরকে আত্মনির্ভর করাই নিরাময়ের লক্ষ্য এবং এই কাজে সে যথেষ্ট সফল। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুদান আসে এবং তা পরিমাণে যথেষ্ট। এটা প্রফুল্ল জানে। প্রফুল্ল এটাও...
উত্তম কুমার মণ্ডলের কবিতা জীবনের ক্যানভাসকোন তুলিতে, কোন রঙে, কোন সরল বা বক্র টানে আঁকি এই অজানা আকাশ। যার দিকে চেয়ে চেয়ে দিন যায়। চাহিদা আর অপ্রাপ্তিতে ছেয়ে থাকে ধূসর ক্যানভাস। ঘোর কাব্যিক মোড়কে উন্মত্ততা আসে কদাচিৎ। কবিতার ছোঁয়া তবু অধরা হাতে। কী চাই......
নিয়াজুল হকের কবিতা বিস্ময় প্রকাশ আমরা ভুলে যাই মানুষের ভেতরেও অধস্ত্বক থেকে কঠিন পাথরের জন্ম হয় তার আত্মপ্রকাশের আগে আমরা জন্মতিথিহীন উদাসীন থেকে যাই শুধু পাহাড়-পর্বত এবং হিমালয়ের সামনে দাঁড়ালে আমরা বিস্ময় প্রকাশ করিকবি নিয়াজুল হক বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়া, ক্ষুদিরাম পল্লী, পূর্ব বর্ধমান  ...
অলৌকিক শরীর সুপ্রভাত মেট্যাক্রমশ বিকেল,ঠান্ডা লাগিয়ে গুটিয়ে নিচ্ছে আলো।অল্প সময় কথা হচ্ছে।হলুদ রঙে ধুলো পায়ে ম্লান বালক ফিরে আসছে,ধূসর লোক এবং রাস্তা সম্বন্ধীয় চুপ ক্রমশ বাড়ছে,সম্পর্কহীন,স্পর্শশূণ্য...হারিয়ে যাচ্ছে আলো।বালিকা মেয়ে কম্প হতে মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে ঠাকুর নম করছে। পড়া - বই এগিয়ে আসছে দাওয়ায়।এখন শীতকালীন...
শুভজিৎ দাসের অণুগল্প তাৎক্ষনিক"আগুন্তুক আগুনের অঙ্গার গুলো এখনো জ্বলে উঠছে ক্ষনে ক্ষনে লড়াই করে যাচ্ছে জলের সাথে তার শেষ স্ফুলিঙ্গ দিয়ে।"নিউজ চ্যানেলের কভারেজ এখন প্রায় শেষ হয়ে গেছে,দমকলের আরেকটা ইঞ্জিন এসে গেছে হাওড়ার নিকটবর্তী একটি চটকল লাগোয়া বস্তির নিভে আসা লেলিহান অগ্নিশিখার তেজ মেটাতে,যা...
কবিতার বর্ণহীন মানুষেরানিমাই জানা অমনোনীত কবিতাকে টেবিলের ওপর ডিসাকশানের জন্য রাখলামঅয়েল পেইন্টিং এর চারা গাছ গুলো বেড়ে উঠছে তরতর করেবেহালা বাদক আমার সব ইতিহাস জেনে নিয়েছে আনফ্রেন্ড কলেনিশুতি চ্যাটিং করতেই আমার নাম ভেসে উঠল মৃত মানুষের পাশে , চোখটি কটকটে লালআমি কি তাহলে বারানসীর...
অনাবৃষ্টি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়মিথ্যে খরায় শেষ কবর থেকে উঠে আসা জীবনএইটুকু আশা বৃশ্চিকের তাপে গলে যায়, বর্ষার জল দেখেনি উত্তরণশোনেনি হংসধ্বনি স্বচ্ছ জলাশয়স্পর্ধা ছিল না অভিমানে নরকের পথ অবনত বাষ্পজালে ঘেরা আকুতির কাছে,পৃথিবীর থেকে জলীয় দূরত্বে মাটির উপরে থেমে থাকা পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছায়া অনাবৃষ্টির প্রথাগত আয়নায় মেঘবৃষ্টির পক্ষ বিনিময়...কবি সৌমিত্র চ্যাটার্জীশংকরপুর, দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান...
জীবিতের সন্ত্রাসমীরা মুখোপাধ্যায় একটি বিছানা খুব এলোমেলো,আলগোছে পাতা বিছানায় শুয়ে আছে একজন জীবিত ওঅন্যজন কিছুপূর্বে মৃত মৃত লোকটির নাম ধরা যাক এক্সঅঙ্কের নিয়ম মেনে জীবিত ওয়াই।বিছানার সামান্য জায়গা জুড়ে মৃত এক্সজীবিত ওয়াই ঠেলতে ঠেলতে তাকেঅবশেষে নীচে ফেলে দিল মৃতদের জন্য কোন স্থান নেইমনের ভিতর গড়ে তোলা সমস্ত...
 বিমল মণ্ডলের অণুগল্পমায়ের আদর্শ—কি রে কাঁদছিস কেন? — মায়ের জন্য। —জানেন বাবু কতদিন আমার মা আমায় ছেড়ে চাঁদের দেশে চলে গেছে। সেই দিন থেকেই আমি একা।  — জানিস, এই যে গোটা পৃথিবী দেখছিস- তোর যে চোখের জল তার কেউ মূল্য দেবে না রে।আর তা...